ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

যুক্তরাষ্ট্রে তিন দশক পর হামে শিশুর মৃত্যু, জরুরি অবস্থা ঘোষণা


যুক্তরাষ্ট্রে তিন দশক পর হামে শিশুর মৃত্যু, জরুরি অবস্থা ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে হামে আক্রান্ত হয়ে এক শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। গত ৩০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে এই রোগে মৃত্যুর ঘটনা অঙ্গরাজ্যটিতে এটিই প্রথম। সোমবার নিউইয়র্কের রাজ্য স্বাস্থ্য বিভাগ এবং লুইস কাউন্টির জনস্বাস্থ্য বিভাগ এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

তারা জানায়, লুইস কাউন্টিতে টিকা না নেওয়া এক শিশু হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হচুল চার সপ্তাহ আগে অঙ্গরাজ্যজুড়ে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিলেন।

গভর্নর শিশুটির মৃত্যুর খবর শুনে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘একজন মা ও দাদি হিসেবে এই পরিবারটি এখন কী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা আমি কল্পনাও করতে পারছি না। যারা শিশুটিকে চিনতেন ও ভালোবাসতেন, তাদের সবার প্রতি আমার সমবেদনা রইল।’

আরও পড়ুন: আলাস্কার সিনেট নির্বাচনকে ‘জালিয়াতি’ বললেন ট্রাম্প

গভর্নর ক্যাথি হচুল বলেন, ‘হাম অত্যন্ত সংক্রামক ও বিপজ্জনক একটি রোগ। এ রোগ থেকে সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা নেওয়া। নিউইয়র্কে গত ৩০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে হামে আক্রান্ত হয়ে এটিই প্রথম মৃত্যুর ঘটনা। এটি একটি ভয়াবহ সতর্কবার্তা।’

শিশুটির পরিচয় কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি। শিশুটির বয়স ও লিঙ্গ সম্পর্কেও কোনো তথ্য জানানো হয়নি। নিউইয়র্কে সর্বশেষ হামে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল ১৯৯০ সালের মার্চ থেকে ১৯৯১ সালের গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত। ওই সময় নিউইয়র্ক সিটিতে বড় ধরনের হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল, যেখানে অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছিল।

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের উত্তরাঞ্চলের গ্রামীণ এলাকা নর্থ কান্ট্রির লুইস কাউন্টিতে এ বছর হামে আক্রান্তের সংখ্যা অঙ্গরাজ্যের জেলাগুলোর মধ্যে চতুর্থ সর্বোচ্চ। গত সপ্তাহ পর্যন্ত সেখানে ১৫ জনের আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে অঙ্গরাজ্যের সেনেকা কাউন্টিতে হামে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, যেখানে এ বছর ৩০ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

লুইস কাউন্টির জনস্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর শনাক্ত হওয়া ১৫ জন হামে আক্রান্তের কেউই টিকা নেননি। গত মাসে গভর্নর ক্যাথি হচুল হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় জরুরি নির্বাহী আদেশ জারি করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং আরো বেশি মানুষকে এমএমআর (হাম, মাম্পস ও রুবেলা) টিকা দেওয়ার সুযোগ বাড়ানো।

আরও পড়ুন: কপাল পুড়ছে নেতানিয়াহুর, সরকার সরানোর জন্য জোট গঠনের আলোচনা শুরু

জরুরি অবস্থার আওতায় নার্সরাও হাম শনাক্তের পরীক্ষার নির্দেশ দিতে পারবেন। রাজ্য কর্তৃপক্ষ আক্রান্তদের শনাক্ত, তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা (কন্টাক্ট ট্রেসিং) এবং পরীক্ষার ফল দ্রুত নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত সহায়তা দেবে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সবাইকে এমএমআর টিকার প্রয়োজনীয় ডোজ নেওয়া আছে কি না, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে টিকা না নেওয়া শিশুদের নিয়ে ভ্রমণের সময় স্বাস্থ্য সতর্কতা মেনে চলতে বলা হয়েছে।

নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। এটি গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে এবং মৃত্যুর কারণও হতে পারে। এ রোগ থেকে সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা নেওয়া।’

কর্তৃপক্ষ আরো জানিয়েছে, চলমান প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় লুইস কাউন্টিকে স্থানীয়ভাবে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। হামের ভাইরাস বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি, হাঁচি বা কথা বললে ভাইরাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি আক্রান্ত ব্যক্তি কোনো জায়গা ছেড়ে যাওয়ার পরও সেখানে বাতাসে থাকা ভাইরাসের কারণে টিকা না নেওয়া কেউ দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সংক্রমিত হতে পারেন।

আরও পড়ুন: স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃত ৬৯ জনের পরিচয় শনাক্ত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিয়ের ছবি ফাঁসের ঘটনায় গোয়েন্দা নিয়োগ দিতে চান টেইলর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২১ পি.এম


বিয়ের ছবি ফাঁসের ঘটনায় গোয়েন্দা নিয়োগ দিতে চান টেইলর

মার্কিন পপ তারকা টেইলর সুইফট ও এনএফএল তারকা ট্র্যাভিস কেলসির গোপন বিয়ের ছবি অনলাইনে ফাঁস হয়ে যাওয়ার কারণে চরম ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন এই গায়িকা। অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে সম্পন্ন হওয়া এই জুটির বিয়ের ছবি কিভাবে জনসমক্ষে এলো, তা জানার জন্য তিনি প্রয়োজন হলে ব্যক্তিগত তদন্তকারী (প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটর) নিয়োগের কথা ভাবছেন।

গত জুলাই মাসের ৩ তারিখে নিউইয়র্ক সিটির ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি সেই অনুষ্ঠানের কিছু অপ্রকাশিত ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ায় টেইলর দারুণ ধাক্কা খেয়েছেন। স্টার ম্যাগাজিন ও এক্সামিনার সূত্রে জানা গেছে, গায়িকা সন্দেহ করছেন যে ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেন বা প্রোডাকশন টিমের সাথে জড়িত কেউ এই বিশ্বাসের অমর্যাদা করেছে। কে বা কারা এই তথ্য ফাঁস করেছে, তা নিশ্চিত করতে তিনি কাছের মানুষদেরও প্রশ্ন করছেন; যার ফলে তার বন্ধু ও সহযোগীদের সাথে সম্পর্কের পরিবেশ কিছুটা অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে।

এদিকে, ট্র্যাভিস কেলসি তার স্ত্রীকে শান্ত করার চেষ্টা করছেন। ফাঁস হওয়া ছবি তাদের সুন্দর স্মৃতিগুলোকে মলিন করতে পারবে না, এই আশ্বাস টেইলরকে দিতে তিনি চেষ্টা করছেন। তবে এই বিশ্বাসঘাতকতা সহজে মেনে নিতে পারছেন না টেইলর। দোষীকে খুঁজে বের করতে শেষ পর্যন্ত প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটর নিয়োগের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার চিন্তাভাবনাও করছেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মালয়েশিয়ায় ট্রাকের ধাক্কায় বাংলাদেশি মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২২ পি.এম


মালয়েশিয়ায় ট্রাকের ধাক্কায় বাংলাদেশি মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

মালয়েশিয়ার পেরাক রাজ্যের তেলুক ইনতান-বিদোর সড়কের ১৯ কিলোমিটার এলাকায় একটি লরির ধাক্কায় এক বাংলাদেশি মোটরসাইকেল আরোহী ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন।

হিলির পেরাক জেলা পুলিশ প্রধান সহকারী কমিশনার চুয়া কোক লিয়ান জানিয়েছেন, সোমবার (২ নভেম্বর) বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে দুর্ঘটনার খবর পায় ট্রাফিক তদন্ত ও প্রয়োগ শাখা। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, লরি এবং মোটরসাইকেল উভয়ই বিদোর থেকে তেলুক ইনতানের দিকে যাচ্ছিল।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে একটি মোড় ঘুরতে গিয়ে বাংলাদেশের দুই নাগরিককে বহনকারী মোটরসাইকেলটিকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয় স্থানীয় এক মালয়েশীয় চালিত লরি। এই দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলের চালক ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং তার সাথে থাকা অপর বাংলাদেশি দুর্ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। লরি চালক সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছেন।

তদন্তে জানা গেছে, নিহত মোটরসাইকেল চালকের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না এবং গাড়িটির রোড ট্যাক্সের মেয়াদও শেষ হয়ে গিয়েছিল। পুরো বিষয়টি সড়ক পরিবহন আইন ১৯৮৭-এর ৪১ (১) ধারায় তদন্ত করা হচ্ছে এবং চালকের রক্তের নমুনা টক্সিকোলজি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

বর্তমানে পুলিশ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি পলাতক আরোহীকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের নিকটস্থ থানায় বা তদন্তকারী কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগের অনুরোধ জানিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দিরা প্রিজন ফ্রেশ সাবানসহ বিভিন্ন পণ্য তৈরি করে লাভবান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২২ পি.এম


কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দিরা প্রিজন ফ্রেশ সাবানসহ বিভিন্ন পণ্য তৈরি করে লাভবান

বিএম নূর আলম

ঢাকা, ৩ নভেম্বর, ২০২৬ : গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দিরা প্রিজন ফ্রেশ সাবান, পোশাক এবং ফার্নিচার সামগ্রী তৈরি করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। তারা বেকারি ও প্রেসে খাতা তৈরির কাজ করেও অর্থ উপার্জন করছেন।

কারাগারের বন্দিরা সেলাই মেশিন ব্যবহার করে কয়েদিদের পোশাক তৈরি করছেন। এছাড়া, তারা ফার্নিচার এবং কারাগারে ব্যবহৃত রেজিস্টার খাতা তৈরির কাজের পাশাপাশি বেকারিতেও কাজ করছেন। এসব পণ্য বিক্রি করে যে লাভ হচ্ছে, তার অর্ধেক বন্দিদের দেওয়া হচ্ছে। উপার্জিত অর্থের একটি অংশ নিজেদের প্রয়োজনে রাখতে এবং পরিবারের কাছে পাঠাতে পারছেন বন্দিরা।

এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মেছবাহুল আলম সেলিম রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে জানান, গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এ বন্দিরা প্রিজন ফ্রেশ সাবান, পোশাক, ফার্নিচার সামগ্রী তৈরির মাধ্যমে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, তারা কারাগারে কাজের মধ্যদিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন। পর্যায়ক্রমে সব কারাগারে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কারা অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে এসব সাবান বিভিন্ন কারাগারের বন্দি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যবহারের জন্য সরবরাহ করার পর বাজারেও বিক্রির সুযোগ তৈরি হচ্ছে। গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরেই চালু করা হয়েছে অত্যাধুনিক অটো সাবান উৎপাদন কারখানা। এই উদ্যোগের ফলে বন্দিরা যেমন আধুনিক শিল্পকারখানায় কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন, তেমনি পাচ্ছেন নিয়মিত পারিশ্রমিকও। ফলে কারামুক্তির পর তাদের কর্মসংস্থান ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছে কারা কর্তৃপক্ষ।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা কারা অধিদপ্তরের জেলার (লজিস্টিক অ্যান্ড মিডিয়া) মো. মাসুদ হাসান জুয়েল বাসসকে বলেন, সরকার কারাগারকে শুধু বন্দি রাখার স্থান হিসেবে নয়, বরং প্রশিক্ষণ ও উৎপাদনমুখী কর্মসংস্থান কেন্দ্রে পরিণত করার একটি উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালের ৬ জুলাই কারাগারে সাবান তৈরির কাজ উদ্বোধন করা হয়। প্রাথমিকভাবে এখানে তিন ধরনের সাবান তৈরি হচ্ছে। সেখানে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় দেড় হাজার সাবান তৈরি হচ্ছে। প্রতিটি সাবানের দাম ৫০ টাকা।

কারাগারে সাবান কারখানায় বন্দিরা কয়েকটি ধাপে কাজ করছেন। কাঁচামাল ও রাসায়নিক উপাদান মেশানো, থ্রি-রোলার মেশিনে সাবানের মিশ্রণ প্রক্রিয়াজাত করা, প্লোডার মেশিনে সাবানের নির্দিষ্ট আকৃতি তৈরি করা, সাবানে লোগো ও ছাপ দেওয়া এবং মোড়কজাত ও প্যাকেট প্রস্তুত করা হয়।

গাজীপুর কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর জেলার মো. আরিফুর রহমান বাসসকে জানান, এখানে বর্তমানে বন্দির সংখ্যা ৫ হাজার ৫৬৯ জন। এর মধ্যে ১৪৯ জন কারাগারের উৎপাদন শাখায় কাজ করছেন। কারাজীবনের অবসর সময়কে উৎপাদনশীল কাজে লাগাতে বন্দিদের কাজের বিনিময়ে পারিশ্রমিক দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে একজন বন্দি মাসে প্রায় ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছেন। উপার্জিত অর্থের একটি অংশ তারা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারছেন, আরেকটি অংশ পরিবারের কাছে পাঠানোর সুযোগও পাচ্ছেন। বর্তমানে দেশের ৭৫টি কারাগারে বন্দিদের জন্য প্রায় ৯০ হাজার পিস এবং কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ১০ হাজার পিস, অর্থাৎ মোট ১ লাখ পিস সাবানের চাহিদা রয়েছে।

কারা অধিদপ্তর জানায়, নিজস্ব কারখানায় উৎপাদনের ফলে বাইরে থেকে সাবান কেনার প্রয়োজন কমবে এবং সরকারের অনেক টাকা সাশ্রয় হবে। বন্দি ও কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাহিদা পূরণের পর এ সাবান বাণিজ্যিকভাবে বাজারেও বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে। এতে কারাগারের সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানো সম্ভব হবে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও কারাগারভিত্তিক শিল্পায়ন বন্দিদের পুনর্বাসন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরাইলে ৬ শিক্ষকের অভাবে বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত, হতাশ অভিভাবকরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২৩ পি.এম


সরাইলে ৬ শিক্ষকের অভাবে বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত, হতাশ অভিভাবকরা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরাইল অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষকসংকটের কারণে। দীর্ঘদিন ধরে ১০টি পদ শূন্য থাকায় প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকসহ দায়িত্বরতরা শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় হিমশিম খাচ্ছেন। ফলে অভিভাবকেরা শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের ফলাফল নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় ছাত্রদের জন্য একমাত্র ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরাইল অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়টি ১৮৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ৩.৭৩ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি ১৯৮৬ সালে জাতীয়করণ হয়। জাতীয়করণের পর থেকেই স্কুলটিতে শিক্ষকসংকটের সমস্যা অব্যাহত রয়েছে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দেবব্রত দাস জানান, বিদ্যালয়ে মোট ১৮ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কাগজে-কলমে রয়েছেন মাত্র আটজন। এর মধ্যে প্রশিক্ষণে দুজন থাকায় পাঠদান কার্যক্রমের পুরো চাপ পড়েছে মাত্র ছয়জন শিক্ষকের ওপর।

তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন জানিয়েও সংকট দূর না হওয়ায় তিনি হতাশ। বিদ্যালয়ে বর্তমানে ছাত্রসংখ্যা ৫২৯ জন। তবে শত প্রতিকূলতার মাঝেও শিক্ষার মান ও পরীক্ষার কাঙ্ক্ষিত ফলাফল ধরে রাখার চেষ্টা চলছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষকসংকট কাটাতে দুজন অতিথি শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ফলে ১০টি শ্রেণির শাখায় পাঠদান কার্যক্রম বেসামাল হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে শাখা সংকুচিত করে মূল শাখায় শিক্ষার্থীদের এনে পাঠদান চালাতে হচ্ছে। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে বাংলা, ইংরেজি, সামাজিক বিজ্ঞান, ইসলাম ও হিন্দুধর্ম এবং বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষক নেই বললেই চলে। নবম ও দশম শ্রেণির অভিভাবকদের মাঝে তীব্র উদ্বেগ ও হতাশা বিরাজ করছে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় সরাইল অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ প্লাস (A+) প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ১০ জন; অন্যদিকে সরাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ প্লাস পেয়েছেন ১৫ জন শিক্ষার্থী।

অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়টিতে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র শিক্ষকসংকট চললেও এর কোনো স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক শাখার মূল বিষয়সহ বাংলা, ইংরেজি ও ধর্মের মতো আবশ্যিক বিষয়ের শিক্ষকও নেই। তারা সন্তানের পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছেন না এবং অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাতেও সমস্যায় পড়ছেন। এ অবস্থা চলতে থাকলে বিদ্যালয়টি তার অতীত ঐতিহ্য হারিয়ে শূন্যের কোঠায় পৌঁছাবে।

এদিকে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা সার্ধশতবর্ষ পূর্তি উৎসবের নানা আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও দীর্ঘদিনের এই শিক্ষকসংকট নিরসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও বোদ্ধাজনেরা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, বিদ্যালয়টির শিক্ষক শূন্যতার বিষয়টি তাঁরা অবগত আছেন এবং শিক্ষক পদায়নের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান হবে।

নবযোগদানকৃত সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মীর কামরুজ্জামান কবির বলেন, সরকারি এই স্কুলের শিক্ষকসংকটের বিষয়টি তিনি জেনেছেন এবং খোঁজখবর নিয়েছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি দ্রুত জানানোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন। আশা করছেন, নতুন শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান হবে।

দেড়শ বছরের পুরোনো এই বিদ্যাপীঠের ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, দ্রুত শূন্য পদে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক, এলাকাবাসী, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং উপজেলা নাগরিক কমিটি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%