ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ৩ লাখের বেশি বিদেশির ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র


ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ৩ লাখের বেশি বিদেশির ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে আসার পর যুক্তরাষ্ট্র তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই তথ্য প্রকাশ করেছেন। খবরটি আনাদোলুর মাধ্যমে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কনস্যুলারবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোরা নামদার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি বার্তায় ভিসা বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন: ২৮ বছর পর ৫০ হাজার কিলোমিটার হেঁটে বাড়িতে ফিরলেন ব্রিটিশ অভিযাত্রী কার্ল বুশবি

তিনি তার পোস্টে উল্লেখ করেন, ‘৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিল হয়েছে, এবং এই সংখ্যা আরও বাড়ছে। ভিসাধারীদের জন্য আমাদের বার্তা পরিষ্কার—যুক্তরাষ্ট্রের আইন মেনে চলুন, নইলে দেশটিতে ভ্রমণের সুযোগ হারাবেন।’

নামদার আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নেতৃত্বে আমাদের দেশের এবং মার্কিন জনগণের নিরাপত্তা সর্বদা অগ্রাধিকার।’

এ সময় হোয়াইট হাউসের একটি পোস্টেও নামদার যুক্ত করেছেন। ওই পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ট্রাম্প প্রশাসন ইতিহাসের অন্য কোনো প্রশাসনের তুলনায় দ্রুতগতিতে বেশি ভিসা বাতিল করেছে।’

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগটও এক্সে একটি পোস্টে বলেন, অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত কিংবা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করে এমন বিদেশি নাগরিকদের ভিসা বাতিল করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ায় ট্রাকের ধাক্কায় বাংলাদেশি মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

তিনি আরও বলেন, ‘ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত কোনো বিদেশি নাগরিক যদি আইন ভাঙে, জালিয়াতি করে অথবা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তাকে দুর্বল করার চেষ্টা করে, তাহলে তা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদেশে বাংলাদেশিদের ব্যাংক কার্ডে ব্যয় ৯৮৭ কোটি টাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২৭ এম


বিদেশে বাংলাদেশিদের ব্যাংক কার্ডে ব্যয় ৯৮৭ কোটি টাকা

বিদেশে কেনাকাটা, ভ্রমণ এবং বিভিন্ন সেবার মূল্য পরিশোধের জন্য বাংলাদেশিদের ব্যাংক কার্ড ব্যবহারের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত আগস্ট মাসে বাংলাদেশে ইস্যু করা ব্যাংক কার্ডের মাধ্যমে বিদেশে গ্রাহকরা মোট ৯৮৭ কোটি টাকা ব্যয় করেছেন। এর মধ্যে ক্রেডিট কার্ডে ব্যয় হয়েছে ৫০৫ কোটি, ডেবিট কার্ডে ৪২২ কোটি এবং প্রিপেইড কার্ডে ৬০ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্ডভিত্তিক লেনদেনের তথ্য থেকে এই পরিসংখ্যান উঠে এসেছে। বিদেশে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে, যেখানে মোট বিদেশি ক্রেডিট কার্ড ব্যয়ের ১৭.১৬ শতাংশ হয়েছে। এর পরের অবস্থানে রয়েছে থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, ভারত এবং সিঙ্গাপুর, যেখানে ব্যয়ের হার যথাক্রমে ১০.৮৬, ৯.৭৫, ৯.১২ এবং ৭.৯৮ শতাংশ।

বিদেশে বাংলাদেশিদের কার্ডে ব্যয়ের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে সামগ্রিক কার্ডভিত্তিক লেনদেনের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে কার্ডের মাধ্যমে লেনদেনের অর্থমূল্য প্রায় ১০৩ শতাংশ বেড়েছে। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে এই লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২৪ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা, যা চলতি বছরের আগস্টে বেড়ে ৪৯ হাজার ৭৭০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

একই সময়ে দেশে ব্যাংক কার্ডের সংখ্যা প্রায় ৯৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে কার্ডের সংখ্যা ছিল দুই কোটি ৭০ লাখের কিছু বেশি, যা চলতি বছরের আগস্টে বেড়ে পাঁচ কোটি ২৯ লাখ ৫৪ হাজার ২৪১টিতে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ডেবিট কার্ড রয়েছে চার কোটি আট লাখ ৮৭ হাজার ৮০৪টি, ক্রেডিট কার্ড ২৮ লাখ পাঁচ হাজার ৪৪৯টি এবং প্রিপেইড কার্ড ৯২ লাখ ৭০ হাজার ৯৮৮টি।

সামগ্রিক কার্ড লেনদেন বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে গত আগস্টে দেশের অভ্যন্তরে ক্রেডিট কার্ডে ব্যয় কিছুটা কমেছে। ওই মাসে এ ধরনের লেনদেনের পরিমাণ ছিল চার হাজার ৮৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা, যা আগের মাস জুলাইয়ে ছিল চার হাজার ৩২৫ কোটি টাকা। এক মাসে কমেছে ৫.৪৪ শতাংশ।

আগস্ট মাসে দেশের অভ্যন্তরে ক্রেডিট কার্ডে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয়েছে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে, যেখানে ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৯৬৯ কোটি টাকা। এছাড়া খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রে ৫১৮ কোটি, ইউটিলিটি বিল পরিশোধে ৪৪২ কোটি এবং ওষুধ কেনায় ২৮৪ কোটি টাকা ব্যয় করেছেন গ্রাহকরা।

অন্যদিকে, বিদেশি কার্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশে গত আগস্টে বিদেশিরা ২৪৯ কোটি টাকা ব্যয় করেছেন। আগের মাসের তুলনায় এই ব্যয় বেড়েছে ৬.২৭ শতাংশ এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ৩৪.৬৬ শতাংশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উন্নয়নে বাধা কাটাতে ইউএনওদের বার্তা দেবেন প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২৭ এম


উন্নয়নে বাধা কাটাতে ইউএনওদের বার্তা দেবেন প্রধানমন্ত্রী

দেশে প্রথমবারের মতো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সম্মেলন ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের আদলে হবে। ৫ শতাধিক ইউএনও সরাসরি সরকারের প্রধান তারেক রহমানের দিকনির্দেশনা গ্রহণ করবেন। মাঠপর্যায়ে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ইউএনওদের ভূমিকা অপরিসীম। প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি দিকনির্দেশনায় মাঠ প্রশাসন আরও উজ্জীবিত হবে, এমনটাই আশা সংশ্লিষ্টদের। একই সঙ্গে, উপজেলা উন্নয়নে সব ধরনের বাধা কাটানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী নানা দিকনির্দেশনা দেবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ইউএনওদের নিয়ে এ সম্মেলন এক দিনের হবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানায়, প্রতি বছর জেলা প্রশাসক সম্মেলন আয়োজনের রেওয়াজ রয়েছে। ডিসিরা মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জের কথা সরকারের মন্ত্রী-সচিবদের সামনে তুলে ধরেন। একইভাবে ইউএনওরা যদি সরকারের কাছে মাঠ প্রশাসনের সমস্যাগুলো তুলে ধরেন, তাহলে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কোথায় সমস্যা হচ্ছে, সেটি সরকারের জন্য জানা সহজ হবে। এ কারণে ডিসি সম্মেলনের আদলে ইউএনও সম্মেলন আয়োজনের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের মতবিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

গত ৩ অক্টোবর ঢাকায় অনুষ্ঠিত সারা দেশের ইউএনওদের নিয়ে এক সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম প্রতি বছর ইউএনওদের নিয়ে সম্মেলন করার প্রস্তাব দেন। ওই সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিবও উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা পর্যায়ে সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং নাগরিক সেবা প্রদানে ইউএনওদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১ ডিসেম্বর ডিসি সম্মেলনের আদলে আয়োজিত এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে পারে। সম্মেলন আয়োজনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর সময় চাওয়ার বিষয়টি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ইউএনও সম্মেলন সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রীর সময় চেয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আগামী ১ ডিসেম্বর এটি হবে এমন প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। এটি কোথায় অনুষ্ঠিত হবে জানতে চাইলে দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, ভেন্যু এখনও ঠিক হয়নি। সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র এবং বিকল্প ভেন্যু হিসেবে ওসমানী উদ্যান বিবেচনায় রয়েছে। সম্মেলনের আলোচ্যসূচি নিয়েও কাজ চলছে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, প্রবাসী কার্ডসহ অগ্রাধিকার বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। গ্রামগঞ্জে যারা প্রবাসে আছেন, তারা যেন বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারেন, এজন্য প্রবাসী কার্ড নিয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হবে। শুধু নামমাত্র গাছ লাগিয়ে দায় শেষ করা নয়, বরং বৃক্ষরোপণ যেন সত্যিকারভাবে উপকারে আসে, সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা আসবে। সরকারের খাল খনন সংক্রান্ত বাধা ও কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হতে পারে। এছাড়া, সম্মেলনে উপজেলার উন্নয়ন কার্যাবলির সমন্বয়, সরকারি কর্মসূচি ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতিসঞ্চার, ভূমি ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালীকরণ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কৃষি উন্নয়ন, ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা ইত্যাদি বিষয়গুলো আলোচিত হবে।

সভায় প্রধানমন্ত্রী ইউএনওদের কাছ থেকে এলাকার উন্নয়নে সরাসরি নানা বিষয়ে শুনতে পারবেন। ইউএনওদের সরাসরি সরকারপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়ার ফলে প্রান্তিক উন্নয়ন, সমস্যা বা এলাকার রাজনীতির হস্তক্ষেপ থাকলেও সেটি তুলে ধরার সুযোগ থাকবে ইউএনওদের।

মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকালে ইউএনওদের যেসব প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়, সে বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সচিবরাও সম্মেলনে সরাসরি দিকনির্দেশনা দেবেন বলে জানা গেছে।

সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন, "এটি সরকারের খুবই ভালো উদ্যোগ। এতে কর্মকর্তারা উজ্জীবিত হন। কাজেও গতি আসে। মাঠের সমস্যা সরাসরি বলতে পারেন। প্রধানমন্ত্রীও লিখিত তথ্যের চেয়ে বিষয়গুলো সরাসরি শুনতে পারেন।"

তিনি আরও বলেন, "এরশাদ শাসনামলে এটি হয়েছিল, তবে সব ইউএনওকে নিয়ে একত্রে নয়, বিভাগ অনুযায়ী। আমি মনে করি, সব ইউএনওকে নিয়ে আলোচনা করলে জনসভার মতো হতে পারে, সরকারপ্রধানের সঙ্গে বৈঠকটা কয়েকটা জেলা বা বিভাগওয়ারি হলে আরো কার্যকর হবে। সরকারপ্রধান এবং ইউএনওদের যোগাযোগ কার্যকর হবে বেশি।"

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি, ২১ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২৮ এম


ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি, ২১ অক্টোবর ২০২৬

আজ বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩, ৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮।

ঢাকা এবং তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ প্রদান করা হলো—

জোহরের নামাজ শুরু হবে দুপুর ১১টা ৪৭ মিনিটে।

আসরের নামাজের সময় শুরু হবে ৩টা ৫০ মিনিটে।

মাগরিবের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে ৫টা ৩১ মিনিটে।

এশার নামাজ শুরু হবে ৬টা ৪৫ মিনিটে।

আগামীকাল ফজর শুরু ৪টা ৪৭ মিনিটে

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ঘটবে ৫টা ৩১ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ৫টা ৫৯ মিনিটে।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকায় মাদকের ১৮ ঘুণ্টিঘর চিহ্নিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২৮ এম


ঢাকায় মাদকের ১৮ ঘুণ্টিঘর চিহ্নিত

ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী অভিযানের ফলস্বরূপ রাজধানীর গেণ্ডারিয়ার ঘুণ্টিঘর এলাকা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এই এলাকায় মাদক বিক্রি ও সেবন একটি ওপেন সিক্রেট হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন সকালে স্কুলশিক্ষার্থী, রিকশাওয়ালা এবং চাকরিজীবীদের আনাগোনা বাড়তে থাকে ঘুণ্টিঘর এলাকায়। রাতের গভীরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘুণ্টিঘর হয়ে ওঠে আরও জমজমাট। তবে ঢাকায় মাদক কারবারের জন্য এটি একমাত্র হটস্পট নয়।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ঘুণ্টিঘরের মতো ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১৭টি মাদকের হটস্পট রয়েছে। যেখানে প্রশাসনের চোখের সামনেই গাঁজা, ইয়াবা, হেরোইনসহ নিত্যনতুন মাদক বিক্রি হচ্ছে। এমনকি কিছু স্থানে ক্রিস্টাল মেথ বা আইসের মতো ভয়ংকর মাদকদ্রব্যও প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে। নিরাপদে সেবন করার জন্য আলাদা টাকা নেওয়ার চক্রও রয়েছে।

গেণ্ডারিয়ার ঘুণ্টিঘর প্রকাশ্যে আসার পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কারবারিদের গ্রেপ্তারের জন্য কার্যক্রম শুরু করেছে। মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং ঢাকা শহরে মাদকের কোনো হটস্পটের অস্তিত্ব রাখা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ডিবি পুলিশ। তবে অস্ত্র ও জনবল সংকটের কারণে একক অভিযানে ঘুণ্টিঘরের মতো স্পটগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা নিজেদের জন্য হুমকি বলে জানিয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কর্মকর্তারা। তারা নতুন কৌশলে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা শুরু করেছেন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যেকোনোভাবে মাদক সাম্রাজ্য গুঁড়িয়ে দিতে চান। অন্যদিকে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের কথা জানিয়ে সর্বাত্মক অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছিল। ডিএমপির ৫০ থানা এলাকায় সক্রিয় ৩ শতাধিক শীর্ষ মাদক কারবারির তালিকা করা হয়েছিল। কিন্তু বিশেষ অভিযানের কয়েক মাস পার হয়ে গেলেও ৩ শতাধিক কারবারি এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গেণ্ডারিয়ার ঘুণ্টিঘর ও পার্শ্ববর্তী মুন্সিরটেক ছাড়াও রাজধানীজুড়ে আরও বেশ কয়েকটি হটস্পট রয়েছে। যেখানে মাদক ক্রয়-বিক্রয় ও সেবন ওপেন সিক্রেট। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রাণভয়ে প্রতিবাদ করেন না। কারণ প্রতিবাদ করলেই তাদের ওপর হামলা করে বসে কারবারিরা। এমনকি গুলি করতেও দ্বিধা করে না তারা। ঘুণ্টিঘরের মতো অন্যান্য স্পটগুলোর মধ্যে রয়েছে সবুজবাগের ওহাব কলোনি, কড়াইল বস্তি, পল্লবীর জেনেভা ক্যাম্প, শাহআলী মাজার, মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প, ভাটারা বালুর মাঠ, কারওয়ান বাজার থেকে নাখালপাড়া রেললাইন, হাজারীবাগের গণকটুলি সিটি কলোনি, উত্তরা রেলওয়ে স্টেশনের আশপাশ এলাকা, কোতোয়ালি সুইপার কলোনি, স্বামীবাগ রেললাইন, লালবাগের শহীদনগরের ৪ ও ৫ নম্বর গলি, ডেমরা সারুলিয়া নদীরপাড়, শ্যামপুর আইজি গেট বস্তি, কদমতলীর ওয়াসা রেলগেট, শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনি ও কাফরুল কাঁঠাল মাঠ এলাকা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কারওয়ানবাজার-নাখালপাড়া রেললাইন এলাকা আগের মতোই সক্রিয় রয়েছে মাদক বিক্রি ও সেবনের হটস্পট হিসেবে। গত সোমবার সন্ধ্যার পর এফডিসি রেলগেটের কাছে তিন কিশোরকে দেখা যায়, যারা কাগজে মোড়া গাঁজার পুঁটলি পলিথিনে ভরে ছোটাছুটি করছে। তারা যাতায়াতকারী লোকদের বলছে ১০০ না ২০০। লাগবে নাকি সিদ্ধি? অনেকেই তাদের কাছ থেকে কিনে নিচ্ছে। শুধু রেলগেট নয়, এফডিসি রেলগেট থেকে তেজগাঁও রেলগেট পর্যন্ত বিস্তৃত মাদকের বাজার। এই এলাকায় রেললাইনের দুই পাশে বিক্রেতারা দাঁড়িয়ে থাকে। ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য তারা হাঁক দেন। ক্রেতারা টাকা হাতে দাঁড়ালে তারা গাঁজা, ইয়াবা বের করে দেন। কেউ কেউ রেললাইনের পাথরের নিচে মাদক লুকিয়ে রাখেন। গ্রাহক এলে বের করে বিক্রি করেন এবং মুহূর্তের মধ্যে কিছুটা দূরে গিয়ে নতুন ক্রেতা খুঁজতে থাকেন।

রাজধানীর অন্যতম সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প। এখানে কয়েকজন শীর্ষ কারবারি গ্রেপ্তার হলেও মাদকের কারবার একদিনের জন্যও থামানো যায়নি। ক্যাম্পের মুরগিপট্টি, বাবর রোড, আল ফালাহ মডেল ক্লিনিক গলি, হুমায়ুন রোডসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত মাদক বিক্রি ও সেবন হয়ে থাকে। ক্যাম্প এলাকায় ঢুকলেই নারী-শিশুদের হাতে ইয়াবা ও হেরোইন দেখা যায়। অপরিচিত কেউ ক্যাম্প এলাকায় প্রবেশ করলে নজরদারিও করেন কারবারি চক্রের সদস্যরা। পল্লবীর এডিসি ক্যাম্প, কেটিসি ক্যাম্প, রহমত ক্যাম্প, মাদরাসা ক্যাম্প, মুসলিম ক্যাম্প, কনসাল ক্যাম্প, থার্টিনাস ক্যাম্প, কালাপানি বস্তি, কুর্মিটোলা ক্যাম্প, মুড়াপাড়া ক্যাম্প, এমসিসি ক্যাম্প, মিল্লাত ক্যাম্প, শাহপরান ক্যাম্পও মাদকের অন্যতম হাব। ফোর স্টার গ্রুপের ছত্রছায়ায় কারবারিরা এসব ক্যাম্পে মাদকের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পল্লবীতে মাদকের কলকাঠি নাড়ছে রাজিয়া বেগম, ফতেহ, লাভলী বেগম, নাদিম, জুম্মন, হালিমা, সাহাজামান, বট রনি, আফসানা, রুমা, রজনী আক্তার ও শাহিনুর বেগম। মোহাম্মদপুরে জেনেভা ক্যাম্পে মাদক নিয়ন্ত্রণ করছে গলাকাটা মনু, চোর জানু ওরফে জানে আলম, সারফু আরমান, তাজ, আনোয়ার হোসেন কাল্লু, চাপাই আরিফ, সিডি স্বপন। গেণ্ডারিয়ার ঘুণ্টিঘর এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে রহিমা, মনিরুল হক রবিন, মিনু, স্বামীবাগ রেললাইনে আমির হোসেন, কড়াইল বস্তির মাদক নিয়ন্ত্রণ করছে জিল্লুর রহমান, এরশাদ মিয়া, টোকাই আনোয়ার, লিটন, বরিশাইল্লা নাসির, মিজানুর রহমান, আইলশা মনির, ঘাড় কাটা বাবুল ও রনি। সবুজবাগ ওহাব কলোনির মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করছে ফর্মা বাবুল, মো. শামীম, আশিকুর রহমান শান্ত, সুফিয়া ও তার মেয়ে তানিয়া বেগম। শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনি নিয়ন্ত্রণ করছে হারিছ মিয়া, সজল হোসেন, শাওন চৌধুরী, দেলোয়ার হোসেন, মানিক ও কানা সোহেল।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) মোহাম্মদ ওসমান গণি জানিয়েছেন, রাজধানীতে মাদকের হটস্পটগুলোর নতুন তালিকা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জোরদার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, ডিএমপি সব সময় মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রেখেছে। গেণ্ডারিয়ার ঘুণ্টিঘর থেকে গত ৬ মাসে ৫ শতাধিক মাদক সেবনকারী ও বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবুও এখানে মাদকের প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এই ঘুণ্টিঘরসহ ঢাকায় এরকম যতগুলো হটস্পট রয়েছে, সেগুলোর কোনোটির অস্তিত্ব রাখা হবে না।

ডিএনসির ঢাকা মেট্রো (দক্ষিণ) কার্যালয়ের উপপরিচালক (ডিডি) মো. আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, ঘুণ্টিঘরের মতো স্পটে ডিএনসির একার পক্ষে অভিযান পরিচালনা করা ঝুঁকি। তাই অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় সমন্বিত অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ঘুণ্টিঘরের পর ওহাব কলোনিতেও অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ভাটারা বালুর মাঠেও অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। সেখানে আপাতত মাদক কারবার বন্ধ রয়েছে জানার পর অভিযান স্থগিত রাখা হয়েছে।

ডিএনসির ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ের ডিডি মো. রাজিউর রহমান বলেছেন, কড়াইল বস্তি থেকে আট শীর্ষ কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরো শীর্ষ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আমাদের পরবর্তী টার্গেট মিরপুর এলাকা। এরপর ধাপে ধাপে অন্য এলাকাতেও অভিযান পরিচালনা করা হবে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%