কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
০৮:০৭ এম
গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা, গ্রামীণ জনপদের মানুষের মাঝে নির্মল বিনোদন ছড়িয়ে দেওয়া এবং যুবসমাজকে মাদকের ছোবল থেকে দূরে রাখতে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা ও গ্রামীণ মেলা। ঘোড়ার ক্ষিপ্রগতির দৌড়, দর্শকদের উচ্ছ্বাস আর মেলার আনন্দে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। ব্যতিক্রমী এ আয়োজন দেখতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন হাজারো মানুষ।
সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার বানা ইউনিয়নের রুদ্রবানা এলাকার একটি ফাঁকা মাঠে স্থানীয় যুবসমাজের উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
ঘোড়দৌড়কে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই মাঠে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোরেরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে মাঠের চারপাশ।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক ও রুদ্রবানা গ্রামের বাসিন্দা হাদী জিয়াউর রহমান এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবর শেখের সার্বিক সহযোগিতায় এ আয়োজন করা হয়।
প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ২৬টি দুরন্ত ঘোড়া অংশ নেয়। ঘোড়ার দৌড় শুরু হলে দর্শকদের করতালি, উচ্ছ্বাস ও আনন্দধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মাঠ।
ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতাকে ঘিরে মাঠের আশপাশে বসে গ্রামীণ মেলা। মেলায় বিভিন্ন ধরনের মুখরোচক খাবার, খেলনা, মিষ্টি ও বাহারি পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানিরা। শিশু-কিশোরদের আনন্দ, গ্রামীণ খাবারের ঘ্রাণ আর মানুষের প্রাণচাঞ্চল্যে ফিরে আসে বাংলার চিরচেনা মেলা ও উৎসবের আবহ। অনেকের কাছে এটি হয়ে ওঠে পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটানোর এক বিশেষ উপলক্ষ।
আয়োজকরা জানান, একসময় গ্রামবাংলার বিনোদনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা। আধুনিকতার ছোঁয়ায় ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজন অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে। নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরা, সামাজিক সম্প্রীতি বাড়ানো এবং যুবসমাজকে মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে খেলাধুলা ও সুস্থ বিনোদনমুখী করতেই তাঁদের এ উদ্যোগ।
অনুষ্ঠানে বানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরীফ হারুন অর রশিদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও আয়োজকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথি ও আয়োজকরা।
স্থানীয়দের মতে, গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ধরে রাখতে এ ধরনের আয়োজনের বিকল্প নেই। নিয়মিত এমন প্রতিযোগিতা ও গ্রামীণ মেলার আয়োজন করা হলে একদিকে যেমন গ্রামীণ সংস্কৃতির চর্চা বাড়বে, অন্যদিকে যুবসমাজও সুস্থ বিনোদনের মাধ্যমে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে উৎসাহিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বৃদ্ধির বিরুদ্ধে আবারও তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণের এই সিদ্ধান্তকে ‘জনস্বার্থবিরোধী’ হিসেবে উল্লেখ করে অবিলম্বে এই বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি করেছে।
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে এই দাবি জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, "দেশের সাধারণ ও মধ্যবিত্ত মানুষ যখন চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা, তখন রান্নার এই অপরিহার্য উপাদানের দাম বারবার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।" তারা উল্লেখ করেন, গত আট মাসে পাঁচ দফায় এলপিজির দাম বাড়ানো হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের ওপর চরম অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, "পাইপলাইনের গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে দেশের কোটি কোটি পরিবার এখন এলপিজির ওপর নির্ভরশীল।" তারা অভিযোগ করেন যে, এই নির্ভরশীলতাকে পুঁজি করে আন্তর্জাতিক বাজারের অজুহাতে বারবার দাম বাড়ানো হচ্ছে। নেতৃদ্বয়ের দাবি, "এলপিজি আমদানি ও বাজারজাতকরণে জড়িত অসাধু চক্রের স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) জনগণের স্বার্থ উপেক্ষা করছে।"
তারা আরও বলেন, "সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে খুচরা বাজারে বিক্রি হলেও তা নিয়ন্ত্রণে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।" ছাত্রশিবির নেতারা উল্লেখ করেন, এর প্রভাব হোটেল-রেস্তোরাঁসহ সামগ্রিক বাজারে পড়ছে। তারা অবিলম্বে এলপিজির বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার, বাজার মনিটরিং জোরদার এবং অসাধু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নাটোরের লালপুরে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে মো. আবু মুসা নামে এক যুবকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে, জানায় রেলওয়ে পুলিশ। সোমবার বিকেল সোয়া ৫টায় উপজেলার চংধুপইল ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া গ্রামের বাউড়া রেলওয়ে ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহত আবু মুসা বাঁশবাড়িয়া গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা সবুজ কুমারের ছেলে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তিনি সম্প্রতি সনাতন ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মো. আবু মুসা নাম ধারণ করেন।
ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানার স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, সোমবার বিকেলে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহীগামী আন্তনগর ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি বাউড়া রেলওয়ে ব্রিজ এলাকা অতিক্রম করার সময় ওই যুবক চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেন। এতে ঘটনাস্থলেই ট্রেনে কাটা পড়ে তাঁর মৃত্যু ঘটে।
ঘটনার খবর পেয়ে ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কিশোর কুমার ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করেন এবং থানায় হেফাজতে নেন।
ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানার ওসি ফয়সাল বিন আহসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে ওই যুবক স্বেচ্ছায় ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়েছেন। এ বিষয়ে ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লায় ঢাকা-চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু ঘটেছে, যার মধ্যে একজন মোটরসাইকেল আরোহী যুবক এবং একজন শিশু রয়েছে। সোমবার দুপুরে বুড়িচং ও দেবিদ্বার উপজেলায় দুটি দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুড়িচং উপজেলার কালাকচুয়া এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে একটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেল সজোরে ধাক্কা দেয়। এই দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী রাফি (২৩) ঘটনাস্থলেই মারা যান। নিহত রাফি চান্দিনা উপজেলার এতবারপুর এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে।
ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার ওসি রুহুল আমিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করেছে।"
অন্যদিকে, একই দিন বিকেলে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের দেবিদ্বার উপজেলার ছোটশালঘর এলাকায় একটি দ্রুতগতির ট্রাকের চাপায় এক পথচারী শিশু নিহত হয়। নিহত শিশুটির নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
হাইওয়ে পুলিশ উভয় ঘটনার পর দুর্ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং ঘাতক গাড়ি ও চালকদের শনাক্ত করতে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) পরিচালনায় সাইফ পাওয়ারটেকের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক) চুক্তির মেয়াদ তিন সপ্তাহ বৃদ্ধি করেছে। নতুন অপারেটর নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান থাকায় বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আগের চুক্তি অনুযায়ী, সোমবার সিসিটি পরিচালনায় সাইফ পাওয়ারটেকের দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নতুন অপারেটর নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ তিন সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিবহন দপ্তর থেকে এ বিষয়ে গতকাল একটি চিঠি জারি করা হয়।
বন্দর পরিবহন পরিচালকের পক্ষে জারি করা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আগের চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ২ নভেম্বর সাইফ পাওয়ারটেকের কার্যক্রম শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অপারেটর নিয়োগের কার্যক্রম চলমান থাকায় বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার স্বার্থে চুক্তির মেয়াদ তিন সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, আগের চুক্তির নিয়ম ও শর্ত অনুযায়ী সাইফ পাওয়ারটেক আরো তিন সপ্তাহ সিসিটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে। ৩ নভেম্বর থেকে নতুন মেয়াদ কার্যকর হবে। নতুন অপারেটর নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে সিসিটির গুরুত্ব অপরিসীম। ২০১৯ সালের ১৭ অক্টোবর থেকে সাইফ পাওয়ারটেক সিসিটি পরিচালনা করে আসছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ