বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৮:১৭ এম
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) অধিদপ্তরসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি প্রতিষ্ঠানে নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত আলাদা তিনটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীনস্থ আইসিটি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন যুগ্মসচিব মাহফুজা আক্তার। এছাড়া একই বিভাগের অধীনস্থ জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সির মহাপরিচালক পদে যুগ্মসচিব মো. আশরাফুল মমিন খানকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি যুগ্মসচিব এ কে এম শওকত আলম মজুমদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ নভোথিয়েটারের মহাপরিচালক পদে নিয়োগ পেয়েছেন। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের আগামী ৭ জুলাইয়ের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। তা না হলে ওই দিন বিকালের মধ্যে তাঁরা বর্তমান কর্মস্থল থেকে স্ট্যান্ড রিলিজড বা তাৎক্ষণিক অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে রংপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি, যা আয়োজন করেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল।
বুধবার (১ জুলাই) রাতের এই কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে অংশগ্রহণ করেন শত শত শিক্ষার্থী। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্মরণ করেন জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ সকল শহীদদের।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি তুহিন বলেন, ‘২ বছর আগে এই জুলাই মাস থেকে শুরু হয়েছিল ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন। এ আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ তাঁদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাঁদের আত্মদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল মোমবাতি প্রজ্বালনের আয়োজন করেছি।’
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইয়ামিন জানান, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতেই এই আয়োজন করা হয়েছে। কারণ তাঁরা নিজের জীবন দিয়ে আমাদের ফ্যাসিবাদের হাত থেকে মুক্ত করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সাধারণ মানুষ একত্ব হয় অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাইদের মৃত্যুর খবরে। আমরা আমাদের ভাই, সহপাঠী আবু সাঈদসহ জুলাইয়ে শহীদ হওয়া প্রত্যেকের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাই।’
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে এলইডি স্ক্রিনে জুলাই অভ্যুত্থানের ৩৬ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডের একটি ডকুমেন্টারি প্রচার করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিয়ের প্রলোভনে কোটি টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সহকারী পুলিশ কমিশনার (এএসপি) মো. সোহেল উদ্দিন প্রিন্সকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। জামিন বাতিল করার এই নির্দেশটি বুধবার (১ জুলাই) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার ইভা দেন।
মামলার বাদী সহকারী কর কমিশনার মোসা. তানজিনা সাথীর করা আবেদনের পর আদালত এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুন একই আদালত সোহেল উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গ, অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ গঠন করে। উল্লেখ্য, সোহেল উদ্দিন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) সদর সার্কেলে সর্বশেষ কাজ করছিলেন।
বাদীপক্ষের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট আপস-মীমাংসার শর্তে সোহেল উদ্দিন জামিন লাভ করেছিলেন। কিন্তু সময় গড়িয়ে গেলেও তিনি মামলার বিষয়ে কোনো আপসের উদ্যোগ নেননি কিংবা প্রতিশ্রুতি পালন করেননি। এ কারণে তার জামিন বাতিলের আবেদন করা হয়।
অন্যদিকে, আসামির পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম খান দাবি করেছেন, তার মক্কেল বাদীর কোনো অর্থ আত্মসাৎ করেননি এবং তিনি মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার। উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত সোহেল উদ্দিন প্রিন্সের জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৩ নভেম্বর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল।
মামলায় বলা হয়েছে যে, ২০১৭ সালে ৩৬তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর বাদী এবং সোহেল উদ্দিন প্রিন্সের পরিচয় ঘটে, যা পরে প্রেমে রূপ নেয়। সোহেল উদ্দিন বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাদী ও তার পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন এবং বিভিন্ন সময়ে মোট ২ কোটি ৩২ লাখ ১১ হাজার টাকা নিয়ে যান। অভিযোগে বলা হয়েছে, পরে তিনি বাদীকে বিয়ে করেননি এবং যে টাকা নিয়েছেন তা ফেরত দেননি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রিয়তমার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে আংটি বাড়িয়ে ধরে প্রশ্ন করে, উইল ইউ ম্যারি মি? (তুমি কি আমায় বিয়ে করবে?)। প্রিয়তমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার এটি একটি চিরন্তন পদ্ধতি।
যুগ যুগ ধরে কোটি কোটি মানুষ এইভাবে প্রস্তাব দিয়েছেন এবং প্রেয়সীর হৃদয় জিতেছেন। কিন্তু কিছু কিছু মানুষ আছেন, যারা নারীর হৃদয় জয় করার জন্য বা প্রস্তাব দেওয়ার মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতে নানারকম পাগলামি করেন। স্কাইডাইভিং করে বাতাসে ভাসতে ভাসতে, স্কুবা ডাইভিং করে সাগরের অতলে ডুবতে ডুবতে বা পাহাড়ের চূড়ায় উঠে, আগ্নেয়গিরি লাভার সামনে দাঁড়িয়ে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার অনেক অ্যাডভেঞ্চারাস উদাহরণ রয়েছে। তবে বুধবার দুপুর ১২টার দিকে নিউইয়র্কবাসীরা যে দৃশ্যটি দেখলেন, সেটি ঝুঁকি বিবেচনায় মানুষের মনে বহু দিন থাকবে।
নিউইয়র্কবাসীরা একা নন, বরং বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারের সুবাদে বিশ্বের কোটি মানুষ দেখেছে এই শ্বাসরুদ্ধকর অভিনব প্রপোজালের চিত্র।
গতকাল বুধবার দুপুর ১২টা নাগাদ ব্যস্ত নিউইয়র্কবাসীরা আচমকা দেখলেন আইকনিক এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের ১০২ তলার উপরে ব্রডকাস্ট এন্টেনার চূড়ায় মিলেছে দুইজন মানুষ। তাঁরা কোনোরকম নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়া ১ হাজার ৪৫৪ ফুট উঁচুতে ব্রডকাস্ট অ্যান্টেনার চূড়ায় একটি ব্যানার টানাচ্ছিলেন। তাদের দুঃসাহসিক কাণ্ডকারখানা দেখে নিচের অনেকের শ্বাস রাখা দায় হয়ে উঠে।
মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় তাদের সেই ছবি। খবর পেয়ে নিউইয়র্ক পুলিশের বিশেষ রেসকিউ টিম, হেলিকপ্টার এবং ড্রোন নিয়ে ছুটে আসেন। সাংবাদিকরা হেলিকপ্টার নিয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হন। নিচে যখন হুলুস্থুল, তখনো কালো পোশাক এবং মুখোশ পরা তাদের কোনো হেলদোল ছিল না। ব্যানার টানানোর পর তারা ধীরেসুস্থে কিছুটা নেমে এসে একটি প্লাটফর্মে দাঁড়ান। সেখানে পুরুষটি সেই চিরাচরিত ভঙ্গিতে হাঁটু গেড়ে বসে নারীটিকে প্রস্তাব দেন।
নিশ্চয়ই তিনি হ্যাঁ বলেছেন, কারণ পুরুষটি উঠে দাঁড়ালে তারা একে অপরকে আলিঙ্গন করেন ও চুমু খান। পুরো দৃশ্যটাই গোটা বিশ্ব সরাসরি দেখেছে। সবচেয়ে বেশি মানুষের কাছে দেখা প্রপোজালের বিশ্বরেকর্ডে এই ঘটনাটির কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী থাকবে বলে মনে হয় না। দুপুর ১টার দিকে পুলিশ সদস্যরা নিজেদেরও ঝুঁকি নিয়ে চূড়ায় উঠলেন এবং তাদের নিচে নামিয়ে আনেন।
ব্রডকাস্ট অ্যান্টেনার চূড়ায় তাদের টানানো কালো ব্যানারে বড় বড় সাদা অক্ষরে লেখা ছিল, ‘যখন ক্ষমতার লোভের চেয়ে ভালোবাসার শক্তি বড় হবে, তখন পৃথিবী শান্তি ফিরে পাবে।’ চারপাশে যুদ্ধের দামামায় শান্তির এ বাণী হয়তো অনেকের মনে স্বস্তি আনবে। তবে পুলিশ অনুমতি ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় যাওয়ার জন্য এই দুঃসাহসী রোমান্টিক জুটিকে হেফাজতে নিয়েছে। এত সুরক্ষিত একটি ভবনের চূড়ায় তারা কিভাবে এবং কখন উঠলেন, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
নিচে নেমে আসার পর দেখা গেল যে এই জুটি আগে থেকেই বিখ্যাত। তারা নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় ডকুমেন্টারি ‘স্কাওয়াকার্স: এ লাভ স্টোরি’র প্রধান চরিত্র রাশিয়ার বিখ্যাত রুফটপার অ্যাঞ্জেলা নিকোলাউ এবং ইভান বীরকুস। তারা শান্তি এবং ভালোবাসার বাণী নিয়ে এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের চূড়ায় চড়ে বসেছিলেন।
কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তার ‘কেউ কথা রাখেনি’ কবিতায় বলেছেন, ‘ভালোবাসার জন্য আমি হাতের মুঠোয় প্রাণ নিয়েছি/দুরন্ত ষাঁড়ের চোখে বেঁধেছি লাল কাপড়।’ অ্যাঞ্জেলা এবং ইভান কবির কল্পনাকেও হার মানালেন। ১ হাজার ৪৫৪ ফুট উপরে উঠে ভালোবাসা আর শান্তির বাণীর ব্যানার টানানো তাদের জন্য দুরন্ত ষাঁড়ের চোখে লাল কাপড় বাঁধার চেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ছিল না। সত্যিই তারা ভালোবাসার জন্য হাতের মুঠোয় প্রাণ নিয়েছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা ত্যাগ করে তেহরানের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নিতে সফরে বের হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টায় ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হযরত শাহজালাল থেকে তিনি ইরানের উদ্দেশে যাত্রা করেন।
জানা গেছে, উনি জানাজায় অংশগ্রহণ শেষে আগামী ৪ জুলাই দেশে ফিরে আসবেন।
উল্লেখযোগ্য যে, আয়াতুল্লাহ খামেনি ১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় মৃত্যু বরণ করেন। তাঁর বয়স ছিল ৮৬ বছর মৃত্যুর সময়ে। ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামী বিপ্লবের পর পরিবর্তিত শাসনব্যবস্থায় তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ১৯৮০ সালে তিনি অল্প সময়ের জন্য প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
ইরান-ইরাক যুদ্ধের সূচনা পর তিনি ইসলামী বিপ্লবী বাহিনীর তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৮৯ সালে রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর বিশেষজ্ঞ পরিষদ তাঁকে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে নির্বাচন করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ