প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ এলাকায় ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে। এ হামলার ফলে একজন ঊর্ধ্বতন কমান্ডারসহ অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন।
শনিবার (৬ জুন) লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সকালে দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের চালানো হামলায় একজন ঊর্ধ্বতন কমান্ডার, একজন কর্মকর্তা এবং একজন সৈন্য নিহত হয়েছেন।
এক বিবৃতিতে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী জানায়, নাবাতিয়েহ এলাকার কাফার তেবনিত এবং খারদালির মধ্যবর্তী একটি সড়কে হামলা চালানো হয় একটি সামরিক যানকে লক্ষ্য করে। হামলায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও ক্যাপ্টেন পদমর্যাদার দুইজন কর্মকর্তা এবং একজন সৈন্য নিহত হন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল একযোগে ইরানে হামলা চালায়। এরপর থেকে ইরান ইসরাইলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা শুরু করে। ২ মার্চ, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরাইলের যুদ্ধ বেগবান হয়। গত এপ্রিল মাস থেকে যুক্তরাষ্ট্র লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও তা সত্ত্বেও হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যে লড়াই অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন: লেবাননের প্রেসিডেন্টের সমালোচনার জবাব দিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যদিও ইসরাইলের সঙ্গে লেবাননের সেনাবাহিনী যুদ্ধে জড়িত নয়। তারপরও ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর হামলায় লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী এবং বেসামরিক নাগরিকের হতাহতের ঘটনা ঘটছে।
এদিকে লেবাননের সেনাবাহিনীর একটি গাড়িতে ইসরাইলি হামলায় দুই কর্মকর্তা ও এক সেনা সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় দেশটির প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেয়া এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানায়, আউন এই হামলাকে ‘লেবাননের সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইন ও নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনায় লেবাননের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও দক্ষিণাঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে।
নিহতদের পরিবারের প্রতি আন্তরিক শোক প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ ধরনের পুনরাবৃত্ত হামলা বন্ধে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, দক্ষিণ লেবাননে সেনাবাহিনীর গাড়িতে হামলার পক্ষে সাফাই গেয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। তাদের আরবি ভাষার মুখপাত্রের মাধ্যমে এক্সে প্রকাশিত বিবৃতিতে তারা দাবি করেছে, হামলার শিকার গাড়িটি একটি ‘সক্রিয় যুদ্ধাঞ্চলে’ অবস্থান করছিল, যেখানে আগে থেকেই এলাকা খালি করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং যুদ্ধাঞ্চলে চলাচলের ক্ষেত্রে ইসরাইলি বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় প্রয়োজন। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও জানায় ইসরাইলি সেনাবাহিনী।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন