০৫:২১ পি.এম
ফিফা বিশ্বকাপের ট্রফি হাতে তোলার স্বপ্ন সব ফুটবলারের থাকে। তবে অনেকের কাছে অজানা যে ফাইনালে জয়ের পর চ্যাম্পিয়ন দলের খেলোয়াড়রা যে ট্রফি উঁচিয়ে ধরে উদযাপন করেন, সেটি স্থায়ীভাবে তাদের কাছে থাকে না। আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই ফিফা প্রকৃত ট্রফিটি ফেরত নিয়ে নেয়।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, ফাইনাল শেষে বিজয়ী দল কিছু সময়ের জন্য আসল বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে উদযাপনের সুযোগ পায়। তারপর নিরাপত্তার জন্য ট্রফিটি ফেরত নেওয়া হয়। পরে চ্যাম্পিয়ন দলকে তাদের দেশের নাম খোদাই করা সোনালি আবরণযুক্ত ব্রোঞ্জের তৈরি একটি রেপ্লিকা ট্রফি দেওয়া হয়।
আসল বিশ্বকাপ ট্রফিটি বছরের বেশির ভাগ সময় সুইজারল্যান্ডের জুরিখে অবস্থিত ফিফা মিউজিয়ামে সংরক্ষিত থাকে। এটি বিশেষ প্রদর্শনী, ট্রফি ট্যুর অথবা বিশ্বকাপ চলাকালীন কিছু নির্দিষ্ট অনুষ্ঠানের বাইরে আর কখনও বের করা হয় না।
আরও পড়ুন: স্ত্রীর ছবি ফেসবুকে দেয়ায় বন্ধুকে হত্যা, কুয়েতে বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড
বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে এমন কঠোর নিরাপত্তার পেছনে রয়েছে ইতিহাস। পুরোনো জুল রিমে ট্রফিটি ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডে প্রদর্শনীর সময় চুরি হয়। পরে 'পিকলস' নামে একটি কুকুর সেটি উদ্ধার করে। কিন্তু ১৯৮৩ সালে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের সদর দপ্তর থেকে দ্বিতীয়বার চুরির পর সেই ট্রফিটি আর কখনো উদ্ধার করা যায়নি। ধারণা করা হয়, সেটি গলিয়ে ফেলা হয়েছিল।
জুল রিমে ট্রফিটি ১৯৭০ সালে তৃতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের পর স্থায়ীভাবে ব্রাজিলের মালিকানায় চলে যায়। এরপর নতুন ট্রফি তৈরির উদ্যোগ নেয় ফিফা।
বর্তমান বিশ্বকাপ ট্রফির নকশা তৈরি করেছেন ইতালীয় ভাস্কর সিলভিও গাজ্জানিগা। ১৯৭৪ বিশ্বকাপ থেকে ব্যবহৃত হয়ে আসা এই ট্রফিটি ১৮ ক্যারেট সোনা দিয়ে তৈরি। এর উচ্চতা ৩৬ দশমিক ৮ সেন্টিমিটার এবং ওজন প্রায় ৬ দশমিক ২ কেজি। ট্রফির নকশায় দুইজন মানুষের হাতে পৃথিবীকে তুলে ধরার প্রতীকী অবয়ব ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
অর্থাৎ, বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতি চিরকাল থাকলেও আসল ট্রফি নয়, বরং তার হুবহু প্রতিরূপই স্থায়ীভাবে নিজেদের কাছে রাখতে পারে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল।
আরও পড়ুন: দুর্গাপুরে ডেপুটি স্পিকারের উদ্যোগে পুলিশ তদন্তকেন্দ্র স্থাপিত হচ্ছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন