প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আল্লাহ মানুষকে এবং জিনকে একমাত্র তাঁর ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহপাক বলেছেন, 'আর আমি সৃষ্টি করেছি জিন এবং মানুষকে এজন্যেই যে, তারা কেবল আমার ইবাদাত করবে।' (সুরা জারিয়াত, আয়াত: ৫৬)
জিন শব্দটি আরবি। এটির বাংলা অর্থ হল যা গুপ্ত, অদৃশ্য, অন্তরালে বসবাসকারী অথবা অনেক দূরে। বাংলা ভাষায় এটি ভূত শব্দ দ্বারা চিহ্নিত হয়। এর আরবি প্রতিশব্দ হল 'ইফরিত'। 'ইফরিত' সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, 'এক শক্তিশালী জিন (ইফরিত) বলল, আপনি আপনার (সুলাইমান (আ.)) স্থান থেকে ওঠার আগেই আমি তা (বিলকিসের সিংহাসন) এনে দেব। আমি নিশ্চয়ই এই ব্যাপারে শক্তিমান, বিশ্বস্ত।' (সুরা নামল, আয়াত: ৩৯)।
এ আয়াতে 'ইফরিতুম মিনাল জিন' অর্থাৎ জিনদের মধ্য থেকে এক 'ইফরিত' বা ভূতের কথাটি এসেছে। তাফসিরবিদরা বলেছেন, এই জিনদের মধ্যে যারা অবাধ্য, বেপরোয়া, দুষ্ট প্রকৃতির ও শক্তিশালী হয়ে থাকে, তাদেরই 'ইফরিত' বলা হয়। (আল মুফরাদাত ফি গারিবিল কোরআন)। এই জিনরাই মানুষের ওপর আছর করে।
মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেছেন, 'এর আগে (আদি মানব সৃষ্টির আগে) আমি জিন সৃষ্টি করেছি অত্যুষ্ণ আগুন (উত্তপ্ত অগ্নিশিখা) থেকে।' (সুরা হিজর, আয়াত: ২৭)
আলোচ্য অংশে জিন জাতির আদি পিতার সৃষ্টির বিষয়টি বর্ণনা করা হয়েছে। মহান আল্লাহ জিন জাতির আদি পিতাকে উত্তপ্ত অগ্নিশিখা থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তারপরে জিনদের বংশবিস্তার হতে থাকে।
জিন জাতি সম্পর্কে সমাজে অনেক কথাবার্তা প্রচলিত রয়েছে। আধুনিক মনস্ক অনেক মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, 'সত্যিই কি জিন-ভূত মানুষের ওপর আছর করতে পারে?' এর উত্তর হলো, অবশ্যই জিন মানুষকে আছর করতে পারে। তারা মানুষের ওপর আছর করে, এবং যাদের ওপর আছর করে, তাদের নিয়ন্ত্রণও করতে সক্ষম। এমনকি সেই ব্যক্তির স্বাভাবিক কাজকর্মেও বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার ২৭৫ নম্বর আয়াতে মানুষের ওপর জিন জাতির আছরের ধারণা পাওয়া যায়। মহান আল্লাহ বলেন,
اَلَّذِیۡنَ یَاۡكُلُوۡنَ الرِّبٰوا لَا یَقُوۡمُوۡنَ اِلَّا كَمَا یَقُوۡمُ الَّذِیۡ یَتَخَبَّطُهُ الشَّیۡطٰنُ مِنَ الۡمَسِّ অর্থ: যারা সুদ খায় তারা (কিয়ামতের দিন) এমন ব্যক্তির মতো দাঁড়াবে, যাকে শয়তান স্পর্শ করে পাগল বানিয়ে দিয়েছে।
জিন মানুষের ওপর আছর করার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ হিসেবে তাফসিরকারকরা এই আয়াতটি উল্লেখ করেছেন। শয়তানের আছরে মানুষ মোহাবিষ্ট হয়ে পড়ে- এ আয়াত থেকে বিষয়টি স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। (তাফসিরে কুরতুবি: ৩/৩৫৫; তাফসিরে তাবারি: ৩/১০১)
নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'শয়তান আদম সন্তানের শরীরে প্রবাহিত হয়, যেমন রক্ত শরীরে প্রবাহিত।' (মুসলিম: ২১৭৫)
নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার একটি অসুস্থ বালকের সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন- যার ওপর জিনের আছর ছিল। নবীজি ছেলেটির দিকে ফিরে বলেছিলেন,
ও আল্লাহর শত্রু, বের হয়ে আসো, ও আল্লাহর শত্রু, বের হয়ে আসো। এরপর ছেলেটি দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। (ইবনে মাজাহ: ৩৫৪৮)
এটি পরিষ্কারভাবে নির্দেশ করে যে, খারাপ বা দুষ্টু জিন মানুষের ওপর আছর করতে সক্ষম।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন