০৭:২৪ পি.এম
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আবদুল মালেক পে স্কেল শতভাগ বাস্তবায়নসহ সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দাবি করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, কর্মচারীদের মধ্যে একটি চরম হতাশা কাজ করছে যে, আসলে আমরা ৫০ শতাংশ পাব নাকি ১০০ শতাংশ পাব? তবে, সরকার থেকে আমরা এখনো কোনো আপডেট জানি না।
সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আবদুল মালেক এসব মন্তব্য করেন।
আবদুল মালেক বলেন, ‘সরকার ক্ষমতায় আসার পর আমাদের শুধু শোনা যাচ্ছে যে পে স্কেল হচ্ছে। কিন্তু আদৌ পে স্কেল হবে কি না, সেটা জানতে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি, যেমন নীতিনির্ধারক মন্ত্রী বা অর্থসচিবের কাছে তথ্য পাইনি। আমরা বারবার দাবি করে আসছিলাম যে, অন্তত বাজেট শুরু হওয়ার আগে সরকারের পক্ষ থেকে একটা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আমাদের জানানো হোক যে পে স্কেলটা হচ্ছে। তাহলে কর্মচারীদের মধ্যে যে হতাশা বিরাজ করছে, সেটি না থাকত।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করি, সরকার বিষয়গুলো চিন্তাভাবনা করেই পে স্কেল বাস্তবায়নের দিকে এগুবে।
আবদুল মালেক জানিয়েছেন, তিনি দীর্ঘ ১১ বছর পর পে স্কেল কোনো ধাপে চান না, একবারেই সব দেয়ার পক্ষে। এতে হয়তো কিছু সমস্যা সৃষ্টি হবে, তবে তার ফলস্বরূপ অসাধু ব্যবসায়ীরাও দাম বৃদ্ধির সুযোগ পাবে না। এমনকি কর্মচারীরাও উপকৃত হবে।
তিনি বক্তব্যে বলেন, হয়তো আমরা এটা বলতে পারি যে দেশের উন্নয়ন প্রতিবছর হচ্ছে। বাজেটও প্রতিবছর হবে কিন্তু পে স্কেল তো প্রতিবছর হবে না। পে স্কেল একবারেই কার্যকর হবে। এটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন হলে অন্যান্য দিক থেকে বরাদ্দ বাড়াতে হবে, তাহলে কর্মচারী অঙ্গন সরকারের প্রতি আরও বিশ্বস্ত ও নির্ভরশীল হবে, এটাই আমাদের ধারণা।
জানা গেছে, পুরো নতুন বেতন কাঠামো একসঙ্গে কার্যকর না করে, তিনটি অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। আগামী জুলাই মাস থেকেই সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন বেসিক বেতনের অর্ধেক অংশ পেতে শুরু করবেন। পরবর্তী অর্থবছরে বাকি অর্ধেক বেসিক কার্যকর করা হবে। এরপর ২০২৮-২০২৯ অর্থবছরে নতুন পে স্কেলের আওতায় নির্ধারিত বিভিন্ন ভাতা ও সুবিধা ধাপে ধাপে চালু করা হবে।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
আসন্ন বাজেটে ৩০ থেকে ৩৭ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ ‘থোক বরাদ্দ’ রাখার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী ৭ জুন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। তবে, এদিন পে স্কেলের বরাদ্দ হিসেবে কিছু ঘোষণা হবেনা। এদিন বেলা ৩টায় রাষ্ট্রপতির আহ্বানে জাতীয় সংসদ ভবনে এ অধিবেশন শুরু হবে।
এরপর আগামী ১১ জুন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট সংসদে পেশ করবেন। সে দিনই পে স্কেলে বরাদ্দের বিষয়ে চূড়ান্ত তথ্য জানা যাবে।
নবম জাতীয় পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ১ম গ্রেড থেকে শুরু করে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত বিদ্যমান পুরো বেতন কাঠামোতে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।
এদিকে, কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশনপ্রাপ্তদের পেনশন প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। যাদের মাসিক পেনশন ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে, তাদের ক্ষেত্রে প্রায় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। আর ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে প্রায় ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন
এ ছাড়া প্রবীণ পেনশনভোগীদের জন্য চিকিৎসাভাতা বাড়ানোর প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ৭৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনভোগীদের চিকিৎসাভাতা ১০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে, যা বর্তমান ৮ হাজার টাকা। অপরদিকে, ৫৫ বছরের কম বয়সী পেনশনভোগীদের জন্য চিকিৎসাভাতা ৫ হাজার টাকা নির্ধারণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন