০৭:১৭ পি.এম
টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টির ফলে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পাচ্চঁর বাজার সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। হাঁটুসমান পানি তলিয়ে গেছে শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি, উঠান এবং একটি ধর্মশালা। দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকাতে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। রান্নাবান্না থেকে শুরু করে চলাচল ও টয়লেট ব্যবহার—সবকিছুতেই চরম ভোগান্তি নেমে এসেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, অধিকাংশ বাড়ির উঠান ও ঘরের মেঝে পানিতে তলিয়ে রয়েছে। অনেকেই ইট, বাঁশ ও কাঠের তক্তা বিছিয়ে ঘরের ভেতরে চলাচল করছেন। কোথাও রান্নাঘরের চুলাও পানির নিচে চলে যাওয়ায় খাবার প্রস্তুত করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছেন শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ সদস্যদের নিয়ে বসবাসকারী পরিবারগুলো।
জলাবদ্ধতার কবল থেকে রেহাই পায়নি এলাকার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও। স্থানীয় মন্দির ও ধর্মশালায় পানি ঢুকে পড়ায় নিয়মিত পূজা-অর্চনা এবং অন্যান্য ধর্মীয় কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: (ছবি আছে) জিয়ানগরে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় চারপাশে একের পর এক সড়ক নির্মাণ করা হলেও পানি নিষ্কাশনের জন্য পর্যাপ্ত ড্রেন, খাল কিংবা কালভার্ট রাখা হয়নি। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি আটকে যায় এবং দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকে। বছরের প্রায় অর্ধেক সময়ই জলাবদ্ধতার দুর্ভোগে কাটাতে হচ্ছে তাদের।
ভুক্তভোগী রায়হান পাল বলেন, “প্রতি বছর বর্ষা এলেই আমাদের একই কষ্টের মুখোমুখি হতে হয়। এবার ঘরের ভেতর পর্যন্ত পানি ঢুকে পড়েছে। বিছানাপত্র, আসবাবপত্রসহ প্রয়োজনীয় অনেক জিনিসপত্র নষ্ট হচ্ছে। ছোট ছোট শিশুদের নিয়ে নিরাপদে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা না হলে এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে না।”
আরেক ভুক্তভোগী মর্জিনা বেগম বলেন, “বাড়ির উঠান, রান্নাঘর ও টয়লেট সব পানির নিচে। ঠিকমতো রান্না করতে পারছি না, বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে। টয়লেটে পানি উঠে যাওয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েছে। চারদিকে পানি জমে থাকায় সাপের ভয়ও রয়েছে। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে এই জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান করুক।”
স্থানীয়দের দাবি, পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। দ্রুত কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় কালভার্ট নির্মাণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান না হলে প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগের শিকার হতে হবে।
আরও পড়ুন: রাঙামাটিতে স্কুলছাত্র নিখোঁজ, থানায় জিডি করলেন বাবা
এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ. এম. ইবনে মিজান বলেন, “জলাবদ্ধতার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। খুব শিগগিরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হবে। পানি নিষ্কাশনে কোথায় সমস্যা রয়েছে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন