০২:২৭ পি.এম
বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে নারী বন্দির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সম্প্রতি কারাগারের ভেতর থেকে একাধিকবার মাদক উদ্ধারের ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রশাসনিক তদারকি এবং কারা কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে কয়েকজন কর্মকর্তা ও কারারক্ষীর বিরুদ্ধে মাদক কারবারের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগও সামনে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, গত ১০ জুন নারী বন্দি সুবর্ণার কাছ থেকে ২১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও কারাগারের অভ্যন্তরে এতবড় মাদকের চালান কীভাবে প্রবেশ করল, তা নিয়ে কারা প্রশাসনের ভেতর-বাইরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
এর আগে গত ৬ জুন কারাগারের কীর্তনখোলা-২ ভবনে বন্দি সুমন খানের কাছ থেকেও ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছিল। অভিযোগ ওঠে ওই ঘটনাটি অর্থের বিনিময়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে নারী বন্দির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে।
আরও পড়ুন: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সামনে খড়বোঝাই গাড়িতে অগ্নিকাণ্ড
একাধিক সূত্রের দাবি, কারাগারের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি চলছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কারারক্ষীর সহযোগিতায় মাদকসহ অবৈধ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এই সংক্রান্ত ঘটনায় দুই ডেপুটি জেলারসহ বেশ কয়েকজন কারারক্ষীর নাম আলোচনায় এসেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারা প্রশাসনের একটি সূত্র দাবি করেছে, গত ৬ জুনের ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনাটি প্রশাসনিকভাবে সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ডেপুটি জেলার আনন্দ শীলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে ডেপুটি জেলার সুমাইয়া প্রাথমিকভাবে বিষয়টি শুনে পরে কথা বলবেন বলে জানালেও পরে আর কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি।
এ বিষয়ে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার সুব্রত কুমার বালা বন্দিদের কাছ থেকে মাদক উদ্ধারের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, নারী বন্দি সুবর্ণার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কারারক্ষী মৌ ও শারমিনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: নরসিংদীতে কারখানায় আগুন, ৫ জন দগ্ধ বার্ন ইউনিটে
কারাগারের ভেতরে মাদক প্রবেশ ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে জেল সুপার বলেন, “বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। কারাগারকে মাদকমুক্ত রাখা এবং অনিয়ম-দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।”
উল্লেখ্য, বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে এর আগেও একাধিকবার মাদক ও স্মার্টফোন উদ্ধার হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। অতীতে এসব ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রশাসনের উদ্যোগে অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন নিষিদ্ধ সামগ্রী জব্দ করা হয়েছিল।
সর্বশেষ নারী বন্দির কাছ থেকে ২১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনার পর কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক তদারকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এদিকে নজর সংশ্লিষ্টদের।
আরও পড়ুন: খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে একই স্থানে ২ দুর্ঘটনায় ৫ প্রাণহানি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন