১০:৫২ পি.এম
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে বহনকারী নতুন এয়ারফোর্স ওয়ান বিমানটি মাত্র ১৯ দিনের মাথায় সংস্কারের জন্য পাঠানো হচ্ছে। রবিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই এ তথ্য জানিয়েছেন।
এটি নতুনভাবে বিমানটি নিরাপত্তা ঘাটতি নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের সত্যতাকে স্বীকার করছে।
এর আগে ১ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বহন করতে যুক্ত হয় কাতারের উপহার বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানটি। গত বছর কাতার রাজপরিবার ৪০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের বিমানটি উপহার দেয়। এরপর ৪০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের ১০ মাসের সংস্কারকাজ শেষে ১৯ জুন এটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
আরও পড়ুন: কলকাতায় দুর্গাপূজার মণ্ডপে পদদলিত হয়ে অন্তত ২০ জন নিহত
মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেজ অ্যান্ড্রুজে বিমানটি উদ্বোধনকালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উচ্ছ্বসিত ছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, ‘সবকিছুর ডিজাইন দারুণ করা হয়েছে। আমি বলব, এটি আমার রুচিমতো হয়েছে। এই বিমানটিকে এমন এক বিলাসবহুল উড়ন্ত হোয়াইট হাউসে রূপান্তরিত করা হয়েছে যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’
গত ১ জুলাই ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম নতুন এয়ারফোর্স ওয়ান বিমানে চড়ে নর্থ ডাকোটায় একটি জাদুঘর উদ্বোধন করতে যান। তবে চলমান ১৯ দিনের মধ্যে ট্রাম্পের উচ্ছ্বাস মিইয়ে গেছে। নতুন বিমানটি যুক্ত হওয়ার ৮ দিনের মাথায় এর নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে আলোচনা এবং বিতর্ক তৈরি হয়। গত ৮ জুলাই ন্যাটো সম্মেলন শেষে তুরস্কের আঙ্কারা থেকে ফেরার পথে হঠাৎ নতুন বিমানটি বাদ দিয়ে ট্রাম্প পুরোনো বিমানে গিয়ে বসেন। ইরান ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যাকারী ষড়যন্ত্র করছে, এমন আলোচনা চলার মধ্যে ট্রাম্পের এই হঠাৎ বিমান বদল নতুন মাত্রা দিয়েছে।
পরের দিন ৯ জুলাই নিউইয়র্ক টাইমসে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, যেখানে নতুন বিমানটিতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ কিছু জরুরি নিরাপত্তা প্রযুক্তির ঘাটতি রয়েছে বলে জানানো হয়। ১০ জুলাই সিএনএন প্রতিবেদনে জানায়, তাড়াহুড়ো সংস্কারের কারণে নতুন বিমানটির অনেক স্ট্যান্ডার্ড ফিচার বাদ পড়েছে।
তবে বিমান বদল হলো নিরাপত্তা ত্রুটির কারণে, এমন দাবি মানেননি ট্রাম্প। বরং তিনি এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ট্রাম্প প্রশ্ন করেন যে, এখান থেকে তথ্য কে ফাঁস করেছে, তা জানার জন্য হোয়াইট হাউস শক্ত পদক্ষেপ নিয়েছে। চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলস এবং এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল এই তদন্তে যুক্ত আছেন। হোয়াইট হাউসে কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ফোন জমা দিতে বলা হয়েছিল। নিউইয়র্ক টাইমসের ৪ সাংবাদিককে সমন পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: কলকাতার পূজামণ্ডপে পদদলিত হয়ে ১৭ জনের মৃত্যু
এই আলোচনার মধ্যেই ট্রাম্প বিমানটি সংস্কারকাজে পাঠানোর বিষয়ে জানালেন। রবিবার নিউজার্সিতে ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখে ফিরে আসার সময় সাংবাদিকরা নতুন বিমানটির ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। জয়েন্ট বেজ অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের বক্তব্যে ট্রাম্প জানান, ‘এটির অনেক সক্ষমতা রয়েছে। তবে আমার জানা মতে, আগামী এক মাসের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ আধুনিকায়নের জন্য পাঠানো হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারা এটি পাঠাতে যাচ্ছে এবং এটিকে সর্বোচ্চ আধুনিকীকরণ করা হবে। এতে প্রায় ১ মাস সময় লাগবে।’
এটি উল্লেখযোগ্য যে, বোয়িং কোম্পানি এয়ারফোর্স ওয়ান বহরের জন্য দুটি বিমান তৈরির কাজ করছে। ২০২৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে বিমান দুটি মার্কিন বিমান বাহিনীর কাছে হস্তান্তরিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে, বিমানগুলো প্রেসিডেন্টের ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত হতে ২০২৯ সাল বা তার বেশি সময় লাগতে পারে। তবে ট্রাম্প পুরোনো বিমানে অসন্তুষ্ট ছিলেন এবং তার রুচির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ওই বিমানটির সংস্কার করা হয়েছে। কিন্তু তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে এবং তাই ১৯ দিনের মাথায় আবারও বিমানটিকে সংস্কারে পাঠানো হচ্ছে।
আরও পড়ুন: মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য কৌশল সাজাচ্ছেন ট্রাম্প, রিপাবলিকানদের নিয়ে উদ্বেগ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন