প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন। প্রেসিডেন্ট আউন অভিযোগ করেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির আলোচনায় ইরান লেবাননকে ‘দর কষাকষির হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করছে।
এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেয়া এক পোস্টে জবাব দিতে গিয়ে আরাঘচি বলেন: ‘মি. আউনের মন্তব্য শুনে মনে হবে যেন ইরানই লেবাননের এক-পঞ্চমাংশ এলাকা দখল করে আছে, এক-চতুর্থাংশ লেবানিজকে বাস্তুচ্যুত করেছে এবং প্রতিদিন তার দেশে বোমাবর্ষণ করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘লেবানন যদি ইরানের দর কষাকষির হাতিয়ার হতো, তাহলে অনেক আগেই (ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র) আমাদের মধ্যে একটি চুক্তি হয়ে যেত।’ লেবানিজ প্রেসিডেন্টকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘মি. প্রেসিডেন্ট, লেবাননকে আসল শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করুন।’
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত বুধবার (৩ জুন) ওয়াশিংটনে ত্রিপক্ষীয় এক বৈঠকে শর্তসাপেক্ষে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে সম্মত হয় ইসরাইল ও লেবানন। চুক্তি অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি কার্যকর হওয়া ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর হামলা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হওয়ার ওপর নির্ভর করে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার শর্ত হলো, হিজবুল্লাহকে পুরোপুরি হামলা বন্ধ করতে হবে। সেই সঙ্গে দক্ষিণ লেবানন থেকে গোষ্ঠীটির সদস্যদের সরিয়ে নিতে হবে। এছাড়া দুই দেশ কিছু ‘পাইলট জোন’ প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে একমত হয়েছে। এসব এলাকা লেবানিজ সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং সেখানে কোনো অরাষ্ট্রীয় পক্ষ বা সশস্ত্র গোষ্ঠী থাকতে পারবে না।
আরও পড়ুন: ইরান ও হিজবুল্লাহর ওপর চটলেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট
তবে হিজবুল্লাহ এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে। হিজবুল্লাহ বহুবার বলেছে যে, তারা ইসরাইল-লেবানন যুদ্ধবিরতি আলোচনাকে স্বীকৃতি দেয় না এবং তা মেনে চলবে না। বিশ্লেষকরা বলছেন, খুব সম্ভবত, ইরান-মার্কিন আলোচনার অংশ হিসেবে লেবাননে একটি শর্তহীন যুদ্ধবিরতি না হওয়া পর্যন্ত হিজবুল্লাহ লড়াই চালিয়ে যাবে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরও (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হিজবুল্লাহকে বাদ দিয়ে করা ইসরাইল ও লেবাননের যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করেছে।
হিজবুল্লাহর প্রতি সমর্থন জানিয়ে আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, ইসরাইলকে অবিলম্বে লেবাননের জনগণের ওপর হামলা বন্ধ করতে হবে এবং লেবাননের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানার ভেতরে দখল করা সব এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে।
হিজবুল্লাহর প্রতি ইরানের এই সমর্থনের পর তেহরান ও হিজবুল্লাহর তীব্র সমালোচনা করেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট। শুক্রবার (৫ জুন) বৈরুতে প্রেসিডেনশিয়াল প্যালেসে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের ক্রিশ্চিয়ান আমানপুরকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরান লেবাননকে ‘দরকষাকষির হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করছে, যা ‘গ্রহণযোগ্য নয়’।
ইরানের সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের কড়া সমালোচনা করে জোসেফ আউন বলেন, ‘এটা আপনাদের দেশ নয়, আমাদের দেশ। এটা রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। আমাদের দেশের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা আপনাদের কাজ নয়।’
লেবাননের প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকেও এ বিষয়টি বুঝতে হবে। আউন বলেন, ‘হিজবুল্লাহকে বুঝতে হবে, আলোচনায় বসা ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই। এই সমস্যার সমাধান এবং যা কিছু অবশিষ্ট আছে তা রক্ষা করার একমাত্র উপায় হলো আলোচনা ও কূটনীতি।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন