প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দীর্ঘ সময় ১৭ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বরিশাল নগরীতে আবারও সিটি বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)। এই উদ্যোগের বাস্তবায়ন হলে নগরবাসী যেমন সাশ্রয়ী মূল্যে গণপরিবহন ব্যবহারের সুযোগ পাবেন, তেমনি থ্রি-হুইলার চালকদের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের দৌরাত্ম্যও নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।
নগরীর যানজট নিরসন এবং গণপরিবহনের সংকট দূর করতে বিসিসি কর্তৃপক্ষ এই প্রকল্পকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রাথমিক পরিকল্পনার ওপর ভিত্তি করে, নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে লঞ্চঘাট এবং লঞ্চঘাট থেকে রূপাতলী—এই গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতে বাস চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, ২০০৩ সালে বরিশাল সিটি করপোরেশনে উন্নীত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো বিআরটিসির বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছিল। কিন্তু নানা প্রতিকূলতার কারণে দুই বছর পর সেটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০০৯ সালে তৎকালীন মেয়র শওকত হোসেন হিরনের উদ্যোগে আবারও সেবাটি চালু হলেও ২০১৩ সালে তা আবার থমকে যায়। সেসময়ের পর গত এক দশকের বেশি সময় ধরে নগরবাসী মূলত থ্রি-হুইলারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন, যার ফলস্বরূপ যাত্রীদের প্রতিনিয়ত অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হয়েছে।
গ্যাসের দাম ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচের অজুহাতে থ্রি-হুইলার চালকদের স্বেচ্ছাচারিতায় সাধারণ মানুষ ভীষণভাবে অতিষ্ঠ। ভাড়ার তালিকা মানতে চালকদের অনীহা থাকার কারণে, সম্প্রতি নাগরিকদের একটি প্রতিনিধিদল জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে অনুরোধ করেছেন।
নগরীর প্যারারা রোডের বাসিন্দা আলামিন হাওলাদার মন্তব্য করেছেন, “গ্যাসের দাম বাড়ানোর কারণে চালকরা যাত্রীদের পকেট কাটছে। সিটি বাস চালু হলে সাধারণ মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন এবং চালকদের এই অনিয়মও অনেকাংশে কমে আসবে।”
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী জানিয়েছেন, “সিটি বাস সার্ভিস চালুর বিষয়ে আমাদের সক্রিয় বিবেচনা রয়েছে। আমরা খুব দ্রুত বিষয়টি প্রশাসকের অনুমোদনের জন্য তুলে ধরব। অনুমোদন পেলে, প্রথমে নির্ধারিত কয়েকটি রুটে বাস চলাচল শুরু হবে এবং পরে পর্যায়ক্রমে যাত্রী চাহিদার ভিত্তিতে রুট ও বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে।”
সিটি করপোরেশনের এমন সাহসী ও সময়োপযোগী উদ্যোগ নগরবাসীর মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এখন কেবল দ্রুত বাস্তবায়নের অপেক্ষায় আছি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন