প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
> বিশ্বরামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের অর্থায়ন নিয়ে যুক্তরাজ্যের ব্যাংক বার্কলেসের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন যে, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারণে সৃষ্ট দূষণ এবং জলবায়ু ঝুঁকি সুন্দরবন, যা বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী স্থান, সেখানে বিপদের সৃষ্টি করছে।বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের নিকটে অবস্থিত রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে আর্থিক সম্পর্কের অভিযোগে বার্কলেস ব্যাংকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের বক্তব্য হলো, প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার আগে ব্যাংকটি পরিবেশ ও মানবাধিকারের ঝুঁকি যথাযথভাবে মূল্যায়ন করেনি।বাংলাদেশ ও ভারতের সুন্দরবন অঞ্চলের তিন ব্যক্তি ও সংগঠন যুক্তরাজ্যের অফিস ফর রেস্পন্সিবল বিজনেস কন্ডাক্টে এই মামলা করেছেন। যুক্তরাজ্যের ব্যবসা ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই দপ্তর অভিযোগটি তদন্তের জন্য গ্রহণ করবে কিনা, তা পর্যালোচনা করবে।অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, যা মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রকল্প নামে পরিচিত, এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ এবং বন্ড ইস্যুর ক্ষেত্রে আন্ডাররাইটিং সেবা প্রদান করেছে বার্কলেস। অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন যে, এভাবে ব্যাংকটি আন্তর্জাতিক দায়িত্বশীল ব্যবসা পরিচালনার নির্দেশনা লঙ্ঘন করেছে।ঢাকাভিত্তিক পরিবেশকর্মী শরীফ জামিল, যিনি অভিযোগকারীদের একজন, তিনি বলেছেন, "রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র ও এর আশপাশের শিল্পকারখানা থেকে ভারী ধাতুর দূষণ সুন্দরবনের আন্তঃসংযুক্ত নদী ও খালগুলোর মাধ্যমে বনে প্রবেশ করছে।" তিনি আরও বলেন, "রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরবনের প্রাণরেখা পশুর নদীর তীরে অবস্থিত। সুন্দরবনের স্বাস্থ্য এখন হুমকির মুখে।"গত নভেম্বরে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সুন্দরবনের বিভিন্ন স্থানের পানিতে পারদ ও আর্সেনিকের মাত্রা বেড়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ঘনত্ব পশুর নদীতে পাওয়া গেছে। গবেষকরা শিল্পবর্জ্য ও বন্দরকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডকে ভারী ধাতু দূষণের প্রধান উৎস হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রকে সুন্দরবনের জন্য "উল্লেখযোগ্য পরিবেশগত হুমকি" হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা কয়লা পোড়ানোর ফলে নির্গমন এবং নৌযান চলাচলের বৃদ্ধির কারণে সৃষ্টি হচ্ছে।সুন্দরবন বাংলাদেশের ও ভারতের উপকূলীয় অঞ্চলের লাখো মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। নদী ও বন থেকে খাদ্যসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদ সংগ্রহের ওপর নির্ভরশীল এসব মানুষের পাশাপাশি সুন্দরবন বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্যপূর্ণ অঞ্চল। ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত এই বনভূমিতে শতাধিক দ্বীপ এবং বেঙ্গল টাইগারসহ অসংখ্য উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে।অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেছেন, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্গমন বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়াবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইতিমধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ এই অঞ্চলে ম্যানগ্রোভ বন ঘূর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা হিসেবে কাজ করে।বার্কলেসের আর্থিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের বিষয়ে অভিযোগকারীদের সহায়তাকারী কিংস লিগ্যাল ক্লিনিক জানিয়েছে, বার্কলেস ভারতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এনটিপিসি লিমিটেড-এর ঋণ আন্ডাররাইট করেছে। প্রতিষ্ঠানটি রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের যৌথ অংশীদারদের একটি।শরীফ জামিল বলেছেন, "আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সিদ্ধান্তের প্রভাব বিবেচনা করার দায়িত্বও রয়েছে।" তিনি মনে করেন, অন্যান্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান যখন প্রকল্পটি থেকে সরে গেছে বা অর্থায়ন প্রত্যাখ্যান করেছে, তখন বার্কলেসসহ অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানেরও নিজেদের নীতি পুনর্বিবেচনা করা উচিত।তিনি জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, "সারা বছর সূর্যালোক পাওয়া যায় এমন বাংলাদেশে বিপুল সৌরবিদ্যুৎ সম্ভাবনা রয়েছে।" তাই আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির সম্প্রসারণের পরিবর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।ক্লিনিকের আইনজীবী সু উইলম্যান বলেছেন, "সুন্দরবনের গ্রামীণ জনগোষ্ঠী জলবায়ু ও প্রকৃতির সংকটের সম্মুখসারিতে রয়েছে।" তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এই সংকটে অবদান রাখে এমন তেল ও কয়লা প্রকল্পে অর্থায়নের আগে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করানোই তাদের লক্ষ্য।এদিকে, বার্কলেস ব্যাংক এবং মৈত্রী প্রকল্পের হোল্ডিং কোম্পানি বাংলাদেশ ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিফপিক) অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন