শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:২১ এম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতকে কোনোভাবেই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে (ফরেভার ওয়ার) রূপ নিতে দেবেন না—এমন তথ্য জানিয়েছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সামরিক অভিযানের লক্ষ্য অর্জিত হলে ট্রাম্প প্রশাসন অন্যান্য অগ্রাধিকারগুলোতে মনোযোগ নিবদ্ধ করবে।
ফোর্ট ওয়ার্থ, টেক্সাসে ফক্স নিউজের আয়োজিত একটি টাউন হল অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ভ্যান্স এ মন্তব্য করেন। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পৃক্ততা নিয়ে সমালোচনার প্রেক্ষিতে তিনি প্রশাসনের সামরিক অভিযানের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে রিপাবলিকান পার্টির এক ভোটার প্রশ্ন করেন, ব্যয়বহুল বিদেশি যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়ার প্রতিশ্রুতি কি ট্রাম্প প্রশাসন রক্ষা করতে পেরেছে?
ভ্যান্সের জবাব ছিল, তিনি মধ্যপ্রাচ্যে অপ্রয়োজনীয় সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে মানুষের হতাশা বুঝতে পারেন। তিনি ইরাক যুদ্ধে নিজের সামরিক দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাও শেয়ার করেন।
ভ্যান্স বলেন, গত সাত মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধের ইতিহাস ৪৭ বছরের। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সংঘাতকে কখনোই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে পরিণত হতে দেবেন না।
ভ্যান্স আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদি সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করার মানে এই নয় যে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিরোধিতা করতে হবে। তিনি বলেন, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য অর্জন করবেন এবং এরপর প্রশাসন অন্যান্য অগ্রাধিকারমূলক কাজে মনোযোগ দেবে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হাসপাতালে অসুস্থ শরীর নিয়ে এসে টিকিট কাটার পরও রোগীদের চিকিৎসকের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসক না পাওয়া, বন্ধ কক্ষের সামনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা এবং জরুরি বিভাগে সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা ও তদারকির বিষয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে, কক্ষ বন্ধ রাখার এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে দুই কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জনকে নির্দেশ দিয়েছেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. ফজলে রাব্বি।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার পর এনসিডি (অসংক্রামক রোগ), ডেন্টাল ও চক্ষু বিভাগের কয়েকটি কক্ষ বন্ধ থাকার অভিযোগ করেছেন রোগীরা। তাদের অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী টিকিট কেটে সংশ্লিষ্ট বিভাগে গেলেও চিকিৎসক পাওয়া যায়নি। এনসিডি কর্নারের সামনে অপেক্ষমাণ কয়েকজন রোগীর দাবি, সকাল ১০টার আগে চিকিৎসকদের দেখা মেলে না। শিবপুর থেকে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করাতে আসা এক প্রবীণ রোগী জানান, প্রায় আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তিনি চিকিৎসকের দেখা পাননি এবং কখন চিকিৎসক আসবেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্যও তাকে জানানো হয়নি। সৈয়দপুর থেকে আসা এক নারী রোগীও চিকিৎসক ও মেডিকেল টিমের দেরিতে উপস্থিতির অভিযোগ করেছেন।
সরেজমিনে ধারণ করা কয়েকটি ভিডিওচিত্রে সকাল ৯টার পর কয়েকটি কক্ষ বন্ধ এবং আলো-ফ্যান বন্ধ থাকার দৃশ্য দেখা গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
হাসপাতালের আনসার সদস্য মামুন রশিদ বলেন, সাধারণত সকাল ৯টার মধ্যে চিকিৎসকদের কক্ষে উপস্থিত থাকার কথা, তবে বিশেষ পরিস্থিতি বা যাতায়াতজনিত কারণে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে।
বহির্বিভাগের পাশাপাশি জরুরি বিভাগের সেবা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রোগী ও স্বজনেরা। তাদের অভিযোগ, জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে হাসপাতালে এসে পরীক্ষার রিপোর্ট দেখাতে চাইলে অনেক সময় তা পর্যালোচনা না করেই বহির্বিভাগে টিকিট কেটে চিকিৎসক দেখানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এক ভুক্তভোগীর দাবি, তার রোগীর জরুরি অবস্থা থাকা সত্ত্বেও কর্তব্যরত চিকিৎসক রিপোর্ট দেখতে চাননি, বরং বহির্বিভাগে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
চিকিৎসার পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ২৯ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ধারণ করা একটি ভিডিওচিত্রে জরুরি বিভাগের ৭ নম্বর কক্ষে রোগীদের চিকিৎসা চলাকালে শুকনো ঝাড়ু দিয়ে মেঝে পরিষ্কার করতে দেখা যায়। ঝাড়ু দেওয়ার সময় ধুলাবালি উড়তে থাকায় রোগীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অন্য একটি ভিডিওচিত্রে ওয়ার্ডের শয্যা পূর্ণ থাকার পাশাপাশি মেঝে ও বারান্দায় রোগীদের স্যালাইন নিতে দেখা যায়।
সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শিব্বীর আহমেদ প্রিন্স জানান, কক্ষ বন্ধ রাখা ও দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে ইতিমধ্যে দুই কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাদের লিখিত জবাব পর্যালোচনা করে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাসপাতালের বায়োমেট্রিক হাজিরা ব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, কারিগরি সমস্যার কারণে বর্তমান মেশিনটি পূর্ণাঙ্গভাবে কাজ করছে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস শাখার মাধ্যমে নতুন মেশিন স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে। নতুন ব্যবস্থা চালু হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি অনলাইনে ও কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সহজ হবে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. ফজলে রাব্বি বলেন, মানুষ অসুস্থ হয়েই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে। তাই চিকিৎসকের কক্ষ বন্ধ থাকা কিংবা দায়িত্ব পালনে অবহেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হ্যারি কেইন প্রথমবারের মতো ব্যালন ডি’অর জয়ের আনন্দটি সতীর্থদের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে চান। এই সাফল্যের জন্য বায়ার্ন মিউনিখ ও ইংল্যান্ড দলের খেলোয়াড়দের অবদানকে তিনি স্বীকার করে তাদের জন্য বিশেষ উপহার কেনার পরিকল্পনা করেছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক। উপহারের তালিকায় বিলাসবহুল ঘড়িও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে অসাধারণ একটি মৌসুম কাটিয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লামিন ইয়ামালকে পেছনে ফেলে কেইন প্রথমবারের মতো ব্যালন ডি’অর অর্জন করেছেন। নিজের জন্মশহরে আয়োজিত জমকালো অনুষ্ঠানে পুরস্কার গ্রহণের সময় আবেগঘন বক্তব্যও দেন তিনি। পরে সোহোর একটি নাইটক্লাবে বিশেষ পার্টিতে অংশ নিয়ে এই ইংলিশ স্ট্রাইকার উদযাপন করেন।
তবে ৩৩ বছর বয়সি কেইন ব্যক্তিগত এই অর্জনের পেছনে সতীর্থদের অবদান ভুলে যাননি। জার্মান সংবাদমাধ্যম ‘বিল্ড’-কে তিনি বলেন, ‘দলের কয়েকজন সতীর্থ ঘড়ি কিংবা এ ধরনের কিছু উপহার চেয়েছে। তাই বায়ার্ন ও ইংল্যান্ড—দুই দলের খেলোয়াড়দের জন্যই ভালো কিছু উপহারের ব্যবস্থা করতে হবে আমাকে। বিষয়টি নিয়ে ভাবছি। নিশ্চিত করতে চাই, সবাই যেন সুন্দর একটি উপহার পায়।’
ব্যালন ডি’অর জয়ের মাধ্যমে কেইন ইংল্যান্ডের ষষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে এই পুরস্কার অর্জন করেছেন। এর আগে স্যার স্ট্যানলি ম্যাথিউস, স্যার ববি চার্লটন, কেভিন কিগান ও মাইকেল ওয়েনসহ অন্যান্য কিংবদন্তি ফুটবলাররা ইংল্যান্ডের হয়ে এই সম্মান পেয়েছেন।
কেইনের জন্য সামনে অপেক্ষা করছে একটি বিশেষ মুহূর্ত। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে উয়েফা নেশন্স লিগের ম্যাচের আগে ওয়েম্বলিতে দর্শকদের সামনে ব্যালন ডি’অর ট্রফি প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে তার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের উত্তর প্রদেশে প্রেমিককে বিয়ের দাবিতে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী প্রায় ১০০ ফুট উঁচু মোবাইল ফোনের টাওয়ারে উঠে যান। তিনি পরিবারের সদস্যদের বিয়েতে সম্মতি না দেওয়া পর্যন্ত টাওয়ার থেকে নামতে অস্বীকৃতি জানান। শেষ পর্যন্ত ভিডিও কলের মাধ্যমে প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ের সম্পন্ন হওয়ার পর টাওয়ার থেকে নিচে নেমে আসেন ওই তরুণী।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানায় পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, উত্তর প্রদেশের বাহরাইচ জেলায় এ ঘটনা ঘটে। তরুণী সাহিবা বেগম, যিনি মেহক নামেও পরিচিত, প্রেমিক নূরুদ্দিনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে মায়ের সঙ্গে বিরোধের জেরে মোবাইল ফোনের টাওয়ারে উঠে যান। নূরুদ্দিনের বয়স ২১ বছর।
প্রেমিক নূরুদ্দিন তখন কাজের প্রয়োজনে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দূরে মুম্বাইয়ে অবস্থান করছিলেন। দুজনের বিয়ের ইচ্ছা থাকলেও উভয় পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের সম্পর্ক মেনে নেওয়া হয়নি।
এদিকে, টাওয়ারে উঠে মেহক প্রায় চার ঘণ্টা অবস্থান করেন। তাকে নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনতে স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সদস্যরা চেষ্টা চালান। বিয়ের দাবি পূরণ না হলে টাওয়ার থেকে লাফ দেওয়ার হুমকিও দেন তিনি।
খবর পেয়ে নারী পুলিশ সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা বিভিন্নভাবে তরুণীকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে বিরোধ মেটাতে মুম্বাইয়ে অবস্থানরত নূরুদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
একপর্যায়ে স্থানীয় এক মুসলিম ধর্মীয় নেতা ভিডিও কলের মাধ্যমে তাদের বিয়ে পড়ান। মুম্বাই থেকে ভিডিও কলে যুক্ত হন নূরুদ্দিন। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর টাওয়ার থেকে নামতে রাজি হন মেহক। পরে নারী পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় তাকে নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনা হয়।
ঘটনার পর পুলিশ মেহক ও তার পরিবারের সদস্যদের থানায় নিয়ে কাউন্সেলিং করে। পরে মাকে সঙ্গে নিয়ে বাড়িতে ফিরে যান ওই তরুণী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে পণ্য আমদানির প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা শুল্ক ফাঁকির একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। এর ফলে সরকার বছরে হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। আমদানি-রফতানি বাণিজ্য এবং দেশের বাজার ব্যবস্থায় নানা জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। গত ১৬ মাসে ৯০০টি পণ্য চালান পরীক্ষা করে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ প্রায় ২০০ কোটি টাকা বাড়তি রাজস্ব আদায় করেছে। তবে, কম শুল্কের পণ্যের ঘোষণায় বেশি শুল্কের পণ্য আমদানির প্রবণতা এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ ২৭০টি সন্দেহজনক আমদানি চালান জব্দ করে ৫৮ কোটি টাকা বাড়তি শুল্ক আদায় করেছে। পাশাপাশি, জরিমানা হিসেবে আদায় হয়েছে অন্তত ২০ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ১ হাজার ৪৫১টি সন্দেহজনক চালানের ডেলিভারি লক করে। এর মধ্যে ৮৪৩টি ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়। এসব চালান পরীক্ষা করে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় ৫২ কোটি টাকা বাড়তি রাজস্ব এবং ৫৯ কোটি ৬৩ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। সব মিলিয়ে আদায় হয় ১১১ কোটি টাকা।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন জানান, গত ১৬ মাসে এআইআর, আনস্টাফিং ও জেটির পাঁচটি জোনে অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রায় ২০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় সম্ভব হয়েছে। কাস্টমস আইন অনুযায়ী, আমদানি করা পণ্যের শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত জনবলের অভাব এবং সময়ক্ষেপণের কারণে বাস্তবে ৫ থেকে ৮ শতাংশের বেশি পণ্য পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিছু আমদানিকারক কম শুল্কহারের পণ্যের ঘোষণা দিয়ে বেশি শুল্কের পণ্য আমদানি করছেন।
ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরামের চেয়ারম্যান এস এম আবু তৈয়ব মন্তব্য করেন, এতে সরকার রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। যারা নিয়ম মেনে শুল্ক পরিশোধ করে পণ্য আমদানি করেন, তারা অসাধু ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হচ্ছেন। ফলে সৎ ব্যবসায়ীরা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। সম্প্রতি সাধারণ যন্ত্রপাতি আমদানির আড়ালে বিলাসবহুল গাড়ি আনার একাধিক চালান জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক আকতার পারভেজ বলেন, এসব সিবিইউ গাড়ি তুলা হিসেবে ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা হচ্ছে। কীভাবে এসব পণ্য বন্দর থেকে খালাস হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখার সময় এসেছে।
মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে আমদানিকারকের পাশাপাশি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টকেও দায়ী করা হচ্ছে। তবে এবার এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে কাস্টমসকে সহযোগিতা করছে কাস্টমস এজেন্ট কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম কাস্টম এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম সাইফুল আলম জানান, কাস্টমসকে সহযোগিতা করা হচ্ছে। অনেক সময় আমদানিকারকরা ভুল এইচএস কোড ব্যবহার করে পণ্য আমদানি করায় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন। এমনকি তারা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।
চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে প্রতি অর্থবছরে ৪ থেকে ৫ লাখ কোটি টাকার পণ্য আমদানি হয়। এসব আমদানি থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় করে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ। কিন্তু গুটিকয়েক ব্যবসায়ীর মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানির কারণে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা বাজারে অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছেন। একই সঙ্গে সরকার শত কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। বাজারে পণ্যের চাহিদা ও সরবরাহের হিসাবেও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ