শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:৩০ পি.এম
নিজে করি, অন্যকে উদ্বুদ্ধ করি’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে যশোরের শিল্প ও বাণিজ্য শহর নওয়াপাড়া পৌর এলাকায় ডেঙ্গু রোগের বিস্তার রোধের উদ্দেশ্যে পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মশক নিধন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। নওয়াপাড়া পৌরসভার উদ্যোগে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গুয়াখোলা গ্রামে অভয়নগর উপজেলা পরিষদের নিকটবর্তী এলাকা থেকে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধন করেন নওয়াপাড়া পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশীষ কুমার বসু।
এই সময় পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা (পিএনও) সাইফুল ইসলাম, সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা রাজিবুর রহমান, শহর পরিকল্পনাবিদ সোহেল সরদার, নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) আশরাফ হোসেন প্রিন্স, পৌরসভার কর্মচারী শেখ শাহ জামাল, রাজু আহম্মেদ, আলী আকরাম, সেলিম মল্লিকসহ রেড ক্রিসেন্ট ও স্কাউটের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নওয়াপাড়া পৌর কর্তৃপক্ষ জানায়, শনিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গুয়াখোলা গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ডেঙ্গু রোগের বিস্তার রোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ এবং মশক নিধনের ব্যবস্থা করা হয়। পর্যায়ক্রমে পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এ জন্য পৌরবাসীর সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সভায় সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক জনাব মোঃ রায়হান কবির। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, মাননীয় সংসদ সদস্য, নারায়ণগঞ্জ-৫। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব অধ্যাপক মোঃ মামুন মাহমুদ, প্রশাসক, জেলা পরিষদ, নারায়ণগঞ্জ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জনাব আলীনূর খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি), নারায়ণগঞ্জ, মাদ্রাসা ব্যবস্থাপনা পরিষদের সদস্যবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
মতবিনিময় সভায় নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বাস্তবিক জ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন জেলা প্রশাসক জনাব মোঃ রায়হান কবির। একইসঙ্গে মাদ্রাসার শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, শিক্ষার পরিবেশ উন্নতকরণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং নারায়ণগঞ্জ ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসাকে একটি আদর্শ ও মডেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও মতবিনিময় করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা, নারায়ণগঞ্জ || ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি.
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জামালপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি রোগী চিকিৎসাধীন থাকায় চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। ২৫০ শয্যার বিপরীতে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৮৬৭ জন রোগী। শিশু ওয়ার্ডে একটি ইনকিউবেটরে তিনটি করে নবজাতক রাখার ঘটনাও নজরে এসেছে। এর মধ্যে ২০২১ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে চিকিৎসাসেবা।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে হাসপাতালটি পরিদর্শন করে এমন পরিস্থিতিতে বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমার জীবনের সবচেয়ে খারাপ অভিজ্ঞতাগুলোর একটি আজ এই হাসপাতালে এসে হলো। হাসপাতাল দেখেছি, কিন্তু এমন পরিস্থিতি কখনো দেখিনি। বাংলাদেশে এমনও হাসপাতাল আছে, এটা আমার জানা ছিল না।”
মন্ত্রী বলেন, ২৫০ শয্যার হাসপাতালে ৮৬৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন থাকায় তাদের মানবেতর পরিবেশে থাকতে হচ্ছে। হাসপাতালের এমন চিত্র দেখে তিনি অত্যন্ত বিস্মিত ও দুঃখিত হয়েছেন।
শিশু ওয়ার্ডের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি ইনকিউবেটরে যেখানে একজন নবজাতক থাকার কথা, সেখানে তিনটি করে নবজাতক রাখা হচ্ছে। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, ২০২১ সালে ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও এখনো সেখানে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় জামালপুরের পুলিশ সুপার মোছাঃ ফারহানা ইয়াসমিন, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুল হকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অবসর নেওয়া ক্রিকেটার উইল পুকোভস্কি, যিনি খেলতে গিয়ে ১৩ বার মাথায় আঘাত পেয়েছেন, ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) এবং রাজ্য দল ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছেন। পুকোভস্কির ক্ষতিপূরণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।তবে, ক্ষতিপূরণের আর্থিক পরিমাণ প্রকাশ করা হয়নি। ফক্স স্পোর্টস জানায়, পুকোভস্কির ক্যারিয়ার শেষ করে দেওয়া ১৩টি কনকাশনের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ও ক্রিকেট ভিক্টোরিয়ার মধ্যে একটি গোপন আর্থিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।পুকোভস্কির বয়স ২৮ বছর এবং তিনি এখনো মাথায় আঘাতের কারণে বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন। এর মধ্যে রয়েছে দৃষ্টিশক্তির সমস্যা, মাথাব্যথা, বমিভাব এবং শরীরের বাঁ পাশ দিয়ে কাজ করতে অসুবিধা।এছাড়া, ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি মস্তিষ্কের রোগ ক্রনিক ট্রমাটিক এনসেফালোপ্যাথিতে (সিটিই) আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে তাঁর।ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ও ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে সমঝোতার পাশাপাশি, পুকোভস্কি নিজের স্কুল ব্রাইটন গ্রামারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। ২০১৪ সালে স্কুলে অস্ট্রেলিয়ান রুলস ফুটবলের অনুশীলনের সময় তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পান, তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর।পুকোভস্কির অভিযোগ, জ্ঞান ফেরার কয়েক মিনিটের মধ্যে তাকে আবার অনুশীলনে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে, তিনি কয়েক মাস স্কুলে যেতে পারেননি এবং হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন।পুকোভস্কি ওই ঘটনার বিষয়ে বলেছিলেন, ‘এটা অদ্ভুতভাবে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় দিন। কারণ ওই দিনের পর থেকে আমি আর কখনো আগের মতো অনুভব করিনি।’তিনি আরো বলেন, ‘আমি এমন একজন মানুষ ছিলাম, যে যেকোনো কিছু করতে প্রস্তুত থাকত।কিন্তু এরপর দীর্ঘ সময় আমাকে সোফায় বসে কিছুই না করে কাটাতে হয়েছে।’২০২১ সালে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক ঘটে পুকোভস্কির। তিনি ৩৬টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ৪৫.১৯ গড়ে ব্যাটিং করেছেন এবং ৭টি সেঞ্চুরি করেছেন।তবে একের পর এক মাথায় আঘাত পুকোভস্কির সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ারকে থামিয়ে দেয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে ২০২৪ সালে তিনি ক্রিকেট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ট্রাম্পের ‘ঐতিহাসিক’ তেল চুক্তিতে কী পেল ভেনেজুয়েলা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ডেলসি রদ্রিগেজের মধ্যে সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দেশের বিপুল তেলসম্পদের নিয়ন্ত্রণ দীর্ঘকাল ধরে একে অপরের সঙ্গে জড়িত। গত তিন দশক ধরে দেশটির ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শক্তি তেলশিল্পে ‘সম্পদ জাতীয়তাবাদ’ বা রিসোর্স ন্যাশনালিজমের নীতি অনুসরণ করে আসছে। তবে ২০২৬ সালের শুরুতে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল চুক্তি সেই পরিবর্তনকে স্পষ্ট করে তুলেছে। এই চুক্তির মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার প্রায় ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুদের ওপর আগামী ১০০ বছর মার্কিন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তিকে ‘বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় তেল চুক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তবে এই চুক্তিটি শুধুমাত্র জ্বালানি খাতের বাণিজ্যিক সমঝোতা নয়; বরং ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, দেশের সার্বভৌমত্ব এবং লাতিন আমেরিকায় মার্কিন প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রেও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে।
রাজনৈতিকখবর আপডেট
মাদুরোর পতনের পর তেলনীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর একটি সামরিক অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তার ডেপুটি ডেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
মাদুরো সরকারের দীর্ঘকালীন রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত তেলনীতির পরিবর্তে রদ্রিগেজ প্রশাসন তেলশিল্পে বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগের পথ খুলতে শুরু করেছে। গত আট মাসে দেশটির হাইড্রোকার্বন আইন সংস্কার, জ্বালানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রে উদারীকরণ এবং বিদেশি তেল কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের অনুমতি দেওয়ার মতো বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে এসব ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদনকে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে রাখা হয়েছে। চীন, রাশিয়া, ইরান ও উত্তর কোরিয়ার কোম্পানিগুলোকে ভেনেজুয়েলার তেলশিল্পে অংশগ্রহণ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেলে মার্কিন নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। ভেনেজুয়েলার ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুদের প্রায় ২০ শতাংশ, অর্থাৎ ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল, যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যবস্থায় চলে যাবে। এই মজুদ দেশের ১৭টি বড় তেলক্ষেত্রে ছড়িয়ে রয়েছে। এসব ক্ষেত্রের কয়েকটি আগে চীনা ও রুশ কোম্পানিকে দেওয়া হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী, এসব তেলক্ষেত্র পরিচালনা করবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নর্থ আমেরিকান ব্লু এনার্জি পার্টনার্স (নাবেপ)। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত থাকবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের অফিস অব স্ট্র্যাটেজিক ক্যাপিটাল (ওএসসি)। মার্কিন সরকারের এই সংস্থা নাবেপ-এর ৩৫ শতাংশ অংশীদারত্ব বিনামূল্যে পাবে বলে জানা গেছে।
এছাড়া নাবেপ নিয়ন্ত্রিত তেলক্ষেত্রগুলোর বর্তমান ও ভবিষ্যৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ উৎপাদন খরচে কেনার অধিকার পাবে যুক্তরাষ্ট্র। অর্থাৎ ওই তেলের ওপর ভেনেজুয়েলার কর আরোপের সুযোগ থাকবে না বলে মার্কিন সরকারের তথ্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে। এতে ভেনেজুয়েলা প্রত্যাশিত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতে পারে।
অন্যদিকে বাকি ৮০ শতাংশ তেল কেনার ক্ষেত্রে ওএসসি-এর ‘ফার্স্ট রাইট অব রিফিউজাল’ বা অগ্রাধিকারমূলক ক্রয়াধিকার থাকবে। জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র ওই তেল বিক্রির ওপর ভেটোও দিতে পারবে। এর ফলে ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদে দীর্ঘমেয়াদি মার্কিন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দেশটির তেল যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত জ্বালানি মজুদ বা স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভের প্রয়োজন মেটাতেও ব্যবহার করা যাবে।
২০০ বিলিয়ন ডলার রাজস্বের দাবি
মার্কিন ও ভেনেজুয়েলার কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, ১৭টি তেলক্ষেত্রের উন্নয়ন ও উৎপাদনে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের বিপরীতে ভেনেজুয়েলা প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার কর ও রয়্যালটি পেতে পারে। দীর্ঘ অর্থনৈতিক সংকটে থাকা ভেনেজুয়েলার পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে এই অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ঠিক কীভাবে এই অর্থ নির্ধারণ করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া বিভিন্ন বিশেষ সুবিধা ও বিবেচনাধিকার থাকায় প্রকৃতপক্ষে ভেনেজুয়েলার রাজস্ব কত হবে, তা নির্ভুলভাবে হিসাব করা কঠিন।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চুক্তির মেয়াদ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যের পার্থক্য। যুক্তরাষ্ট্র ১০০ বছরের নিয়ন্ত্রণের কথা বললেও ভেনেজুয়েলা জানিয়েছে, নাবেপকে দেওয়া অনুমতির মেয়াদ হবে ২৫ বছর। এমন ধরনের চুক্তি দেশটির হাইড্রোকার্বন আইনে গত প্রায় ৫০ বছর দেখা যায়নি।
বাস্তবায়নে বড় বাধা
বিপুল বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের সম্ভাবনা থাকলেও চুক্তিটি বাস্তবায়নে রাজনৈতিক, আইনি ও অর্থনৈতিক বেশ কিছু বাধা রয়েছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ভেনেজুয়েলার প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা। দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় স্থিতিশীল ও বিশ্বাসযোগ্য আইনি কাঠামো নিয়ে বিদেশি কোম্পানিগুলোর মধ্যে আস্থার সংকট রয়েছে।
রাজনৈতিকখবর আপডেট
এখন পর্যন্ত বড় মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর মধ্যে শেভ্রন ছাড়া অন্যদের বড় ধরনের আগ্রহ দেখা যায়নি। এক্সনমবিল ও কোনোকোফিলিপ্স-এর মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘমেয়াদি ও বৃহৎ পরিসরের বিনিয়োগে এগিয়ে না এলে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সীমাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে।
আরেকটি ঝুঁকি হলো ভবিষ্যতের নির্বাচিত সরকার। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে বর্তমান চুক্তিকে অসাংবিধানিক বা অবৈধ দাবি করে তা বাতিল কিংবা পুনর্বিবেচনার চেষ্টা করতে পারে।
একইভাবে, ভেনেজুয়েলার বর্তমান ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শক্তি ভবিষ্যতে আবার যথেষ্ট রাজনৈতিক শক্তি অর্জন করলে মার্কিন প্রভাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে চুক্তির শর্ত প্রত্যাখ্যান করতে পারে।
নাবেপ প্রধানকে ঘিরেও প্রশ্ন
চুক্তি বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত নাবেপ-এর পরিচালনায় আলেহান্দ্রো বেতানকোর্টের ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। অতীতে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ঘুষ, প্রকল্প ব্যয় বাড়ানো এবং প্রভাব খাটানোর অভিযোগে একাধিক মামলা ও অভিযোগ উঠেছিল। এসব অভিযোগের মধ্যে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ-সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিষয়ও রয়েছে। ফলে বেতানকোর্টের নেতৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠানের হাতে ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদের ব্যবস্থাপনা কতটা স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
দ্রুত তেল উৎপাদন বাড়ানো কতটা সম্ভব?
চুক্তি ঘোষণার পর মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন দ্রুত বাড়ানোর আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বহু বছর ধরে অব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগের ঘাটতি ও অবকাঠামোগত সমস্যায় ভুগতে থাকা দেশটির তেল উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়াতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। এ জন্য প্রয়োজন বিপুল বিনিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। এসবের সবটাই এখনো নিশ্চিত নয়।
শুধু তেল নয়, বৃহত্তর মার্কিন কৌশল
বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে ভেনেজুেলার সঙ্গে তেল চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর ‘হেমিস্ফেরিক’ বা পশ্চিম গোলার্ধকেন্দ্রিক কৌশলের অংশ। ট্রাম্প প্রশাসনের ২০২৫ সালের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল ও পরবর্তী পররাষ্ট্রনীতির নথিগুলোতে পশ্চিম গোলার্ধকে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত প্রভাব বলয়ের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির বিপুল প্রমাণিত তেল মজুদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ভৌগোলিক নৈকট্যও এর গুরুত্ব বাড়িয়েছে।
চীন, রাশিয়া, ইরান ও উত্তর কোরিয়ার মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর কোম্পানিকে ভেনেজুয়েলার তেল খাত থেকে দূরে রাখার সিদ্ধান্তও এই বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক কৌশলেরই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি কূটনৈতিক প্রভাব ও সামরিক শক্তি ব্যবহার করে পশ্চিম গোলার্ধে নিজেদের প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন—ভেনেজুয়েলার তেলচুক্তি সেই কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
নির্বাচনের আগে তেল, নাকি তেলের পর নির্বাচন?
মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পর যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় তিন ধাপের একটি পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে—স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং রাজনৈতিক সংস্কার। চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে অবাধ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন আয়োজনের কথা বলা হয়েছে।
রাজনৈতিকখবর আপডেট
কিন্তু তেল চুক্তির সাম্প্রতিক অগ্রগতি দেখাচ্ছে, ওয়াশিংটনের অগ্রাধিকারের তালিকায় নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক রূপান্তরের আগে তেলসম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। দেশটির বিরোধী নেতাদের একটি অংশ মনে করেছিল, নির্বাচনের মাধ্যমে বৈধ সরকার প্রতিষ্ঠার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তোলা সম্ভব হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা এগিয়েছে ভিন্ন গতিতে। প্রথমে তেলসম্পদের ওপর প্রবেশাধিকার ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার পর রাজনৈতিক রূপান্তরের দিকে যাওয়ার পথ বেছে নিয়েছে ওয়াশিংটন।
ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করছেন, তেল চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের তিন ধাপের পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে বাস্তবে ভবিষ্যৎ কোনো সরকার চুক্তির শর্ত পরিবর্তন করতে পারবে কি না, তা নিয়ে ইতোমধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে।
ডেলসি রদ্রিগেজকে ঘিরে বিরোধীদের উদ্বেগ
ভেনেজুয়েলার বিরোধী রাজনীতিকদের বড় অংশ মার্কিন অংশগ্রহণকে অস্বীকার করছে না। বরং দেশটির তেলশিল্প পুনরুদ্ধারে মার্কিন বিনিয়োগকে তারা গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে। তবে সমস্যা হচ্ছে—চুক্তিটি স্বাক্ষর করছেন এমন একটি অন্তর্বর্তী সরকার, যার গণতান্ত্রিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দেশটির জনপ্রিয় বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো ডেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের মাধ্যমে এমন দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
মাচাদো সরাসরি বলেননি যে ভবিষ্যতের নির্বাচিত সরকার চুক্তিটি বাতিল করবে। কিন্তু তার অবস্থান থেকে এমন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র কি সত্যিই দ্রুত নির্বাচন চায়, নাকি তেলচুক্তির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে বর্তমান অন্তর্বর্তী নেতৃত্বকে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় রাখতে আগ্রহী? এই প্রশ্ন আরো জোরালো হয়েছে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর। তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন, ভেনেজুয়েলা এখনই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত নয়।
ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ কোন পথে?
ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন চুক্তি দেশটির অর্থনীতি পুনর্গঠনের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিপুল বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হলে দীর্ঘ অর্থনৈতিক সংকটে থাকা দেশটির রাজস্ব বাড়তে পারে এবং অবকাঠামো পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে চুক্তিটি দেশটির সার্বভৌমত্ব, ভবিষ্যৎ সরকারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং রাজনৈতিক আত্মনিয়ন্ত্রণ নিয়ে গভীর প্রশ্ন তৈরি করেছে।
চুক্তিটির সাফল্য শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকারের অবস্থান, আইনি বৈধতা, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক স্বার্থ—এই সবগুলো বিষয় কীভাবে একে অপরের সঙ্গে সমন্বিত হয় তার ওপর।
অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য তেলসম্পদ কাজে লাগানো ভেনেজুয়েলার জন্য যেমন প্রয়োজন, তেমনি সেই সম্পদের নিয়ন্ত্রণ কে করবে—সেটিই এখন দেশটির সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। চুক্তিটি তাই শুধু একটি তেলবাণিজ্য নয়; বরং ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও পশ্চিম গোলার্ধে মার্কিন প্রভাবের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে.
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ