ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

টানা বৃষ্টিতে শিবচরের পাচ্চঁর বাজারে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা, পানিবন্দি শতাধিক পরিবার


টানা বৃষ্টিতে শিবচরের পাচ্চঁর বাজারে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা, পানিবন্দি শতাধিক পরিবার

টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টির ফলে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পাচ্চঁর বাজার সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। হাঁটুসমান পানি তলিয়ে গেছে শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি, উঠান এবং একটি ধর্মশালা। দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকাতে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। রান্নাবান্না থেকে শুরু করে চলাচল ও টয়লেট ব্যবহার—সবকিছুতেই চরম ভোগান্তি নেমে এসেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, অধিকাংশ বাড়ির উঠান ও ঘরের মেঝে পানিতে তলিয়ে রয়েছে। অনেকেই ইট, বাঁশ ও কাঠের তক্তা বিছিয়ে ঘরের ভেতরে চলাচল করছেন। কোথাও রান্নাঘরের চুলাও পানির নিচে চলে যাওয়ায় খাবার প্রস্তুত করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছেন শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ সদস্যদের নিয়ে বসবাসকারী পরিবারগুলো।

জলাবদ্ধতার কবল থেকে রেহাই পায়নি এলাকার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও। স্থানীয় মন্দির ও ধর্মশালায় পানি ঢুকে পড়ায় নিয়মিত পূজা-অর্চনা এবং অন্যান্য ধর্মীয় কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

আরও পড়ুন: (ছবি আছে) জিয়ানগরে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন

স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় চারপাশে একের পর এক সড়ক নির্মাণ করা হলেও পানি নিষ্কাশনের জন্য পর্যাপ্ত ড্রেন, খাল কিংবা কালভার্ট রাখা হয়নি। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি আটকে যায় এবং দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকে। বছরের প্রায় অর্ধেক সময়ই জলাবদ্ধতার দুর্ভোগে কাটাতে হচ্ছে তাদের।

ভুক্তভোগী রায়হান পাল বলেন, “প্রতি বছর বর্ষা এলেই আমাদের একই কষ্টের মুখোমুখি হতে হয়। এবার ঘরের ভেতর পর্যন্ত পানি ঢুকে পড়েছে। বিছানাপত্র, আসবাবপত্রসহ প্রয়োজনীয় অনেক জিনিসপত্র নষ্ট হচ্ছে। ছোট ছোট শিশুদের নিয়ে নিরাপদে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা না হলে এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে না।”

আরেক ভুক্তভোগী মর্জিনা বেগম বলেন, “বাড়ির উঠান, রান্নাঘর ও টয়লেট সব পানির নিচে। ঠিকমতো রান্না করতে পারছি না, বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে। টয়লেটে পানি উঠে যাওয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েছে। চারদিকে পানি জমে থাকায় সাপের ভয়ও রয়েছে। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে এই জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান করুক।”

স্থানীয়দের দাবি, পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। দ্রুত কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় কালভার্ট নির্মাণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান না হলে প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগের শিকার হতে হবে।

আরও পড়ুন: ‎রাঙামাটিতে স্কুলছাত্র নিখোঁজ, থানায় জিডি করলেন বাবা

এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ. এম. ইবনে মিজান বলেন, “জলাবদ্ধতার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। খুব শিগগিরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হবে। পানি নিষ্কাশনে কোথায় সমস্যা রয়েছে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামে বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করলেন প্রতিমন্ত্রী অমিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:১৭ পি.এম


চট্টগ্রামে বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করলেন প্রতিমন্ত্রী অমিত

 চট্টগ্রাম নগরের টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও জলাবদ্ধতায় পানিবন্দি হয়ে পড়া চান্দগাঁও সিএন্ডবি, মোহরা, এবং দক্ষিণ কাট্টলি এলাকার পানিবন্দি দুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

এ সময়, দুর্গত মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার, চাল, ডাল, তেল, বিশুদ্ধ পানি, এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী আজ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, এবং চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমানকে নিয়ে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন।

তাদের সঙ্গে নিয়ে তিনি পানিবন্দি পরিবারের মাঝে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ्री বিতরণ করেন।

পরিদর্শনকালে, প্রতিমন্ত্রী দুর্গত মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন।

তিনি জলাবদ্ধতা এবং বন্যার কারণে সৃষ্ট দুর্ভোগ সম্পর্কে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন।

এ সময়, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা, বিশুদ্ধ পানির সংকট, এবং খাদ্যসহ জরুরি সেবার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

এ সময়, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত মানবিক নীতির আলোকে সরকারের সব প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন, এবং জনপ্রতিনিধিরা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, কোনো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে অসহায় অবস্থায় ফেলে রাখা হবে না।

প্রয়োজনীয় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ, এবং অন্যান্য সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, কর্পোরেশনের প্রতিটি সংশ্লিষ্ট বিভাগ মাঠপর্যায়ে নিরলসভাবে কাজ করছে।

পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

এ সময়, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, এবং বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিকল্প জায়গায় আবাস করে দেওয়া হলে সেটিই হবে স্থায়ী সমাধান: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:২০ পি.এম


বিকল্প জায়গায় আবাস করে দেওয়া হলে সেটিই হবে স্থায়ী সমাধান: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এমপি বলেছেন, 'পাহাড়ের পাদদেশে যারা বসবাস করছেন, তাদের বোঝাতে হবে। তাদেরকে বুঝিয়ে বিকল্প একটি জায়গায় আবাস করে দিতে পারলে সেটিই হবে স্থায়ী সমাধান। যারা বাস্তুহারা, তাদেরকে বিকল্প জমিতে ঘর তৈরি করে দিতে চান প্রধানমন্ত্রী এবং এটা তিনি করবেন, এই বিষয়ে মহান সংসদে আলোচনা হয়েছে।'

রোববার (১২ জুলাই) বিকালে রাঙ্গামাটির ওমদা মিয়া হিল পৌর জুনিয়র হাই স্কুল আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের এসব কথা বলেছেন তিনি।

এসময় তিনি আরও বলেন, 'সকলকে ধৈর্য ধরে দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হবে। সরকার সবসময় দুর্গত মানুষের পাশে আছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সংবাদকর্মী সকলেই মিলে প্রশাসনের সাথে একযোগে সচেতনতা তৈরি করতে পারলে তবেই ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস কমে আসবে।'

তিনি বলেন, 'দুর্যোগ মোকাবিলায় কোথাও উদ্যোগের ঘাটতি আছে কিনা সেটা আপনারা আমাদের বলবেন। দুর্গম এলাকায় আমাদেরকে সশস্ত্র বাহিনী সহযোগিতা করছে, ইউএনওরা স্ব স্ব এলাকায় কাজ করছে, যেটা জেলা প্রশাসক মনিটরিং করছে, এসব আমরা রিপোর্ট নিচ্ছি। সকলের সহযোগিতায় আমরা এই দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে চাই।'

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, 'দুর্যোগ শেষে সকলেই বাসায় ফিরবে, কিন্তু বাসাবাড়ি আগের মতো থাকবে না। ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়িগুলো মেরামতের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করবো। এটা জনগণের কাছে আমাদের ওয়াদা। শুধু ঘরবাড়ি নয়; ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট মেরামতের বিষয়টিও আমাদের নজরে আছে। এছাড়া যারা ঘর ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে আছে, তাদের ঘরবাড়িতে যাতে দুষ্কৃতিকারী কোনও ক্ষতি করতে না পারে সেই বিষয়েও আমরা সতর্ক আছি।'

এ সময় রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২০৩০ সালের বিশ্বকাপে ৬৪ দল নিয়ে আয়োজনের ভাবনায় ফিফা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:২০ পি.এম


২০৩০ সালের বিশ্বকাপে ৬৪ দল নিয়ে আয়োজনের ভাবনায় ফিফা

ফিফা বিশ্বকাপের চলতি আসরের সময়েই এই বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের সম্প্রসারণের বিষয়ে ভাবা হচ্ছে বলে জানাচ্ছেন ফিফা। সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছেন, ২০৩০ সালের পরবর্তী আসরে আর ১৬টি দেশ যোগ করে ৬৪ দলের টুর্নামেন্টে রূপান্তর করার বিষয়টি পরীক্ষা করা হচ্ছে। ১৯৯৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বিশ্বকাপের মূল পর্বে ৩২টি দল অংশগ্রহণ করে আসছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত আসন্ন আসরে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দলের অংশগ্রহণ দেখা যাবে। দক্ষিণ আমেরিকার নেতাদের একটি প্রতিনিধি দলের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাওয়ার পর গত বছরের সেপ্টেম্বরে ফিফা ২০৩০ সালের টুর্নামেন্টটি আরও বড় করার কথা আলোচনা করেছিল। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার সভাপতি ইনফান্তিনো নিশ্চিত করেছেন, এই গ্রীষ্মের টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পর প্রস্তাবিত ফরম্যাটের বিষয়ে আলোচনা করা হবে। সুইস গণমাধ্যম ‘ব্লুউইন’-কে একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই বিশ্বকাপের পর সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোর মধ্যে ৬৪ দলের আয়োজনের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। ফিফা সভাপতি আবারও জোর দিয়ে বলেন, এই টুর্নামেন্টটি শুধু ইউরোপ বা দক্ষিণ আমেরিকার জন্য নয়। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের স্বপ্ন দেখার সুযোগ প্রতিটি দেশের জন্য থাকা উচিত। বলা যেতে পারে যে, দলগুলোর খেলার মান উন্নত হচ্ছে এবং সারা বিশ্বেই এই মান বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদি ছোট দেশগুলোকে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়া হয়, তবে তাদের উন্নতির ধারাকে অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে কোনো অনুপ্রেরণা নাও থাকতে পারে। ৫৬ বছর বয়সী এই কর্মকর্তা বলেন, এবারের আসরে বিশ্বকাপকে ৪৮টি দলের অংশগ্রহণে উন্নীত করার সিদ্ধান্তটি পুরোপুরি সফল ছিল। এর আগে ইনফান্তিনো এবং ফিফা বিষয়টি চার বছরের পরিবর্তে প্রতি দুই বছরের মধ্যে বিশ্বকাপ আয়োজনের সম্ভাব্যতা পরীক্ষা করেছিল, যদিও সেই প্রস্তাবটি পরে আর বাস্তবায়িত হয়নি। ইনফান্তিনো জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে তার ‘প্রায় প্রতিদিন’ যোগাযোগ হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, ট্রাম্প খুব খুশি এবং টুর্নামেন্টটি উপভোগ করছেন। সশরীরে কোনো ম্যাচ দেখতে না যেতে পারলেও, ট্রাম্প টেলিভিশনে প্রায় প্রতিটি ম্যাচ দেখছেন। ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের পক্ষে যে-সব বিভক্তি তৈরি হয়েছিল, তার মধ্যে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ফিফা কাউন্সিলের এক সভায় উরুগুয়ের ফুটবল কর্মকর্তা ইগনাসিও আলোনসো প্রথম এই ধারণাটি উপস্থাপন করেছিলেন। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, সভার শেষ পর্যায়ে ‘অন্যান্য বিষয়’ আলোচনার সময় আলোনসো প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছিলেন। এর পরে ওই বছরের নভেম্বরে কনমেবল-এর প্রেসিডেন্ট এবং ফিফার ভাইস-প্রেসিডেন্ট আলেহান্দ্রো ডোমিনগুয়েজ ২০৩০ সালের টুর্নামেন্টটিকে ৬৪ দলের আসর হিসেবে আয়োজনের বিষয়টিকে তার ‘স্বপ্ন’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের সম্প্রসারণ ‘বিশ্বকে অন্তত একবারের জন্য হলেও ঐক্যবদ্ধ করবে’। ২০৩০ সালের টুর্নামেন্টের ম্যাচ আয়োজনের ফলে দক্ষিণ আমেরিকা অন্তত ২০৪২ সাল পর্যন্ত আর বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ পাবে না, কারণ ফিফার নিয়ম অনুসারে, কোনো মহাদেশ প্রতি তিনটি আসরের মধ্যে কেবল একবার বিশ্বকাপ আয়োজন করতে পারে। এর অর্থ হলো, ৬৪ বছরের দীর্ঘ সময়ে দক্ষিণ আমেরিকা মাত্র একটি বিশ্বকাপের (২০১৪ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত আসর) প্রধান আয়োজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। টুর্নামেন্টের বিস্তারের ফলে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা এবং প্যারাগুয়ে প্রতিটি দেশই হয়তো কেবল একটি করে ম্যাচের পরিবর্তে একটি করে পূর্ণাঙ্গ গ্রুপের ম্যাচ আয়োজনের সুযোগ পাবেন। সম্প্রসারণের বিপক্ষে রয়েছে কয়েকটি নিবন্ধিত বিষয়ের কথা, যেমন, ফিফার আওতাধীন ২১০টি পুরুষ আন্তর্জাতিক দলের মধ্যে এক-চতুর্থাংশের বেশি দল ৬৪ দলের টুর্নামেন্টে অংশ নেবে, যা অনেক আঞ্চলিক বাছাইপর্বের প্রক্রিয়াকে অর্থহীন করার ঝুঁকি দাঁড় করাবে। ৪৮ দলের চূড়ান্ত পর্বের জন্য কনমেবল-এর ১০টি দেশের মধ্যে ৬টি দেশ ইতোমধ্যে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। আর প্লে-অফের মাধ্যমে আরও একটি দলের সুযোগ পাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। গত এপ্রিলে উয়েফা সভাপতি আলেকজান্ডার সেফেরিন এই প্রস্তাবটিকে ‘বাজে ধারণা’ বলে নাকচ করে দেন, তিনি বলেছিলেন, এটি টুর্নামেন্ট এবং ইউরোপের বাছাইপর্বের জন্য ক্ষতিকর হবে। উত্তর আমেরিকার সংস্থা কনকাকাফ-এর সভাপতি ভিক্টর মন্ট্যাগলিয়ানিও একই মত পোষণ করেন এবং বলেছেন, এটি ‘খুব একটা ভালো ধারণা নয়’। উল্লেখ্য, ২০৩০ সালে তিনটি মহাদেশের ছয়টি দেশে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা এবং প্যারাগুয়েতে একটি করে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। বাকি সব ম্যাচ মরক্কো, পর্তুগাল এবং স্পেনে অনুষ্ঠিত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদারের সিদ্ধান্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:২২ পি.এম


স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদারের সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় আগামী স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় ইউনিটগুলোকে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তাছাড়া এ বিষয়ে যথাসম্ভব দ্রুত জাতীয় কার্যকরী কমিটির সভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেওয়া হয়েছে দায়িত্ব।

গতকাল শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিএনপি চেয়ারম‌্যানের গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস (ভার্চুয়ালি), গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

স্থায়ী কমিটির সভায় দলীয় কার্যক্রমকে আরও সক্রিয় করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই বিষয়ে অঙ্গ সংগঠনসহ বিএনপির মূল দলের সকল ইউনিটকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

সভার মধ্যে বিএনপি সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। এসময় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি, মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জিন, মন্দিরের পুরোহিত, চার্চের ফাদার ও বৌদ্ধ মন্দিরের সেবায়েতদের ভাতা প্রদানের কর্মসূচি সহ বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সঙ্গে সম্পাদিত বিভিন্ন চুক্তি সম্পর্কে সদস্যদের অবহিত করা হয়। এছাড়াও পারস্পরিক উন্নয়ন ও সহযোগিতা বৃদ্ধিতে এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় দেশ দুটির অংশগ্রহণের প্রশংসা করা হয়। সভায় অভিমত প্রকাশ করা হয় যে, সফরের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। এসময় সফল সফরের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে।

এ সময় দলের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয়। ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করা হয় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইশতেহারে বর্ণিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

সভায় বিরোধী দল কর্তৃক জুলাই সনদ ও গণভোট প্রসঙ্গে জনগণকে বিভ্রান্ত করার প্রচেষ্টার নিন্দা জানানো হয়। এই বিষয়ে বিএনপির দলীয় অবস্থান জনগণের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরার প্রক্রিয়া আরও বেগবান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

সভায় ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আলোচনা হয়। এ সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রস্তুতের জন্য স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে অনুরোধ জানানো হয়।

সভায় সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির পর পুনরায় সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দুই দেশকে যুদ্ধ বন্ধ করে আলোচনার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে এ যুদ্ধের ফলে মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য দেশের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে সভায় মত প্রকাশ করা হয়।

এ ছাড়াও সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়াকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের একটি বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা ব্যক্ত করা হচ্ছে।

সভায় দেশে মাদকের ব্যাপক বিস্তারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এ বিষয়ে আরও ইতিবাচক ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

সভায় দলের সাবেক কোষাধ্যক্ষ, মুন্সিগঞ্জ থেকে নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক চিফ হুইপ ও সাবেক মন্ত্রী হারুন-অর-রশীদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়।

এছাড়াও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সাবেক মেয়র মির্জা আব্বাস এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খানের শারীরিক অসুস্থতায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। তাঁদের দ্রুত রোগমুক্তি কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%