ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধিঃ
০৮:০০ এম
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন পরিচালিত ফাজিল (পাস) ১ম, ২য় ও ৩য় বর্ষ পরীক্ষা-২০২৫ এর ভাণ্ডারিয়া উপজেলার আল-গায়যালী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার পরীক্ষা কেন্দ্রটি স্থগিত ও স্থানান্তরিত করা হয়েছে। গত ০২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মো. ওয়ালিউর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নকলমুক্ত ও উপযুক্ত পরিবেশ না থাকায় আল-গায়যালী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার (কেন্দ্র কোড: ৫৬৮) পরীক্ষা কেন্দ্রটি স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ০৫/১১/২০২৬ খ্রি. হতে পরবর্তী সকল পরীক্ষা ভাণ্ডারিয়া শাহাবুদ্দিন ফাজিল মাদ্রাসায় (কেন্দ্র কোড: ৫৬৭)-এ অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীদের দ্রুত এই বিষয়টি আবশ্যিকভাবে অবহিত করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, আল-গায়যালী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা ও তেলিখালী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের স্বাক্ষরলিপি, তপশীলী, অলিখিত উত্তরপত্র, পরীক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় নথিপত্র, আয়-ব্যয় হিসাব এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র কেন্দ্র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ভাণ্ডারিয়া শাহাবুদ্দিন ফাজিল মাদ্রাসার নিকট আগামী ০৩/১১/২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা ভূমি অফিস, ভাণ্ডারিয়া, পিরোজপুরের স্মারকের প্রেক্ষিতে এবং ভাইস চ্যান্সেলর এর অনুমোদনক্রমে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ হাসিবুল হাসান জানান, সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীদের জন্য শতভাগ নকলমুক্ত, স্বচ্ছ এবং অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এই কেন্দ্র স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে উপজেলা প্রশাসন সার্বিক তদারকি চালিয়ে যাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় খাদ্য খাতের এক বিশাল উদযাপনকে ঘিরে গত রবিবার (১ নভেম্বর, ২০২৬) রাতে লন্ডনে ব্রিটেনের কারি শিল্পের এক মিলনমেলা বসেছিল, যেখানে প্রায় ১,০০০ অতিথি সমবেত হয়েছিলেন।
টিকিট সম্পূর্ণ বিক্রি হয়ে যাওয়া ১৯তম বার্ষিক বাংলাদেশ ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএ) অ্যাওয়ার্ডসে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি হসপিটালিটি বা আতিথেয়তা খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্বরা একত্রিত হন। এই আয়োজনের মাধ্যমে সেইসব রেস্তোরাঁ, শেফ, উদ্যোক্তা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, যারা এই শিল্পকে এগিয়ে নিতে এবং কারির প্রতি ব্রিটেনের মানুষের ভালোবাসা অটুট রাখতে ভূমিকা রাখছেন।
পার্ক প্লাজা ওয়েস্টমিনস্টার ব্রিজ হোটেলে অনুষ্ঠিত এই মর্যাদাপূর্ণ গালা ডিনারটি ছিল রন্ধনশিল্পের উৎকর্ষ এবং এই শিল্পের পেছনের মানুষ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অনন্য উদযাপন—যে শিল্প হাজারো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে এবং দেশজুড়ে বিভিন্ন কমিউনিটিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন টকটিভির সম্প্রচারক ইয়ান কলিন্স এবং বহু পুরস্কার বিজয়ী সংবাদ উপস্থাপক ও সাংবাদিক আনিলা ধামি।
এই আয়োজনকে ঘিরে রাজা তৃতীয় চার্লস এবং প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম শুভেচ্ছা ও সমর্থন বার্তা পাঠিয়েছেন, যা অনুষ্ঠানের অফিশিয়াল ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে। বাকিংহাম প্যালেস থেকে পাঠানো বার্তায় রাজা এই অ্যাওয়ার্ডসের প্রশংসা করেন এবং অনুষ্ঠানের সাফল্য কামনা করেন। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর বার্তায় সম্মাননাপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানানো হয় এবং ব্রিটেনের অর্থনীতি ও স্থানীয় কমিউনিটিতে বাংলাদেশি হসপিটালিটি ব্যবসাগুলোর অবদানের কথা স্বীকার করা হয়।
অনুষ্ঠানে জনসেবা, ব্যবসা এবং কমিউনিটিতে নিজ নিজ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কেভিন বোনাভিয়া এমপি, ব্রিক লেনের উদ্যোক্তা আব্দুল জব্বার এবং মানবাধিকার কর্মী ড. নাজিয়া খানম ওবিই-কে বিশেষ ‘বিসিএ অনার্স অ্যাওয়ার্ডস’ প্রদান করা হয়।
বিসিএ সভাপতি অলি খান এমবিই বলেন, “রবিবার ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ক্যাটারিং ও হসপিটালিটি শিল্পের এত মানুষকে একসাথে দেখতে পাওয়াটা ছিল দারুণ এক অভিজ্ঞতা। এই অ্যাওয়ার্ডস কেবল শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি দেওয়ার জন্যই নয়, বরং আমাদের এই শিল্পকে যারা এতটা বিশেষ করে তুলেছেন—সেইসব মানুষ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং আমাদের যৌথ ঐতিহ্যকে উদযাপন করারও একটি উপলক্ষ। আমাদের সকল বিজয়ীদের অভিনন্দন, যাদের অর্জন এই খাতকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিভারই প্রমাণ দেয়।”
মহাসচিব টিপু রহমান বলেন, “আমাদের শিল্পে যারা উচ্চমান স্থাপন করছেন, সেইসব রেস্তোরাঁ এবং মানুষদের স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য এই অ্যাওয়ার্ডস একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। রবিবারের অনুষ্ঠানটি ছিল একটি চমৎকার উদযাপন, যা সহকর্মীদের নিজেদের অর্জনগুলো ভাগ করে নিতে এবং যুক্তরাজ্য জুড়ে বিভিন্ন কমিউনিটিতে বাংলাদেশি হসপিটালিটি খাতের অব্যাহত অবদানকে স্বীকৃতি দিতে একত্রিত করেছে। আমরা আশা করি এ বছরের বিজয়ীরা তাদের অর্জনের জন্য গর্ববোধ করবেন।”
তারকাখচিত এই অনুষ্ঠানে এমপি, শিল্পখাতের নেতৃবৃন্দ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সম্মানিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মহামান্য মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত এবং তার সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন সীমা মালহোত্রা এমপি, কেভিন বোনাভিয়া এমপি, রুপা হক এমপি, স্যার জেমস ক্লেভারলি এমপি, ড্যানিয়েল জেইচনার এমপি, লর্ড করণ বিলিমোরিয়া, লর্ড কোরবান হোসেন এবং লর্ড রামি রেঞ্জার সিবিই।
কোষাধ্যক্ষ ফয়জুল হক বলেন, “প্রতিটি সফল রেস্তোরাঁর পেছনে থাকেন একজন ব্যবসায়ী এবং একটি কর্মীদল, যারা কর্মসংস্থান তৈরি করছেন, সরবরাহকারীদের সহায়তা করছেন এবং স্থানীয় বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে (হাই স্ট্রিট) অবদান রাখছেন। এই অ্যাওয়ার্ডস সেই কঠোর পরিশ্রম এবং আমাদের শিল্পকে সচল রাখা উদ্যোক্তা মনোভাবের ওপর আলোকপাত করে। রবিবারের গালা অনুষ্ঠানে একসাথে বসে সেই অর্জনগুলো উদযাপন করতে পারা এবং যেসব ব্যবসার অবদান কেবল ডাইনিং রুমের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়, তাদের স্বীকৃতি দিতে পারাটা ছিল বিশেষভাবে আনন্দদায়ক।”
প্রেস ও পাবলিকেশনস সেক্রেটারি নাজ ইসলাম বলেন, “ব্রিটেনে বাংলাদেশি রন্ধনশিল্পকে যারা গড়ে তুলেছেন, তাদের মানুষ, গল্প এবং ঐতিহ্যের এক যথার্থ উদযাপন ছিল এই সন্ধ্যাটি। প্রতিষ্ঠিত নামের পাশাপাশি উদীয়মান প্রতিভাদের একসাথে স্বীকৃতি পেতে দেখা এবং পুরো শিল্পকে একত্রিত করে এর অর্জনগুলো উদযাপন করা ছিল অত্যন্ত আনন্দের। বিসিএ ৬৬ বছর ধরে এই কমিউনিটির হয়ে কাজ করছে, আর আমাদের বিজয়ীদের সাফল্যের কথা তুলে ধরা এরই গল্প বলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।”
বিসিএ অ্যাওয়ার্ডস কমিটির আহ্বায়ক ও সেলিব্রিটি শেফ আতিক রহমান বিইএম যোগ করেন, “এটি ছিল একটি চমৎকার সন্ধ্যা এবং ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ক্যাটারিং ও হসপিটালিটি শিল্পের এত মানুষকে একত্রিত করতে পারাটা সত্যিই সৌভাগ্যের বিষয়। এই অ্যাওয়ার্ডস আমাদের যৌথ ঐতিহ্যকে উদযাপন করে, ব্রিটেনে আমাদের শিল্পের অসামান্য অবদানকে তুলে ধরে এবং পরবর্তী প্রজন্মকে এটি সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে।”
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশন ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এটি সমগ্র যুক্তরাজ্য জুড়ে ১২,০০০ রেস্তোরাঁ মালিকের প্রতিনিধিত্ব করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা, গ্রামীণ জনপদের মানুষের মাঝে নির্মল বিনোদন ছড়িয়ে দেওয়া এবং যুবসমাজকে মাদকের ছোবল থেকে দূরে রাখতে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা ও গ্রামীণ মেলা। ঘোড়ার ক্ষিপ্রগতির দৌড়, দর্শকদের উচ্ছ্বাস আর মেলার আনন্দে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। ব্যতিক্রমী এ আয়োজন দেখতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন হাজারো মানুষ।
সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার বানা ইউনিয়নের রুদ্রবানা এলাকার একটি ফাঁকা মাঠে স্থানীয় যুবসমাজের উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
ঘোড়দৌড়কে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই মাঠে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোরেরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে মাঠের চারপাশ।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক ও রুদ্রবানা গ্রামের বাসিন্দা হাদী জিয়াউর রহমান এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবর শেখের সার্বিক সহযোগিতায় এ আয়োজন করা হয়।
প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ২৬টি দুরন্ত ঘোড়া অংশ নেয়। ঘোড়ার দৌড় শুরু হলে দর্শকদের করতালি, উচ্ছ্বাস ও আনন্দধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মাঠ।
ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতাকে ঘিরে মাঠের আশপাশে বসে গ্রামীণ মেলা। মেলায় বিভিন্ন ধরনের মুখরোচক খাবার, খেলনা, মিষ্টি ও বাহারি পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানিরা। শিশু-কিশোরদের আনন্দ, গ্রামীণ খাবারের ঘ্রাণ আর মানুষের প্রাণচাঞ্চল্যে ফিরে আসে বাংলার চিরচেনা মেলা ও উৎসবের আবহ। অনেকের কাছে এটি হয়ে ওঠে পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটানোর এক বিশেষ উপলক্ষ।
আয়োজকরা জানান, একসময় গ্রামবাংলার বিনোদনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা। আধুনিকতার ছোঁয়ায় ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজন অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে। নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরা, সামাজিক সম্প্রীতি বাড়ানো এবং যুবসমাজকে মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে খেলাধুলা ও সুস্থ বিনোদনমুখী করতেই তাঁদের এ উদ্যোগ।
অনুষ্ঠানে বানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরীফ হারুন অর রশিদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও আয়োজকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথি ও আয়োজকরা।
স্থানীয়দের মতে, গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ধরে রাখতে এ ধরনের আয়োজনের বিকল্প নেই। নিয়মিত এমন প্রতিযোগিতা ও গ্রামীণ মেলার আয়োজন করা হলে একদিকে যেমন গ্রামীণ সংস্কৃতির চর্চা বাড়বে, অন্যদিকে যুবসমাজও সুস্থ বিনোদনের মাধ্যমে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে উৎসাহিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বৃদ্ধির বিরুদ্ধে আবারও তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণের এই সিদ্ধান্তকে ‘জনস্বার্থবিরোধী’ হিসেবে উল্লেখ করে অবিলম্বে এই বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি করেছে।
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে এই দাবি জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, "দেশের সাধারণ ও মধ্যবিত্ত মানুষ যখন চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা, তখন রান্নার এই অপরিহার্য উপাদানের দাম বারবার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।" তারা উল্লেখ করেন, গত আট মাসে পাঁচ দফায় এলপিজির দাম বাড়ানো হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের ওপর চরম অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, "পাইপলাইনের গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে দেশের কোটি কোটি পরিবার এখন এলপিজির ওপর নির্ভরশীল।" তারা অভিযোগ করেন যে, এই নির্ভরশীলতাকে পুঁজি করে আন্তর্জাতিক বাজারের অজুহাতে বারবার দাম বাড়ানো হচ্ছে। নেতৃদ্বয়ের দাবি, "এলপিজি আমদানি ও বাজারজাতকরণে জড়িত অসাধু চক্রের স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) জনগণের স্বার্থ উপেক্ষা করছে।"
তারা আরও বলেন, "সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে খুচরা বাজারে বিক্রি হলেও তা নিয়ন্ত্রণে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।" ছাত্রশিবির নেতারা উল্লেখ করেন, এর প্রভাব হোটেল-রেস্তোরাঁসহ সামগ্রিক বাজারে পড়ছে। তারা অবিলম্বে এলপিজির বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার, বাজার মনিটরিং জোরদার এবং অসাধু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নাটোরের লালপুরে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে মো. আবু মুসা নামে এক যুবকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে, জানায় রেলওয়ে পুলিশ। সোমবার বিকেল সোয়া ৫টায় উপজেলার চংধুপইল ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া গ্রামের বাউড়া রেলওয়ে ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহত আবু মুসা বাঁশবাড়িয়া গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা সবুজ কুমারের ছেলে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তিনি সম্প্রতি সনাতন ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মো. আবু মুসা নাম ধারণ করেন।
ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানার স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, সোমবার বিকেলে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহীগামী আন্তনগর ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি বাউড়া রেলওয়ে ব্রিজ এলাকা অতিক্রম করার সময় ওই যুবক চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেন। এতে ঘটনাস্থলেই ট্রেনে কাটা পড়ে তাঁর মৃত্যু ঘটে।
ঘটনার খবর পেয়ে ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কিশোর কুমার ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করেন এবং থানায় হেফাজতে নেন।
ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানার ওসি ফয়সাল বিন আহসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে ওই যুবক স্বেচ্ছায় ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়েছেন। এ বিষয়ে ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ