০৪:২৭ পি.এম
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অকশন বিভাগের ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে স্বল্পমূল্যে আইফোন, ল্যাপটপ ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স পণ্য সরবরাহের প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৩১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে একটি প্রতারক চক্রের মূলহোতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
মঙ্গলবার সিআইডির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. ইব্রাহিম হোসেন ওরফে রবিন শিকদার (২৮)। সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) একটি দল সোমবার দিবাগত রাতে রাজধানীর ভাটারা ও বাড্ডা এলাকায় অভিযান চালিয়ে উত্তর বাড্ডার কমিশনার গলি এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একটি আইফোনসহ পাঁচটি মোবাইল ফোন ও সাতটি সিম কার্ড জব্দ করা হয়।
সিআইডি জানায়, মামলার বাদী ঢাকার একটি বেসরকারি জীবনবীমা প্রতিষ্ঠানের কর্মী। প্রতারক চক্রের সদস্যরা প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের বিমানবন্দরের অকশন বিভাগের কর্মকর্তা এবং পরে অপারেশন ম্যানেজার হিসেবে পরিচয় দেয়। তারা দাবি করে, বিমানবন্দরের অকশনে জব্দ বা অব্যবহৃত আইফোন, স্যামসাং মোবাইল, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন মূল্যবান ইলেকট্রনিক্স পণ্য বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে বিক্রি করা হবে।
আরও পড়ুন: সুরঞ্জিতের নেতৃত্বে অভিজ্ঞতা নিয়ে আসিফ নজরুল ও সালাহউদ্দিন আহমদের মতভেদ
ভুক্তভোগীর আস্থা অর্জনের জন্য চক্রটি আরও দাবি করে, তাদের প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী জীবনবীমার পলিসি নিতে আগ্রহী। পরে ব্যবসার বৈধতা প্রমাণের নামে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের জাল অনুমোদনপত্র, কথিত সরকারি নথি, সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের (সিএএবি) ভুয়া কাগজপত্র এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সরবরাহ করা হয়।
এসব নথিতে বিশ্বাস করে ভুক্তভোগী ১১০টি আইফোন, ৭০টি স্যামসাং মোবাইল ও ৫৪৩টি ল্যাপটপ কেনার জন্য দুইটি ব্যাংক হিসাব এবং তিনটি মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন ধাপে মোট ৩০ লাখ ৮৭ হাজার টাকা পাঠান। তবে টাকা নেওয়ার পর কোনো পণ্য সরবরাহ না করে প্রতারক চক্র যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
এ ঘটনায় গত ২২ জুন পল্টন থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা হয়। পরে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার। প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইব্রাহিম হোসেন ওরফে রবিন শিকদারের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে সিআইডি জানতে পেরেছে, সংঘবদ্ধ চক্রটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম ও জাল নথিপত্র ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জন করত। এরপর বিমানবন্দরের অকশনে কম দামে মূল্যবান ইলেকট্রনিক্স পণ্য দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিত।
আরও পড়ুন: মেঘনা নদীতে নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলছে মা ইলিশ নিধনের মহোৎসব
সিআইডি আরও জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি ভাটারা থানার একটি ডিজিটাল প্রতারণা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি। তাঁর বিরুদ্ধে আরও কোনো মামলা বা অভিযোগ রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
একই সঙ্গে সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে অস্বাভাবিক কম দামে পণ্য বিক্রির প্রলোভনে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সিআইডি। কোনো ধরনের বিনিয়োগ বা আর্থিক লেনদেনের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই এবং সন্দেহজনক ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত থানা বা সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারে অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন