প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতীয় বাজেটে তিস্তা মহাপরিকল্পনার জন্য সুস্পষ্ট অর্থ বরাদ্দ এবং বাস্তবায়নের রোডম্যাপ না থাকার কারণে তিস্তাপাড়ের মানুষ আবারও ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে। তাদের অভিযোগ, প্রজন্মের পর প্রজন্ম বন্যা, খরা এবং নদীভাঙনের সঙ্গে লড়াই করতে করতে পার হয়ে গেলেও তিস্তার স্থায়ী সমাধান এখনো আশ্বাসের পাতায় রয়েছে। তাই তাঁরা ভূ-রাজনৈতিক জটিলতার অজুহাত না দেখিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
বুধবার (১৭ জুন) সন্ধ্যায় রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুরে ‘তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত গণসমাবেশ ও মশাল প্রজ্বলন কর্মসূচিতে নদীপাড়ের হাজারো মানুষ অংশ নেন। সমাবেশের পরে একটি মশাল প্রজ্বলন মিছিল বের করা হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা তিস্তার স্থায়ী সমাধান এবং মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সমাবেশে বক্তব্য দিয়েছেন তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হক্কানী, সাধারণ সম্পাদক শফিয়ার রহমানসহ অন্যান্য নেতারা।
এই সময় বক্তারা বলেন, তিস্তা এখন উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষার প্রতীক। বর্ষা মৌসুমে নদীর উন্মত্ত স্রোত ঘরবাড়ি, ফসলি জমি এবং সহায়-সম্বল ভাসিয়ে নিয়ে যায়। আবার শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এই বৈপরীত্যপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে তিস্তা অববাহিকার মানুষ দুই দশকের বেশি সময় ধরে একটি কার্যকর মহাপরিকল্পনার অপেক্ষায় রয়েছেন।
সমাবেশে অংশ নেওয়া নদীপাড়ের মানুষরা আরও বলেন, চলতি অর্থবছরের বাজেটে তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিষয়টি আলোচনায় এলেও কোনো সুনির্দিষ্ট অর্থ বরাদ্দ কিংবা বাস্তবায়নের সময়সূচি উল্লেখ করা হয়নি। এতে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে নতুন করে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাই তারা এখন আর আশ্বাস নয়, দৃশ্যমান উদ্যোগ এবং সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা দেখতে চান।
তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের নেতারা বলেন, উত্তরাঞ্চলের প্রায় দুই কোটি মানুষের দুর্ভোগ বারবার রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বিষয়বস্তু হলেও বাস্তব সমাধান এখনও অধরাই রয়ে গেছে। তাই সংসদীয় বাজেটে তিস্তা মহাপরিকল্পনার জন্য সুনির্দিষ্ট অর্থ বরাদ্দ, সময়বদ্ধ বাস্তবায়ন পরিকল্পনা এবং একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানান তারা।
সংগঠনের সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা আর বিলম্ব করার সুযোগ নেই। উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি এবং পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।
এ সময় তিনি বক্তব্যে স্মরণ করিয়ে দেন, গত বছর তিস্তাপাড়ের লাগাতার আন্দোলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বর্তমান সরকার প্রধান মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছিলেন। তাই তারেক রহমান সরকারের হাত ধরে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ দ্রুত শুরু হবে, এমনটাই প্রত্যাশা তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হক্কানী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন