বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:২০ এম
> বিশ্বরামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের অর্থায়ন নিয়ে যুক্তরাজ্যের ব্যাংক বার্কলেসের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন যে, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারণে সৃষ্ট দূষণ এবং জলবায়ু ঝুঁকি সুন্দরবন, যা বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী স্থান, সেখানে বিপদের সৃষ্টি করছে।বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের নিকটে অবস্থিত রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে আর্থিক সম্পর্কের অভিযোগে বার্কলেস ব্যাংকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের বক্তব্য হলো, প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার আগে ব্যাংকটি পরিবেশ ও মানবাধিকারের ঝুঁকি যথাযথভাবে মূল্যায়ন করেনি।বাংলাদেশ ও ভারতের সুন্দরবন অঞ্চলের তিন ব্যক্তি ও সংগঠন যুক্তরাজ্যের অফিস ফর রেস্পন্সিবল বিজনেস কন্ডাক্টে এই মামলা করেছেন। যুক্তরাজ্যের ব্যবসা ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই দপ্তর অভিযোগটি তদন্তের জন্য গ্রহণ করবে কিনা, তা পর্যালোচনা করবে।অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, যা মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রকল্প নামে পরিচিত, এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ এবং বন্ড ইস্যুর ক্ষেত্রে আন্ডাররাইটিং সেবা প্রদান করেছে বার্কলেস। অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন যে, এভাবে ব্যাংকটি আন্তর্জাতিক দায়িত্বশীল ব্যবসা পরিচালনার নির্দেশনা লঙ্ঘন করেছে।ঢাকাভিত্তিক পরিবেশকর্মী শরীফ জামিল, যিনি অভিযোগকারীদের একজন, তিনি বলেছেন, "রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র ও এর আশপাশের শিল্পকারখানা থেকে ভারী ধাতুর দূষণ সুন্দরবনের আন্তঃসংযুক্ত নদী ও খালগুলোর মাধ্যমে বনে প্রবেশ করছে।" তিনি আরও বলেন, "রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরবনের প্রাণরেখা পশুর নদীর তীরে অবস্থিত। সুন্দরবনের স্বাস্থ্য এখন হুমকির মুখে।"গত নভেম্বরে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সুন্দরবনের বিভিন্ন স্থানের পানিতে পারদ ও আর্সেনিকের মাত্রা বেড়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ঘনত্ব পশুর নদীতে পাওয়া গেছে। গবেষকরা শিল্পবর্জ্য ও বন্দরকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডকে ভারী ধাতু দূষণের প্রধান উৎস হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রকে সুন্দরবনের জন্য "উল্লেখযোগ্য পরিবেশগত হুমকি" হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা কয়লা পোড়ানোর ফলে নির্গমন এবং নৌযান চলাচলের বৃদ্ধির কারণে সৃষ্টি হচ্ছে।সুন্দরবন বাংলাদেশের ও ভারতের উপকূলীয় অঞ্চলের লাখো মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। নদী ও বন থেকে খাদ্যসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদ সংগ্রহের ওপর নির্ভরশীল এসব মানুষের পাশাপাশি সুন্দরবন বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্যপূর্ণ অঞ্চল। ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত এই বনভূমিতে শতাধিক দ্বীপ এবং বেঙ্গল টাইগারসহ অসংখ্য উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে।অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেছেন, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্গমন বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়াবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইতিমধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ এই অঞ্চলে ম্যানগ্রোভ বন ঘূর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা হিসেবে কাজ করে।বার্কলেসের আর্থিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের বিষয়ে অভিযোগকারীদের সহায়তাকারী কিংস লিগ্যাল ক্লিনিক জানিয়েছে, বার্কলেস ভারতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এনটিপিসি লিমিটেড-এর ঋণ আন্ডাররাইট করেছে। প্রতিষ্ঠানটি রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের যৌথ অংশীদারদের একটি।শরীফ জামিল বলেছেন, "আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সিদ্ধান্তের প্রভাব বিবেচনা করার দায়িত্বও রয়েছে।" তিনি মনে করেন, অন্যান্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান যখন প্রকল্পটি থেকে সরে গেছে বা অর্থায়ন প্রত্যাখ্যান করেছে, তখন বার্কলেসসহ অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানেরও নিজেদের নীতি পুনর্বিবেচনা করা উচিত।তিনি জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, "সারা বছর সূর্যালোক পাওয়া যায় এমন বাংলাদেশে বিপুল সৌরবিদ্যুৎ সম্ভাবনা রয়েছে।" তাই আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির সম্প্রসারণের পরিবর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।ক্লিনিকের আইনজীবী সু উইলম্যান বলেছেন, "সুন্দরবনের গ্রামীণ জনগোষ্ঠী জলবায়ু ও প্রকৃতির সংকটের সম্মুখসারিতে রয়েছে।" তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এই সংকটে অবদান রাখে এমন তেল ও কয়লা প্রকল্পে অর্থায়নের আগে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করানোই তাদের লক্ষ্য।এদিকে, বার্কলেস ব্যাংক এবং মৈত্রী প্রকল্পের হোল্ডিং কোম্পানি বাংলাদেশ ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিফপিক) অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : সরকারের ‘একটি শিশু একটি গাছ’ প্রকল্পের অধীনে ফরহাদাবাদ স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের হাতে গাছের চারা তুলে দিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
আজ (বুধবার) বিকাল ৫টায় ফরহাদাবাদ স্কুল এন্ড কলেজের মাঠে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের বৃক্ষরোপণ অভিযান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি শিক্ষার্থীদের হাতে গাছের চারা তুলে দেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তোমাদেরকে যে গাছ দিচ্ছি, এটাকে তোমরা তোমাদের পোষা গাছ মনে করে পরিচর্যা করবে। এটার মাধ্যমে তোমাদের দায়িত্বশীলতার পরিচয় পাবে। এটার মাধ্যমে তোমরা সবুজ বাংলাদেশের বিপ্লবে শরিক হতে পারবে।’
মীর হেলাল আরও বলেন, ‘যে চারাগুলো তোমাদেরকে দেওয়া হচ্ছে, তোমরা তোমাদের পোষ্য প্রাণীগুলাকে যেভাবে খুব আদর-যত্নে রাখো এই গাছটাকেও তোমরা সেভাবে আদর-যত্নে বড় করবে।’
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা কিন্তু এক-দুই বছর পরে আবার আসবো। কোন একদিন সংসদ সদস্য মীর হেলালকে নিয়ে তোমাদের চারা গাছ দেখার জন্য তোমাদের বাড়িতে গিয়ে দেখব যে, তোমাদের ওই গাছটি আছে কিনা।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপন, উপ-পরিচালক (হিসাব ও নিরীক্ষা) ও বৃক্ষরোপণ কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মুহাম্মদ একরামুল হক, হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মুমিন এবং ৬০ বছর বয়সী ফরহাদাবাদ স্কুল ও কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি কাজী সাইফুল ইসলাম টুটুল।
এসময় স্কুল এন্ড কলেজের পক্ষ থেকে প্রতিমন্ত্রী, শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান ও সচিবের কাছে সংলগ্ন চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কে শিক্ষার্থীদের পারাপারের জন্য একটি ফুটওভার ব্রিজের দাবি জানান।
এর আগে বিকাল ৪টায় ফরহাদাবাদ স্কুল এন্ড কলেজের ২য় ও ৩য় তলা ঊর্ধ্বমুখি সম্প্রসারন কাজের সূচনা এবং ফরহাদাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী।
এছাড়াও এদিন হাটহাজারীর পার্বতী উচ্চ বিদ্যালয়ে আদম কেয়ার গ্লোবাল ফাউন্ডেশন আয়োজিত জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, সনদ প্রদান ও বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংসদ ভবন, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : আজ জাতীয় সংসদে ১০টি নতুন সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠিত হয়েছে। জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে চিফ হুইপ মো. নুূরুল ইসলাম কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন, যা কণ্ঠ ভোটে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।
কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে দেওয়া হয়েছে। এই কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মো. আমিন উর রশিদ, মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, মোহাম্মদ ফরিদুল কবির তালুকদার, মোহাম্মদ আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, মোহাম্মদ মজিবুর রহমান চৌধুরী, মোসাম্মৎ শামীমা সুলতানা, মোহাম্মদ গোলাম রসূল এবং মোহাম্মদ রায়হান সাঈদী।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব মোহাম্মদ সেলিম ভূঁইয়াকে দেওয়া হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, মোহাম্মদ সেলিমুজ্জামান মোল্লা, মো. জাহাঙ্গীর আলম মিয়া, মোসা. তাহসিনা রুশদী, বীথিকা বিনতে হোসাইন, মোহাম্মদ মজিবুর রহমান এবং আতিকুর রহমান মুজাহিদ।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব রকিবুল ইসলামকে দেওয়া হয়েছে। এই কমিটির সদস্যরা হলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, হাবিবুল ইসলাম, লুৎফর রহমান, মো. রুহুল আমিন দুলাল, মো. শহিদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান, মো. রফিকুল ইসলাম খান এবং মো. মতিয়ার রহমান।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীকে দেওয়া হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ, সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, আলহাজ জসিম উদ্দিন আহমেদ, মোছা. সুরাইয়া জেরিন, শওকত আরা আক্তার, মাছুম মোস্তফা এবং মোহাম্মদ আবু তালিব।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব কলিম উদ্দিন আহমেদকে দেওয়া হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন মো. আবুল খায়ের ভূইয়া, মো. তমিজ উদ্দিন, মো. হারুনুর রশিদ, মোবাশ্বের আলম ভূইয়া, মানসুরা আক্তার, মো. কেরামত আলী, সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা এবং ওবায়দুল্লাহ সালাফী।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব মো. আমানউল্লাহ আমানকে দেওয়া হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান, ইয়াসের খান চৌধুরী, নরসিংদী-৫ আসনের মো. আশরাফ উদ্দিন, জামালপুর-৩ আসনের মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবু, মো. মজিবুর রহমান, নিলুফার চৌধুরী মনি, ফাহমিদা হক, মো. শফিকুল ইসলাম এবং মোসা. নাজমুন নাহার।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব আলহাজ মোহাম্মদ জি কে গউছকে দেওয়া হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, শেখ ফরিদুল ইসলাম, মো. জাহিদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, সরোয়ার আলমগীর, সুলতানা জেসমিন, মো. মাহবুবুল আলম, মো. আব্দুল আলীম এবং মো. আবুল কালাম আজাদ।
ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব নাসের রহমানকে দেওয়া হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, জয়নাল আবেদীন, সরদার সরফ উদ্দিন আহমেদ, শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন, এরশাদুল্লাহ, সুলতানা আহমেদ, মাহবুবুর রহমান বেলাল এবং মাহমুদুল্লাহ।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব রফিকুল ইসলাম জামালকে দেওয়া হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ), মোহাম্মদ শামীম কায়সার আতাউর রহমান খান, নূরুল আমিন, নিপুন রায় চৌধুরী, সূবর্না সিকদার, মো. নূরুল আমিন, মো. আবুল হাসান এবং মো. আব্দুল খালেক।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব সেলিমা রহমানকে দেওয়া হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, রাশেদা বেগম হীরা এবং বিলকিস বেগম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জ্বালানিমন্ত্রীকে আরো কিছুদিন হাসপাতালে থাকতে হবেবিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জ্বর, শ্বাসকষ্ট এবং কাশির সমস্যায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, তার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে।চিকিৎসকদের বরাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য মন্ত্রীকে আরো কিছুদিন হাসপাতালে থাকতে হবে।বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, ৭৬ বছর বয়সী বিদ্যুৎমন্ত্রী মঙ্গলবার রাত ৯টা ৪০ মিনিটে জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও কাশির সমস্যা নিয়ে জরুরি বিভাগে আসেন। তার পূর্ববর্তী রোগের ইতিহাসে রয়েছে ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ। কিছুদিন আগে ব্যাংককে তার হৃদ্যন্ত্রের রক্তনালিতে স্টেন্ট (রিং) স্থাপন করা হয়েছিল।জরুরি বিভাগে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় মন্ত্রীর শ্বাসকষ্ট এবং রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কম পাওয়া যায়। এরপর তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি করা হয়। তার চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে তিন সদস্যের একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রতিবেদন এবং বুকের এক্স-রে পর্যালোচনা করে ফুসফুসে নিউমোনিয়ার বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করা হয়।আজ সকালে ৯টায় বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে আরেকটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী তার চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলমান রয়েছে।বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যুৎমন্ত্রী বর্তমানে শারীরিকভাবে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন। মেডিক্যাল বোর্ডের মতামত অনুযায়ী, পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য তাকে আরো কিছুদিন হাসপাতালে অবস্থান করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
> জাতীয়কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, দুর্নীতি: চাকরি হারালেন ৭ পুলিশ কর্মকর্তাদীর্ঘ সময় ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার পাশাপাশি সরকারি দায়িত্ব পালনে অসদাচরণ, পলায়ন এবং দুর্নীতির অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে সাতজন পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত ও অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাবেক যুগ্ম কমিশনার, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক উপকমিশনার এবং রংপুরের সাবেক পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-১ ও ২ শাখা থেকে পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির নির্দেশনায় জারি করা এই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বরখাস্তের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।
বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন—ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সঞ্চিত কুমার রায়, সাবেক উপপুলিশ কমিশনার মানস কুমার পোদ্দার, রংপুর জেলার সাবেক পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি (সারদা)-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজ আল ফারুক, পুলিশ স্টাফ কলেজের সাবেক সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হাবিবুল্লাহ দালাল, রাজশাহী মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান এবং বরিশাল মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার রাশেদুল ইসলাম।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা দায়ের করে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার পর বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের ভিত্তিতে তাদের চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, সঞ্চিত কুমার রায় ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। মানস কুমার পোদ্দার ২০২৪ সালের ১৮ অক্টোবর থেকে, রংপুরের সাবেক পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান ২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি থেকে এবং হাফিজ আল ফারুক ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, হাবিবুল্লাহ দালাল ও রাশেদুল ইসলাম ২০২৫ সালের ৯ মার্চ থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দীর্ঘ সময় ধরে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার পাশাপাশি এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগও আনা হয়েছে। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার উপবিধি ৩(খ) ও ৩(গ) অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, দুর্নীতির অভিযোগে রাজশাহী মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) মোহাম্মদ রোকনুজ্জামানকেও চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে উপপরিদর্শক (এসআই) পদে চাকরি দেওয়ার নামে মো. কামরুজ্জামানের কাছে ১৭ লাখ টাকা দাবি করার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে কামরুজ্জামান তাকে ৫ লাখ ৫২ হাজার ১৬৩ টাকা প্রদান করেন।
কিন্তু চাকরি না হওয়ায় কামরুজ্জামান ওই টাকা ফেরত চাইলে, টাকা ফেরত না পেয়ে তিনি পুলিশ সদর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে রুকনুজ্জামানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। এর ফলস্বরূপ, তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মন্তব্য করেছেন যে, বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার এবং দায়িত্বে অবহেলার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণের এই সিদ্ধান্তগুলো নজির হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ