ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রত্যয়


বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রত্যয়

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘ফ্রিডম ২৫০’ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বন্ধুত্ব, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।

আজ শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) এবং ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এতে সরকারের উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী, কূটনীতিক, ব্যবসায়ী, উন্নয়ন সহযোগী এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি (জোনায়েদ সাকি) এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: কপ৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের শক্তিশালী অবস্থানের আহ্বান জানালেন শামা

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অ্যামচেম বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল। তিনি বলেন, এ আয়োজন বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের প্রতিফলন। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো সম্প্রসারণের অভিন্ন প্রত্যয়ও এতে এসেছে।

সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, অ্যামচেম ও যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান দুই দেশের দৃঢ় অংশীদারিত্ব এবং বাংলাদেশে মার্কিন ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততার পরিচয় বহন করে।

তিনি বলেন, তিন দশকের বেশি সময় ধরে অ্যামচেম বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহজতর করার পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর কার্যক্রমে সহায়তা দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রেখে আসছে।

তিনি আরো বলেন, জ্বালানি, উড়োজাহাজ চলাচল, স্বাস্থ্যসেবা, আর্থিক সেবাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে মার্কিন কোম্পানিগুলো আন্তর্জাতিক মান, উন্নত প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক সর্বোত্তম চর্চা নিয়ে এসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।

আরও পড়ুন: আ.লীগ সন্ত্রাসী সংগঠন, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দাবি আবু হানিফের

অ্যামচেম সভাপতি বলেন, বাংলাদেশে ব্যবসার সুযোগ খুঁজতে আগ্রহী মার্কিন বিনিয়োগকারীদের জন্য সংগঠনটি প্রধান প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। একই সঙ্গে আরো অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়িক পরিবেশ গড়ে তুলতে অ্যামচেম কাজ অব্যাহত রাখবে।

তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কমার্শিয়াল অ্যাডভাইজারকে অ্যামচেমের পরিচালনা পর্ষদের উপদেষ্টা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সহযোগিতা আরো জোরদার হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, দেশে আরো অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবসায়িক পরিবেশ গড়ে তুলতে অ্যামচেম কাজ অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে সহায়তা এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণে সংগঠনটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সরকারের প্রতিনিধি, কূটনীতিক, ব্যবসায়ী নেতা এবং পৃষ্ঠপোষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারি ছুটির দিনেও তাদের ব্যাপক উপস্থিতি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ ও ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের প্রতিফলন।

আরও পড়ুন: যেভাবে নেতানিয়াহু ইসরায়েলি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বদলে দিয়েছেন

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগকে তুলে ধরে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১৭ বছর পর ফের বরিশাল শহরে ফিরছে ‘সিটি বাস সার্ভিস’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জানে আলম (লিখন) বরিশাল

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৫২ পি.এম


১৭ বছর পর ফের বরিশাল শহরে ফিরছে ‘সিটি বাস সার্ভিস’

দীর্ঘ সময় ১৭ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বরিশাল নগরীতে আবারও সিটি বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)। এই উদ্যোগের বাস্তবায়ন হলে নগরবাসী যেমন সাশ্রয়ী মূল্যে গণপরিবহন ব্যবহারের সুযোগ পাবেন, তেমনি থ্রি-হুইলার চালকদের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের দৌরাত্ম্যও নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

নগরীর যানজট নিরসন এবং গণপরিবহনের সংকট দূর করতে বিসিসি কর্তৃপক্ষ এই প্রকল্পকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রাথমিক পরিকল্পনার ওপর ভিত্তি করে, নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে লঞ্চঘাট এবং লঞ্চঘাট থেকে রূপাতলী—এই গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতে বাস চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ২০০৩ সালে বরিশাল সিটি করপোরেশনে উন্নীত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো বিআরটিসির বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছিল। কিন্তু নানা প্রতিকূলতার কারণে দুই বছর পর সেটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০০৯ সালে তৎকালীন মেয়র শওকত হোসেন হিরনের উদ্যোগে আবারও সেবাটি চালু হলেও ২০১৩ সালে তা আবার থমকে যায়। সেসময়ের পর গত এক দশকের বেশি সময় ধরে নগরবাসী মূলত থ্রি-হুইলারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন, যার ফলস্বরূপ যাত্রীদের প্রতিনিয়ত অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হয়েছে।

গ্যাসের দাম ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচের অজুহাতে থ্রি-হুইলার চালকদের স্বেচ্ছাচারিতায় সাধারণ মানুষ ভীষণভাবে অতিষ্ঠ। ভাড়ার তালিকা মানতে চালকদের অনীহা থাকার কারণে, সম্প্রতি নাগরিকদের একটি প্রতিনিধিদল জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে অনুরোধ করেছেন।

নগরীর প্যারারা রোডের বাসিন্দা আলামিন হাওলাদার মন্তব্য করেছেন, “গ্যাসের দাম বাড়ানোর কারণে চালকরা যাত্রীদের পকেট কাটছে। সিটি বাস চালু হলে সাধারণ মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন এবং চালকদের এই অনিয়মও অনেকাংশে কমে আসবে।”

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী জানিয়েছেন, “সিটি বাস সার্ভিস চালুর বিষয়ে আমাদের সক্রিয় বিবেচনা রয়েছে। আমরা খুব দ্রুত বিষয়টি প্রশাসকের অনুমোদনের জন্য তুলে ধরব। অনুমোদন পেলে, প্রথমে নির্ধারিত কয়েকটি রুটে বাস চলাচল শুরু হবে এবং পরে পর্যায়ক্রমে যাত্রী চাহিদার ভিত্তিতে রুট ও বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে।”

সিটি করপোরেশনের এমন সাহসী ও সময়োপযোগী উদ্যোগ নগরবাসীর মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এখন কেবল দ্রুত বাস্তবায়নের অপেক্ষায় আছি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খামেনির শেষ বিদায়ে তেহরানে লাখো মানুষের ঢল, পশ্চিমাদের কড়া বার্তা দিতে চায় ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৫৫ পি.এম


খামেনির শেষ বিদায়ে তেহরানে লাখো মানুষের ঢল, পশ্চিমাদের কড়া বার্তা দিতে চায় ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধের পর পশ্চিমাদের উদ্দেশে প্রতিরোধের বার্তা দিতে শনিবার, তথা গতকাল, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শহিদ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যানুষ্ঠানের সূচনায় তেহরানে লাখো মানুষের ঢল নেমেছে।

তেহরান থেকে এএফপির সংবাদদাতারা জানান, কালো পোশাক পরিহিত এবং শিয়া ইসলামে প্রতিশোধ ও ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত রক্তিম পতাকা হাতে শোকাহত মানুষ রাজধানী তেহরানের ধর্মীয় কমপ্লেক্স গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সমবেত হন।

১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের নেতৃত্ব দেওয়া আলি খামেনি পশ্চিমাদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বৈরিতার নীতি অনুসরণ করেছেন এবং দেশের অভ্যন্তরে ভিন্নমত কঠোরভাবে দমন করেছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিন ইসরাইলি হামলায় ৮৬ বছর বয়সে তিনি নিহত হন। ওই হামলায় তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য ও শীর্ষ কর্মকর্তারাও প্রাণ হারান।

খামেনির ছেলে ও উত্তরসূরি মোজতবা খামেনির এখনো কোনো প্রকাশ্য উপস্থিতি দেখা যায়নি। তাঁকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মনোনীত করার পর থেকে তিনি জনসমক্ষে আসেননি। তবে যুদ্ধে বেঁচে থাকা ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা শুক্রবার বিদেশি অতিথিদের অভ্যর্থনা জানান এবং তারা খামেনির কফিনে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে কমপ্লেক্সটি সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হয়।

তেহরানে আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। তাই শোকাহতদের স্বস্তি দিতে পানি ছিটানো হয়। নারী ও পুরুষকে পৃথকভাবে রাখা হয় এবং হাজারো মানুষ বিশাল কমপ্লেক্সটি পূর্ণ করে তোলে।

এএফপির প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, সামনের মঞ্চে খামেনি ও তাঁর পরিবারের আরও চার সদস্যের কফিন রাখা হয়েছে।

অনুষ্ঠানস্থলে ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’ এবং ‘প্রতিশোধ, প্রতিশোধ’ স্লোগান ধ্বনিত হয়।

৩৮ বছর বয়সী ধর্মীয় নেতা মোহাম্মদ মিরসালেহি বলেন, ‘নেতা আমাদের সবার পিতার মতো ছিলেন। তাঁর চলে যাওয়ায় আমরা সবাই এতিম হয়ে গেছি। তাঁর মতো আর কেউ ছিলেন না। তিনি সত্যিই অনন্য ছিলেন।’

১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী হামিদরেজা শাবানি বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই উঠে দাঁড়াতে হবে এবং ইনশাআল্লাহ আমাদের নেতার রক্তের প্রতিশোধ নিতে হবে।’

কর্তৃপক্ষের ধারণা, রাজধানী তেহরানেই এসব কর্মসূচিতে এক কোটিরও বেশি মানুষ অংশ নেবেন।

তবে অনুষ্ঠান শুরুর আগে তেহরান ছিল তুলনামূলক শান্ত। সাধারণত যানজটে ভরা সড়কগুলো অনেকটা ফাঁকা ছিল। প্যারিসে অবস্থানরত এএফপির সাংবাদিকদের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় তারা রাজধানী ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

দীর্ঘ শেষকৃত্যানুষ্ঠান।

পাঁচ সপ্তাহের যুদ্ধের পর যুদ্ধবিরতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি প্রাথমিক সমঝোতা কার্যকর থাকায় বর্তমানে সংঘাত স্থগিত রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই প্রয়োজন হলে আবার যুদ্ধ শুরু করার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে।

সাড়ে তিন দশকেরও বেশি সময় ক্ষমতায় থাকা খামেনির মৃত্যু ইরানে নতুন এক যুগের সূচনা করছে, যা অনিশ্চয়তায় আচ্ছন্ন।

দেশটির কর্তৃপক্ষের মতে, এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সরকারের প্রতি জনসমর্থনেরও একটি পরীক্ষা। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভে হাজারো মানুষ নিহত হওয়ার অভিযোগে সরকার আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়ে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, খামেনির মরদেহ তিন দিন তেহরানে রাখা হবে। এরপর মঙ্গলবার ধর্মীয় নগরী কোমে নেওয়া হবে। বুধবার মরদেহ নেওয়া হবে প্রতিবেশী ইরাকে এবং বৃহস্পতিবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় নিজ শহর মাশহাদে তাঁর দাফন সম্পন্ন হবে।

মাশহাদে অবস্থিত ইমাম রেজার মাজার-এ তাঁকে সমাহিত করা হবে। একই কবরস্থানে তাঁর নাতনি, জামাতা, কন্যা এবং মোজতবা খামেনির স্ত্রী জাহরা হাদ্দাদ আদেলকেও দাফন করা হবে। তারা সবাই ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় নিহত হন।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মদি গোলপায়গানির ছোট কফিনটিও অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে প্রদর্শন করা হয়।

‘প্রতিশোধের আহ্বান’

শুক্রবার জীবিত থাকা শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে শোক প্রকাশের পাশাপাশি ঐক্যের বার্তা দেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় ইরানের প্রধান আলোচক এবং পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফকে অশ্রুসজল দেখা যায়। একই সময়ে হামলায় নিহত পূর্বসূরির স্থলাভিষিক্ত হয়ে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস-এর প্রধান হওয়া আহমদ বাহিদি নতুন দায়িত্বে প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে উপস্থিত হন।

কালিবাফ বলেন, ‘প্রতিশোধের জন্য জাতির আহ্বান সমগ্র বিশ্বের কানে পৌঁছাতে হবে।’ তিনি ইরানিদের ব্যাপক সংখ্যায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

আগামী বেশ কয়েকটি দিনে মোজতবা খামেনির কোনো প্রকাশ্য উপস্থিতি দেখা যায় কি না, সেদিকে নিবিড় নজর থাকবে। তিনি এখন পর্যন্ত কেবল লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে যোগাযোগ করেছেন। একই হামলায় তিনি আহত হয়েছিলেন বলে জানা গেলেও তাঁর আঘাতের মাত্রা কখনো স্পষ্ট করা হয়নি।

অনুষ্ঠান ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বহু সড়ক বন্ধ রাখা হয়েছে এবং আকাশসীমাও বন্ধ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। ১৯৮৯ সালে রুহুল্লাহ খোমেনি-র দাফনের পর এটিই ইরানের সবচেয়ে বড় জনসমাগমের অনুষ্ঠান হতে যাচ্ছে।

অতীতে এ ধরনের অনুষ্ঠানে পদদলিত হওয়ার ঘটনা ঘটায় এবার সে ঝুঁকি এড়াতে কর্তৃপক্ষ বিশেষ সতর্কতা নিয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনেও নিরাপদে অংশগ্রহণের নির্দেশনা প্রচার করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উত্তরসূরিকে বৈশ্বিক নেতৃত্বে সক্রিয় থাকার পরামর্শ স্টারমারের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৫৭ পি.এম


উত্তরসূরিকে বৈশ্বিক নেতৃত্বে সক্রিয় থাকার পরামর্শ স্টারমারের

বিদায়ী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেন, তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি অ্যান্ডি বার্নহ্যাম কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যায় মনোযোগ দিতে পারবেন না, বরং আন্তর্জাতিক অস্থিরতাকেও উপেক্ষা করতে পারবেন না।

লন্ডন থেকে এএফপি জানায়, ২২ জুন পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর শনিবার প্রকাশিত প্রথম সাক্ষাৎকারে স্টারমার বলেন, ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নতুন নেতাকে বৈশ্বিক অস্থিরতার বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে। আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে তাকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

এ পর্যন্ত সাবেক ম্যানচেস্টার মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যামই মধ্য-বামপন্থী দলটির নেতৃত্বের জন্য একমাত্র প্রার্থী। তিনি চলতি জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন।

স্টারমার বিবিসিকে বলেন, ‘যেই আমার উত্তরসূরি হোন না কেন, তাকেও একই বৈশ্বিক সংঘাতের মুখোমুখি হতে হবে। আমরা বারবার বলছি এবং সেটি সত্য, সম্ভবত আমরা এখন আমার জীবদ্দশার সবচেয়ে বিপজ্জনক ও অস্থির বিশ্বে বাস করছি। এটি কেবল একটি বাক্য নয়, এটাই বাস্তবতা।’

বার্নহ্যামের সমর্থকদের দাবি, তার সরকারের প্রধান গুরুত্ব দেওয়া উচিত জীবনযাত্রার ব্যয় সংকটের মতো অভ্যন্তরীণ বিষয়ের দিকে। এই সপ্তাহে বার্নহ্যামও বলেছেন, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ হবে তার অন্যতম অগ্রাধিকার।

তবে শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নোত্তর পর্বে বার্নহ্যাম আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। তিনি জানান ইউক্রেনের প্রতি স্টারমারের মতোই তিনি ‘শতভাগ’ সমর্থন অব্যাহত রাখবেন।

বিবিসির প্রশ্নের জবাবে স্টারমার বলেন, তার উত্তরসূরির কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডে কম সময় দেওয়া সম্ভব হবে না।

তিনি বলেন, ‘প্রায়ই একটি প্রশ্ন ওঠে, আন্তর্জাতিক বিষয় এবং অভ্যন্তরীণ বিষয় সামলানোর মধ্যে সঠিক ভারসাম্য কী? কিন্তু বাস্তবে এ দুটি একই বিষয়।’

স্টারমার আরও বলেন, ‘আপনি যদি প্রধানমন্ত্রী হন এবং দেশের প্রতিটি পরিবারের বিদ্যুৎ-গ্যাসসহ বিভিন্ন বিল নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন, তাহলে ইউক্রেন পরিস্থিতির একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করার বিষয়েও আপনাকে গুরুত্ব দিতে হবে। একইভাবে আপনাকে হরমুজ প্রণালীতে কী ঘটছে, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।’

তিনি জানিয়েছেন, বার্নহ্যামের প্রতি তার ‘কখনোই ব্যক্তিগত বিদ্বেষ ছিল না’ এবং পরবর্তী সরকার সফল হওয়ার জন্য তিনি ‘সম্ভব সবকিছুই করবেন’।

২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টিকে বড় ধরনের বিজয় এনে দেওয়া স্টারমার জানান, অন্তত পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত তিনি পার্লামেন্ট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তবে উত্তরসূরিকে নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে বিরক্ত করবেন না।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমি বরং মুখ বন্ধ রাখব, উত্তরসূরিকে কী করা উচিত সে বিষয়ে প্রতিনিয়ত পরামর্শ দিয়ে যাব না।’

নেতৃত্ব ধরে রাখার লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলেও শেষ পর্যন্ত দলের প্রবল চাপের মুখে সরে দাঁড়ান।

স্টারমার বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত এটি একান্তই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে পরিণত হয়েছিল।’

তিনি জানান, স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি অবকাশযাপন কেন্দ্র চেকার্সে দুই দিন কাটানোর পরই তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা চেকার্সে গিয়েছিলাম এবং পরিবার হিসেবে সেখানে দুই দিন একসঙ্গে কাটিয়েছি। সেখানেই আমি আমার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাই।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গোল বাতিল নিয়ে রোনালদোর কড়া সমালোচনায় ইব্রাহিমোভিচ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৫৮ পি.এম


গোল বাতিল নিয়ে রোনালদোর কড়া সমালোচনায় ইব্রাহিমোভিচ

পর্তুগালের বিপক্ষে ক্রোয়েশিয়ার বাতিল হওয়া গোল নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ। তার মতে, বিশেষ করে রাউন্ড অব সিক্সটিনে পর্তুগাল ও স্পেনের ম্যাচ আয়োজনের জন্যই এমন পক্ষপাতিত্ব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এসি মিলানের এই অভিজ্ঞানী উপদেষ্টা বর্তমানে বিশ্বকাপের ফক্স স্পোর্টসের বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করছেন। একটি অনুষ্ঠানে তিনি তুলে ধরেন, ‘এটি ছিল দুর্দান্ত একটি ম্যাচ। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ভিএআর সেটি নষ্ট করে দিল। গোলটিতে আমি কোনো অনিয়মই দেখিনি। ভিএআর গোলটি বাতিল করেছে, কিন্তু আমার কাছে এটি ছিল স্পষ্ট ডাকাতি।’

গোল বাতিলের ঘটনাকে ডাকাতি মনে হওয়ার জন্য তিনি একটি ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। তিনি বলেন, ‘হয় বলের সেন্সর কাজ করছিল না, নয়তো অন্য কোথাও একটি সমস্যা হয়েছে। কারণ রেনাতো ভেইগা বল স্পর্শ করেছিলেন, অর্থাৎ সেখানে অফসাইড হওয়ার প্রশ্নই আসে না। রিপ্লেটা দেখুন, ক্রোয়েশিয়ার ২০ নম্বর খেলোয়াড় বল স্পর্শই করেনি, এমনকি বলের গতিপথও বদলায়নি। পর্তুগালের ১৩ নম্বর খেলোয়াড় বল স্পর্শ করেছে। তাহলে অফসাইড কীভাবে হয়? প্রতিপক্ষের একজন খেলোয়াড় বল ছুঁয়েছে, আর হঠাৎ করে ক্রোয়েশিয়ার গোলদাতা অফসাইড হয়ে গেল? এটা হাস্যকর!’

তাঁর আরও যোগ করা মন্তব্যে, ‘যে ক্রোয়াটরা শেষ পর্যন্ত হৃদয় উজাড় করে লড়াই করেছে, তাদের বিশ্বকাপের স্বপ্নময় একটি মুহূর্ত কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ৯০তম মিনিটে কোনো গোল বাতিল করতে হলে সিদ্ধান্তটি একেবারে সন্দেহাতীত হতে হবে। এখানে তা মোটেও ছিল না। এটা রেফারিং নয়, এটা সরাসরি চুরি। আমার কাছে পরিষ্কার, তারা চেয়েছিল পর্তুগাল ও রোনালদো শেষ ষোলোতে উঠুক, যাতে স্পেনের মুখোমুখি হতে পারে।’

রোনালদোকে নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ইব্রাহিমোভিচ বলেন, ‘পর্তুগালের সমর্থকদের এখন যা হচ্ছে, তা আগে থেকেই অনুমান করা উচিত ছিল। ২০২৬ সালে ৪১ বছর বয়সি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে আক্রমণের নেতৃত্ব দিয়ে আপনি কিছুই জিততে পারবেন না। বিশেষ করে যখন বদলি হিসেবে নেমে গনসালো রামোস গোল করছে, অথচ সে বেঞ্চে বসে থাকে।’

এদিকে, ইব্রাহিমোভিচ মনে করেন, রোনালদো পর্তুগাল দলকে জিম্মি করে রেখেছেন। তিনি বলেন, ‘এটা কোনো ‘কিংবদন্তির নেতৃত্ব’ নয়। বরং তার অহংকার পুরো দলকে জিম্মি করে রেখেছে। রোনালদো তার আগের ছোঁয়া ও গতিশীলতা হারিয়েছে। এখন সে শুধুমাত্র বক্সের ভেতরেই অবস্থান করে। এই পর্যায়ে তার পায়ের চেয়ে তার খ্যাতিই তাকে বেশি এগিয়ে রাখছে। শুধুমাত্র অতীতের স্মৃতির কারণে তাকে একাদশে খেলিয়ে যাওয়া নিছক উন্মাদনা।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%