ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভারতের সামনেও ভ-য়া-বহ বিপর্যয়?


ভারতের সামনেও ভ-য়া-বহ বিপর্যয়?

নেপালের হিমালয়ের কোলে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বন্যা ও কাদা-পাথরের ধস বিশ্বব্যাপী নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তিব্বত সীমান্তের ল্যাংটাং অঞ্চলে হিমবাহের ধস অথবা দ্রুত পাহাড়ি ঢলের কারণে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তবে ভৌগোলিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নেপালের এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় সীমান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ভারতের জন্য এটি একটি গুরুতর সতর্কবার্তা। পাহাড়ি ঢল এবং নদীগুলোর জলীয় গতিপ্রকৃতি পর্যালোচনা করলে বোঝা যায়, নেপালের পাহাড়ি ঢল ভারতের সমতল ভূমির জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

ভৌগোলিক দিক থেকে নেপাল ও ভারতের সম্পর্ক নদীকেন্দ্রিক। নেপালে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ছয় হাজারের বেশি নদী ও পাহাড়ি ঝরনা রয়েছে, যার বেশির ভাগই দক্ষিণে ভারতের দিকে প্রবাহিত হয়ে গঙ্গা নদীতে মিশছে। কোশী, গণ্ডক, ঘাগরা এবং মহাকালী নদী উভয় দেশের সীমানা অতিক্রমকারী প্রধান নদীগুলোর মধ্যে অন্যতম। এছাড়া শিওয়ালিক বা চুরে পর্বতমালা থেকে উৎসারিত বাগমাটি, কমলা বা রাপ্তির মতো ছোট নদীগুলোও অত্যন্ত খাড়া পাহাড়ি পথ বেয়ে নেমে আসে। বর্ষাকালে এগুলো অতি দ্রুত এবং ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে। আন্তর্জাতিক সমন্বিত পর্বত উন্নয়ন কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞদের মতে, সাত থেকে নয়টি বড় নদী সরাসরি নেপাল থেকে ভারতের সমতল ভূমিতে প্রবেশ করে, যা ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর বন্যার মূল উৎস।

এই ভৌগোলিক কাঠামোর কারণে ভারতীয় রাজ্যগুলোর মধ্যে বিহার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভারতের সবচেয়ে বেশি বন্যাপ্রবণ এই রাজ্যের মোট ভূখণ্ডের তিন-চতুর্থাংশই প্লাবিত হয় নেপাল থেকে আসা নদীগুলোর কারণে। বিশেষ করে বিহারের দুঃখ নামে পরিচিত কোশী নদী প্রতি বছর বিশাল পলি ও পানি বহন করে নিয়ে আসে। শুধু বিহারই নয়, পার্শ্ববর্তী উত্তর প্রদেশের পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলো, যেমন গোলকপুর, বাহরাইচ কিংবা লাখিমপুর খেরিও ঘাগরা ও রাপ্তি নদীর কারণে নিয়মিত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উত্তরাখণ্ড ও উত্তরবঙ্গও একই ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

আরও পড়ুন: অর্থমন্ত্রী: জ্বালানি খাত এখন দেশের অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু

নেপালের ভারী বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক বিপর্যয় কীভাবে ভারতে বন্যায় রূপ নেয়, তা তিনটি ধাপে ঘটে। প্রথমত, হিমালয় পর্বতমালার নিচু অংশে অতিবৃষ্টির সৃষ্টি হয়। দ্বিতীয়ত, নদীর পানির গতিবেগ পর্বত অতিক্রম করে যখন সমতলে পৌঁছায়, তখন নদীগুলো গতিপথ পরিবর্তন করে পলি ছড়িয়ে দেয়। তৃতীয়ত, এই বিপুল পরিমাণ পানি যখন ভারতের সীমানায় প্রবেশ করে, তখন ভারতের স্থানীয় বৃষ্টিপাত, গঙ্গা নদীর পানির উচ্চতা এবং দুর্বল বাঁধ বা অপরিকল্পিত অবকাঠামোর কারণে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করে।

২০০৮ সালে কোশী নদীর ভয়াবহ ট্র্যাজেডি তার বড় প্রমাণ। সে সময় নেপালের বৃষ্টিপাত বা নদীর পানি ক্ষমতার অতিরিক্ত ছিল না বরং পুরনো ও রক্ষণাবেক্ষণহীন বাঁধ ভেঙে যাওয়ার কারণেই ভারতে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেছিল। অর্থাৎ, সীমান্ত পর্যন্ত পানির গতি নির্ধারণ করে নেপালের প্রকৃতি, কিন্তু ভারতে তা কতটা ধ্বংসাত্মক হবে তা অনেকাংশে নির্ভর করে ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোর ওপর।

সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি বড় ভুল ধারণা রয়েছে যে, নেপাল ইচ্ছে করে পানি ছেড়ে দিয়ে ভারতে বন্যা ঘটায়। তবে বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। নেপালে পানি আটকে রাখার মতো বিশাল কোনো কৃত্রিম জলাধার নেই। কোশী বা গণ্ডক নদীর ওপর নির্মিত ব্যারাজগুলোর নিয়ন্ত্রণ মূলত ভারতের হাতে থাকে। ফলে সীমান্ত অতিক্রমকারী পাহাড়ি ঢল সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক নিয়মে ভারতে পৌঁছায়। তবে এই পানি প্রবাহের সঙ্গে বিশাল পরিমাণ কাদামাটি, পাথর ও পলি যুক্ত হয়ে এক ধরনের ঘন তরল মিশ্রণ তৈরি করে, যা সাধারণ পানির বন্যার চেয়ে বহুগুণ বেশি বিপজ্জনক।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমালয় অঞ্চলে উষ্ণতা ক্রমাগত বাড়ছে। ফলে ক্ষিপ্র বৃষ্টিপাত, হিমবাহ ধস এবং আকস্মিক হরকা বান বহুগুণ বেড়ে গেছে। ভারতের চামোলি কিংবা ধারালির সাম্প্রতিক ট্র্যাজেডিগুলোর সঙ্গে নেপালের এই বিপর্যয়ের হুবহু মিল রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত ও নেপালের উচিত পারস্পরিক দোষারোপের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে রিয়েল-টাইম ডাটা শেয়ারিং, দ্রুত সতর্কবার্তা ব্যবস্থা এবং যৌথ নদী ব্যবস্থাপনায় জোর দেওয়া। তা না হলে হিমালয়ের এই অস্থির নদীপ্রবাহ সামনে দুই দেশের জন্যই আরও বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে।

আরও পড়ুন: হিন্দুত্ববাদী নেতা গৌরব সিংয়ের ‘মুল্লা-মুক্ত’ ভারতের ডাক, মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিবাদ

সূত্র: বিবিসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন না করে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পেছনে ছুটছে ইরান: রুবিও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৩০ এম


জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন না করে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পেছনে ছুটছে ইরান: রুবিও

কিরগিজস্তানের বিশকেকে অনুষ্ঠিত ২৬তম সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকের পর ভারত ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য বাণিজ্যচুক্তি হতে পারে বলে গুঞ্জন উঠলেও, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তা সরাসরি খারিজ করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন, "দেশের জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন না করে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পেছনে ছুটছে ইরান।"

এ প্রসঙ্গে তিনি বিশ্বের সব দেশের উদ্দেশ্যে একটি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। রুবিও জানান, যদি কোনো দেশ আমেরিকার কঠোর নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরানকে অর্থ উপার্জনে বা সহায়তায় এগিয়ে আসে, তবে তাদের ওপরও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।

সম্প্রতি ‘দ্য ব্রায়ান কিলমিড শো’-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভারত ও ইরানের মধ্যকার সম্ভাব্য বাণিজ্যচুক্তির বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি বলেন, "আমি মনে করি না যে ভারত ও ইরানের মধ্যে কোনো বাণিজ্যচুক্তি হতে যাচ্ছে।" তিনি স্বীকার করেন যে, প্রতিটি দেশই নিজস্ব স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে এবং বিশ্বমঞ্চে তেহরানের সঙ্গে একাধিক দেশের যোগাযোগ রয়েছে। ওয়াশিংটনও একাধিকবার তেহরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে যোগাযোগ রক্ষা করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রুবিও মন্তব্য করেন, "বিশ্বের অনেক দেশ নিজেদের মতো পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ করে এবং তারা ইরানি সরকারের সঙ্গে আলোচনাও করে।" তিনি আরও বলেন, "আমরা নিজেরাও তো বিভিন্ন আলোচনার তাগিদে ইরানি শাসনব্যবস্থার অংশীদারদের সঙ্গে দেখা করেছি এবং তাদের সঙ্গে আমাদেরও যোগাযোগ ছিল।"

তবে এই আলোচনার মাঝেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্ববর্তী কঠোর অবস্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ইরানকে আমেরিকান নিষেধাজ্ঞা এড়াতে বা তাদের রাজস্ব বাড়ানোর নতুন কোনো পথ তৈরি করে দিতে কোনো দেশকে সাহায্য করতে দেওয়া হবে না। রুবিওর মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই বিষয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, কোনো দেশেরই উচিত হবে না ইরানকে তাদের নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তা করা।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান যেন এমন কোনো মেকানিজম তৈরি করতে না পারে যার মাধ্যমে তারা আয় বাড়াতে পারে এবং সেই অর্থ পরবর্তীতে সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন কিংবা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করতে পারে—সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। রুবিও আরও উল্লেখ করেন, যদি কোনো দেশ ইরানকে এই কাজে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে আমাদের সেই সব দেশের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে।

ট্রাম্প প্রশাসনের মূল লক্ষ্য তুলে ধরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, তেহরানকে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক ক্ষমতার অধিকারী হতে দেওয়া হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে দেওয়া হবে না—বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যত দিন দায়িত্বে রয়েছেন, তত দিন তো নয়ই।"

তিনি জানান, তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টির প্রধান উপায় হিসেবে ওয়াশিংটন অর্থনৈতিক অবরোধ বহাল রাখছে, তবে প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগের পথও খোলা রাখা হয়েছে। তার ভাষায়, "যত দিন তারা পারমাণবিক অস্ত্র পাওয়ার চেষ্টা চালাবে বা দাবি করবে, তত দিন তাদের মূল্য চোকাতে হবে এবং এই মূল্যের বড় অংশ হবে অর্থনৈতিক।" তবে তিনি জানান, "আমরা আমাদের প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করি—শুধু নিজেদের সুরক্ষার জন্যই নয়, বরং তারা যেন অন্যদের হুমকি দিতে না পারে তা নিশ্চিত করতেও আমরা প্রস্তুত।"

রুবিও তেহরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, "তারা দেশের জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে অর্থ ব্যয় না করে সেই অর্থ দিয়ে সশস্ত্রগোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন করছে এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পেছনে ছুটছে, যা যুক্তরাষ্ট্র কখনোই হতে দেবে না।"

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে টানা ছয় মাস ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। সম্প্রতি সপ্তাহের সবচেয়ে ভারী সংঘাতের পর দুই দেশ একে অপরকে প্রতিনিয়ত কঠোর হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, রাতেই মার্কিন বাহিনী ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে ‘অত্যন্ত ভারী আক্রমণ’ চালিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো সময় আবারও এমন হামলা চালাতে প্রস্তুত রয়েছে।

অন্যদিকে, গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে তেহরান একটি ‘নতুন কৌশল’ গ্রহণ করেছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মহসিন রেজাই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি লিখেছেন, "আপনারা খুব শিগগিরই দেখতে পাবেন যে যুদ্ধক্ষেত্র, কূটনীতি এবং অর্থনৈতিক অবরোধ মোকাবিলার ক্ষেত্রে ইরানের নতুন কৌশল আপনাদের যাবতীয় ভিত্তি গুঁড়িয়ে দেবে।" তবে ওয়াশিংটন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখবে এবং তেহরানের সহযোগীদের ওপরও কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেবে।

সূত্র: এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাশিয়া-উত্তর কোরিয়া সরাসরি সড়ক সংযোগ চালু হচ্ছে শীঘ্রই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৩২ এম


রাশিয়া-উত্তর কোরিয়া সরাসরি সড়ক সংযোগ চালু হচ্ছে শীঘ্রই

রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়ার মধ্যে যোগাযোগ ও বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে চলেছে। দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত সেতু এবং সীমান্ত পথ খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হবে, এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন রাশিয়ার পরিবহন মন্ত্রী আন্দ্রেই নিকিতিন।

রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের শহর ভ্লাদিভোস্তকে আয়োজিত ইস্টার্ন ইকোনমিক ফোরামের (ইইএফ) ফাঁকে রুশ সংবাদ সংস্থা তাস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন।

মন্ত্রী জানান, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার সীমান্তবর্তী হাসান সড়ক সীমান্ত পারাপার কেন্দ্র এবং নবনির্মিত সড়ক সেতুটি সর্বসাধারণ ও পণ্য পরিবহনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এই অবকাঠামো চালু হওয়ার ফলে দুই দেশের মধ্যে প্রথমবারের মতো সরাসরি সড়ক পথ দিয়ে যান চলাচল শুরু হবে। দীর্ঘদিন ধরে এই দুই দেশের মধ্যে সীমিত পরিসরে কেবল রেল যোগাযোগ ছিল, কিন্তু সরাসরি সড়ক সংযোগ না থাকায় পণ্য পরিবহনে যে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছিল, এই উদ্যোগের ফলে তা চিরতরে অবসান ঘটবে।

আন্দ্রেই নিকিতিন তার বক্তব্যে নতুন এই সংযোগের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিশদভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হলে দুই অঞ্চলের লজিস্টিকস খাত অভূতপূর্ব অগ্রগতি লাভ করবে। এর ফলে পরিবহন সংক্রান্ত বিলম্ব দূর হবে, ব্যবসায়ীদের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে এবং উভয় দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে গড়ে ওঠা কৌশলগত ও কূটনৈতিক ঘনিষ্ঠতার প্রেক্ষাপটে এই সড়ক সংযোগকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সূত্র: তাস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এক দিনেই ইউক্রেনের ১৩০০ সেনা নিহত: রাশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৩৫ এম


এক দিনেই ইউক্রেনের ১৩০০ সেনা নিহত: রাশিয়া

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে যে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইউক্রেনের অন্তত ১ হাজার ৩৩০ জন সেনা নিহত হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রুশ সেনাদের ধারাবাহিক অভিযানের ফলে ফ্রন্টলাইনের বিভিন্ন এলাকায় এই বিপুল প্রাণহানি ঘটেছে।

ব্যাটেলগ্রুপ সেন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় সবচেয়ে বড় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, যেখানে ৪১০ জনের বেশি সেনার মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও, ব্যাটেলগ্রুপ ইস্ট ও নর্থের হামলায় আরও অনেক সেনা প্রাণ হারিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

মস্কো জানিয়েছে, সেনা ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি তারা ইউক্রেনের জ্বালানি, পরিবহন এবং সামরিক অবকাঠামোগুলোতে অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং শক্তিশালী হামলা চালিয়েছে। রুশ বিমান বাহিনী, ড্রোন ইউনিট এবং ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীর যৌথ হামলায় ইউক্রেনের সামরিক এয়ারফিল্ড, লজিস্টিক কেন্দ্র এবং ইউক্রেনীয় বাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্পসহ মোট ১৫২টি এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশ কয়েকটি অঞ্চলে বিমান হামলা পরিচালনা করতে গেটেবল ড্রোন ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ করে কিয়েভ অঞ্চলের ভিশনেভোয়ে শহরের কাছে ‘স্টেলার জেট’ নামক একটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক সেন্টারে রাশিয়ার হেরান-৪ সিকার ড্রোন সফল আঘাত হানে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

সামরিক অগ্রগতি এবং ভূখণ্ড দখলের বিষয়ে মস্কো দাবি করেছে যে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক এলাকা এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। লড়াইয়ের মুখে খারকিভ অঞ্চলের কাজাচ্যা লোপান এবং দোনেৎস্ক এলাকার পবিত্র শহর স্বিয়াতোগর্স্ক সম্পূর্ণ মুক্ত করেছে রাশিয়ার ব্যাটেলগ্রুপ। বর্তমানে স্বিয়াতোগর্স্কের বিভিন্ন ভবনে তল্লাশি চালিয়ে পলায়নরত বা লুকিয়ে থাকা সেনাদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন এই অঞ্চলের সাম্প্রতিক সাফল্য তুলে ধরে জানান যে, গেল এক মাসের ব্যবধানে তারা অন্তত ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ নিজেদের দখলে নিয়েছেন।

সূত্র: তাস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাঁদপুরের আড়তে আমদানি বাড়লেও দাম কমেনি ইলিশের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৪০ এম


চাঁদপুরের আড়তে আমদানি বাড়লেও দাম কমেনি ইলিশের

চাঁদপুরে গত কয়েকদিন ধরে ইলিশের আমদানি কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও, ক্রেতাদের জন্য আশানুরূপ দাম কমেনি, যা তাদের হতাশ করেছে। বিক্রেতাদের দাবি, অন্যান্য বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশ মাছও ঘাটে আমদানি হচ্ছে না, ফলে তাদের লোকসান হচ্ছে।

বুধবার মাছঘাট পরিদর্শন করে দেখা গেছে, স্থানীয় জেলেদের জালে ইলিশের পরিমাণ কম হলেও, সাগর অঞ্চল থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩শ’ থেকে ৪শ’ মণ ইলিশ আমদানি হচ্ছে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, যদিও ইলিশের আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে, তবুও দাম কমেনি। বিক্রেতাদের মতে, অন্যান্য বছরের তুলনায় ইলিশের আমদানি অনেক কম, যার কারণে দাম বেশি হচ্ছে।

ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন জানান, ইলিশের মৌসুম শেষের দিকে। অন্যান্য বছর এই সময় হাতিয়া, সন্দীপ, চর আলেকজান্ডার, পটুয়াখালীসহ উপকূলীয় অঞ্চল থেকে প্রচুর ইলিশ চাঁদপুর বড় স্টেশন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে আসতো। গত বছর থেকে সেই পরিমাণে ইলিশ আসা একেবারে কমে গেছে। বর্তমানে যে পরিমাণ ইলিশ আমদানি হচ্ছে, তার দাম অনেক বেশি। এর ফলে ব্যবসায়ীদের লোকসান হচ্ছে। এক মাস পর মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান শুরু হবে, তখন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে বেচা-বিক্রি বন্ধ থাকবে। এভাবে চলতে থাকলে এক সময় তাদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে।

ক্রেতা কুদ্দুছ মুন্সী ও শাহজাহান সিদ্দিকী বলেন, ইলিশের আমদানি বৃদ্ধি পেলেও দাম না কমায় তারা হতাশ। ইলিশের মৌসুম হওয়ায় ঢাকা, কুমিল্লা, নোয়াখালি, লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মাছ কিনতে চাঁদপুর ঘাটে আসছে। তবে, বাজারে মাছের দাম কমেনি, এবং চাঁদপুরের বাজারে বিক্রেতারা ইলিশের দাম কিছুটা বেশি হাঁকছেন।

বর্তমানে পাইকারি বাজারে ১ কেজি থেকে ১২০০ গ্রামের ইলিশের দাম ৩ হাজার থেকে ৩১০০ টাকা, ১ কেজি ওজনের ২৬০০ থেকে ২৮০০ টাকা, ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রামের ইলিশ ২৩০০ থেকে ২৫০০ টাকা, ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশ ১৮০০ থেকে ২২০০ টাকা এবং ছোট ১ হালি ৯০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%