১০:২৩ এম
প্রায় চার মাসের উত্তেজনা ও সংঘাতের পর, সমঝোতার পথে হাঁটতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। দুদেশ একটি সমঝোতা স্মারকে সম্মত হলেও, স্থায়ী সমাধানের পথ এখনো অনিশ্চিত রয়েছে। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে হতে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে, চারটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু সামনে চলে এসেছে, যা চূড়ান্ত চুক্তির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।
শুক্রবারের বৈঠকে চূড়ান্ত সমঝোতার পথে বড় বাধা হতে পারে যেসব বিষয়-
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে রয়েছে গভীর বিভেদ। সবচেয়ে জটিল প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরানের কাছে থাকা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত বিদেশে সরিয়ে নেওয়া হোক অথবা সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হোক। কিন্তু তেহরান সেই দুই প্রস্তাবই নাকচ করে দিয়েছে।
আরও পড়ুন: পশ্চিম তীরে বন্দুকযুদ্ধে দুই ফিলিস্তিনি নিহত, আহত ছয় ইসরায়েলি সেনা
ইরান অবশ্য ইউরেনিয়ামের ঘনত্ব কমানোর বিষয়ে কিছুটা নমনীয়তার ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে নিজেদের ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার কোনোভাবেই ছেড়ে দেবে না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে দেশটি। তাই এই বিষয়টিতে আলোচনার সবচেয়ে বড় অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে টানাপোড়েনও রয়েছে। সাম্প্রতিক সংঘাতের সময়ে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ আবার চালু হওয়ার কথা ছিল, তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র চায়, প্রণালিটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত ও টোলমুক্ত থাকুক। তবে ইরান বলছে, যুদ্ধপরবর্তী বাস্তবতায়, এই কৌশলগত জলপথের ব্যবস্থাপনায় তাদের প্রভাব ও ভূমিকা বজায় রাখতে হবে। এ নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান এখনো অনেক দূরে রয়েছে।
অর্থনৈতিক প্রশ্নেও মতপার্থক্য রয়েছে, যা পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে। ইরান দ্রুত সকল ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ সম্পদ ফেরতের দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু ওয়াশিংটনের অবস্থান ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ইরান তার প্রতিশ্রুতি পালন করছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করেই ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে। যদিও প্রাথমিক সমঝোতার অংশ হিসেবে, ইরানের তেল রপ্তানিতে কিছু ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা দেখা গেছে, যা ইতোমধ্যে মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
আরও পড়ুন: ১ নভেম্বর থেকে ফোনে কলারের নাম-পরিচয় দেখা যাবে
একটি নতুন শঙ্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইসরায়েলের অবস্থান। চুক্তির ভবিষ্যৎ বাস্তবায়নে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠছে দেশটির ভূমিকা। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে কোনো সমঝোতা ইসরায়েলের সামরিক সিদ্ধান্তকে সীমাবদ্ধ করবে না।
বিশেষ করে লেবাননে, ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে তারা নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসবে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। ফলে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সৃষ্ট হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে এই চারটি ইস্যুতে বড় ধরনের মতপার্থক্য থাকায়, চূড়ান্ত সমঝোতা কতটা এগোবে তা এখনো অনিশ্চিত। শুক্রবারের আলোচনা কয়েকটি দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সংঘাত বন্ধ হতে পারে আবার অচলাবস্থাকেও দীর্ঘায়িত করতে পারে।
সূত্র : রয়টার্স
আরও পড়ুন: তিউনিসিয়ায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, রাজধানী উত্তাল বিক্ষোভে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন