০৫:৫৬ পি.এম
রাশিয়ায় তৈরি নতুন ধরনের ব্যক্তিকেন্দ্রিক (পারসোনালাইজড) ক্যানসারের টিকা প্রথমবারের মতো একজন রোগীর শরীরে কার্যকরভাবে কাজ করছে বলে দেশটির গবেষকরা দাবি করেছেন। তাদের দাবি যে, টিকা গ্রহণের পর রোগীর শরীরে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রোগপ্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বর্তমানে ওই রোগীর শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক এবং তিনি চিকিৎসাধীন আছেন।
রুশ সংবাদমাধ্যম আরটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গামালেয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক পরিচালক আলেক্সান্দর গিনজবার্গ এই তথ্য জানিয়েছেন। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি এমআরএনএভিত্তিক মেলানোমা ক্যানসারের টিকা নিওঅনকোভ্যাক তৈরিতে অংশ নিয়েছে।
গত বছরে রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দুটি পারসোনালাইজড ক্যানসার চিকিৎসার অনুমোদন দিয়েছিল। এর মধ্যে একটি উন্নত পর্যায়ের মেলানোমার জন্য এমআরএনএভিত্তিক টিকা নিওঅনকোভ্যাক এবং অপরটি কোলোরেক্টাল ক্যানসারের জন্য তৈরি পেপটাইডভিত্তিক ওষুধ অনকোপেপ্ট।
আরও পড়ুন: রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোডের আবাসিক হোটেলকে ঘিরে মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ
চলতি বছরের এপ্রিলে ৬০ বছর বয়সী এক রোগীকে প্রথমবার নিওঅনকোভ্যাক প্রয়োগ করা হয়। এই রোগী মেলানোমা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়া (মেটাস্টেটিক) ক্যানসারে আক্রান্ত এবং বর্তমানে হারজেন মস্কো অনকোলজি রিসার্চ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আরআইএ নভোস্টিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আলেক্সান্দর গিনজবার্গ বলেন, রোগী বর্তমানে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় আছেন এবং চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। পরীক্ষায় তার শরীরে অত্যন্ত ইতিবাচক রোগপ্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে এবং শরীর এমন উপাদান তৈরি করছে যা টিউমার ও ছড়িয়ে পড়া ক্যানসার কোষের বিরুদ্ধে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে কার্যকরভাবে লড়াই করতে সহায়তা করবে।
তিনি জানিয়েছেন, রোগীকে আরও দুটি ডোজ টিকা দেওয়া হবে এবং পুরো চিকিৎসা চলাকালীন তার রোগপ্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি, আরও ১০ জন রোগীর জন্য ব্যক্তিকেন্দ্রিক মেলানোমা টিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে, যা আগামী দেড় থেকে তিন মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে।
এর আগে ন্যাশনাল মেডিকেল রিসার্চ সেন্টার অব রেডিওলজির প্রধান আন্দ্রেই কাপরিন বলেছেন, এই প্রযুক্তির উদ্দেশ্য শুধুমাত্র ক্যানসারের চিকিৎসা নয়; বরং রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া, যাতে এটি নিজেই ক্যানসার কোষ শনাক্ত করে ধ্বংস করতে পারে।
আরও পড়ুন: ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
গবেষকদের মতে, এই টিকা তৈরির জন্য রোগীর টিউমার ও সুস্থ টিস্যুর নমুনা সংগ্রহ করে জিনগত বিশ্লেষণ করা হয়। এরপর সেই তথ্যের ভিত্তিতে রোগীভেদে আলাদা টিকা তৈরি করা হয়, যা রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ক্যানসার কোষ শনাক্ত ও আক্রমণ করতে সক্ষম করে।
এদিকে, স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দাবি, কোলোরেক্টাল ক্যানসারের ওষুধ অনকোপেপ্ট গ্রহণকারী রোগীদের শরীরেও প্রয়োজনীয় রোগপ্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এছাড়া গামালেয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউট বর্তমানে অগ্ন্যাশয়, কিডনি এবং নন-স্মল সেল ফুসফুসের ক্যানসারের জন্যও একই ধরনের চিকিৎসা প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে এ পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য মূলত প্রাথমিক পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ ও গবেষকদের দাবির ভিত্তিতে। টিকার কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বৃহৎ পরিসরের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফল এখনও প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: প্রাথমিকের সব বই ৫ নভেম্বরের মধ্যে সরবরাহের নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন