ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন গোবরিয়া আঃপুর ইউপি ৪নং ওয়ার্ড সদস্য মোঃ শাহাব উদ্দিন


প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন গোবরিয়া আঃপুর ইউপি ৪নং ওয়ার্ড সদস্য মোঃ শাহাব উদ্দিন

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার দক্ষিণ গোবরিয়া (জাব্বা বাড়ি) গ্রামের মৃত আব্দুল কাদিরের ছেলে স্থানীয় ১নং গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মোঃ শাহাব উদ্দিন তার ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রকাশিত একটি সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

গত ২২ জুন ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে অনলাইন নিউজ পোর্টাল 'জনধারা' (Jonodhara.com)- এ "সন্ত্রাসীদের মদদদাতা শাহাবুদ্দিন মেম্বার, ৫ই আগস্টের আগে আওয়ামীলীগ এখন বিএনপি" শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। উক্ত সংবাদটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি।

ইউপি সদস্য মোঃ শাহাব উদ্দিন মঙ্গলবার (২৩ জুন)) এক প্রতিবাদ লিপিতে উল্লেখ করেন, প্রকাশিত সংবাদে তার বিরুদ্ধে এবং তার চাচাতো ভাই হারুন ও বাদলসহ তার মেয়ে কুলসুম বেগম ও কুলসুম বেগমের সন্তানদের জড়িয়ে যে সমস্ত অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ কাল্পনিক। সমাজে তাদের দীর্ঘদিনের সুনাম ক্ষুণ্ন ও হেয়প্রতিপন্ন করার হীন চক্রান্তে লিপ্ত হয়ে একটি কুচক্রী মহল এই ভিত্তিহীন সংবাদটি প্রকাশ করিয়েছে।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে অগ্নিকাণ্ডে স্ত্রী-সন্তানসহ ছয় স্বজন হারালেন নূর আলম

"প্রকাশিত সংবাদে তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগের তথ্য বা প্রমাণ উল্লেখ করা হয়নি। এতেই প্রমাণিত হয় যে, এলাকার একটি চক্র উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাদের মান-সম্মান নষ্ট করার জন্য সাংবাদিককে ভুল ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে এই সংবাদটি পরিবেশন করিয়েছে।"

প্রতিবাদ লিপিতে তিনি আরও দাবি করেন, এলাকায় নিরপেক্ষ তদন্ত করলেই প্রকাশিত সংবাদের সত্যতা যে শূন্য এবং তা সম্পূর্ণ সাজানো, সেই সত্য বেরিয়ে আসবে।

মোঃ শাহাব উদ্দিন এই মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে, যারা ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মাননীয় বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরীফুল আলম এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী ২২ অক্টোবর খুলনা ও বাগেরহাট সফরে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বকাপে পর্তুগালের সর্বোচ্চ গোলদাতা রোনালদো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ ইং

১২:৫৮ এম


বিশ্বকাপে পর্তুগালের সর্বোচ্চ গোলদাতা রোনালদো

ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ছায়া হয়ে ইতিহাস গড়লেন উজবেকিস্তানের বিপক্ষে। এখন পর্তুগালের সর্বকালের শীর্ষ গোলদাতা তিনি বিশ্বকাপে। দশম গোল করে পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী রোনালদো পর্তুগিজ গ্রেট ইউসেবিওকে ছাড়িয়ে গেলেন।

রোনালদোর ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে অভিষেক হয়। সেবার তার করা গোলের সংখ্যা ছিল মাত্র একটি। সেই একমাত্র গোলটি তিনি ইরানের বিপক্ষে করেন। এরপর তিনি ২০১০ এবং ২০১৪ বিশ্বকাপে একটি করে গোল করেন।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপ রোনালদোর জন্য স্মৃতিময় হয়ে আছে। সেই বিশ্বকাপে তিনি তার প্রথম এবং একমাত্র হ্যাটট্রিকটি করেছিলেন। শক্তিশালী স্পেনের বিপক্ষে সেই হ্যাটট্রিকটি এসেছিল। ওই বিশ্বকাপে রোনালদো মোট চারটি গোল করেছিলেন। অন্যদিকে কাতার বিশ্বকাপে তার পা থেকে এসেছে মাত্র একটি গোল।

ফলে রোনালদো আগে পাঁচটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে মোট আটটি গোল করেছেন। এবারের বিশ্বকাপে নবম গোল পেয়ে গেলেন তিনি। ষষ্ঠ মিনিটে জোয়াও কানসেলোর ক্রস থেকে প্রথম শটেই জাল কাঁপালেন তিনি। ফলে বিশ্বকাপে সর্বকালের শীর্ষ পর্তুগিজ গোলদাতার তালিকায় তিনি ইউসেবিওর পাশে নাম লেখালেন। এরপর ৩৮ মিনিটে অসাধারণ একটি ফিনিশিংয়ে উজবেকিস্তানের জালে বল পাঠিয়ে পর্তুগালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হলেন সিআরসেভেন।

৬ মিনিটের গোলে তার বয়স ৪১ বছর এবং ১৩৮ দিন। রোনালদো বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় বয়স্ক গোলদাতা হলেন। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে রাশিয়ার বিপক্ষে ক্যামেরুনের হয়ে গোল করা রজার মিলা তার উপরে, যেদিন তার বয়স ছিল ৪২ বছর ও ৩৯ দিন। তবে কোন বড় টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বয়স্ক ইউরোপিয়ান খেলোয়াড় হিসেবে গোল করার কীর্তি তার।

ইউরো ও বিশ্বকাপ মিলিয়ে রোনালদো ১১টি ভিন্ন মেজর টুর্নামেন্টে গোল করলেন। অন্য যে কোনো ইউরোপিয়ান খেলোয়াড়ের চেয়ে এটি বেশি। জুর্গেন ক্লিন্সম্যান, মিরোস্লাভ ক্লোসা এবং জারদান শাকিরি ছয়টি আসরে গোল করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রথমার্ধেই উজবেকিস্তানের জালে পর্তুগালের ৩ গোল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ ইং

০১:০০ এম


প্রথমার্ধেই উজবেকিস্তানের জালে পর্তুগালের ৩ গোল

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর রেকর্ডময় দুটি গোল আর নুনো মেন্দেসের চমৎকার ফ্রি-কিকে বিশ্বকাপে উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথমার্ধেই পর্তুগাল ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে। হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে পর্তুগালের আগ্রাসী ফুটবলের সামনে ফাবিও কানাভারোর উজবেকিস্তান কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছক বেছে নিয়ে পর্তুগাল মাত্র সপ্তম মিনিটে প্রথম সাফল্যের দেখা পায়। ডানপ্রান্ত থেকে জোয়াও কানসেলোর বাড়ানো নিখুঁত ক্রস দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে জালে জড়ান ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। এই এক গোলের মাধ্যমে ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তি গড়েন তিনি।

এরপর ১৭ মিনিটে ফ্রি-কিকের চতুর এক কৌশলে রোনালদোকে ডামি হিসেবে দাঁড় করিয়ে সরাসরি জোরালো শটে ব্যবধান ২-০ করেন পিএসজির ডিফেন্ডার নুনো মেন্দেস। দুই গোলে পিছিয়ে পড়া উজবেকিস্তান ম্যাচের ২৯ মিনিটে গানিভের একটি শটের মাধ্যমে ব্যবধান কমালে, তবে স্বস্তি মেলেনি তাদের। ভিএআর প্রযুক্তির সাহায্যে কানসেলোর ওপর ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল করেন রেফারি। সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ৩৯ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন পর্তুগিজ অধিনায়ক। ডি-বক্সে চমৎকার এক রান নিয়ে করা এই গোলের দ্বারা বিশ্বমঞ্চে নিজের মোট গোলসংখ্যা ১০ এ নিয়ে যান তিনি। এর ফলে কিংবদন্তি ইউসেবিওর ৬০ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে পর্তুগালের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসেন রোনালদো। প্রথমার্ধে ৩-০ ব্যবধানের বড় লিড নিয়ে বিরতিতে যাওয়া পর্তুগাল এখন পূর্ণ ৩ পয়েন্ট তুলে নেওয়ার অপেক্ষায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অর্থনীতিতে শৃঙ্খলা ফেরাতেই এই বাজেট : সংসদে আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ ইং

০১:০৩ এম


অর্থনীতিতে শৃঙ্খলা ফেরাতেই এই বাজেট : সংসদে আলোচনা

সংসদ সদস্যদের উল্লেখ অনুযায়ী, প্রস্তাবিত বাজেটের উদ্দেশ্য হলো কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর পকেট ভরানো নয়; বরং এর মূল লক্ষ্য হল আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা।

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশগ্রহণ করে তারা এ বিষয়টি স্পষ্ট করেন।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেছেন। বিদায়ী অর্থবছরের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির বিপরীতে নতুন অর্থবছরের জন্য ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

মৌলভীবাজার-৪ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য এম মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে অর্থনীতিতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং ব্যাংকিং খাতকে পুনরুজ্জীবিত করা। তিনি বলেন, এটি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে ধনী করার বাজেট হিসেবে চিহ্নিত নয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশের অভ্যন্তরীণ থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এই অর্থ দিয়ে প্রায় তিনটি জাতীয় বাজেট দেওয়া সম্ভব হয়েছিল।’

তিনি এও জানান যে, প্রস্তাবিত বাজেটে জনগণের ওপর নতুন করে কোনো করের চাপ নেই।

বগুড়া-৩ আসনের বিএনপি সংসদ সদস্য এম আব্দুল মহিত তালুকদার বলেন, বাজেটটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রণীত উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব বলেন, দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনার সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই অর্থমন্ত্রী বাজেট উপস্থাপন করেছেন। বাজেটে উন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি পরিচালন ব্যয় কমানোর বিষয়ে জোর দেন তিনি।

প্রস্তাবিত বাজেটের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রার সমালোচনা করেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিরোধী দলের সদস্য রুহুল আমিন। তিনি জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জন্য ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বাস্তবে অর্জন করা সহজ হবে না। গত অর্থবছরে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৩ লাখ ৬৮ হাজার ১৭৭ কোটি টাকা।

তিনি আরো বলেন, দেশে প্রায় ৮ কোটি কর দেওয়ার সক্ষমতাসম্পন্ন মানুষ থাকলেও এনবিআরের অধীনে কর ফাইল রয়েছে মাত্র ৪০ লাখ। বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত ৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ, যেখানে নেপালের ২৩ দশমিক ৩ শতাংশ, ভারতে ২০ দশমিক ৩ শতাংশ, পাকিস্তানে ১৫ দশমিক ২ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কায় ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ।

যশোর-২ আসনের বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মোহাম্মদ মোসলেহউদ্দিন ফরিদ স্বাস্থ্য খাতের বাজেটের প্রসঙ্গ তুলে স্বাস্থ্য খাতের সমস্যা সমাধানে ‘চৌগাছা মডেল’ বাস্তবায়নের আহ্বান করেন।

বাজেট আলোচনায় আরও অংশগ্রহণ করেন সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা, যাদের মধ্যে সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের আইনুল হক, বগুড়া-৬ আসনের রেজাউল করিম বাদশা, হবিগঞ্জ-৪ আসনের এস এম ফয়সাল, পটুয়াখালী-৪ আসনের এ বি এম মোশাররফ হোসেন, সংরক্ষিত মহিলা আসন-৪ এর রেহানা আক্তার রানু, গোপালগঞ্জ-৩ আসনের এস এম জিলানী, নওগাঁ-৫ আসনের জাহিদুল ইসলাম ঢালি, ঝালকাঠি-২ আসনের ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, খুলনা-১ আসনের আমীর আজিজ খান, ঢাকা-২০ আসনের তমিজ উদ্দিন, মাগুরা-১ আসনের এম মনোয়ার হোসেন এবং ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের জাহিদুর রহমান।

এছাড়া বিরোধী দলের চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের মাসুদ পারভেজ, সংরক্ষিত মহিলা আসন-৪০ এর মিসেস নাজমুন নাহার, সংরক্ষিত মহিলা আসন-৪১ এর মাহফুজা হান্নান, কুষ্টিয়া-২ আসনের এম আব্দুল গফুর, পাবনা-৪ আসনের আবু তালেব মণ্ডল, গাইবান্ধা-২ আসনের এম আব্দুল করিম, পাবনা-৩ আসনের মোহাম্মদ আলী আসগর, যশোর-৪ আসনের এম গোলাম রসুল এবং খুলনা-৬ আসনের এম আবুল কালাম আজাদও আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশের সার্ফিংয়ে নতুন ইতিহাস, বাধা অর্থসংকট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ ইং

০১:০৬ এম


বাংলাদেশের সার্ফিংয়ে নতুন ইতিহাস, বাধা অর্থসংকট

বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনায় যখন পুরো দেশ ভাসছে, তখন নীরবে তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের নতুন একটি ইতিহাস। কক্সবাজারের দুই সার্ফার মোহাম্মদ মান্নান ও ফাতেমা আক্তার প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসের মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন। যদিও আন্তর্জাতিক আসরের দিকে লক্ষ্য রেখে উন্নত প্রশিক্ষণের অভাব এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ সার্ফিং অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, অ্যাথলেটদের বিদেশে প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানোর পরিকল্পনা থাকলেও স্পন্সর না পাওয়ায় এটি এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।

কক্সবাজারের সার্ফার ফাতেমা আক্তার প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসের মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন। 

 

সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে প্রতিদিন লড়াই করে মান্নান ও ফাতেমা। ভোরের আলো ফোটার আগেই কক্সবাজার সৈকতে তাদের প্রস্তুতি শুরু হয়। তারা বাংলাদেশের সার্ফিংয়ের উজ্জ্বল মুখ। এবার এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছেন তারা। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে জাপানের মাটিতে দেশের পতাকা বহন করবেন এই দুই তরুণ সার্ফার।

সার্ফার ফাতেমা আক্তার বলেন, ‘২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে আমরা জাপানে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাব। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে এখন থেকেই আমাদের কঠোর অনুশীলন চালিয়ে যেতে হবে। আমাদের কোচ রাশেদ ভাই প্রতিদিন সকাল-বিকেল অনেক পরিশ্রম করে আমাদের সাহায্য করছেন, যাতে আমরা নিজেদের পারফরম্যান্স আরও উন্নত করতে পারি। আমরা আশা করি, জাপানে গিয়ে দেশের জন্য ভালো কিছু অর্জন করব। কিন্তু সেখানে ঢেউ অনেক বড়, আর আমাদের দেশে তুলনামূলকভাবে ছোট ঢেউয়ে অনুশীলন করতে হয়। তাই সুযোগ পেলে প্রতিযোগিতার আগে দুই সপ্তাহ বা এক মাসের জন্য আমরা এমন কোনো দেশে গিয়ে অনুশীলন করতে চাই, যেখানে বড় ঢেউয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণের সুযোগ আছে। এতে আমাদের দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস দুটোই বেড়ে যাবে।

এদিকে, আমাদের দেশের অনেক মানুষ এখনও সার্ফিং সম্পর্কে তেমন জানেন না। আমরা চাই, সার্ফিংও অন্য জনপ্রিয় খেলার মতো সবার কাছে পরিচিত ও সমাদৃত হোক। দেশের মানুষ যদি আমাদের সমর্থন করে, উৎসাহ দেয় এবং পাশে থাকে, তাহলে আমরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও ভালো ফল করতে পারব। আমাদের স্বপ্ন হলো, একদিন সার্ফিং বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় খেলায় পরিণত হবে।’

যদিও স্বপ্ন বড়, কিন্তু প্রস্তুতির পথটা সহজ নয়। বাংলাদেশে সার্ফিংয়ের জন্য আন্তর্জাতিক মানের ঢেউ কিংবা আধুনিক প্রশিক্ষণ সুবিধা নেই বললেই চলে। এশিয়ার সেরা ক্রীড়াবিদদের বিপক্ষে লড়তে হলে দরকার উন্নত পরিবেশে অনুশীলন। আর সেই কারণে বিদেশে প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের দাবি সার্ফারদের।

সার্ফার মো. মান্নান বলেন, ‘আমরা আগামী সেপ্টেম্বরে জাপানে যাব। প্রতিযোগিতার নির্ধারিত তারিখ ১৬ সেপ্টেম্বর, তবে তার আগেই সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করব, যাতে পরিবেশ ও ঢেউয়ের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারি। কারণ জাপানের সার্ফিং পরিস্থিতি এবং অনুশীলনের ধরন আমাদের দেশের তুলনায় অনেক ভিন্ন।’

তিনি বলেন, ‘প্রস্তুতির কথা বললে, বিশেষ কোনো প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এখনও আয়োজন করা হয়নি। আমরা নিয়মিত সমুদ্রে অনুশীলন করছি, কিন্তু এত বড় একটি আন্তর্জাতিক আসরের জন্য আরও পরিকল্পিত ও উন্নত মানের প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে।’

মান্নান আরও বলেন, ‘আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও পৃষ্ঠপোষকদের সহযোগিতায় ভালো প্রস্তুতি নিতে পারব এবং জাপানে গিয়ে দেশের জন্য সম্মানজনক ফলাফল অর্জন করতে সক্ষম হব। শুধু খেলোয়াড় নন, তাদের সামর্থ্যের ওপর আস্থা রয়েছে কোচেরও। আমাদের কোচ বলছেন, সঠিক প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা পেলে বাংলাদেশের সার্ফাররা এশিয়ান গেমসেই নয়, একদিন অলিম্পিকের মঞ্চেও দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন।’

সার্ফিং কোচ রাশেদ আলম বলেন, ‘এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণের আগে যদি আমাদের সার্ফারদের জন্য ইন্দোনেশিয়ায় অন্তত ১০ দিন থেকে দুই সপ্তাহের একটি প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে তারা আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে পারবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সঠিক দিকনির্দেশনা ও প্রশিক্ষণ পেলে আমাদের সার্ফাররা এশিয়ান গেমসে চমৎকার পারফরম্যান্স দেখাবে। তাদের মধ্যে যে দক্ষতা ও সম্ভাবনা আমি দেখছি, তা সত্যিই আশাব্যঞ্জক। বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকাকে এশিয়ান গেমস থেকে শুরু করে অলিম্পিকের মঞ্চ পর্যন্ত পৌঁছে দেয়ার সামর্থ্য তাদের রয়েছে। সেই স্বপ্ন ও বিশ্বাস আমি তাদের মধ্যেই দেখতে পাচ্ছি।’

তবে এই স্বপ্নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে অর্থসংকট। বাংলাদেশ সার্ফিং অ্যাসোসিয়েশন বলছে, অ্যাথলেটদের বিদেশে প্রশিক্ষণ পাঠানোর পরিকল্পনা থাকলেও স্পন্সর না পাওয়ায় সেটি এখনও বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে পৃষ্ঠপোষকতার আবেদন জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত সাড়া মেলেনি।

বাংলাদেশ সার্ফিং অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ মো. সাইফুল্লাহ সিফাত বলেন, বিষয়টি সরাসরি বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ) তত্ত্বাবধান করছে। তবে এখনো তাদের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানানো হয়নি, কবে থেকে আনুষ্ঠানিক যাত্রা বা কার্যক্রম শুরু হবে।

তিনি জানান, নির্বাচিত অ্যাথলেটরা নিজেদের প্রস্তুতি ধরে রাখতে নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী যে তালিকা জমা দেয়ার কথা ছিল, তা ইতোমধ্যে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া পোশাক-পরিচ্ছদসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিক বিষয়ে পরবর্তীতে নির্দেশনা দেয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

সাইফুল্লাহ সিফাত বলেন, ‘আমরা এখনও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের চূড়ান্ত নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছি। তবে সামনে প্রায় চার মাস সময় থাকায় আমরা আশাবাদী।’

তিনি আরও বলেন, ‘অর্থসংকটের কারণে এখনও অ্যাথলেটদের উন্নত মানের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা সম্ভব হচ্ছে না। এ জন্য অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে স্পন্সরশিপের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, কিন্তু এখনো কোনো ইতিবাচক সাড়া আসেনি।

‘যদি আমরা স্পন্টসর পাই, তাহলে নির্বাচিত অ্যাথলেটদের উন্নত মানের ঢেউয়ে অনুশীলনের জন্য পার্শ্ববর্তী দেশ যেমন ইন্দোনেশিয়া বা শ্রীলঙ্কায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশে প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা নিজেদের আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করতে পারে’, যোগ করেন তিনি।

ফুটবলের বিশ্বকাপ কিংবা ক্রিকেটের আলোচনার ভিড়ে হয়তো তাদের গল্প খুব বেশি শোনা যায় না। তবে কক্সবাজারের এই দুই তরুণ—তরুণী প্রতিদিন সমুদ্রের ঢেউকে সঙ্গী করে বুনছেন বাংলাদেশের নতুন এক স্বপ্ন। যে স্বপ্ন একদিন লাল—সবুজের পতাকাকে পৌঁছে দিতে পারে এশিয়ান গেমস থেকে অলিম্পিকের মঞ্চ পর্যন্ত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%