প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দীর্ঘ ১১ বছরের অপেক্ষা শেষে এবং প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি দিয়ে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের আশায় দিন গুনছিলেন। কিন্তু বাজেটের প্রাক্কালে, সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য আসেনি। এমন রহস্যময় পরিস্থিতির মধ্যে, কাঙ্ক্ষিত নতুন বেতন গ্রেড সময়মতো বাস্তবায়ন হবে কি না, তা নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেই গভীর শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, নতুন পে-স্কেল নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে যেসব তথ্য এসেছে, তা সবই সংবাদমাধ্যমের সূত্রে। সরকারের কোনো মন্ত্রী, এমপি, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কিংবা পে-কমিশনের কোনো সদস্য এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে স্পষ্ট বা ন্যূনতম কোনো তথ্য আনুষ্ঠানিক ভাবে শেয়ার করেননি। বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ও এ বিষয়ে ধোঁয়াশা দেখা গিয়েছিল, যা বর্তমান সরকারের সময়েও বজায় রয়েছে। এ কারণে চাকরিজীবীদের মনে প্রশ্ন উঠছে–১ জুলাই থেকে কি আসলেই পে-স্কেল বাস্তবায়ন হচ্ছে? আর যদি হয়, তবে তা কোন প্রক্রিয়ায় হবে? এ প্রসঙ্গে ক্ষোভ ও শঙ্কা প্রকাশ করে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আবদুল মালেক একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মনের ভেতরে একটা ভয় থেকেই যাচ্ছে যে সরকার তো কিছুই বলেনি। আনুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রতি মুহূর্তে ব্রিফিং-বিবৃতি দেয়া হলেও আসন্ন পে-স্কেল নিয়ে আজ পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট ঘোষণা আমরা পাইনি। অর্থ মন্ত্রণালয় বা অর্থসচিবের পক্ষ থেকেও কোনো বক্তব্য আসেনি। যার কারণে কর্মচারীদের মধ্যে এই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে যে আসলেই কি পে-স্কেল হচ্ছে?’ তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, দীর্ঘ ১১ বছর ধরে কর্মচারীরা এই পে-স্কেলের জন্য অপেক্ষা করছেন। প্রধানমন্ত্রীও তার নির্বাচনী ইশতেহারে ক্ষমতায় এলে পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন। আগামী ১১ জুন এই সরকারের প্রথম বাজেট এবং এটি প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশাল বাজেট হতে যাচ্ছে। চাকরিজীবীদের আশা, এই বিশাল বাজেটে যেন তাদের ভাগ্য নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয় এবং দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়। অন্যদিকে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রয়াসকে স্বাগত জানালেও ‘ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের’ খবরে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ৩১ মে সংগঠনের আহ্বায়ক আবদুল মালেক ও সদস্যসচিব আশিকুল ইসলামের পাঠানো একটি যৌথ বিবৃতিতে প্রথম ধাপেই শতভাগ মূল বেতন (বেসিক) বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১১ বছরে কর্মচারীদের বেতনে কোনো মৌলিক পরিবর্তন আসেনি, অথচ জীবনযাত্রার ব্যয় ও দ্রব্যমূল্য আকাশচুম্বী হয়ে গেছে। ফলে অনেক নিম্নপদস্থ কর্মচারী জীবিকার তাগিদে চাকরির পাশাপাশি অতিরিক্ত খণ্ডকালীন কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা খুবই লজ্জাজনক। সংবাদমাধ্যমের সূত্রে জানা গেছে, এবার তিন ধাপে তিন বছরে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়িত হতে পারে। তবে সমিতির নেতারা জানাচ্ছেন, অতীতের নিয়ম অনুযায়ী পে-স্কেল প্রদানের আগে ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা দেয়া হতো এবং প্রথম ধাপে শতভাগ বেসিক ও দ্বিতীয় ধাপে সব ভাতা কার্যকর করা হতো। এবারের ক্ষেত্রেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা প্রয়োজন। অবশ্য দায়িত্বশীল সরকারি সূত্রগুলো থেকে আভাস পাওয়া গেছে, নতুন বেতন কাঠামোটি পুরোপুরি কার্যকর করতে তিনটি অর্থবছর লাগবে। খসড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন বেসিক বেতনের অর্ধেক (৫০ শতাংশ) অংশ পেতে শুরু করবেন। এর পরের অর্থবছরে বাকি অর্ধেক বেসিক কার্যকর হবে। সবশেষ ২০২৮-২৯ অর্থবছরে নতুন পে-স্কেলের আওতাধীন বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা ধাপে ধাপে চালু করা হবে। সরকারের এই ‘ধীরে চলো নীতি’র কারণেই মূলত কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটতে যাচ্ছে আগামী সপ্তাহে। আগামী ৭ জুন বিকেল ৩টায় রাষ্ট্রপতির আহ্বানে শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন। এরপর আগামী ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করবেন। সেদিনই বাজেটের বরাদ্দ খতিয়ান থেকে পরিষ্কার হবে–সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাগ্য নিয়ে সরকারের নীরবতার আড়ালে আসলে কী রয়েছে এবং নতুন পে-স্কেল নিয়ে শঙ্কা কাটছে কি না বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন