০৫:৪৮ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন। প্রেসিডেন্ট আউন অভিযোগ করেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির আলোচনায় ইরান লেবাননকে ‘দর কষাকষির হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করছে।
এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেয়া এক পোস্টে জবাব দিতে গিয়ে আরাঘচি বলেন: ‘মি. আউনের মন্তব্য শুনে মনে হবে যেন ইরানই লেবাননের এক-পঞ্চমাংশ এলাকা দখল করে আছে, এক-চতুর্থাংশ লেবানিজকে বাস্তুচ্যুত করেছে এবং প্রতিদিন তার দেশে বোমাবর্ষণ করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘লেবানন যদি ইরানের দর কষাকষির হাতিয়ার হতো, তাহলে অনেক আগেই (ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র) আমাদের মধ্যে একটি চুক্তি হয়ে যেত।’ লেবানিজ প্রেসিডেন্টকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘মি. প্রেসিডেন্ট, লেবাননকে আসল শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করুন।’
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত বুধবার (৩ জুন) ওয়াশিংটনে ত্রিপক্ষীয় এক বৈঠকে শর্তসাপেক্ষে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে সম্মত হয় ইসরাইল ও লেবানন। চুক্তি অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি কার্যকর হওয়া ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর হামলা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হওয়ার ওপর নির্ভর করে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার শর্ত হলো, হিজবুল্লাহকে পুরোপুরি হামলা বন্ধ করতে হবে। সেই সঙ্গে দক্ষিণ লেবানন থেকে গোষ্ঠীটির সদস্যদের সরিয়ে নিতে হবে। এছাড়া দুই দেশ কিছু ‘পাইলট জোন’ প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে একমত হয়েছে। এসব এলাকা লেবানিজ সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং সেখানে কোনো অরাষ্ট্রীয় পক্ষ বা সশস্ত্র গোষ্ঠী থাকতে পারবে না।
আরও পড়ুন: ইরান ও হিজবুল্লাহর ওপর চটলেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট
তবে হিজবুল্লাহ এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে। হিজবুল্লাহ বহুবার বলেছে যে, তারা ইসরাইল-লেবানন যুদ্ধবিরতি আলোচনাকে স্বীকৃতি দেয় না এবং তা মেনে চলবে না। বিশ্লেষকরা বলছেন, খুব সম্ভবত, ইরান-মার্কিন আলোচনার অংশ হিসেবে লেবাননে একটি শর্তহীন যুদ্ধবিরতি না হওয়া পর্যন্ত হিজবুল্লাহ লড়াই চালিয়ে যাবে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরও (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হিজবুল্লাহকে বাদ দিয়ে করা ইসরাইল ও লেবাননের যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করেছে।
হিজবুল্লাহর প্রতি সমর্থন জানিয়ে আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, ইসরাইলকে অবিলম্বে লেবাননের জনগণের ওপর হামলা বন্ধ করতে হবে এবং লেবাননের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানার ভেতরে দখল করা সব এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে।
হিজবুল্লাহর প্রতি ইরানের এই সমর্থনের পর তেহরান ও হিজবুল্লাহর তীব্র সমালোচনা করেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট। শুক্রবার (৫ জুন) বৈরুতে প্রেসিডেনশিয়াল প্যালেসে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের ক্রিশ্চিয়ান আমানপুরকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরান লেবাননকে ‘দরকষাকষির হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করছে, যা ‘গ্রহণযোগ্য নয়’।
ইরানের সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের কড়া সমালোচনা করে জোসেফ আউন বলেন, ‘এটা আপনাদের দেশ নয়, আমাদের দেশ। এটা রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। আমাদের দেশের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা আপনাদের কাজ নয়।’
লেবাননের প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকেও এ বিষয়টি বুঝতে হবে। আউন বলেন, ‘হিজবুল্লাহকে বুঝতে হবে, আলোচনায় বসা ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই। এই সমস্যার সমাধান এবং যা কিছু অবশিষ্ট আছে তা রক্ষা করার একমাত্র উপায় হলো আলোচনা ও কূটনীতি।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজ রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, যেখানে নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্য সহায়তা সেল আলোচনা করেছে।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল দেশের ক্রমবর্ধমান শিশু নির্যাতন মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে একটি সমন্বিত শিশু নিরাপত্তা টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, শিশু নির্যাতন একটি গুরুতর সামাজিক ব্যাধি, যা কেবল আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নির্মূল করা সম্ভব নয়।
তিনি জানান যে, এ সমস্যা মোকাবিলায় পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, গণমাধ্যম ও রাষ্ট্রের সকল অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রয়োজন।
রাজধানীর শাহবাগস্থ শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে, যার শীর্ষক ছিল ‘বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান শিশু নির্যাতন মোকাবিলা: প্রতিবন্ধকতা, দায়িত্ব ও করণীয়’ , ডেপুটি স্পিকার প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’ সেইসঙ্গে কায়সার কামাল আরও উল্লেখ করেন যে, শিশু নির্যাতনের মূল কারণসমূহ চিহ্নিত করা জরুরি। বিদ্যমান আইন, নীতি ও সুরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতিগুলো মূল্যায়ন করাও প্রয়োজন।
শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ, মানবিক ও সহিংসতামুক্ত সমাজ গঠনে কার্যকর এবং টেকসই কৌশল প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শিশুদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব।
রামিসা হত্যার বিচার প্রসঙ্গে, ডেপুটি স্পিকার বলেছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। তিনি আরও বলেন, কথার চেয়ে কাজে বিশ্বাসী হতে হবে।
বর্তমানে শিশুদের প্রতি শারীরিক, মানসিক ও অনলাইনভিত্তিক নির্যাতনের ঝুঁকি উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে, প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং শিশুদের অধিকার সম্পর্কে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের আইনি, চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ মানবিক দায়িত্ব পালন করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নির্যাতিতদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
গোলটেবিল বৈঠকে ডেপুটি স্পিকার নির্যাতিত নারী ও শিশুদের জন্য আইনগত ও স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা সেল পরিচালনাকারীদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সেবামূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।
গোলটেবিল বৈঠকে নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্য সহায়তা সেলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী প্রফেসর ড. মো. রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, নীতিনির্ধারক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ, গবেষক, আইনজীবী, শিল্পী, মানবাধিকার কর্মী, উন্নয়নকর্মী, সচেতন নাগরিক, ভুক্তভোগী পরিবার এবং নারী ও শিশু অধিকার বিষয়ক বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
এ সময় বক্তারা শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে কার্যকর আইন প্রয়োগ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, ভুক্তভোগীবান্ধব সেবা সম্প্রসারণ এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এমপি, নিপুণ রায় চৌধুরী এমপি, অভিনেতা আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, রামিসার বাবা, নারী ও শিশু অধিকার বিষয়ক বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, উন্নয়নকর্মী, মানবাধিকার কর্মী, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
দেশের জরুরি রোগী পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও আমদানিনির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে এবার দেশীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎচালিত (ইলেকট্রিক) অ্যাম্বুলেন্স তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে দেশের অ্যাম্বুলেন্স তৈরি সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানায়, দেশের ভৌগোলিক ও সড়ক যোগাযোগ পরিস্থিতি বিবেচনায় স্থানীয়ভাবে এই অ্যাম্বুলেন্সগুলোর ডিজাইন করা হবে। প্রাথমিকভাবে দেশের একটি উপজেলাকে মডেল হিসেবে ধরে এই প্রকল্পের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এই বিদ্যুৎচালিত অ্যাম্বুলেন্সগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম, অক্সিজেন সাপোর্টসহ জরুরি সেবার সকল আধুনিক সুবিধা যুক্ত থাকবে।
উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু বলেন, ‘সরকার জনগণের দোরগোড়ায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। এই লক্ষ্যেই আজ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বিস্তারিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগ সফল হলে দেশে অ্যাম্বুলেন্সের ঘাটতি পূরণ হবে এবং বিশাল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।’
এছাড়া, প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে, মূলত তিন পর্যায়ে এই সেবা দেয়ার মহাপরিকল্পনা করছে সরকার। এর মধ্যে থাকবে – গ্রাম থেকে উপজেলা, উপজেলা থেকে জেলা এবং জেলা থেকে রাজধানী পর্যন্ত রোগী পরিবহনের জন্য তিন ধরনের আলাদা ডিজাইনের অ্যাম্বুলেন্স। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে অত্যন্ত কম খরচে দেশের প্রান্তিক মানুষের কাছে আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়া সম্ভব হবে।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার এবং স্বাস্থ্যসেবা সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী।
এ ছাড়া কারিগরি ও ডিজাইন সহায়তার জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক অধ্যাপক মুহাম্মদ এহসান, অধ্যাপক জিয়াউর রহমান, অধ্যাপক আবদুল সালাম আখন্দ ও অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলমসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ এলাকায় ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে। এ হামলার ফলে একজন ঊর্ধ্বতন কমান্ডারসহ অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন।
শনিবার (৬ জুন) লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সকালে দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের চালানো হামলায় একজন ঊর্ধ্বতন কমান্ডার, একজন কর্মকর্তা এবং একজন সৈন্য নিহত হয়েছেন।
এক বিবৃতিতে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী জানায়, নাবাতিয়েহ এলাকার কাফার তেবনিত এবং খারদালির মধ্যবর্তী একটি সড়কে হামলা চালানো হয় একটি সামরিক যানকে লক্ষ্য করে। হামলায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও ক্যাপ্টেন পদমর্যাদার দুইজন কর্মকর্তা এবং একজন সৈন্য নিহত হন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল একযোগে ইরানে হামলা চালায়। এরপর থেকে ইরান ইসরাইলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা শুরু করে। ২ মার্চ, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরাইলের যুদ্ধ বেগবান হয়। গত এপ্রিল মাস থেকে যুক্তরাষ্ট্র লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও তা সত্ত্বেও হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যে লড়াই অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন: লেবাননের প্রেসিডেন্টের সমালোচনার জবাব দিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যদিও ইসরাইলের সঙ্গে লেবাননের সেনাবাহিনী যুদ্ধে জড়িত নয়। তারপরও ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর হামলায় লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী এবং বেসামরিক নাগরিকের হতাহতের ঘটনা ঘটছে।
এদিকে লেবাননের সেনাবাহিনীর একটি গাড়িতে ইসরাইলি হামলায় দুই কর্মকর্তা ও এক সেনা সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় দেশটির প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেয়া এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানায়, আউন এই হামলাকে ‘লেবাননের সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইন ও নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনায় লেবাননের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও দক্ষিণাঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে।
নিহতদের পরিবারের প্রতি আন্তরিক শোক প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ ধরনের পুনরাবৃত্ত হামলা বন্ধে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, দক্ষিণ লেবাননে সেনাবাহিনীর গাড়িতে হামলার পক্ষে সাফাই গেয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। তাদের আরবি ভাষার মুখপাত্রের মাধ্যমে এক্সে প্রকাশিত বিবৃতিতে তারা দাবি করেছে, হামলার শিকার গাড়িটি একটি ‘সক্রিয় যুদ্ধাঞ্চলে’ অবস্থান করছিল, যেখানে আগে থেকেই এলাকা খালি করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং যুদ্ধাঞ্চলে চলাচলের ক্ষেত্রে ইসরাইলি বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় প্রয়োজন। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও জানায় ইসরাইলি সেনাবাহিনী।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ