ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

গুরুদাসপুরে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের জন্য আলাদা কবরস্থান, জমি কেনা সম্পন্ন


গুরুদাসপুরে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের জন্য আলাদা কবরস্থান, জমি কেনা সম্পন্ন

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার তৃতীয় লিঙ্গের মানুষেরা মৃত্যুর পর দাফনের স্থান নিয়ে বৈষম্যের শিকার হতেন। সামাজিক কবরস্থানে তাদের মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতির সমাধানে উপজেলা প্রশাসন তাদের জন্য চার শতাংশ জমি কিনেছে। ফলে, এবার তারা নিজেদের জন্য নির্ধারিত কবরস্থানে শেষ আশ্রয় পাবে।

তিন বছর আগে শীতকালে মারা যান তৃতীয় লিঙ্গের সদস্য ছোহা (৩০)। স্থানীয় কবরস্থানে তার মরদেহ দাফনের অনুমতি না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা বাড়ির আঙিনায় কবর খুঁড়ে তাকে সমাহিত করেন। একইভাবে গুরুদাসপুরের হিজড়া সম্প্রদায়ের গুরুমাতা নদী সরকারের বাবাকেও স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করতে দেওয়া হয়নি।

নদী সরকার এসব অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তিনি গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের কুমারখালী গ্রামের বাসিন্দা। তবে এবার নিজেদের সম্প্রদায়ের জন্য স্থায়ী কবরস্থানের ব্যবস্থা হওয়ায় তিনি উচ্ছ্বসিত।

আরও পড়ুন: ভাণ্ডারিয়ায় নকল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি, দশ হাজার টাকা জরিমানা

তিনি বলেন, "এত দিন তাদের মৃত্যুর পর দাফনের নির্দিষ্ট কোনো জায়গা ছিল না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজের উদ্যোগে এখন সেই সংকটের সমাধান হয়েছে।"

জানা গেছে, কুমারখালী গ্রামের ব্যবসায়ী তৌফিক আলীর কাছ থেকে পাঁচ লাখ ১০ হাজার টাকায় চার শতাংশ জমি কেনা হয়েছে। জমি কেনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। জমির গ্রহীতা হিসেবে হিজড়া সম্প্রদায়ের পক্ষে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ৩১ মার্চ মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ গুরুমাতা নদী সরকারের হাতে জমির দলিল তুলে দেন। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কেনা এ জমি পুরো উপজেলার তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের কবরস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

তৃতীয় লিঙ্গের গুরুদাসপুর উপজেলা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় এ সম্প্রদায়ের ৪৫ জন সদস্য রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২১ জনের বসবাস কুমারখালী গ্রামে। অধিকাংশের স্থায়ী কর্মসংস্থান ও নির্ভরযোগ্য আবাসন নেই। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজেদের নামে একটি স্থায়ী কবরস্থান পাওয়াকে তারা বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন। ইতিমধ্যে জমিটি বুঝে নিয়েছেন তারা। এখন মৃত্যুর পর নিজেদের জমিতেই সমাহিত হওয়ার নিশ্চয়তা পাচ্ছেন।

আরও পড়ুন: পাবনায় ছাত্রীনিবাস থেকে কলেজ ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

সম্প্রদায়ের সদস্য নুপুর, সোনালী, সৌখীন, মাধবী, ইতি ও দীপা বলেন, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ হওয়ায় সমাজে নানা ধরনের কটূক্তি ও বৈষম্যের শিকার হতে হয় তাদের। জন্মগত পরিচয়ের কারণে অনেকেই তাদের স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করেন না। বিভিন্ন প্রয়োজনে তাদের ব্যবহার করা হলেও বিপদে পাশে দাঁড়াতে চান না অনেকে।

তাদের ভাষ্য, জীবিত অবস্থায় নানা প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হয়। তবে মৃত্যুর পর দাফন নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিড়ম্বনায় পড়তে হয় তাদের। গ্রামের সামাজিক কবরস্থানে হিজড়া সম্প্রদায়ের সদস্যদের দাফনে বাধা দেওয়া হয়। এমনকি নদী সরকারের বাবা আহাদ আলীকেও স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করতে দেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা পর্যায়ের এক সভায় নিজেদের জন্য স্থায়ী কবরস্থানের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন নদী সরকার। এরপর শুরু হয় জমি কেনার উদ্যোগ। শেষ পর্যন্ত ইউএনওর সহযোগিতায় সেই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, মৃত্যুর পর তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের সামাজিক কবরস্থানে দাফন করতে দেওয়া হয় না—বিষয়টি জানার পর তিনি ব্যথিত হন। অন্তত মৃত্যুর পর যেন তারা নিজেদের জমিতে সমাহিত হতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ সম্প্রদায়ের সদস্যদের পুনর্বাসনসহ আরো কিছু পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন: ব্রহ্মপুত্রের মাঝনদীতে চলন্ত নৌকায় যমজ সন্তানের জন্ম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জলবায়ু উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের দাবি নাগরিক সমাজের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২৪ পি.এম


জলবায়ু উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের দাবি নাগরিক সমাজের

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাস্তুচ্যুত হয়ে শহরের বস্তিতে আশ্রয় নেওয়া দরিদ্র জনগণের পুনর্বাসন, স্থায়ী আবাসন, মৌলিক নাগরিক সেবা এবং ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এবং জলবায়ু উদ্বাস্তু পরিবারের সদস্যরা। এই দাবির জন্য নগর দরিদ্রদের কেন্দ্র করে অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর পরিকল্পনা, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার জন্য বিশেষ বাজেট বরাদ্দ এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি তহবিল (লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড) থেকে তাদের অধিকার নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে অনুষ্ঠিত এক নাগরিক সংলাপে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্রমাগত বাস্তুচ্যুত হয়ে শহরে আশ্রয় নেওয়া দরিদ্র জনগণের বহুমুখী সংকট, তাদের জীবনসংগ্রাম এবং ভবিষ্যৎ সুরক্ষার ৮ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।

‘জলবায়ু পরিবর্তন ও নগর দরিদ্রের সংকট’ শীর্ষক এই সংলাপটি যৌথভাবে আয়োজন করে বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজিনাস নলেজ (বারসিক) এবং চিলড্রেন'স ওয়াচ ফাউন্ডেশন (সিডব্লিউএফ)।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান খোকন। সংলাপে সভাপতিত্ব করেন বারসিক-এর পরিচালক মো. কামরুজ্জামান এবং ধারণাপত্র পাঠ করেন সিডব্লিউএফ-এর চেয়ারম্যান শাহ ইসরাত আজমেরী। সঞ্চালনায় ছিলেন বারসিকের সমন্বয়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম।

সংলাপে ঢাকা, রাজশাহী ও সাতক্ষীরা অঞ্চলের বিভিন্ন বস্তিতে আশ্রয় নেওয়া প্রান্তিক জলবায়ু-উদ্বাস্তু পরিবারের প্রতিনিধি ও কমিউনিটি নেতারা উপস্থিত হয়ে তাদের নির্মম বাস্তবতা তুলে ধরেন।

গবেষণায় উঠে আসা তথ্যে দেখা যায়, উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় (সিডর, আইলা, আম্পান, রেমল), তীব্র লবণাক্ততা, নদীভাঙন এবং উত্তরাঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী খরা ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার কারণে প্রায় ৭০% বস্তিবাসী গ্রাম থেকে শহরে আসতে বাধ্য হয়েছেন। ভোলার লালমোহন ও চরফ্যাশন, বরিশাল, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং সাতক্ষীরার শ্যামনগর-কয়রা অঞ্চল থেকে বাস্তুচ্যুত এসব মানুষের শহরের বস্তিতে টিকে থাকার সংগ্রাম অত্যন্ত অমানবিক।

সংলাপে প্রান্তিক মানুষের প্রতিনিধিত্বকারী বক্তারা জানান, গ্রাম ছাড়ার পর তারা কেবল বাসস্থানই হারাননি, হারিয়েছেন তাদের বহু বছরের প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। শত কষ্ট সয়ে শহরে এসে তারা জরাজীর্ণ ঘর, অনিরাপদ পানি, অপরিশোধিত স্যানিটেশন, তীব্র তাপপ্রবাহে হিটস্ট্রোক, বর্ষায় ড্রেনের বর্জ্যমিশ্রিত পানিতে চর্মরোগ ও ডেঙ্গুর মতো স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ভুগছেন। পাশাপাশি, দিনমজুর ও রিকশাচালকদের অনিয়মিত আয়, অপরাধের ভয়াবহতা এবং সমাজ ও নাগরিক পরিবেশের তুচ্ছতাচ্ছিল্য তাদের আত্মসম্মান ও মানসিক শান্তি কেড়ে নিয়েছে।

অনুষ্ঠানে জলবায়ু-বাস্তুচ্যুত নগর দরিদ্র জনগণের পক্ষ থেকে ৮ দফা প্রধান দাবি ও সুপারিশ উত্থাপন করা হয়: ১. সমেত নগর পরিকল্পনা: শহরকে ধনী-দরিদ্র সবার উপযোগী করতে নগর প্রান্তিক মানুষকে কেন্দ্রে রেখে উন্নয়ন পরিকল্পনা করা। ২. বিশেষ বাজেট বরাদ্দ: নিম্ন আয়ের মানুষের জলবায়ু অভিযোজন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাকে শক্তিশালী করে পৃথক বাজেট দেওয়া। ৩. আশ্রয় ও পুনর্বাসন: জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুতদের নিজ এলাকায় বা নিকটস্থ শহরে আবাসন ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা। ৪. বস্তির ঘরের মানোন্নয়ন: বস্তির জরাজীর্ণ অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা। ৫. মৌলিক নাগরিক সেবা: শহরের দরিদ্র জনগণের জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা করা। ৬. আবহাওয়ার আগাম সতর্কবার্তা: তীব্র তাপপ্রবাহ, বন্যা ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাত নিয়ে বস্তিবাসীদের আগাম পূর্বাভাস ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা। ৭. স্থায়ী আবাসন ও উচ্ছেদ বন্ধ: উচ্ছেদহীন ও ভয়হীনভাবে বসবাসের জন্য জলবায়ু-উদ্বাস্তু পরিবারগুলোর স্থায়ী আবাসনের নিশ্চয়তা দেয়া। ৮. ক্ষয়ক্ষতি ফান্ড: জলবায়ু পরিবর্তনজনিত 'লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড' (ক্ষয়ক্ষতি তহবিল) থেকে বস্তিবাসীদের অধিকার ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান খোকন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হয়ে গ্রামে কর্মসংস্থান ও ভিটেমাটি হারানো মানুষগুলো যখন বেঁচে থাকার শেষ চেষ্টা হিসেবে শহরে আসেন, তখন তাদের প্রতি নাগরিক সমাজের সহমর্মিতা ও রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করা আবশ্যক। কপ৩১ পরবর্তী এই সময়ে আমাদের নগর নীতিতে জলবায়ু অভিগমন বা ক্লাইমেট মাইগ্রেশনের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

সংলাপে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ, পরিবেশকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে জোর তাগিদ দিয়ে বলেন যে, নগরের উন্নয়ন কেবল অবকাঠামোগত হলে চলবে না; তা হতে হবে মানবিক ও টেকসই।

সংলাপে আরও বক্তব্য দেন, বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলনের কনভেনর মিহির বিশ্বাস, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) ট্রেজারার আমিনুল রসুল, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা: লেলিন চৌধুরী, কোয়ালিশন ফর আরবান পুওর (কাপ)-এর নির্বাহী পরিচালক খন্দকার রেবেকা সান-ইয়াত প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিরাজগঞ্জে ছাগলের খামার গড়ে স্বাবলম্বী তৃতীয় লিঙ্গের তরুণী স্বপ্না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২৫ পি.এম


সিরাজগঞ্জে ছাগলের খামার গড়ে স্বাবলম্বী তৃতীয় লিঙ্গের তরুণী স্বপ্না

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার তৃতীয় লিঙ্গের তরুণী স্বপ্না (২৩) নানা প্রতিকূলতা, অবহেলা এবং কটূক্তি পেছনে ফেলে ছাগল পালন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। মাত্র দুটি ছাগল দিয়ে শুরু হওয়া তাঁর উদ্যোগ এখন আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে। বর্তমানে তাঁর খামারে ১৮টি ছাগল রয়েছে। সংসার চালানোর পাশাপাশি খামারটি আরও বড় করার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

স্বপ্না সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার মোহনপুর মিলপাড়া এলাকায় রেলওয়ের জায়গায় বসবাস করেন। তাঁর বাবা রফিকুল ইসলাম এবং মা নুরজাহান বেগম। আর্থিক অনটন ও সামাজিক নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি নিজের চেষ্টায় স্বাবলম্বী হওয়ার পথ খুঁজে নিয়েছেন।

স্বপ্না জানান, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ হওয়ায় জীবিকার তাগিদে একসময় তাকে অন্যের কাছে সাহায্য চাইতে হতো। এ সময় বিভিন্ন ধরনের কটূক্তি ও নেতিবাচক মন্তব্য শুনতে হয়েছে। এসব অভিজ্ঞতা থেকে তিনি সিদ্ধান্ত নেন, অন্যের কাছে হাত না পেতে নিজেই কিছু করবেন। সেই চিন্তা থেকেই ছাগল পালনের উদ্যোগ নেন তিনি।

স্বপ্নার মা নুরজাহান বেগম জানান, তাদের নিজস্ব কোনো জমিজমা নেই এবং তারা রেলওয়ের জায়গায় বসবাস করছেন। সংসার চালাতে নানা কষ্টের মুখোমুখি হতে হয়। পাশের বাড়ির একজনকে ছাগল পালন করতে দেখে স্বপ্নারও ছাগল কেনার আগ্রহ তৈরি হয়। পরে তাঁর বাবা ১৩ হাজার ও ১৪ হাজার টাকা দিয়ে দুটি ছাগল কিনে দেন। সেই দুটি ছাগল দিয়েই শুরু হয় স্বপ্নার খামার।

শুরুতে অল্প কয়েকটি ছাগল নিয়ে পালন শুরু করলেও ধীরে ধীরে খামার বড় করার চেষ্টা করেন তিনি। একপর্যায়ে ছাগলের সংখ্যা ১২টিতে উন্নীত হয়। কিন্তু হঠাৎ রোগাক্রান্ত হয়ে ছয়টি ছাগল মারা যায়। পরবর্তী সময়ে আরও কয়েকটি ছাগল মারা যাওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয় তাঁকে। তবে সব প্রতিকূলতা সামলে আবারও ঘুরে দাঁড়ান স্বপ্না। বর্তমানে তাঁর খামারে ১৮টি ছাগল রয়েছে। এসব ছাগলের মধ্যে তোতা, হরিয়ানা, বিটল, যমুনাপাড়ি ও ব্ল্যাক বেঙ্গলসহ বিভিন্ন জাত রয়েছে। তাঁর দাবি, প্রতিটি ছাগলের বাজারমূল্য ১ লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত।

স্বপ্নার ভাষ্য, খামারের ছাগলের পাঠা প্রজননের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা আয় হয়। এ ছাড়া বছর শেষে বিক্রির উপযোগী ছাগল বিক্রি করেও ভালো অর্থ পাওয়া যায়। গত বছর চট্টগ্রামে বিভিন্ন পূজা উপলক্ষে ১০টি ছাগল বিক্রি করে মোট ৭ লাখ ১০ হাজার টাকা পেয়েছেন বলে জানান তিনি।

স্বপ্না বলেন, "আমি চাই না, জীবিকার জন্য আর কারও কাছে হাত পাততে হোক। এই খামার দিয়েই আমার সংসার চলে। অনেক কষ্ট করে খামারটি দাঁড় করিয়েছি। মাঝেমধ্যে ছাগল মারা যাওয়ায় লোকসানও হয়েছে। তারপরও হাল ছাড়িনি। আমার স্বপ্ন, খামারটিকে আরও বড় করা। সরকার যদি আমাকে সহযোগিতা করে, তাহলে আরও উন্নতভাবে ছাগল পালন করতে পারব।"

সমাজের নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও স্বপ্নার এই উদ্যোগ প্রমাণ করছে, ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রম থাকলে সীমিত সামর্থ্য নিয়েও জীবিকার নতুন পথ তৈরি করা সম্ভব। সরকারি সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ পেলে তিনি খামারটি আরও সম্প্রসারণ করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে বঙ্গভবনে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২৫ পি.এম


প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে বঙ্গভবনে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেছেন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামে ট্যাংক লরির ধাক্কায় আইআইইউসির ছাত্রীর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২৬ পি.এম


চট্টগ্রামে ট্যাংক লরির ধাক্কায় আইআইইউসির ছাত্রীর মৃত্যু

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি ঢাকাগামী ট্যাংক লরির ধাক্কায় আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) এক শিক্ষার্থী, মাইশা মুশফিরাত (২১) মারা গেছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল আনুমানিক ৯টা ২০ মিনিটে কুমিরায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ডালাস পেট্রল পাম্পের পাশে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মাইশা মুশফিরাত আইআইইউসির ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের বটকাটিয়া গ্রামের সাখাওয়াত হোসেন ও সালমা আক্তার দম্পতির কন্যা।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে মহাসড়ক পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি গাড়ি তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় দ্রুত উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে বেলা ১১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুল আলম আশেক জানিয়েছেন, সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় আইআইইউসির এক ছাত্রীকে হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।

এদিকে, এই মর্মান্তিক ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিহত ছাত্রীর আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ কাশেম স্বাক্ষরিত এক শোকবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকাগামী একটি ট্যাঙ্কলরির ধাক্কায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রী গুরুতর আহত হন। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাইশা মুশফিরাতের মৃত্যু ঘটে। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী এবং উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ হাসমত আলী দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান। এই ঘটনায় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস স্থগিত করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%