ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জুলাই আন্দোলনে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি নাহিদের


জুলাই আন্দোলনে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি নাহিদের

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম, জুলাই আন্দোলনসহ ফ‍্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তিনি মন্তব্য করেন, ‘১৭-১৮ তারিখ আন্দোলন স্তিমিত হয়ে পড়লে দুটি শক্তি এই আন্দোলনের পুনর্জাগরণ ঘটায়। মাদরাসা শিক্ষার্থী এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এ ভূমির মানচিত্রে মানুষের অধিকার আদায়ে যুগে যুগে আমাদের ওলামা কেরাম জীবন দিয়েছেন, ত্যাগ করেছেন। গত কয়েক দশক ধরে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের জুব্বা রক্তাক্ত হয়েছে। শুধুমাত্র বাংলাদেশে নয়, পৃথিবীজুড়ে এ জুব্বা বিদ্রোহ এবং লড়াইয়ের প্রতীক। সরকারের কাছে আমরা দাবি জানাচ্ছি, মাদরাসা শিক্ষার্থীদের ত্যাগকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দিতে হবে।’

সোমবার রাজধানীর বিএমএ ভবন মিলনায়তনে ‘জুলাইয়ের রক্তাক্ত জুব্বা: মাদরাসা শিক্ষার্থীদের অবদান’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: ঢামেকে ভুয়া চিকিৎসক মো. রাকিব আটক, থানায় হস্তান্তর

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, জুলাই নিয়ে ব্যবসা করা যাবে না। জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা পরিবর্তন। যখন আমরা এই পরিবর্তনের কথা বলতে গেলে, জুলাই চেতনা বিক্রি বলছে। কিন্তু জুলাই কেউ বিক্রি করছে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে গত ৫০ বছর আওয়ামী লীগ এদেশে গণতন্ত্র হত্যা চালিয়ে গেছে। গুম, খুনের রাজনীতি করেছে এবং দেশের টাকা লুটপাট করেছে। সেই চেতনার কথাই বিএনপির কাছে সবচেয়ে বেশি শুনতে পাই।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘জুলাইয়ে আমাদের আকাঙ্ক্ষা ছিল, জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি ছিল নতুন বাংলাদেশ, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার। এই সংস্কারের কথাকে জুলাইয়ের চেতনা বলা হচ্ছে। কিন্তু জনগণ জানে, জুলাইয়ের ফলে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেয়েছে বিএনপি। তারেক রহমান লন্ডন থেকে দেশে এসেছেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শিলং থেকে ফিরে এসেছেন। বিএনপি একদিকে দায়িত্বহীন ক্ষমতা পেয়েছে এবং আমরা পেয়েছিলাম ক্ষমতাহীন দায়িত্ব। সংবিধান সংস্কার আদেশ যদি অবৈধ হয়, সে আদেশ দেওয়া রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না? নির্বাচন কমিশনার শফথ পড়িয়েছেন; তার বিরুদ্ধে কেন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?

অবিলম্বে সংস্কার বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী হয়নি। বিপ্লবের পরে আকাঙ্ক্ষা এবং আদেশের মাধ্যমে নির্বাচন এবং গণভোট হয়েছে। সংবিধানের কোথাও ২০২৪ সালে নির্বাচনের কথা ছিল না। বরং ২০২৯ সালের নির্বাচনের কথাই বলা হয়েছিল। ফলে সরকারের বুঝতে হবে, পাঁচ আগস্টের পরের ধারাবাহিকতা সংবিধান দিয়ে বোঝা যাবে না। এটি জুলাই বিপ্লবের জনগণের আকাঙ্ক্ষা দিয়ে ব্যাখ্যা করতে হবে। সে আকাঙ্ক্ষা ছিল রাষ্ট্র কাঠামোর আমূল পরিবর্তন এবং নতুন বাংলাদেশ গঠন।

সেমিনারে প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্র চিন্তক ফরহাদ মজহার, চিন্তক মুসা আল হাফিজ, এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিনসহ বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন দশম গ্রেডে উন্নীত করার তিন দাবি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের বর্ণনায় উঠে এলো নিরাপত্তা বাহিনীর বর্বরতা, এ যেন আরেক জুলাই বিপ্লব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৪৬ পি.এম


দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের বর্ণনায় উঠে এলো নিরাপত্তা বাহিনীর বর্বরতা, এ যেন আরেক জুলাই বিপ্লব

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সোমবার ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সংসদের দিকে আগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীদের ঠেকানোর জন্য দিল্লি পুলিশ ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে। এই সময়, কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভকারীদের এবং নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।

সংসদ ভবনের দিকে যাওয়ার পথে সংসদ স্ট্রিট, কনট প্লেস এবং বিশেষভাবে প্যাটেল চৌক মেট্রো স্টেশন এলাকার মধ্যে সংঘর্ষের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি ছিল। যখন বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করে, নিরাপত্তা বাহিনী একাধিক টিয়ারগ্যাস শেল নিক্ষেপ করে এবং লাঠিচার্জ শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কিছু বিক্ষোভকারী কাঁচ ও প্লাস্টিকের বোতল নিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে।

নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার দায়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও সমর্থক কনট প্লেস থেকে জনপথ হয়ে সংসদ মার্গের দিকে পদযাত্রা করেন। কিন্তু সংসদ মার্গের প্রবেশমুখে আগে থেকেই ব্যারিকেড বসিয়ে তাদের অগ্রযাত্রা আটকে দেয় পুলিশ।

প্যাটেল চৌক এলাকায় সংঘর্ষের সময় বহু বিক্ষোভকারী আহত হন, যেখানে কারও হাত, কারও পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে। ঘটনাস্থল থেকে সরানো সময় আহত এক আন্দোলনকারী শরীরের আঘাতগুলো দেখিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা কি পশু? কেন আমাদের এভাবে মারছে? আমরা কি সন্ত্রাসী?’ আরেকজন অভিযোগ করেন, ‘কোনো কারণ ছাড়াই আমাদের ওপর নির্মমভাবে লাঠিচার্জ করা হয়েছে।’

শিক্ষার্থী সংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন দাবি করেছে, তাদের দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার এক নেতা রোভিনের বাম হাত ভেঙে গেছে। এছাড়া আরেকজন কর্মী ঘাড়, পিঠ, হাত ও পায়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। সংগঠনটির অভিযোগ, এক শিক্ষার্থীর কাঁধ নড়ে মারাত্বক জখম হয়েছে এবং নারী বিক্ষোভকারীদের ওপর পুরুষ পুলিশ সদস্যরা লাঠিচার্জ করেছেন।

টিয়ারগ্যাসে আক্রান্ত এক বিক্ষোভকারী বলেন, তারা সকাল থেকে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। চারদিকে ব্যারিকেড থাকায় নিরাপদে সরে যাওয়ার রাস্তা ছিল না। অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, নিরাপদে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করলেও পুলিশ সহযোগিতা না করে তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে। পরে তারা নিজেদের রক্ষার জন্য রাস্তার পাশে থাকা যানবাহনের আড়ালে আশ্রয় নেন।

ঘটনার পর সিজেপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রশ্ন তোলে, ‘এটি কি যুদ্ধক্ষেত্র? শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর কেন টিয়ারগ্যাস ব্যবহার করা হচ্ছে?’

দলটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশ্যে আরও লিখেছে, ‘আপনি কি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে আমরা আর গণতন্ত্রে বাস করছি না? এক মাস ধরে সরকার এই আন্দোলন উপেক্ষা করেছে, আর এখন আমরা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করলে আমাদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে।’

বিরোধী নেতারাও এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। শিবসেনা নেতা আদিত্য ঠাকরে বলেছেন, “যখন একটি সরকার উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থার দাবিতে আন্দোলনরত তরুণদের দিকে অস্ত্র তাক করে, তখন বোঝা যায় সেই সরকার তরুণদের বিরোধী।” তিনি আরও দাবি করেন যে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ বিশ্বের কাছে ভারতের গণতন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলবে।

অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ও মুখপাত্র রাজীব রঞ্জন এক বিবৃতিতে বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং বলেন, সবাইকে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহযোগিতা করতে হবে এবং কোনো ধরনের সহিংসতা বা বেআইনি কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে হবে। কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের আইনসম্মত নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বানও জানান তিনি।

উল্লেখযোগ্য যে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা আন্দোলন গোটা বাংলাদেশকে উত্তাল করে তুলেছিল। ছাত্র-জনতার সেই অবিশ্মরণীয় আন্দোলনকে ভারতের এই ককরোচ আন্দোলন দমনের মতোই একই ভূমিকা পালন করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে হবে: চরমোনাই পীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৫১ পি.এম


বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে হবে: চরমোনাই পীর

 

নারায়ণগঞ্জে আয়োজিত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা ও মহানগরের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছেন চরমোনাই পীর মুফতি রেজাউল করীম।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির এবং চরমোনাই পীর মুফতি রেজাউল করীম বলেছেন, 'নিরপরাধ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, অর্থপাচার এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বন্ধ করতে হবে।' এ সময় দেশের আইন-শৃঙ্খলা, বিচারব্যবস্থা এবং অর্থপাচারের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি।

আজ সোমবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের কালিরবাজারে শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা ও মহানগরের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, 'যারা স্বাধীনভাবে ও শান্তিতে বসবাস করতে চান, তাদের জন্য ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো নীতি বা আদর্শের মাধ্যমে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।'

চরমোনাই পীর জানান, ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে তিনি শতভাগ মানসিকভাবে পরিষ্কার এবং অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের সব কিছুই আল্লাহর ইচ্ছায় সংঘটিত হচ্ছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

ইসলামের নামে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিভক্তির সমালোচনা করে তিনি বলেন, 'একই ইসলামের কথা বললেও তারা একসঙ্গে চলতে বা রাজনীতি করতে পারেনি।'

তার দাবি, ইসলামের নামে যে বিভ্রান্তি ছিল, তা এখন মানুষের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে। তিনি আরো দাবি করেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশই প্রকৃত ইসলামী রাজনীতির প্রতিনিধিত্ব করছে।

অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি মাওলানা দ্বীন ইসলাম, সহসভাপতি মুফতি মাসুম বিল্লাহ, সেক্রেটারি মো. সুলতান মাহমুদকে এবং নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি হিসেবে মো. আব্দুর রশিদ, সহসভাপতি ফারুক আহমেদ মুনশি ও সেক্রেটারি মাওলানা শিব্বির আহমদের নাম ঘোষণা করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বহনকারী নতুন এয়ারফোর্স ওয়ান সংস্কারে যাচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৫২ পি.এম


মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বহনকারী নতুন এয়ারফোর্স ওয়ান সংস্কারে যাচ্ছে

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে বহনকারী নতুন এয়ারফোর্স ওয়ান বিমানটি মাত্র ১৯ দিনের মাথায় সংস্কারের জন্য পাঠানো হচ্ছে। রবিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই এ তথ্য জানিয়েছেন।

এটি নতুনভাবে বিমানটি নিরাপত্তা ঘাটতি নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের সত্যতাকে স্বীকার করছে।

এর আগে ১ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বহন করতে যুক্ত হয় কাতারের উপহার বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানটি। গত বছর কাতার রাজপরিবার ৪০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের বিমানটি উপহার দেয়। এরপর ৪০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের ১০ মাসের সংস্কারকাজ শেষে ১৯ জুন এটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেজ অ্যান্ড্রুজে বিমানটি উদ্বোধনকালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উচ্ছ্বসিত ছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, ‘সবকিছুর ডিজাইন দারুণ করা হয়েছে। আমি বলব, এটি আমার রুচিমতো হয়েছে। এই বিমানটিকে এমন এক বিলাসবহুল উড়ন্ত হোয়াইট হাউসে রূপান্তরিত করা হয়েছে যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’

গত ১ জুলাই ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম নতুন এয়ারফোর্স ওয়ান বিমানে চড়ে নর্থ ডাকোটায় একটি জাদুঘর উদ্বোধন করতে যান। তবে চলমান ১৯ দিনের মধ্যে ট্রাম্পের উচ্ছ্বাস মিইয়ে গেছে। নতুন বিমানটি যুক্ত হওয়ার ৮ দিনের মাথায় এর নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে আলোচনা এবং বিতর্ক তৈরি হয়। গত ৮ জুলাই ন্যাটো সম্মেলন শেষে তুরস্কের আঙ্কারা থেকে ফেরার পথে হঠাৎ নতুন বিমানটি বাদ দিয়ে ট্রাম্প পুরোনো বিমানে গিয়ে বসেন। ইরান ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যাকারী ষড়যন্ত্র করছে, এমন আলোচনা চলার মধ্যে ট্রাম্পের এই হঠাৎ বিমান বদল নতুন মাত্রা দিয়েছে।

পরের দিন ৯ জুলাই নিউইয়র্ক টাইমসে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, যেখানে নতুন বিমানটিতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ কিছু জরুরি নিরাপত্তা প্রযুক্তির ঘাটতি রয়েছে বলে জানানো হয়। ১০ জুলাই সিএনএন প্রতিবেদনে জানায়, তাড়াহুড়ো সংস্কারের কারণে নতুন বিমানটির অনেক স্ট্যান্ডার্ড ফিচার বাদ পড়েছে।

তবে বিমান বদল হলো নিরাপত্তা ত্রুটির কারণে, এমন দাবি মানেননি ট্রাম্প। বরং তিনি এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ট্রাম্প প্রশ্ন করেন যে, এখান থেকে তথ্য কে ফাঁস করেছে, তা জানার জন্য হোয়াইট হাউস শক্ত পদক্ষেপ নিয়েছে। চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলস এবং এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল এই তদন্তে যুক্ত আছেন। হোয়াইট হাউসে কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ফোন জমা দিতে বলা হয়েছিল। নিউইয়র্ক টাইমসের ৪ সাংবাদিককে সমন পাঠানো হয়েছে।

এই আলোচনার মধ্যেই ট্রাম্প বিমানটি সংস্কারকাজে পাঠানোর বিষয়ে জানালেন। রবিবার নিউজার্সিতে ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখে ফিরে আসার সময় সাংবাদিকরা নতুন বিমানটির ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। জয়েন্ট বেজ অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের বক্তব্যে ট্রাম্প জানান, ‘এটির অনেক সক্ষমতা রয়েছে। তবে আমার জানা মতে, আগামী এক মাসের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ আধুনিকায়নের জন্য পাঠানো হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তারা এটি পাঠাতে যাচ্ছে এবং এটিকে সর্বোচ্চ আধুনিকীকরণ করা হবে। এতে প্রায় ১ মাস সময় লাগবে।’

এটি উল্লেখযোগ্য যে, বোয়িং কোম্পানি এয়ারফোর্স ওয়ান বহরের জন্য দুটি বিমান তৈরির কাজ করছে। ২০২৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে বিমান দুটি মার্কিন বিমান বাহিনীর কাছে হস্তান্তরিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে, বিমানগুলো প্রেসিডেন্টের ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত হতে ২০২৯ সাল বা তার বেশি সময় লাগতে পারে। তবে ট্রাম্প পুরোনো বিমানে অসন্তুষ্ট ছিলেন এবং তার রুচির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ওই বিমানটির সংস্কার করা হয়েছে। কিন্তু তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে এবং তাই ১৯ দিনের মাথায় আবারও বিমানটিকে সংস্কারে পাঠানো হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফাইনাল শেষে মারামারি ও অবজ্ঞা, আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে তদন্তে নামল ফিফা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৫৪ পি.এম


ফাইনাল শেষে মারামারি ও অবজ্ঞা, আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে তদন্তে নামল ফিফা

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে পরাজয়ের পর, মাঠের ভেতরে ও বাইরে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের কারণে আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাবিরোধী তদন্ত শুরু করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।

স্কাই স্পোর্টস নিউজের সূত্র মতে, ফাইনাল ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার একাধিক খেলোয়াড় ও কর্মকর্তার উগ্র আচরণ যাচাই করতে ফিফা ম্যাচ রেফারিদের তৈরি প্রতিবেদন এবং ভিডিও ফুটেজকে বিশ্লেষণ করছে। এজন্য দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের বিশৃঙ্খল আচরণের বেশ কিছু ঘটনা এই তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ফাইনাল শেষে বাঁশির শব্দ শোনার পর স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের ওপর আক্রমণে লিওনার্দো পারেদেস লাল কার্ড পেয়ে যায়, যা ফিফার তদন্তের তালিকায় অন্যতম শীর্ষে রয়েছে। এছাড়া শিরোপা উদযাপনের সময় স্পেনের রদ্রিকের ওপর হামলার অভিযোগে নাহুয়েল মোলিনা এবং স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড দানি ওলমোকে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনায় আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালার ভূমিকা জনাবের আওতায় আসছে। যেকারণে পারেদেসের সঙ্গে স্পেনের এরিক গার্সিয়া ও গাভির মারামারির সূত্রপাতের বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।

মাঠের লড়াই ও মারামারির সাথে সাথে, পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে আর্জেন্টিনার প্রতিনিধিদলের শিষ্টাচারিক আচরণও ফিফার তদন্তের আওতাধীন। যখন স্পেন বিশ্বজয়ের ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিল, তখন আর্জেন্টিনার কয়েকজন ফুটবলার ট্রফির পেছনে ফিরে অবজ্ঞা প্রকাশ করেন, যা ফুটবল বিশ্বে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

ফিফার পক্ষ থেকে বর্তমানে কোনো শাস্তির ঘোষণা করা হয়নি, তবে পুরো শৃঙ্খলাবিরোধী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আরও কয়েক সপ্তাহ লাগবে এবং তারপরই অফিসিয়াল রায় প্রকাশিত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%