বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:১৩ পি.এম
আত্মবিশ্বাস এবং রাজনৈতিক কৌশল ব্যবহার করে বর্তমান রাজনীতিতে অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। কিন্তু শৈশব থেকে পরিচিত ‘বিবি’ নামেও তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পরিচিত। গত বছরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে এই নামে সম্বোধন করেছিলেন।
তৎকালীন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির মামলার প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেছিলেন, "আমেরিকাই ইসরায়েলকে বাঁচিয়েছিল, আর এখন আমেরিকাই বিবি নেতানিয়াহুকে বাঁচাবে।"
প্রকৃতপক্ষে, ‘বিবি’ নামটি নেতানিয়াহুর শৈশবের ডাকনাম। একটি চাচাতো ভাইয়ের নাম অনুসারে তিনি এই নামটি পান। পরবর্তীতে ইসরায়েলের রাজনীতিতে তার উত্থানের সঙ্গে ‘বিবি’ নামটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত হয়ে ওঠে।
নেতানিয়াহুর আত্মজীবনী ‘বিবি : মাই স্টোরি’ এবং তার জীবনীভিত্তিক বিভিন্ন সূত্রে এই নামের উৎপত্তির ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। সেই অনুযায়ী, তার চাচাতো ভাই বিনিয়ামিন রনের ডাকনাম ছিল ‘বিবি’। ছোটবেলায় ওই ভাইকে ‘বি, বি’ বলে ডাকতেন তার বোন দাফনা। সেখান থেকেই নামটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। পরে এটি নেতানিয়াহুর ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হতে থাকে এবং এক সময় তার পরিবারের মধ্যে স্থায়ী হয়ে যায়।
১৯৪৯ সালের ২১ অক্টোবর তেল আবিবে জন্মগ্রহণকারী নেতানিয়াহুর বাবা বেনজিয়ন নেতানিয়াহু ছিলেন একজন ইতিহাসবিদ এবং ডানপন্থী জায়নবাদী চিন্তাধারার অনুসারী। বাবার রাজনৈতিক আদর্শ নেতানিয়াহুর ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
মাত্র ১৪ বছর বয়সে তিনি পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় চলে যান। পরে ইসরায়েলে ফিরে দেশটির অভিজাত বিশেষ বাহিনী সায়েরেত মাতকালে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেন। সায়েরেত মাতকাল হলো ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) একটি অত্যন্ত গোপনীয় এবং শীর্ষ স্তরের এলিট স্পেশাল ফোর্সেস বা কমান্ডো ইউনিট।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) থেকে স্থাপত্যে স্নাতক এবং ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন নেতানিয়াহু। পরবর্তীতে ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি দূতাবাসে দায়িত্ব পালন করেন এবং জাতিসংঘে দেশটির রাষ্ট্রদূত হিসেবেও কাজ করেন। সাবলীল মার্কিন ইংরেজি ও টেলিভিশনে বক্তব্য দেওয়ার দক্ষতা তাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত করে তোলে।
১৯৯০-এর দশকে লিকুদ পার্টির নেতৃত্বে উঠে আসেন নেতানিয়াহু। আত্মবিশ্বাস, রাজনৈতিক কৌশল এবং গণমাধ্যম ব্যবহারের দক্ষতা তার উত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ১৯৯৬ সালে প্রথমবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ‘বিবি’ নামটি আন্তর্জাতিকভাবে আরো পরিচিতি পায়।
ব্যক্তিগত জীবন এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা বিতর্ক থাকলেও তিনি ইসরায়েলের রাজনীতিতে অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। ফলে শৈশবের ‘বিবি’ ডাকনামটি কেবল ব্যক্তিগত পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং এটি তার রাজনৈতিক পরিচয়েরও অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। তবে নামটি কোনো আনুষ্ঠানিক উপাধি নয়; এটি শৈশব থেকে চলে আসা একটি ব্যক্তিগত ডাকনাম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রংপুরের তারাগঞ্জে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে একটি যাত্রীবাহী বাস বড় ধরনের দুর্ঘটনায় পতিত হয়েছে। বাসটি সড়কের ডিভাইডারে ধাক্কা লেগে উল্টে যায়। এই ঘটনায় একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে রংপুর-সৈয়দপুর মহাসড়কের ইকরচালী বাজার এলাকায় ব্র্যাক কার্যালয়ের সামনে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, নীলফামারীর ডোমার থেকে রংপুরগামী বাসটি ইকরচালী বাজার এলাকায় পৌঁছানোর পর সড়কের ডিভাইডারে ধাক্কা লাগে। এর ফলে বাসটি উল্টে যায়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা উদ্ধারকাজ শুরু করেন।
পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আহতদের উদ্ধার করে তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।
তারাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজার রহমান জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ১ জন নিহত হয়েছেন। তবে তার পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলাদেশ জাতীয় কর্তৃপক্ষ, রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন (বিএনএসিডব্লিউসি) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রভাব এবং এ বিষয়ে করণীয় শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করেছে।
এই কর্মশালাটি গতকাল সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের মাল্টিপারপাস হলে অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালার উদ্দেশ্য ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সক্ষমতা কীভাবে প্রথাগত রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন ও নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে রাসায়নিক দুর্ঘটনা সৃষ্টির কারণ হতে পারে, সে সম্পর্কে প্রশিক্ষণার্থীদের সম্যক ধারণা প্রদান করা এবং এ বিষয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে অবহিত করা।
তফসিলভুক্ত রাসায়নিক দ্রব্যের আমদানি, ব্যবহার ও ক্রয়-বিক্রয় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অ্যাসোসিয়েশন থেকে মোট ৩৩ জন এ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় বক্তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে রাসায়নিক দ্রব্যের নিরাপদ ও যথাযথ ব্যবহারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। প্রধান অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয় কর্তৃপক্ষ, রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন (বিএনএসিডব্লিউসি)-এর সদস্য সচিব কমডোর এম. কিবরিয়া হক উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্বৈত-ব্যবহারজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিএনএসিডব্লিউসির সাথে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। কর্মশালা শেষে প্রধান অতিথি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ আগামী ৫ নভেম্বরের মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত সব পাঠ্যবই সরবরাহ সম্পন্ন করার নির্দেশনা প্রদান করেছেন। তিনি পাঠ্যবই মুদ্রণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত মান ও স্পেসিফিকেশন যথাযথভাবে অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে সতর্ক করেছেন যে, আগামী বছর থেকে পুরোনো মেশিন ব্যবহার করে মুদ্রণকাজ চালালে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে আর কোনো কাজ দেওয়া হবে না।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মাতুয়াইলে ‘বর্ণমালা প্রেস’ ও ‘গ্লোবাল প্রিন্টিং ইকুইপমেন্ট’ পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন। এ সময় তিনি মুদ্রণপ্রক্রিয়া, ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, কাগজের গুণগত মান এবং বইয়ের ছাপার মান সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পাঠ্যবই মুদ্রণের দায়িত্ব নেওয়ার অর্থ নির্ধারিত মান পুরোপুরি বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করা। কাজের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সীমাবদ্ধতা থাকলে তা দরপত্রে অংশ নেওয়ার আগেই বিবেচনায় নেওয়া উচিত। মুদ্রণযন্ত্রের সক্ষমতা বা কারিগরি সীমাবদ্ধতার অজুহাত তুলে বইয়ের মানের সঙ্গে কোনোভাবেই আপস করা যাবে না। সরকার যে মানের বই সরবরাহের জন্য দায়িত্ব দিয়েছে, তা শতভাগ নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আবশ্যিক কর্তব্য।’
বইয়ের ছাপার মান যাচাই করতে গিয়ে তিনি কয়েকটি বইয়ে রঙের বিন্যাস ও অ্যালাইনমেন্টের অসঙ্গতি দেখতে পান। এ ধরনের ত্রুটি যাতে অন্যান্য বইয়ে না ছড়িয়ে পড়ে, সে বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের কড়া সতর্কবার্তা দেন। পাশাপাশি মুদ্রণকাজের সামগ্রিক মান নিয়ন্ত্রণ ও মাঠপর্যায়ের তদারকি আরো জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, পাঠ্যবইয়ের মান নিশ্চিত করতে কেবল কাজ শেষ করলেই হবে না; প্রতিটি বই নির্ধারিত মানদণ্ড মেনে মুদ্রিত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের হাতে মানসম্মত পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়া সরকারের প্রধান অঙ্গীকার। তাই এ ক্ষেত্রে যেকোনো অবহেলা বা নিম্নমানের কাজ কোনো অবস্থাতেই বরদাশত করা হবে না।
তিনি সংশ্লিষ্ট মুদ্রণপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে শতভাগ বই সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আধুনিক ও উন্নত সক্ষমতাসম্পন্ন মুদ্রণযন্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন।
পরিদর্শনকালে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) প্রতিনিধি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট মুদ্রণপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ