ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মসজিদে আব্দুর রহমানের জানাজা, বাইরে অশ্রুসিক্ত সুজিত-ইন্দ্রজিতসহ স্বজনরা


মসজিদে আব্দুর রহমানের জানাজা, বাইরে অশ্রুসিক্ত সুজিত-ইন্দ্রজিতসহ স্বজনরা

কটিয়াদীর কলামহলা দরগাহ জামে মসজিদের ভেতরে জানাজার প্রস্তুতি চলছে। মসজিদের সামনে কিছু সনাতন ধর্মাবলম্বী দাঁড়িয়ে আছেন। 

মসজিদের অভ্যন্তরে প্রবীণ ব্যবসায়ী ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রহমানের (৯৫) জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাইরে দাড়িয়ে আছে ইন্দ্রজিত, সুজিত, মধুসূদন এবং বিপ্লব কুমার সাহা।

কারো চোখ অশ্রুসিক্ত, আবার কারো মুখাবয়বে শোকের ছাপ পরিষ্কার। প্রিয় একজনকে শেষ বিদায় জানাতে তাদের উপস্থিতি।

আরও পড়ুন: উখিয়ায় ১৫ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ

এমন এক দৃশ্য দেখা গেছে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌর এলাকার কলামহলা দরগাহ জামে মসজিদে।

মৃত আব্দুর রহমান কটিয়াদী পৌর এলাকার পূর্বপাড়া মহল্লার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি একজন প্রবীণ ব্যবসায়ী এবং সাবেক ইউপি সদস্য ছিলেন। এছাড়াও, আব্দুর রহমান দীর্ঘকাল ধরে স্থানীয় দরগাহ জামে মসজিদের কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সোমবার (১৭ আগস্ট) দিবাগত রাতে বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন। পরদিন (মঙ্গলবার) দুপুরে জোহরের নামাজের পর তার জানাজা সম্পন্ন হয়।

পরে তার দেহ মসজিদের পাশে অবস্থিত সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

আব্দুর রহমানের জানাজায় হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এই সময় মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন পৌর এলাকার বাসিন্দা শিক্ষক ইন্দ্রজিত কুমার সাহা, সুজিত কুমার সাহা, মধুসূদন সাহা এবং পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর বিপ্লব কুমার সাহা।

আরও পড়ুন: তাহিরপুরে প্রবাসীর স্ত্রী ও পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে উধাও নাজমুল, পরিবার উদ্বিগ্ন

শিক্ষক ইন্দ্রজিত কুমার সাহা বলেন, ‘মরহুম আব্দুর রহমান এলাকার প্রবীণ ব্যবসায়ী ছিলেন। আমার প্রয়াত বাবার সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক ছিল। তার মৃত্যুর সংবাদ আমাদের মতো অন্যদেরকেও শোকাহত করেছে। তাই আমরা শেষ বিদায়ের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য এখানে এসেছি।’

শিক্ষক সুজিত কুমার সাহা বলেন, ‘আব্দুর রহমান খুবই বিনয়ী মানুষ ছিলেন। আমাদের পরিবারের সঙ্গে তার অনেক আগে থেকেই গভীর সম্পর্ক ছিল। তার শেষ বিদায়ের সময় আমাদের উপস্থিতি এবং আমরা তার আত্মার শান্তি কামনা করছি।’

সাবেক স্থানীয় পৌর ওয়ার্ড কাউন্সিলর বিপ্লব কুমার সাহা বলেন, ‘এলকার প্রতিটি মৃত্যু আমাকে শোকাহত করে। আমি সবসময় চেষ্টা করি, কেউ মারা গেলে সেখানে উপস্থিত হতে। ধর্ম কখনো কারো সম্পর্ক আলাদা করে না। মরহুম ব্যক্তি খুবই সাদা মনের মানুষ ছিলেন। তার মৃত্যু অন্যান্যদের মতো আমাকেও শোকাহত করেছে।

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাউখালীতে কাঠের ডাসার আঘাতে মায়ের মৃত্যু, ছেলে গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কাউখালী প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৪৬ পি.এম


কাউখালীতে কাঠের ডাসার আঘাতে মায়ের মৃত্যু, ছেলে গ্রেপ্তার

পিরোজপুরের কাউখালীতে, উপজেলার শিয়ালকাঠী ইউনিয়নে ভাত রান্না নিয়ে ঝগড়ার ফলে কাঠের ডাসা দিয়ে মাথায় আঘাতের পর কানন বালা (৬৫) নামের এক বৃদ্ধ মহিলার মৃত্যু ঘটে। এই ঘটনায় নিহতের একমাত্র ছেলে সুজন বালা (৩০) কে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টায় উপজেলার শিয়ালকাঠী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত সুনীল বালার স্ত্রী কানন বালার সাথে তার ছেলে সুজন বালার ভাত রান্না নিয়ে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। তাদের মধ্যে ঝগড়া প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলতে থাকে এবং এক পর্যায়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে সুজন বালা ক্ষিপ্ত হয়ে দরজায় ব্যবহৃত কাঠের ডাসা দিয়ে মায়ের মাথায় আঘাত করেন।

এরপর, ভোরে ঘুম থেকে উঠে সুজন তার মাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরবর্তীতে আশপাশের লোকজন ও মামাদের সহযোগিতায় কানন বালাকে কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কানন বালার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় নিহত কানন বালার ভাই প্রদীপ মিস্ত্রী বাদী হয়ে সোমবার (১৭ আগস্ট) কাউখালী থানায় ভাগিনা সুজন বালাকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে ওইদিন গভীর রাতে নিজ বাড়ি থেকে সুজন বালাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। কাউখালী থানার ওসি (তদন্ত) এবাদ আলী জানান, নিহত কানন বালার ভাই থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলার পর সোমবার রাতে আসামি সুজন বালাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নোয়াখালীতে ব্রাককর্মী-শিশুসহ ৩ মরদেহ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নোয়াখালী প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৪৭ পি.এম


নোয়াখালীতে ব্রাককর্মী-শিশুসহ ৩ মরদেহ উদ্ধার

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে পৃথক ঘটনায় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এদের মধ্যে রয়েছে এক ব্র্যাককর্মী, এক গৃহবধূ এবং এক শিশু। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক সময়ে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ব্র্যাকের কর্মসূচি সহকারী-পিএ দাউদুল অফিসের পাশে একটি কক্ষে থাকতেন। সোমবার রাতে তিনি ব্রাকের ম্যানেজরাকে জানান যে তার শরীরটা ভালো লাগছেনা। তাই তিনি আজকে গেস্ট রুমে থাকবেন। পরে তিনি গেস্ট রুমের চাবি নিয়ে সেখানে রাতে যেতে যান। সকালে, ৯টার দিকে অফিসের পিয়ন চাবির জন্য গেস্ট রুমে গেলে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। তবে পুলিশ ও নিহতের স্বজনেরা আত্মহত্যার কোনো কারণ জানাতে পারেননি।

নিহত দাউদুল ফেনী সদর উপজেলার এলাহীগঞ্জ বাজার এলাকার আবুল কালামের ছেলে। তিনি সুবর্ণচরে চরজব্বার ইউনিয়নে ব্র্যাকের কাঞ্চন বাজার শাখায় কর্মসূচি সহকারী-পিএ হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

অন্যদিকে, চরজব্বর ইউনিয়নের জাহাজমারা গ্রামের রিপনের স্ত্রী তামান্না আক্তার (২৩) নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দেন। পরিবার জানালে, তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠান। তবে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় পৌঁছালে তার মৃত্যু ঘটে। পরে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে গেলে পুলিশ সেখান থেকে লাশটি উদ্ধার করে।

এদিকে, চরআমানউল্যাহ ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের জসিম উদ্দিনের ছেলে হামিম (৩) বসতবাড়ির পুকুরে পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়।

চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান বলেন, দাউদুল ইসলাম ও তামান্না আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষ করার পর ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এসব ঘটনায় পৃথক অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। শিশুটির মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চবিতে আবাসিক হল থেকে টিএসসি নির্মাণ, মাস্টারপ্ল্যানে ৭২৭ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৫০ পি.এম


চবিতে আবাসিক হল থেকে টিএসসি নির্মাণ, মাস্টারপ্ল্যানে ৭২৭ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব

 চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ৫০ বছর মেয়াদি মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় একাডেমিক, অবকাঠামো ও গবেষণা সক্ষমতা বাড়াতে প্রায় ৭২৭ কোটি টাকার দু’টি বড় প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে।

এর মধ্যে ৬৭৮ কোটি ১৪ লাখ ৫৪ হাজার টাকার ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধি’ প্রকল্পটি বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবেচনাধীন রয়েছে। এছাড়াও ৪৯ কোটি ৩৩ লাখ ৬৭ হাজার টাকার ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে টিচার-স্টুডেন্টস কমপ্লেক্স (টিএসসি) প্রতিষ্ঠাকরণ’ প্রকল্পটি জাতীয় পরিকল্পনা কমিশনে রয়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. আলতাফ-উল-আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।

গত ৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট অধিবেশনে পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তর কর্তৃক প্রকাশিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, দু’টি প্রকল্পের মোট প্রস্তাবিত ব্যয় ৭২৭ কোটি ৪৮ লাখ ২১ হাজার টাকা।

এর মধ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বরাদ্দ প্রায় ৮২ কোটি ৮ lakh ৫৩ হাজার টাকা। তবে এই অর্থ পুরো প্রকল্পের ব্যয় নয়। সংশ্লিষ্ট দপ্তর জানিয়েছে, প্রকল্প দু’টি আগামী পাঁচ বছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

৬৭৮ কোটি ১৪ লাখ ৫৪ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রস্তাবিত ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক প্রকল্পটির আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন, গবেষণা অবকাঠামো, আবাসিক সুবিধা এবং ক্যাম্পাসের মৌলিক অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্পটির সবচেয়ে বড় ব্যয়ের খাতগুলোর মধ্যে নতুন কয়েকটি একাডেমিক ভবন নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে ২য় বিজ্ঞান অনুষদ ভবন ও ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ ভবন নির্মাণে প্রস্তাবিত ব্যয় ১৩৭ কোটি ৫৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। একই পরিমাণ অর্থ, ১৩৭ কোটি ৫৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, রাখা হয়েছে ২য় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের জন্য। ২য় ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ ভবন নির্মাণে প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৩ কোটি ৫৭ লাখ ২৪ হাজার টাকা।

এছাড়া ছাত্রীদের জন্য একটি ১০ তলা বিশিষ্ট আবাসিক হল নির্মাণে ৯১ কোটি ৪১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। ১০ তলা প্রশাসনিক (এনেক্স) ও সিনেট ভবন নির্মাণে ৩৬ কোটি ৫৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ছাত্রীদের হল প্রভোস্ট ও হাউস টিউটরদের জন্য ৫ তলা বিশিষ্ট একটি আবাসিক ভবন নির্মাণের জন্য ৮ কোটি ৯৮ লাখ ৪৮ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তাছাড়া মাস্টারদা সূর্যসেন হলের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৮৫ লাখ ২৯ হাজার টাকা।

গবেষণা সক্ষমতা বাড়াতেও রয়েছে বড় বিনিয়োগ। বিভিন্ন গবেষণা কেন্দ্র ও বিশেষায়িত অবকাঠামো নির্মাণে ৪৯ কোটি ২৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ৯ তলা বিশিষ্ট একটি সেন্টার ফর এক্সিলেন্স ভবন এবং ১৫ কোটি ৬২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ৫ তলা বিশিষ্ট একটি সেন্টার ফর সায়েন্টিফিক এন্ড এডভান্সড বায়োলজিকাল রিসার্চ ভবন নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

পাশাপাশি ল্যাবরেটরি যন্ত্রপাতি কেনায় ১২ কোটি টাকা এবং রাসায়নিক সংগ্রহে ১০ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়াও জীববিজ্ঞান অনুষদের গবেষণার জন্য অ্যানিমেল হাউস নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৩৭ লাখ ৬৮ হাজার টাকা।

প্রকল্পে একাডেমিক ভবনের পাশাপাশি ক্যাম্পাসের মৌলিক অবকাঠামোও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ সড়ক নির্মাণ ও প্রশস্তকরণে ১৬ কোটি ৫১ লাখ টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন স্থাপনে ২১ কোটি ৬৪ লাখ ৫৮ হাজার টাকা, পানি সরবরাহ লাইন সংস্থাপনে ২ কোটি ২৭ লাখ ৭১ হাজার টাকার এবং গ্যাস পাইপলাইন স্থাপনে ১ কোটি ২৯ লাখ ৫৭ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ভূগর্ভস্থ পানি রিজার্ভার নির্মাণে প্রায় ২ কোটি ২৫ লাখ ২৪ হাজার টাকা এবং অন্যান্য ইউটিলিটি অবকাঠামোর জন্য চূড়ান্ত ব্যয়ের জন্য বাকি টাকা বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে এই ৬৭৮ কোটি ১৪ লাখ টাকার প্রকল্পটি বর্তমানে বাস্তবায়নের পর্যায়ে যায়নি। পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. আলতাফ-উল-আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পর্যবেক্ষণাধীন রয়েছে। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধি’ প্রকল্পটি বর্তমানে পদক্ষেপ গ্রহণের অপেক্ষায় রয়েছে।

অন্যদিকে, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে টিচার-স্টুডেন্টস কমপ্লেক্স (টিএসসি) প্রতিষ্ঠাকরণ’ প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৯ কোটি ৩৩ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হচ্ছে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা, পাঠ ও গবেষণার পরিবেশ, প্রকাশনা, সাংস্কৃতিক ও কো-কারিকুলার কার্যক্রমসহ নানা সুবিধা নিশ্চিত করা।

এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় ব্যয় টিএসসি নির্মাণে। পাঁচ তলা ভিত্তির ওপর চার তলা ভবন নির্মাণে প্রস্তাব করা হয়েছে ৪৬ কোটি ৮৬ লাখ ১৯ হাজার টাকা। এর বাইরে কনসালটেন্সি, বইপত্র ও সাময়িকী, আসবাবপত্র, অফিস সরঞ্জাম, প্রচার-প্রকাশনা এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ের জন্য ধরা হয়েছে বাকি ২ কোটি ৪৮ লাখ ৪৮ হাজার টাকা।

চবির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, টিএসসি প্রকল্পটি চবি থেকে প্রস্তাবিত হয়ে ইউজিসিতে যায়। ইউজিসির অনুমোদনের পর এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যায়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকেও অনুমোদন পাওয়ার পর প্রকল্পটি বর্তমানে জাতীয় পরিকল্পনা কমিশনে রয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদন পাওয়ার পর প্রকল্পটি প্রজেক্ট ইভ্যালুয়েশন কমিটির (পিইসি) মাধ্যমে একনেকের অনুমোদনের জন্য যাবে। একনেকের অনুমোদনের পরই সেই জন্য সরকারি বাজেট বরাদ্দ দেয়া হবে।

প্রায় ৭২৭ কোটি টাকার দু’টি প্রকল্পের পরিকল্পনা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ অবকাঠামোগত রূপান্তরের বড় চিত্র তুলে ধরছে। একদিকে নতুন অনুষদ ভবন, আবাসিক হল, গবেষণা কেন্দ্র ও ইউটিলিটি অবকাঠামো, অন্যদিকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য টিএসসি—সব মিলিয়ে বদলে যেতে পারে চবি ক্যাম্পাসের অবকাঠামোগত চিত্র।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, ‘অতিশীঘ্রই উক্ত দু’টি প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদনের বিষয়ে আমি আশাবাদী এবং এই বিষয়ে আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষদ্বয়ের সুদৃষ্টি কামনা করছি। উক্ত দু’টি প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত, একাডেমিক এবং গবেষণা প্রতিবন্ধকতাসমূহ বহুলাংশে নিরসন হবে।’

শুধু তাই নয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার আরও কিছু প্রকল্প প্রস্তাব ইউজিসিতে পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান।

উপাচার্য বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে অতি সম্প্রতি প্রায় ৩০০০ কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দ ধরে একাধিক প্রকল্প প্রস্তাব ইউজিসিতে পাঠানো হবে।’

এই প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ছাত্রদের জন্য ৫টি এবং ছাত্রীদের জন্য ৫টি করে (প্রতিটি ১০ তলা বিশিষ্ট) আবাসিক হল নির্মাণ, বিদেশী শিক্ষার্থী ও পিএইচডি-এমফিল গবেষকদের জন্য ১টি হল নির্মাণ, ৪টি ১০ তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন নির্মাণ, ব্লু-ইকোনমি রিসার্চ সেন্টার নির্মাণ, কেন্দ্রীয় জাদুঘর ভবন নির্মাণ, গ্রন্থাগারের ২য় ভবন নির্মাণ।

এছাড়া রয়েছে স্টেডিয়াম ও সুইমিং পুল নির্মাণ, রসায়ন বিভাগের এডভান্সড রিসার্চ ল্যাব নির্মাণ, এডভান্স্ড রিসার্চ সেন্টার ফর ম্যাথমেটিক্স ভবন নির্মাণ, মডার্ন ল্যাংগুয়েজ ভবন নির্মাণ, জৈব প্রযুক্তি ও জিন প্রকৌশল ইনস্টিটিউট (জিনোম সিক্যুয়েন্সিং এবং রেফারেল সেন্টারসহ) ভবন নির্মাণ।

শুধু তা-ই নয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাবনাও রয়েছে সেখানে। পাশাপাশি ডে-কেয়ার সেন্টার নির্মাণ, কয়েকটি বহুতল অফিস ভবন নির্মাণ, টিচার্স ডরমেটরি ভবন নির্মাণ, সোলার লাইটিংসহ ওয়াকওয়ে নির্মাণ, ফুড কোর্ট ও ওয়েট মার্কেট নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঝালকাঠিতে উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৫২ পি.এম


ঝালকাঠিতে উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

ঝালকাঠি, ১৮ আগস্ট, ২০২৬ : জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন।

সভায় জেলার চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও জনসেবার মানোন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এসময় আলোচনা হয় জেলার বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ও সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার, বাসন্ডা সেতু নির্মাণের অগ্রগতি, খাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম এবং কুকুরকে র‌্যাবিসের টিকাসহ প্রয়োজনীয় বিষয়ের পদক্ষেপ নিয়ে।

মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে চলমান জাটকা সংরক্ষণ অভিযান আরও কার্যকর করার বিষয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ সভায় উপস্থিত ছিলেন, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক জুলিয়া সুকায়না, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল এস এম বায়েজিদ ইবনে আকবর, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. তৌহিদুল ইসলাম, ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাসুম ইফতেখার, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমান উল্লাহ সরকার, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নিরোধ বরণ জয়ধর, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. এনামুল হক, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেগুফতা মেহনাজ, রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরি, নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রতীক কুমার কুন্ডু এবং জেলা তথ্য কর্মকর্তা লেলিন বালাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান ও প্রতিনিধিদের উপস্থিতি ছিল।

জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার উপর জোর দেন। একই সঙ্গে চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গুণগত মান নিশ্চিত করার এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সেবা প্রদান করতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে আরও আন্তরিক ও সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%