বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:১৮ পি.এম
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করেছে, যা পটুয়াখালীসহ উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার, নদী ও উপকূলীয় জলসীমায় অভিযান পরিচালনার দক্ষতা বৃদ্ধি এবং মানব পাচার প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়।
গত ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচ দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কোর্সের নাম ছিল ‘ব্রাউন ওয়াটার অপারেশন অ্যান্ড অ্যান্টি হিউম্যান ট্রাফিকিং কোর্স-২০২৬’। এটি বিসিজি বেইস অগ্রযাত্রায় প্রশিক্ষণ ঘাঁটিতে বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় অনুষ্ঠিত হয়। এই কোর্সে বাংলাদেশসহ সাতটি দেশের মোট ১২ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো হলো শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, ভারত, কেনিয়া এবং অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশ থেকে এতে নৌবাহিনীর দুজন এবং কোস্টগার্ডের দুজন সদস্যসহ বিভিন্ন দেশের প্রশিক্ষণার্থীরা অংশ নেন।
আন্তর্জাতিক এই প্রশিক্ষণের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। এ সময় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক, বিসিজি বেইস অগ্রযাত্রার কমান্ড্যান্টসহ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী চুরখাই খাল বর্তমানে দখল, ভরাট এবং বর্জ্যের স্তূপের কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। এক সময় এই খালে নৌকা চলাচল করত এবং কৃষকেরা এর পানি দিয়ে জমিতে সেচ দিতেন। বর্তমানে খালটি বিভিন্ন স্থানে বসতবাড়ি এবং ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। কচুরিপানা ও আবর্জনায় ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। তবে প্রশাসন জানিয়েছে, খালটি পুনঃখননের জন্য প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
চুরখাই খাল এক সময় পানির প্রবাহে প্রাণবন্ত ছিল। স্থানীয় কৃষকেরা এই খালের পানি ব্যবহার করে কৃষিকাজ করতেন এবং এটি বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ময়মনসিংহ সদর উপজেলার পাগাড়িয়া নদী থেকে সুতিয়া নদীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকারী এই খাল স্থানীয় কৃষি ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দখল, ভরাট এবং অব্যবস্থাপনার কারণে খালটির অস্তিত্ব হারিয়ে যেতে বসেছে। বিভিন্ন স্থানে খালের জায়গা দখল করে বসতবাড়ি গড়ে উঠেছে এবং ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে কচুরিপানার বিস্তার, যা খালের প্রশস্ততা সংকুচিত করে এবং পানির প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করছে।
বৃষ্টির সময় খালের পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় দুর্ভোগ বাড়ছে। পানি জমে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে এবং কোথাও কোথাও সেই পানি বসতবাড়ি ও কৃষিজমিতে ঢুকে পড়ছে। এর ফলে ফসল নষ্ট হচ্ছে এবং মানুষের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অবৈধ দখল ও ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে খালটির পানি চলাচলের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। আগে খালের পানি কৃষিকাজে ব্যবহার করা যেত এবং মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু এখন খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় সেই সুযোগ আর নেই। বর্ষায় জমে থাকা পানি ফসলের ক্ষতি করছে এবং চলাচলের রাস্তাগুলোও পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।
তাদের দাবি, দ্রুত খালটি পরিষ্কার করে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতে হবে। খালের সীমানা নির্ধারণ করে দুই পাশে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে পানিপ্রবাহ সচল রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এতে বৃষ্টির পানি সহজে নিষ্কাশিত হবে এবং কৃষিজমি জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পাবে, ফলে এলাকার মানুষের দুর্ভোগ কমবে।
খালটি উদ্ধার ও পুনঃখননের দাবিতে সম্প্রতি মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে খালটির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। এতে কৃষিকাজের পাশাপাশি এলাকার পরিবেশ ও পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নতি ঘটবে।
এদিকে প্রশাসন জানিয়েছে, খালটির গতিপথ ফিরিয়ে আনা ও সীমানা চিহ্নিত করতে একাধিকবার জরিপ পরিচালিত হয়েছে। ময়মনসিংহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম বলেন, জরিপের পর চুরখাই খালের আট কিলোমিটার অংশ পুনঃখননের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবটি বর্তমানে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে খালটি পুনঃখননের মাধ্যমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিতে গিয়ে বিনা অনুমতিতে নৌমাইনে আঘাত লেগে অন্তত চারটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন লেগেছে। ইরানের সামরিক বাহিনী আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী দাবি করেছিল যে, হরমুজ প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলো থেকে সব মাইন অপসারণ করা হয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) তাদের এক বিবৃতিতে জানায়, গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার হরমুজ প্রণালির দক্ষিণের অননুমোদিত পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় নৌমাইনে আঘাত পায়। এই ঘটনায় জাহাজগুলোতে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন লেগে যায়।
আইআরজিসির দাবি, জাহাজগুলো তাদের রাডার ও নৌচলাচল ব্যবস্থার সব যন্ত্র বন্ধ করে দিয়েছিল এবং আইআরজিসির নৌবাহিনীর সতর্কবার্তাও উপেক্ষা করেছিল। তবে এই ঘটনাগুলো ঠিক কখন ঘটেছে এবং ট্যাংকারগুলো কোন দেশের পতাকাবাহী ছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
আজ বিকেলে ইরানের সেনাবাহিনী জানায়, হরমুজ প্রণালির পূর্বদিকে আরও একটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন লেগেছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনী জানায়, নিয়ন্ত্রিত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবৈধভাবে চলাচল করা ওই ট্যাংকারটি নৌমাইনে আঘাত পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আগুন ধরে যাওয়ায় চলাচলের অক্ষম হয়ে পড়ে।
হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। বিশ্বের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। চলমান সংঘাতের কারণে প্রণালিটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রেখেছে ইরান।
যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। কাতারের মাধ্যমে তেহরানের কাছে পৌঁছানো ওই প্রস্তাবে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং অবরোধ তুলে নেওয়ার প্রস্তাব ছিল। তবে ইরান প্রস্তাবটি নাকচ করে বলেছে, এটা কোনো শান্তি প্রস্তাব নয়, বরং একগুচ্ছ অগ্রহণযোগ্য শর্ত।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানায়। ওই কর্মকর্তা বলেন, কাতার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরানের কাছে নতুন কোনো শান্তি প্রস্তাব দেয়নি। বরং কিছু ধারণা তুলে ধরেছে, যেগুলোকে তেহরান অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন অঞ্চলে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ বর্তমানে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং দুর্বল হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে ছত্রিশগড় ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবস্থান করছে। এটি উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে। একইসঙ্গে দক্ষিণ আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় নতুন একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে।
এ সকল পরিস্থিতির কারণে আগামী কয়েকদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে আবহাওয়া দফতরের পক্ষ থেকে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় প্রকাশিত নিয়মিত আবহাওয়া বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি কিছু অঞ্চলে মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণও হতে পারে। এ সময় সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমে যেতে পারে।
পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। তবে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একইসঙ্গে বর্ধিত ৫ দিনে তাপমাত্রা কমতে পারে বলেও জানানো হয়েছে আবহাওয়া দফতরের পক্ষ থেকে।
বর্ধিত ৫ (পাঁচ) দিনের আবহাওয়ার অবস্থাঃ তাপমাত্রা কমতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে গভীর নলকূপ খননস্থল থেকে বের হওয়া গ্যাসে আগুন জ্বলছে তিন দিন ধরে। বৃহস্পতিবার আগুনের তীব্রতা আগের দুই দিনের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। আগুনের সঙ্গে কাঁদামাটি ছিটকে বের হচ্ছে।
এই ঘটনার ফলে ইনানীর দুটি ওয়ার্ডের প্রায় ৪০০ পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তার জন্য ঘটনাস্থলের চারপাশে ২০০ মিটার এলাকাজুড়ে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। লাল পতাকা টাঙানো হয়েছে এবং কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, গ্যাসের আগুনের কারণে দুই দিন বন্ধ থাকার পর বিকল্প ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করেছে পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ। এতে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ গ্রাহক বিদ্যুৎ পাচ্ছেন। তবে গ্যাস নির্গমন ও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) তিন সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল। গ্যাস শনাক্ত করতে বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষা চালানো হলেও আগুনের তীব্র তাপের কারণে মূল নির্গমনস্থল থেকে গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ইনানীর শফির বিল ও সিকদার বাজার এলাকার আশপাশে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, গ্যাসের নির্গমন আরও বেড়েছে। তাঁরা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল আজিজ বলেন, ‘গত তিন দিন ধরে গ্যাসের আগুন জ্বলছে। আগুনের সঙ্গে ওই স্থান থেকে কাদামাটির মতো কিছু বের হচ্ছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মানুষের মধ্যে ভয় ও উদ্বেগ বেড়েছে। আমরা দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চাই, যাতে এলাকার মানুষ নিরাপদে থাকতে পারেন।’
স্থানীয় বাসিন্দা হাবীবুর রহমান জানান, দুই দিন পর এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে। তবে গ্যাস নির্গমন ও আগুন জ্বলার ঘটনায় আতঙ্ক কাটেনি। বরং গ্যাস আরও দ্রুতগতিতে বের হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও বাপেক্সের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনাস্থলের আশপাশে প্রায় ২০০ মিটার এলাকাজুড়ে সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত করা হয়েছে। এখন আমাদের একটাই দাবি, দ্রুত গ্যাস নির্গমন ও আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে এলাকাবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।’
গ্যাসের আগুনের ঝুঁকি এড়াতে প্রশাসন ঘটনাস্থল থেকে ২০০ মিটার পর্যন্ত এলাকায় মানুষের চলাচল সীমিত করেছে। সড়কসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থানে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়েছে এবং টাঙানো হয়েছে লাল পতাকা। ফায়ার সার্ভিস, ইনানী পুলিশ ফাঁড়ি, উখিয়া থানা-পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে রয়েছেন।
উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শামশুল আলম জানান, তাঁর ওয়ার্ডে বড় ইনানী ও ছোট ইনানী নামে দুটি গ্রাম রয়েছে। ছোট ইনানী গ্রামে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে। সেখানে প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০টি পরিবারের বসবাস। সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণে এসব পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।
শামশুল আলম বলেন, ঢাকায় থেকে আসা বাপেক্সের প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, গ্যাস যেকোনো সময় যেকোনো স্থান থেকে বেরিয়ে আসতে পারে। এ কারণে আপাতত নির্গমনের স্থানটি বন্ধ করা হচ্ছে না। বিষয়টি পর্যালোচনা করে কীভাবে নিরাপদে গ্যাস নির্গমন বন্ধ করা যায়, তা নির্ধারণের জন্য বাইরের বিশেষজ্ঞ দল আনার বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে।
জালিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জাকির হোসেন বলেন, ‘গত তিন দিন ধরে গ্যাসের আগুন জ্বলছে। এতে আশপাশের প্রায় ৪০০ পরিবারের মানুষ চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আমরা আশঙ্কা করছি। এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’
গত দুই দিনের মতো বৃহস্পতিবারও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বাপেক্সের তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল। ব্যবস্থাপক ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের দলনেতা এস এম নাফিকুন আরহামের নেতৃত্বে দলটি ঘটনাস্থলে যায়।
বাপেক্সের সহকারী ব্যবস্থাপক ইমামুল ইসলাম রোকন জানান, গ্যাস শনাক্ত করতে ডিটেক্টর নিয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে গেছেন। বাপেক্সের প্রোডাকশন ফিল্ডের একটি দলও আশপাশের অন্য কোনো স্থান দিয়ে গ্যাস বের হচ্ছে কি না, তা শনাক্ত করার চেষ্টা করেছে। তবে আগুন জ্বলতে থাকায় মূল নির্গমনস্থলে ডিটেক্টর দিয়ে গ্যাস শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। আশপাশের বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষা করে অন্য কোথাও গ্যাস নির্গমনের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
ইমামুল ইসলাম রোকন আরও বলেন, আগুনের তীব্র তাপের কারণে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি গিয়ে গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রায় ২০ থেকে ২৫ ফুট দূর থেকেও প্রচণ্ড তাপ অনুভূত হচ্ছে। এ অবস্থায় আপাতত অপেক্ষা করা ছাড়া তাঁদের আর কোনো উপায় নেই। তবে উপজেলা প্রশাসনকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে গ্যাসের আগুনের কারণে দুই দিন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পর বিকল্প ব্যবস্থায় প্রায় ৩ হাজার ৮০০ গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করেছে পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ। তবে গ্যাস নির্গমন ও আগুন বন্ধ না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ কাটেনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ