বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:১৬ পি.এম
খুলনায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৬ একটি বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলিসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে।
বাহিনীটির দাবি অনুযায়ী, গ্রেফতার হওয়া দুজন আশিক গ্রুপের সদস্য। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোর ৩টা ৩৫ মিনিটে নগরীর সদর থানাধীন আহমাদিয়া মাদ্রাসা রোডের চানমারি শিপইয়ার্ড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাঁদের আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন হলেন খুলনা সদর থানার চানমারি বাজার এলাকার সওগাতুল আলম ছগীরের ছেলে ছাহিল মাহমুদ (২৫) এবং অন্যজন লবণচরা থানার মোহাম্মদিয়া পাড়া এলাকার বারেক হাওলাদারের ছেলে শাহাদাত হোসেন শুভ (২৩)।
এসআরবি-৬ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাহিনীর স্পেশাল কোম্পানির একটি দল ওই এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের সময় ছাহিল মাহমুদ ও শাহাদাত হোসেন শুভকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় একটি বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
এসআরবির ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার হওয়া দুজন আশিক গ্রুপের সঙ্গে জড়িত। তাঁদের বিরুদ্ধে খুলনা সদর থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাঁদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের কারণে মকবুল হোসেন (৬৫) নামের এক বৃদ্ধ প্রতিপক্ষের মারপিট ও ধারালো হাঁসুয়ার আঘাতে নিহত হয়েছেন। পুলিশ এই ঘটনার পর নারীসহ ১৬ জনকে আটক করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চণ্ডীপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ সীচা ছাতিনামারী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত মকবুল হোসেন ওই গ্রামের মৃত ফেলান উদ্দিনের পুত্র।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, ২২ শতাংশ আবাদি জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মকবুল হোসেনের প্রতিবেশী শাহাবুদ্দিন মিয়ার পরিবারের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। এ বিষয়টি আদালতে মামলার মাধ্যমে চলছে।
ঘটনার দিন সকালে ফজরের নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন মকবুল হোসেন। পথে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর আকস্মিক হামলা চালায়। হামলায় মারপিট ও ধারালো হাঁসুয়ার কোপে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে তাদেরও বেধড়ক মারপিট করা হয়। হামলায় মকবুলের পরিবারের বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নারীসহ ১৬ জনকে আটক করে।
আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন—দক্ষিণ সীচা ছাতিনামারী গ্রামের মো. শাহাবুদ্দিন মিয়া (৬০), মো. নজরুল ইসলাম (৫০), মঞ্জু মিয়া (৪০), রেজাউল করিম (২৮), রাশেদুল ইসলাম (২৮), মো. মোকছেদুল ইসলাম (১৮), আবিল হোসেন (১৮), মিন্টু মিয়া (৩৫), মো. লিটন মিয়া (৩৫), মোছা. নিরফুল (৪০), কল্পনা বেগম (২৫), নুর ভানু (৪৫), শিল্পী বেগম (৩৫), মোছা. খোরশেদা বেগম (২৬), ফাতেমা বেগম (১৯) এবং শাবানা খাতুন (২২)।
সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম রেজা জানিয়েছেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের রামুর ঈদগড়ে ফসলি জমির ধান রক্ষা করতে গিয়ে বন্যহাতির আক্রমণের শিকার হয়ে আব্দুর রশিদ, যিনি খুইল্যা মিয়া নামেও পরিচিত, (৫৫) নামের এক কৃষকের মৃত্যু ঘটেছে।
এটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে, উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মইত্যাতলী এলাকায়।
ঈদগড় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন সিকদার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, যখন ধানখেতে বন্যহাতির একটি দল প্রবেশ করে, তখন সেগুলো তাড়াতে যান আব্দুর রশিদ। এই সময় হাতির আক্রমণে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।
জসিম উদ্দিন সিকদার স্বজনদের উদ্ধৃত করে বলেন, প্রতিদিনের মতো সকালে কৃষিকাজে জমিতে গিয়েছিলেন আব্দুর রশিদ এবং তার শ্যালক। এ সময় পাশের বনের থেকে একটি দল বন্যহাতি ধানখেতে চলে আসে। হাতিগুলোকে তাড়াতে গিয়ে আব্দুর রশিদ আক্রমণের শিকার হন। তার শ্যালক পালিয়ে বাঁচলেও আব্দুর রশিদ পালাতে পারেননি। পরে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করেন।
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে ফজলুল হক জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহটি উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করেছে, যা পটুয়াখালীসহ উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার, নদী ও উপকূলীয় জলসীমায় অভিযান পরিচালনার দক্ষতা বৃদ্ধি এবং মানব পাচার প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়।
গত ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচ দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কোর্সের নাম ছিল ‘ব্রাউন ওয়াটার অপারেশন অ্যান্ড অ্যান্টি হিউম্যান ট্রাফিকিং কোর্স-২০২৬’। এটি বিসিজি বেইস অগ্রযাত্রায় প্রশিক্ষণ ঘাঁটিতে বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় অনুষ্ঠিত হয়। এই কোর্সে বাংলাদেশসহ সাতটি দেশের মোট ১২ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো হলো শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, ভারত, কেনিয়া এবং অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশ থেকে এতে নৌবাহিনীর দুজন এবং কোস্টগার্ডের দুজন সদস্যসহ বিভিন্ন দেশের প্রশিক্ষণার্থীরা অংশ নেন।
আন্তর্জাতিক এই প্রশিক্ষণের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। এ সময় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক, বিসিজি বেইস অগ্রযাত্রার কমান্ড্যান্টসহ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী চুরখাই খাল বর্তমানে দখল, ভরাট এবং বর্জ্যের স্তূপের কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। এক সময় এই খালে নৌকা চলাচল করত এবং কৃষকেরা এর পানি দিয়ে জমিতে সেচ দিতেন। বর্তমানে খালটি বিভিন্ন স্থানে বসতবাড়ি এবং ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। কচুরিপানা ও আবর্জনায় ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। তবে প্রশাসন জানিয়েছে, খালটি পুনঃখননের জন্য প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
চুরখাই খাল এক সময় পানির প্রবাহে প্রাণবন্ত ছিল। স্থানীয় কৃষকেরা এই খালের পানি ব্যবহার করে কৃষিকাজ করতেন এবং এটি বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ময়মনসিংহ সদর উপজেলার পাগাড়িয়া নদী থেকে সুতিয়া নদীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকারী এই খাল স্থানীয় কৃষি ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দখল, ভরাট এবং অব্যবস্থাপনার কারণে খালটির অস্তিত্ব হারিয়ে যেতে বসেছে। বিভিন্ন স্থানে খালের জায়গা দখল করে বসতবাড়ি গড়ে উঠেছে এবং ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে কচুরিপানার বিস্তার, যা খালের প্রশস্ততা সংকুচিত করে এবং পানির প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করছে।
বৃষ্টির সময় খালের পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় দুর্ভোগ বাড়ছে। পানি জমে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে এবং কোথাও কোথাও সেই পানি বসতবাড়ি ও কৃষিজমিতে ঢুকে পড়ছে। এর ফলে ফসল নষ্ট হচ্ছে এবং মানুষের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অবৈধ দখল ও ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে খালটির পানি চলাচলের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। আগে খালের পানি কৃষিকাজে ব্যবহার করা যেত এবং মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু এখন খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় সেই সুযোগ আর নেই। বর্ষায় জমে থাকা পানি ফসলের ক্ষতি করছে এবং চলাচলের রাস্তাগুলোও পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।
তাদের দাবি, দ্রুত খালটি পরিষ্কার করে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতে হবে। খালের সীমানা নির্ধারণ করে দুই পাশে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে পানিপ্রবাহ সচল রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এতে বৃষ্টির পানি সহজে নিষ্কাশিত হবে এবং কৃষিজমি জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পাবে, ফলে এলাকার মানুষের দুর্ভোগ কমবে।
খালটি উদ্ধার ও পুনঃখননের দাবিতে সম্প্রতি মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে খালটির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। এতে কৃষিকাজের পাশাপাশি এলাকার পরিবেশ ও পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নতি ঘটবে।
এদিকে প্রশাসন জানিয়েছে, খালটির গতিপথ ফিরিয়ে আনা ও সীমানা চিহ্নিত করতে একাধিকবার জরিপ পরিচালিত হয়েছে। ময়মনসিংহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম বলেন, জরিপের পর চুরখাই খালের আট কিলোমিটার অংশ পুনঃখননের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবটি বর্তমানে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে খালটি পুনঃখননের মাধ্যমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ