বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
০৭:৪০ পি.এম
নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, সরকার দেশের নদ-নদীর অবৈধ দখল ও দূষণরোধে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
মন্ত্রী জানান, ২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) মোট ২৮ হাজার ৩২৫টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে ফেলেছে। এসব অভিযানের মাধ্যমে ১ হাজার ২৪৪ দশমিক ২২ একর তীরভূমি উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি জানান, উচ্ছেদ কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।
আজ সংসদে গাজীপুর-৫ আসনের সরকারি দলের সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন-এর তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।
মন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের সহায়তায় নদীবন্দরগুলোর ফোরশোর জরিপ করে সীমানা নির্ধারণ করা হচ্ছে এবং চিহ্নিত ফোরশোর এলাকায় সীমানা পিলার স্থাপন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নদীবন্দরের সীমানাভুক্ত এলাকায় অবৈধ স্থাপনা শনাক্ত ও উচ্ছেদ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধ দখল ও দূষণরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানে অবৈধ দখলদার ও দূষণকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে জেল-জরিমানা করা হচ্ছে এবং ফোরশোর এলাকায় পাওয়া অবৈধ মালামাল জব্দ বা নিলামে বিক্রি করা হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও জানান, নদীর তীরবর্তী এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও ভরাট অপসারণের পর পুনরায় দখল ঠেকাতে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে উচ্ছেদকৃত স্থানে নান্দনিক ওয়াকওয়ে, ইকোপার্ক, আরসিসি জেটি ও স্টেপস নির্মাণের পাশাপাশি বনায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে, যা নদীর পরিবেশ ও প্রতিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
তিনি বলেন, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন জেলা ও উপজেলা প্রশাসনসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সহযোগিতায় সারা দেশে নদ-নদীর অবৈধ দখল ও দূষণরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। মন্ত্রী জানান, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন দেশের নদ-নদীর অবৈধ দখলদারদের তালিকা হালনাগাদ করেছে।
২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে নদ-নদীর মোট ২১ হাজার ৯৮৮ জন অবৈধ দখলদার শনাক্ত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অবৈধ দখলদারদের তালিকা যাচাই-বাছাই শেষে কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। কমিশনের উদ্যোগে বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রামের আওতায় অবৈধ দখল উচ্ছেদের জন্য কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের যাচাই-বাছাই শেষে নির্ধারিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি অ্যাসিওরেন্স টিম পদে জনবল নিয়োগের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।
যারা আগ্রহী, তারা অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
আবেদন শুরু হয়েছে ২৪ জুন থেকে এবং এটি চলবে আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত।
নিয়োগের পর প্রার্থীরা মাসিক বেতন ছাড়াও প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী আরও বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
প্রতিষ্ঠানের নাম: প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি।
পদের নাম: অ্যাসিওরেন্স টিম।
বিভাগ: আইসিসিডি (এফভিপি টু ভিপি)।
পদসংখ্যা: ০৪টি।
শিক্ষাগত যোগ্যতা: অ্যাকাউন্টিং, ফাইন্যান্স, ব্যাংকিং, ম্যানেজমেন্ট, অর্থনীতি বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি/এমবিএ।
অন্যান্য যোগ্যতা: আর্থিক খাতে অভ্যন্তরীণ/বাহ্যিক নিরীক্ষা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বা কমপ্লায়েন্সে দক্ষতা থাকতে হবে।
অভিজ্ঞতা: ১৫ বছর।
চাকরির ধরন: ফুলটাইম।
কর্মক্ষেত্র: অফিসে।
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ (উভয়)।
বয়সসীমা: ৪২ থেকে ৫২ বছর।
কর্মস্থল: ঢাকা।
বেতন: আকর্ষণীয় বেতন।
অন্যান্য সুবিধা: ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী।
আবেদন কীভাবে করতে হবে: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
আবেদনের শেষ সময়: ১৫ জুলাই ২০২৬।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়, দেশের বিভিন্ন সরকারি ও আধা-সরকারি সেবা খাতে এক বছরে মোট ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা ঘুস লেনদেন হয়েছে, এই তথ্য জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ ঘুস হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে 'সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫' শীর্ষক প্রতিবেদনের ফলাফল প্রকাশকালে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়। টিআইবি'র মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালীন সেবা খাতের দুর্নীতির চিত্র বিশ্লেষণ করে পরিচালিত খানা জরিপ থেকে এই তথ্য উঠে এসেছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) নমুনাকাঠামো ব্যবহার করে দেশের আটটি বিভাগের গ্রাম ও শহরাঞ্চল থেকে দুই ধাপে দৈবচয়ন পদ্ধতিতে ১ হাজার ১৪৯টি এলাকা নির্বাচন করে এই জরিপ করেছে টিআইবি। জরিপে সুনির্দিষ্ট ১৮টি সেবা খাতের দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে।
এর আগে ২০২৩ সালে টিআইবি এই জরিপটি সম্পন্ন করেছিল।
বর্তমান জরিপের ফলাফল বলছে, ২০২৩ সালের মতো ২০২৫ সালেও পাসপোর্ট (৭৬.৬ শতাংশ) ও বিআরটিএ (৬৩.৫) থেকে সেবা নিতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি মানুষ ঘুস ও দুর্নীতির শিকার হয়েছেন। এর পরেই রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, কৃষি, ভূমি ও বিচার সংশ্লিষ্ট সেবা। এসব খাতে পরিবার প্রতি গড় ঘুসের পরিমাণও সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে।
তবে সার্বিকভাবে পরিবার প্রতি গড় ঘুসের পরিমাণ ২০২৩ সালের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। গত বছরে খানাপ্রতি গড় ঘুসের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ১২৪ টাকা।
জরিপে অংশ নেওয়া ৮১ দশমিক ৫ শতাংশ পরিবার মনে করে, ঘুস ছাড়া সেবা পাওয়া খুব কঠিন। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও বিচারিক সেবায় ঘুস ও দুর্নীতির উচ্চ হার মানুষের ন্যায় বিচারের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। কৃষি, স্থানীয় সরকার, ভূমি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পাসপোর্ট ও বিআরটিএ খাতেও দুর্নীতির প্রবণতা বেড়েছে বা আগের মতোই রয়ে গেছে।
দুর্নীতির শিকার হওয়ার পরও ৬১ দশমিক ৩ শতাংশ পরিবার কোনো অভিযোগ করেনি। তাদের মতে, পুরো ব্যবস্থাটিই দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে গেছে। আবার প্রায় অর্ধেক পরিবারেরই দুর্নীতির অভিযোগ কোথায় ও কীভাবে করতে হয়, সে বিষয়ে কোনো ধারণা নেই।
দুদক সম্পর্কে ২৯ দশমিক ৫ শতাংশ এবং সরকারি অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা (জিআরএস) সম্পর্কে মাত্র ১ দশমিক ৪ শতাংশ পরিবার জানলেও অভিযোগ করার হার অত্যন্ত কম। অভিযোগ করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা গ্রহণ করা হয়নি বা কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
জরিপে অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, দুর্নীতির অন্যতম বড় কারণ হচ্ছে বিচারহীনতা, সচেতনতাহীনতা এবং দুর্নীতিতে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির বদলে সুবিধা পাওয়া।
জরিপে আরো দেখা গেছে, গ্রামাঞ্চলের পরিবারের সদস্যরা শহরের তুলনায় বেশি ঘুসের শিকার হয় (৬৬ শতাংশ বনাম ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশ)। তবে ঘুসের পরিমাণের দিক থেকে শহরের পরিবারগুলো বেশি টাকা দিতে বাধ্য হয়েছে। নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো তাদের আয়ের তুলনায় বেশি ঘুস দিতে বাধ্য হয়।
টিআইবির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘নারী, আদিবাসী ও প্রতিবন্ধী’ ব্যক্তিদের জন্য এই পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন খাতে ডিজিটাল সেবা চালু হওয়ার পরেও তা দুর্নীতি কমাতে পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। অনেক ক্ষেত্রেই সেবাগ্রহীতাদের এখনও দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, ফলে ঘুস ও দুর্নীতির সুযোগ বিদ্যমান রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও সুস্থ জাতি গঠনে মাদকমুক্ত সমাজের বিকল্প নেই। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী, মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে তরুণ ও যুবসমাজকে রক্ষা করতে কঠোর আইনগত ও ব্যাপক সামাজিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
আগামীকাল ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৬’ উপলক্ষ্যে আজ বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বাণীতে, প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রসমূহ মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মাদকের বিস্তার রোধে, নোডাল এজেন্সি হিসেবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং মাঠ প্রশাসন সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে।
সুস্থ, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে, তারেক রহমান বলেন, ‘শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মাদকের ভয়াবহতা সম্পূর্ণরূপে মোকাবিলা করা কঠিন। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী, চিকিৎসক, সমাজকর্মী, বেসরকারি সংস্থা, সুশীল সমাজ এবং গণমাধ্যমের সম্মিলিত ও সমন্বিত প্রচেষ্টাই সমাজকে মাদকের অভিশাপ থেকে মুক্ত রাখতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার বর্তমানে শুধু একটি দেশের সমস্যা নয়, এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। বিশ্বব্যাপী মাদক সমস্যা, এখন কেবল জনস্বাস্থ্যের জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার প্রতিরোধ করার জন্য এবং একটি মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের দৃঢ় অঙ্গীকারকে সামনে রেখে সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হচ্ছে। এটি আমাদের জাতীয় জীবনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ বর্তমানে জনমিতিক লভ্যাংশের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় অতিক্রম করছে। দেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ কর্মক্ষম যুবসমাজ হওয়ায়, এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার একটি বড় সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
তিনি আরও বলেন, মানসম্মত শিক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ, নিরাপদ ও উপযুক্ত কর্মসংস্থান এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে উৎপাদনশীল শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব।
অবৈধ মাদকের বিস্তার, এই সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুতর হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে জানিয়ে, প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর রাষ্ট্র এবং সমাজ বিনির্মাণে, দেশের তরুণ ও যুবসমাজকে মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার থেকে দূরে রাখার কোনো বিকল্প নেই।’
বাণীতে তিনি মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বৃহস্পতিবার সতর্ক করে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে অনুমতি ছাড়া যেকোনো জাহাজ চলাচল করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলাকালে ইরান যে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি বন্ধ করে দিয়েছিল, সেই প্রণালীর ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা এখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের চলমান আলোচনার অন্যতম প্রধান বিতর্কিত বিষয় হয়ে উঠেছে।
ইরান সংবাদ প্রকাশ করে জানিয়েছে, প্রণালী ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে তারা ‘সামুদ্রিক সেবা ফি’ আদায় করতে চায়, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ একটি আন্তর্জাতিক জলপথ। ফলে সেখানে কোনো ফি বা টোল আরোপ করা উচিত নয়।
এএফপি সূত্রে তেহরান থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের জন্য একমাত্র অনুমোদিত পথ হলো ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ঘোষিত রুট।’
বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে, অনুমতি ছাড়া যে কোনো ধরনের নৌযাত্রা ‘গ্রহণযোগ্য নয় এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক’। এই ধরনের জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে।
আইআরজিসি ‘কিছু কর্তৃপক্ষ’ কর্তৃক ঘোষিত নতুন একটি নৌপথের সমালোচনা করেছে, যদিও তাদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
ইরান এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে অবস্থিত হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেলের এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। সবচেয়ে সরু অংশে প্রণালীটির প্রস্থ মাত্র ৩০ কিলোমিটার। বর্তমানে ইরানের অনুমোদিত একমাত্র নৌপথটি দেশটির উপকূলঘেঁষা একটি করিডোর অনুসরণ করছে।
গত সপ্তাহে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকে বলা হয়েছে, আগামী ৬০ দিন বাণিজ্যিক জাহাজগুলো কোনো ধরনের ফি ছাড়াই হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে পারবে। তবে এই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর কী ধরনের ব্যবস্থা কার্যকর হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।
হরমুজ প্রণালীর তীরবর্তী রাষ্ট্র ইরান ও ওমান মঙ্গলবার জানায়, তারা যৌথভাবে পারস্পরিক আলোচনা করে প্রণালীর প্রশাসনিক ও সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কতো পরিমাণ ‘খরচ’ আদায় করা হবে তা পর্যালোচনা করবে।
অন্যদিকে, চলতি সপ্তাহে উপসাগরীয় দেশগুলো সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্টভাবে জানান, হরমুজ প্রণালীতে কোনো ধরনের টোল বা ফি আরোপ যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেবে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ