বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:২৩ এম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে বৈঠকের পর, নয়াদিল্লি এবং তেহরানের মধ্যে নতুন বাণিজ্য চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে গুঞ্জনকে নাকচ করা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সতর্ক করেছেন যে, যদি কোনো দেশ ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেতে তেহরানকে সহায়তা করে, তবে সেই দেশের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।
এ তথ্য বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ‘দ্য ব্রায়ান কিলমিড শো’-তে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, ভারতের সাথে ইরানের বাণিজ্য চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না। তিনি বলেন, "প্রতিটি দেশই নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে।" তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের সাথে বিভিন্ন দেশের যোগাযোগ রয়েছে, কিন্তু ওয়াশিংটনও ইরানি সরকারের সাথে আলোচনা করেছে।
এ প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্বের সতর্কবার্তাও পুনর্ব্যক্ত করেন রুবিও। তিনি বলেন, "কোনো দেশেরই ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেতে সহায়তা করা উচিত নয়।" তিনি আরও বলেন, যদি কোনো রাষ্ট্র তেহরানকে অর্থ উপার্জনের সুযোগ দেয় বা সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নে সহায়তা করে, তাহলে ওয়াশিংটনের জন্য ওই রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা প্রয়োজন হয়ে পড়বে।
রুবিও বলেন, "কোনো দেশেরই উচিত নয় ইরানকে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্য করা।" তিনি সতর্ক করেন যে, যদি কোনো দেশ তা করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তাদের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ করতে হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য ওয়াশিংটন মূলত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ব্যবহার করছে। তবে পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকারও যুক্তরাষ্ট্র সংরক্ষণ করে রেখেছে।
এদিকে, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা ছয় মাসে গড়ানোর প্রেক্ষাপটে, ট্রাম্প মার্কিন বাহিনীর রাত্রিকালীন হামলার কথা স্বীকার করে আরও হামলার হুমকি দিয়েছেন। এর প্রতিক্রিয়ায়, ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মহসিন রেজাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে দাবি করেন যে, তাদের নতুন কৌশল ওয়াশিংটনের ভিত্তিকে চূর্ণ করে দেবে। সূত্র : এনডিটিভি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের বঙ্গোপসাগর উপকূলে মাছ ধরার একটি ট্রলার ডুবে ফয়েজ আহমেদ ও সাইফুল ইসলাম নামের দুই জেলের মৃত্যু ঘটেছে। এই ঘটনায় আরও দুই জেলে, যাদের নাম নুরুল আলম ও মুহিব উল্লাহ, নিখোঁজ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভোরে কক্সবাজারের নাজিরারটেক উপকূলে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত জেলেদের সকলের বাড়ি কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায়।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে সাগরে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে কয়েকজন জেলে রওনা হন। বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে ট্রলারটি নাজিরারটেক উপকূলের নিকটবর্তী পৌঁছালে ঝড়ের কারণে উল্টে যায়।
পরে স্থানীয় জেলেরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ফয়েজ আহমেদ ও সাইফুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করেন। এই ঘটনায় নিখোঁজ থাকা নুরুল আলম ও মুহিব উল্লাহকে উদ্ধারের জন্য স্থানীয় জেলেরা তৎপরতা চালাচ্ছেন।
তবে দুর্ঘটনার সময় ট্রলারটিতে মোট কতজন জেলে উপস্থিত ছিলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে অসাধারণ বোলিং প্রদর্শন করেছেন। কেন্টের প্রতিনিধিত্ব করে তিনি পর পর দুই বলে দুই উইকেট নিয়েছেন। তার বোলিং দক্ষতার কারণে প্রথম দিনের শেষে প্রতিপক্ষ উস্টারশায়ার ২ উইকেটে ৮০ রান সংগ্রহ করেছে।
ক্যান্টারবারিতে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং শুরু করে কেন্ট। তারা প্রথম ইনিংসে সব উইকেট হারিয়ে ২৩৮ রানে থামে। ড্যানিয়েল বেল-ড্রামন্ড সর্বোচ্চ ৫২ রান করেন। এদিন হাসান মাহমুদও ব্যাট হাতে অপরাজিত ছিলেন, তিনি ৬ বলে ৪ রান করেন। উস্টারশায়ারের টম টেলর ৩ উইকেট নেন।
উস্টারশায়ারের দুই ওপেনার ড্যানিয়েল লেটগান ও জ্যাক লিব্বি দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু ষষ্ঠ ওভারে বল হাতে এসে ম্যাচের পরিস্থিতি পাল্টে দেন হাসান। তিনি পর পর দুই বলে দুই উইকেট দখল করেন।
প্রথমে একটি দুর্দান্ত ডেলিভারিতে জ্যাক লিব্বির স্টাম্প উড়িয়ে দেন হাসান। পরের বলেই রেহান এডভালথকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন এই টাইগার পেসার। এরপর কেন্ট আর কোনো উইকেট নিতে পারেনি। দিনের শেষে উস্টারশায়ারের স্কোর ২ উইকেটে ৮০ রান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেপালের হিমালয়ের কোলে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বন্যা ও কাদা-পাথরের ধস বিশ্বব্যাপী নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তিব্বত সীমান্তের ল্যাংটাং অঞ্চলে হিমবাহের ধস অথবা দ্রুত পাহাড়ি ঢলের কারণে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তবে ভৌগোলিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নেপালের এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় সীমান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ভারতের জন্য এটি একটি গুরুতর সতর্কবার্তা। পাহাড়ি ঢল এবং নদীগুলোর জলীয় গতিপ্রকৃতি পর্যালোচনা করলে বোঝা যায়, নেপালের পাহাড়ি ঢল ভারতের সমতল ভূমির জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
ভৌগোলিক দিক থেকে নেপাল ও ভারতের সম্পর্ক নদীকেন্দ্রিক। নেপালে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ছয় হাজারের বেশি নদী ও পাহাড়ি ঝরনা রয়েছে, যার বেশির ভাগই দক্ষিণে ভারতের দিকে প্রবাহিত হয়ে গঙ্গা নদীতে মিশছে। কোশী, গণ্ডক, ঘাগরা এবং মহাকালী নদী উভয় দেশের সীমানা অতিক্রমকারী প্রধান নদীগুলোর মধ্যে অন্যতম। এছাড়া শিওয়ালিক বা চুরে পর্বতমালা থেকে উৎসারিত বাগমাটি, কমলা বা রাপ্তির মতো ছোট নদীগুলোও অত্যন্ত খাড়া পাহাড়ি পথ বেয়ে নেমে আসে। বর্ষাকালে এগুলো অতি দ্রুত এবং ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে। আন্তর্জাতিক সমন্বিত পর্বত উন্নয়ন কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞদের মতে, সাত থেকে নয়টি বড় নদী সরাসরি নেপাল থেকে ভারতের সমতল ভূমিতে প্রবেশ করে, যা ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর বন্যার মূল উৎস।
এই ভৌগোলিক কাঠামোর কারণে ভারতীয় রাজ্যগুলোর মধ্যে বিহার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভারতের সবচেয়ে বেশি বন্যাপ্রবণ এই রাজ্যের মোট ভূখণ্ডের তিন-চতুর্থাংশই প্লাবিত হয় নেপাল থেকে আসা নদীগুলোর কারণে। বিশেষ করে বিহারের দুঃখ নামে পরিচিত কোশী নদী প্রতি বছর বিশাল পলি ও পানি বহন করে নিয়ে আসে। শুধু বিহারই নয়, পার্শ্ববর্তী উত্তর প্রদেশের পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলো, যেমন গোলকপুর, বাহরাইচ কিংবা লাখিমপুর খেরিও ঘাগরা ও রাপ্তি নদীর কারণে নিয়মিত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উত্তরাখণ্ড ও উত্তরবঙ্গও একই ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
নেপালের ভারী বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক বিপর্যয় কীভাবে ভারতে বন্যায় রূপ নেয়, তা তিনটি ধাপে ঘটে। প্রথমত, হিমালয় পর্বতমালার নিচু অংশে অতিবৃষ্টির সৃষ্টি হয়। দ্বিতীয়ত, নদীর পানির গতিবেগ পর্বত অতিক্রম করে যখন সমতলে পৌঁছায়, তখন নদীগুলো গতিপথ পরিবর্তন করে পলি ছড়িয়ে দেয়। তৃতীয়ত, এই বিপুল পরিমাণ পানি যখন ভারতের সীমানায় প্রবেশ করে, তখন ভারতের স্থানীয় বৃষ্টিপাত, গঙ্গা নদীর পানির উচ্চতা এবং দুর্বল বাঁধ বা অপরিকল্পিত অবকাঠামোর কারণে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করে।
২০০৮ সালে কোশী নদীর ভয়াবহ ট্র্যাজেডি তার বড় প্রমাণ। সে সময় নেপালের বৃষ্টিপাত বা নদীর পানি ক্ষমতার অতিরিক্ত ছিল না বরং পুরনো ও রক্ষণাবেক্ষণহীন বাঁধ ভেঙে যাওয়ার কারণেই ভারতে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেছিল। অর্থাৎ, সীমান্ত পর্যন্ত পানির গতি নির্ধারণ করে নেপালের প্রকৃতি, কিন্তু ভারতে তা কতটা ধ্বংসাত্মক হবে তা অনেকাংশে নির্ভর করে ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোর ওপর।
সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি বড় ভুল ধারণা রয়েছে যে, নেপাল ইচ্ছে করে পানি ছেড়ে দিয়ে ভারতে বন্যা ঘটায়। তবে বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। নেপালে পানি আটকে রাখার মতো বিশাল কোনো কৃত্রিম জলাধার নেই। কোশী বা গণ্ডক নদীর ওপর নির্মিত ব্যারাজগুলোর নিয়ন্ত্রণ মূলত ভারতের হাতে থাকে। ফলে সীমান্ত অতিক্রমকারী পাহাড়ি ঢল সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক নিয়মে ভারতে পৌঁছায়। তবে এই পানি প্রবাহের সঙ্গে বিশাল পরিমাণ কাদামাটি, পাথর ও পলি যুক্ত হয়ে এক ধরনের ঘন তরল মিশ্রণ তৈরি করে, যা সাধারণ পানির বন্যার চেয়ে বহুগুণ বেশি বিপজ্জনক।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমালয় অঞ্চলে উষ্ণতা ক্রমাগত বাড়ছে। ফলে ক্ষিপ্র বৃষ্টিপাত, হিমবাহ ধস এবং আকস্মিক হরকা বান বহুগুণ বেড়ে গেছে। ভারতের চামোলি কিংবা ধারালির সাম্প্রতিক ট্র্যাজেডিগুলোর সঙ্গে নেপালের এই বিপর্যয়ের হুবহু মিল রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত ও নেপালের উচিত পারস্পরিক দোষারোপের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে রিয়েল-টাইম ডাটা শেয়ারিং, দ্রুত সতর্কবার্তা ব্যবস্থা এবং যৌথ নদী ব্যবস্থাপনায় জোর দেওয়া। তা না হলে হিমালয়ের এই অস্থির নদীপ্রবাহ সামনে দুই দেশের জন্যই আরও বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে।
সূত্র: বিবিসি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিরগিজস্তানের বিশকেকে অনুষ্ঠিত ২৬তম সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকের পর ভারত ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য বাণিজ্যচুক্তি হতে পারে বলে গুঞ্জন উঠলেও, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তা সরাসরি খারিজ করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন, "দেশের জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন না করে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পেছনে ছুটছে ইরান।"
এ প্রসঙ্গে তিনি বিশ্বের সব দেশের উদ্দেশ্যে একটি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। রুবিও জানান, যদি কোনো দেশ আমেরিকার কঠোর নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরানকে অর্থ উপার্জনে বা সহায়তায় এগিয়ে আসে, তবে তাদের ওপরও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।
সম্প্রতি ‘দ্য ব্রায়ান কিলমিড শো’-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভারত ও ইরানের মধ্যকার সম্ভাব্য বাণিজ্যচুক্তির বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি বলেন, "আমি মনে করি না যে ভারত ও ইরানের মধ্যে কোনো বাণিজ্যচুক্তি হতে যাচ্ছে।" তিনি স্বীকার করেন যে, প্রতিটি দেশই নিজস্ব স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে এবং বিশ্বমঞ্চে তেহরানের সঙ্গে একাধিক দেশের যোগাযোগ রয়েছে। ওয়াশিংটনও একাধিকবার তেহরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে যোগাযোগ রক্ষা করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রুবিও মন্তব্য করেন, "বিশ্বের অনেক দেশ নিজেদের মতো পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ করে এবং তারা ইরানি সরকারের সঙ্গে আলোচনাও করে।" তিনি আরও বলেন, "আমরা নিজেরাও তো বিভিন্ন আলোচনার তাগিদে ইরানি শাসনব্যবস্থার অংশীদারদের সঙ্গে দেখা করেছি এবং তাদের সঙ্গে আমাদেরও যোগাযোগ ছিল।"
তবে এই আলোচনার মাঝেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্ববর্তী কঠোর অবস্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ইরানকে আমেরিকান নিষেধাজ্ঞা এড়াতে বা তাদের রাজস্ব বাড়ানোর নতুন কোনো পথ তৈরি করে দিতে কোনো দেশকে সাহায্য করতে দেওয়া হবে না। রুবিওর মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই বিষয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, কোনো দেশেরই উচিত হবে না ইরানকে তাদের নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তা করা।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান যেন এমন কোনো মেকানিজম তৈরি করতে না পারে যার মাধ্যমে তারা আয় বাড়াতে পারে এবং সেই অর্থ পরবর্তীতে সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন কিংবা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করতে পারে—সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। রুবিও আরও উল্লেখ করেন, যদি কোনো দেশ ইরানকে এই কাজে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে আমাদের সেই সব দেশের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের মূল লক্ষ্য তুলে ধরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, তেহরানকে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক ক্ষমতার অধিকারী হতে দেওয়া হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে দেওয়া হবে না—বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যত দিন দায়িত্বে রয়েছেন, তত দিন তো নয়ই।"
তিনি জানান, তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টির প্রধান উপায় হিসেবে ওয়াশিংটন অর্থনৈতিক অবরোধ বহাল রাখছে, তবে প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগের পথও খোলা রাখা হয়েছে। তার ভাষায়, "যত দিন তারা পারমাণবিক অস্ত্র পাওয়ার চেষ্টা চালাবে বা দাবি করবে, তত দিন তাদের মূল্য চোকাতে হবে এবং এই মূল্যের বড় অংশ হবে অর্থনৈতিক।" তবে তিনি জানান, "আমরা আমাদের প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করি—শুধু নিজেদের সুরক্ষার জন্যই নয়, বরং তারা যেন অন্যদের হুমকি দিতে না পারে তা নিশ্চিত করতেও আমরা প্রস্তুত।"
রুবিও তেহরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, "তারা দেশের জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে অর্থ ব্যয় না করে সেই অর্থ দিয়ে সশস্ত্রগোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন করছে এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পেছনে ছুটছে, যা যুক্তরাষ্ট্র কখনোই হতে দেবে না।"
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে টানা ছয় মাস ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। সম্প্রতি সপ্তাহের সবচেয়ে ভারী সংঘাতের পর দুই দেশ একে অপরকে প্রতিনিয়ত কঠোর হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, রাতেই মার্কিন বাহিনী ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে ‘অত্যন্ত ভারী আক্রমণ’ চালিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো সময় আবারও এমন হামলা চালাতে প্রস্তুত রয়েছে।
অন্যদিকে, গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে তেহরান একটি ‘নতুন কৌশল’ গ্রহণ করেছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মহসিন রেজাই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি লিখেছেন, "আপনারা খুব শিগগিরই দেখতে পাবেন যে যুদ্ধক্ষেত্র, কূটনীতি এবং অর্থনৈতিক অবরোধ মোকাবিলার ক্ষেত্রে ইরানের নতুন কৌশল আপনাদের যাবতীয় ভিত্তি গুঁড়িয়ে দেবে।" তবে ওয়াশিংটন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখবে এবং তেহরানের সহযোগীদের ওপরও কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেবে।
সূত্র: এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ