প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুদ্ধের দামামায় রক্ষা পায়নি ইরানের হাজার বছরের ইতিহাস। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রাসাদ, মসজিদ আর বিশ্ব ঐতিহ্যের নিদর্শন। ইউনেস্কোর সুরক্ষিত স্থাপনাতেও দেখা দিয়েছে ফাটল, ভেঙেছে কাচ, খসে পড়েছে টাইলস। ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যুদ্ধের আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত ইরানের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।
ধ্বংসের মুখে শত শত বছরের পুরনো ঐতিহ্য। ফেটে গেছে দেয়াল, ভেঙে পড়েছে কাচ। বিস্ফোরণের তীব্র কম্পনেই ক্ষতবিক্ষত হয়েছে ইরানের একাধিক স্থাপনা। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ইসফাহানের নকশে জাহান স্কয়ার ও ৪শ’ বছরের পুরনো চেহেল সোটুন প্রাসাদ।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ১১টি ঐতিহাসিক ভবন চিহ্নিত করেছে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বোমা সরাসরি না পড়লেও বিস্ফোরণের কম্পনে এক কিলোমিটার দূরের ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আর সেই কারণেই এত পুরনো স্থাপনাগুলো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকাভুক্ত নকশে জাহান স্কয়ার, চেহেল সোটুন প্রাসাদ, গোলেস্তান প্রাসাদ, ইসফাহানের জামে মসজিদ, ট্রান্স-ইরানিয়ান রেলপথের আন্দিমেশ্ক স্টেশন এবং প্রায় ১ হাজার ৮০০ বছরের পুরোনো ফালাক-অল-আফলাক দুর্গ।
ইরানের ইউনেস্কো প্রতিনিধি জানিয়েছেন, পুরো যুদ্ধে দেশটির অন্তত ১৩৪টি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ইসফাহান শহর শুধু ইরানের মানুষের সম্পদ নয়। এটি পুরো বিশ্বের ঐতিহ্য। এই শহর বিশ্বের উত্তরাধিকার। তাই এই ঐতিহ্যকে সম্মান করতে হবে, এর মর্যাদা কখনোই নষ্ট করা উচিত নয়।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে এখনো সেখানে বিশেষজ্ঞ দল পাঠানো সম্ভব হয়নি। স্যাটেলাইটের ছবি দেখে ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
প্রত্নতত্ত্ব ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞদের মতে, অতীতে এমন ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সাধারণত ‘নো-স্ট্রাইক লিস্টে’ রাখা হতো। ১৯৫৪ সালের হেগ কনভেনশন অনুযায়ী, যুদ্ধের সময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা করা আন্তর্জাতিক আইনের বাধ্যবাধকতা। ইচ্ছাকৃতভাবে এসব স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন