ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝালকাঠি জেলা সভাপতি আবদুল্লাহ আল মাসুদ মধু ঢাকায় গ্রেফতার


নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝালকাঠি জেলা সভাপতি আবদুল্লাহ আল মাসুদ মধু ঢাকায় গ্রেফতার

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝালকাঠি জেলা সভাপতি আবদুল্লাহ আল মাসুদ মধু ঢাকায় গ্রেফতার হয়েছেন।

সোমবার রাতে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। ধানমন্ডি থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের হওয়া মামলায় নামধারী ছয় আসামির মধ্যে ১ নম্বরে রয়েছেন মাসুদ মধু।

ধানমন্ডিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা তোফায়েল আহমেদের জানাজায় অংশগ্রহণ করে, মাসুদ মধু নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে লাইভে এসে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এর পরেই পুলিশ তাকে আটক করে ধানমন্ডি থানায় নিয়ে যায়। ওই মামলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি অভিযোগের ভিত্তিতে মাসুদ মধু এবং আরও দুইশ' জনকে অজ্ঞাত আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ৩ নভেম্বর ঢাকায় আসছেন সিপিসি আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং

মামলা সূত্রে জানা গেছে, প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদের জানাজার সময় আওয়ামী লীগ নেতারা সেখানে অবস্থান নিয়েছিলেন। ধানমন্ডি থানার ১২নং রোডের তাকওয়া মসজিদের পাশে তারা নেতাকর্মীদের একত্রিত করে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছিলেন। দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য তারা মিছিল করে দেশবিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন। পুলিশ মাসুদ মধুকে সেখান থেকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় এসআই মিঠুন সিং বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মধুসহ নামধারী ছয়জন এবং আরও দুইশ' জনকে অজ্ঞাত আসামি করেও মামলা দায়ের করেন। মামলার ১নং আসামি হিসেবে মাসুদ মধুকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার দেখানো হয়। এ ঘটনার পর ধানমন্ডি থানা ঝালকাঠি থানার কাছে মাসুদ মধু সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে চায়। ইতোমধ্যেই ঝালকাঠি থানার পাঁচটি মামলার তথ্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ঝালকাঠি থানার ওসি (তদন্ত) মেহেদী হাসান বলেন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝালকাঠি জেলা সভাপতি মাসুদ মধুকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ধানমন্ডি থানার একটি মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ঝালকাঠি থানায় বিভিন্ন আইনে পাঁচটি মামলা রয়েছে, এবং ওইসব মামলায়ও ইতোমধ্যেই তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেপালে অভিযানে ১৫ বাংলাদেশি আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:২৭ পি.এম


নেপালে অভিযানে ১৫ বাংলাদেশি আটক

নেপালে অনলাইনে প্রতারণার অভিযোগে ১৫ জন বাংলাদেশি নাগরিকসহ চার ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে দেশটির পুলিশ দ্বারা। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে কম্পিউটার, মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম রাতোপতির বরাতে বিবিসি বাংলা জানিয়েছে যে, শুক্রবার রাজধানী কাঠমাণ্ডুর ১৬ নং ওয়ার্ডের পাকনাজোলে অবস্থিত ‘হোটেল এস’ থেকে তাদের আটক করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত বাংলাদেশিদের মধ্যে রয়েছেন মজিদুল ইসলাম রিদয় (২৫), শফিউল ইসলাম (২২), আব্দুল্লাহ আল জোবায়ের (২৬), আপন চন্দা সাহা (২২), আবুল হাসনাইন (২৬), আল শাহরিয়ার (২৪), ফয়সাল (৩০), আজাদ হোসেন (৩৫), মো. আজমাইন (১৯), তামিম হাসান সৌরভ (২০), জাকারিয়া জান্নাত (২০), শাকিল আনোয়ার (২৪), বিল্লাল রাফাত (২১), অমিত হাসান সৈকত (২৫) এবং ইসমাম হাসান স্বাধীন (৩০)।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে, গ্রেপ্তারকৃত বাংলাদেশি নাগরিকদের বেশিরভাগই আগে কম্বোডিয়ায় কাজ করেছেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, পরিচয় হওয়া চীনা অপারেটররা তাদের নেপালে নিয়ে এসেছেন কম্বোডিয়ায়।

নেপাল পুলিশের কাঠমাণ্ডু ভ্যালি ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এটি একটি ‘স্ক্যাম সেন্টারে’ কর্মরত ছিলেন গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা। ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন অফিসের মুখপাত্র ও পুলিশ সুপার রামেশ্বর কার্কি জানিয়েছেন, ‘ওই চীনা নাগরিক বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। আমরা তাকে খুঁজছি।’

পুলিশ জানিয়েছে, এই স্ক্যাম সেন্টার পরিচালনার জন্য সেই পলাতক চীনা নাগরিক থামেল এলাকার একটি সম্পূর্ণ হোটেল ভাড়া নিয়েছিলেন। হোটেলের মালিক প্রতি মাসে সাত লাখ নেপালি রুপি ভাড়ার বিনিময়ে হোটেলটি লিজ দিয়েছিলেন।

কার্কি আরও জানান, ফেসবুকসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নারীদের আপত্তিকর ছবি পাঠিয়ে এ চক্রটি ভুক্তভোগীদের ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায় করত। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় নেপালিরা নয়, বরং বাংলাদেশি এবং ভারতীয় নাগরিকরাই তাদের প্রধান টার্গেট ছিল।

পুলিশ জানিয়েছে যে, শুক্রবার গ্রেপ্তার হওয়া ১৯ জনকেই অভিবাসন আইনের অধীনে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইমিগ্রেশন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের ডিপোর্ট, অর্থাৎ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্যাংক খাতে পুনর্বাসনের মাধ্যমে লুটপাটের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে: গোলাম পরওয়ার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৩০ পি.এম


ব্যাংক খাতে পুনর্বাসনের মাধ্যমে লুটপাটের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে: গোলাম পরওয়ার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ব্যাংক খাতে পুনর্বাসনের মাধ্যমে আবারও লুটপাটের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এ বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে জামায়াতের দায়িত্বশীলদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গাস্থ আল ফারুক সোসাইটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর খুলনা বিভাগের জেলা ও মহানগরীর দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার সাড়ে তিন মাসেও দেশে স্থিতিশীলতা আনতে পারেনি। জ্বালানি খাতে নৈরাজ্য চলছে, বাজার পরিস্থিতিও নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। দেশের শান্তি, উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা, জননিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করতে সরকারের ভালো কাজে জামায়াত সহযোগিতা করবে এবং জনগণের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করবে।

তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতার কারণে জনগণের জানমাল ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির দায় সরকার এড়াতে পারে না। পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার ও জনগণকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচন বিতর্কমুক্ত না হওয়ায় জনগণের প্রত্যাশিত পরিবর্তন বাস্তবায়িত হয়নি। গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও জনগণের রায়কে উপেক্ষা করে দেশকে আবারও ফ্যাসিবাদের দিকে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা চলছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

আগামী ২০ জুন অনুষ্ঠিতব্য ১১ দলীয় ঐক্যের খুলনা বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে দলের সব পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহর সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইনের পরিচালনায় সমাবেশে কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন। এতে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও মহানগর শাখার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কূটনৈতিক পথে না গিয়ে ‘পুশ-ইন’ গ্রহণযোগ্য নয় : জামায়াত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৩১ পি.এম


কূটনৈতিক পথে না গিয়ে ‘পুশ-ইন’ গ্রহণযোগ্য নয় : জামায়াত

যশোরের বেনাপোল সীমান্তে ভারতীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নারীরা, পুরুষরা ও শিশুরা বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশ-ইন) জন্য জামায়াতে ইসলামী তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। দলটি সংবাদমাধ্যমকে বলেছে, 'কূটনৈতিক চ্যানেলে সমস্যার সমাধান না করে ভারতের ‘পুশ-ইন’ নীতি অগ্রহণযোগ্য।'

মঙ্গলবার (২ জুন) জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে এই কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, “সীমান্তে অবৈধভাবে নাগরিকদের বাংলাদেশি পরিচয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার ভারতীয় নীতি অত্যন্ত নিন্দনীয়। নাগরিকদের পরিচয় শনাক্তপূর্বক কূটনৈতিক চ্যানেলে সমস্যার সমাধান না করে ভারতের ‘পুশ-ইন’ নীতি অগ্রহণযোগ্য, যা সীমান্তকে অস্থিতিশীল, নিরাপত্তাহীন ও উদ্বেগপূর্ণ করে তুলেছে। আমি বিএসএফ ও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের এমন নীতির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘গত ৩১ মে দিনগত রাতে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টের উত্তরে সাদিপুর খড়ের মাঠ সীমান্ত এলাকায় পুশ-ইনের বিষয়ে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে বিএসএফের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে নারী-শিশুসহ ৮ থেকে ১০ জন ভারতীয় নাগরিক ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছে। অবিলম্বে নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে এবং ভবিষ্যতে এমন পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য আমি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

তিনি আরো বলেন, “দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত সুরক্ষায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করায় তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। কূটনৈতিক চ্যানেলে ভারতীয় বাহিনীর ‘পুশ-ইন’ চেষ্টার প্রতিবাদ না করা এবং বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের দুর্বল পররাষ্ট্রনীতিরও নিন্দা জানাচ্ছি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের সীমান্ত অপরাধ রোধ ও নাগরিকদের নিরাপত্তা বিধানে আইনের কঠোর প্রয়োগের আহ্বান জানাচ্ছি। ভবিষ্যতে এ ধরনের সমস্যা সমাধানে সরকারকে অভ্যন্তরীণ ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাওরের শত বছরের ঐতিহ্য চ্যাপা শুঁটকি, রপ্তানি হচ্ছে বিদেশেও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৩৩ পি.এম


হাওরের শত বছরের ঐতিহ্য চ্যাপা শুঁটকি, রপ্তানি হচ্ছে বিদেশেও

কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী খাদ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম অন্যতম হল চ্যাপা শুঁটকি। এই সুস্বাদু খাবারটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসছে এবং এটি শুধু স্থানীয় মানুষের খাদ্যতালিকায় নয়, বরং এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও সমাদৃত হচ্ছে। শত বছরের ঐতিহ্য বহনকারী এই চ্যাপা শুঁটকি কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলের অর্থনীতিতেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

হাওরবেষ্টিত নিকলী, অষ্টগ্রাম, ইটনা, মিঠামইনসহ বিভিন্ন উপজেলার খাল-বিল ও নদী থেকে ধরা তাজা পুঁটি মাছ দিয়ে মূলত চ্যাপা শুঁটকি তৈরি করা হয়। প্রথমে মাছগুলো রোদে শুকিয়ে সাধারণ শুঁটকি বানানো হয়। এরপর সেগুলো পরিষ্কার করে মাটির মটকা বা বিশেষ পাত্রে শক্তভাবে ভরে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস সংরক্ষণ করা হয়। দীর্ঘ সময়ের এই প্রক্রিয়ার পর তৈরি হয় সুগন্ধি ও সুস্বাদু চ্যাপা শুঁটকি।

স্থানীয়দের মধ্যে চ্যাপা শুঁটকির ভর্তা সবচেয়ে জনপ্রিয়। এছাড়াও শুঁটকি ভুনা, বিভিন্ন সবজির সঙ্গে রান্না, কুমড়া পাতার বড়া এবং চ্যাপা শুঁটকির পিঠাও বেশ সমাদৃত খাবার।

সম্প্রতি ইটনা উপজেলার চৌগাঙ্গা এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, শুঁটকি তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। বাজার থেকে সংগ্রহ করা পুঁটি, টাকি, টেঙরা, মেনি, পাবদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছগুলি নারী শ্রমিকরা পরিষ্কার করছেন। এরপর বিশাল বাঁশের মাচা বা স্থানীয় ভাষায় ‘ডাঙ্গি’র ওপর মাছগুলি ছড়িয়ে দুই থেকে তিন দিন রোদে শুকানো হচ্ছে।

স্থানীয় শুঁটকি ব্যবসায়ী হারেছ মিয়া জানিয়েছেন, মাছের প্রকারভেদ অনুযায়ী ১০০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে মাছ কেনা হয়। শুকানোর পর এসব শুঁটকি আকার ও মান অনুযায়ী ৮ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি করা হয়। এক মৌসুমে তিনি প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ মণ শুঁটকি বিক্রি করেন।

এছাড়াও আরেক ব্যবসায়ী নাঈম মিয়া জানিয়েছেন, চৌগাঙ্গা এলাকাতেই প্রায় ৫০টি শুঁটকি ডাঙ্গি রয়েছে। এছাড়া কুলিয়ারচর, নিকলী, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম জেলায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য শুঁটকি প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র।

কিশোরগঞ্জ জেলা সদরের ‘বড় বাজার’ চ্যাপা শুঁটকির অন্যতম বৃহত্তম বাণিজ্যকেন্দ্র। প্রতি সপ্তাহের বুধবার ও বৃহস্পতিবার সেখানে জমজমাট শুঁটকির হাট বসে। ব্যবসায়ীদের মতে, প্রতি হাটেই কয়েক কোটি টাকার শুঁটকি কেনাবেচা হয়। বর্তমানে মানভেদে প্রতি কেজি চ্যাপা শুঁটকি ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা বা তারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিশোরগঞ্জের চ্যাপা শুঁটকি এখন বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে নিয়মিত পার্সেল ও বাণিজ্যিকভাবে চ্যাপা শুঁটকি পাঠানো হচ্ছে। বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে এছাড়াও এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কিশোরগঞ্জ জেলা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মুজিবুর রহমান বেলাল বলেছেন, ‘কিশোরগঞ্জে শুঁটকি শিল্প স্থানীয় মৎস্য অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ খাতে বছরে প্রায় ৫০ কোটি টাকার বাণিজ্য হয়। একই সঙ্গে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।’

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম জানিয়েছেন, কিশোরগঞ্জে বছরে প্রায় ৯৬৬ দশমিক ৮৫ মেট্রিক টন বিভিন্ন ধরনের শুঁটকি উৎপাদিত হয়। সারা বছর সংরক্ষণ করতে পারায় এবং বাজারে এর স্থায়ী চাহিদা থাকায় শুঁটকি ব্যবসা লাভজনক ও সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে গড়ে উঠেছে।

স্থানীয়দের মতে, কিশোরগঞ্জের চ্যাপা শুঁটকি শুধুমাত্র একটি খাদ্যপণ্য নয়, এটি হাওরাঞ্চলের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ। যথাযথ সংরক্ষণ ও আধুনিক বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%