ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চলতি বছরে বিশ্বের ২৬ রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের চীন সফর


চলতি বছরে বিশ্বের ২৬ রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের চীন সফর

চলতি বছরে চীনে বিশ্বনেতাদের একের পর এক সফর হচ্ছে, যা দেশটির ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক প্রভাবের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালে, এখন পর্যন্ত ২৩টি দেশের ২৬ জন শীর্ষ নেতা এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা চীন সফর করেছেন।

সর্বশেষ এই তালিকায় যোগদান করেছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়ভেট কুপার। তিনি তিন দিনের সফরে বর্তমানে বেইজিংয়ে অবস্থান করছেন, যেখানে তিনি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং-ই এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সফরের পর, তিনি দেশের দক্ষিণের প্রযুক্তিনগরী শেনজেনে প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান সহযোগিতার বিষয় নিয়ে সফর করবেন।

চীন সফরকারী নেতাদের মধ্যে রয়েছেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, চ্যান্সেলর, ক্রাউন প্রিন্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। তালিকায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, জার্মানি, কানাডা, স্পেন, পাকিস্তান, ইরান, ব্রাজিল, ভিয়েতনামসহ ইউরোপ, এশিয়া, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং লাতিন আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলো।

আরও পড়ুন: ১ নভেম্বর থেকে ইইউর বাইরে আসা পার্সেলে নতুন ২ ইউরো ফি কার্যকর

বিশ্লেষকদের মতে, চীনে এই ধারাবাহিক সফরের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তি সহযোগিতা জোরদার করা। বিশেষ করে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে বেশিরভাগ দেশ চীনের বিশাল বাজার এবং বিনিয়োগ সম্ভাবনাকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে চাইছে।

এদিকে, চলতি বছরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বিদেশ সফরের পরিবর্তে দেশেই বিদেশি অতিথিদের স্বাগত জানাচ্ছেন, যা বেইজিংয়ের ‘হোস্ট-ডিপ্লোমেসি’ কৌশল হিসেবে মনে করা হচ্ছে।

আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, সফরকারী দেশগুলোর মধ্যে ইউরোপীয় দেশগুলোর উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি, যা মোট তালিকার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। যুক্তরাজ্য, জার্মানি, স্পেন, আয়ারল্যান্ড এবং ফিনল্যান্ডের মতো দেশগুলোর নেতারা বাণিজ্য এবং কৌশলগত মতবিরোধ থাকা সত্ত্বেও চীনের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

আরও পড়ুন: কানাডার সঙ্গে শিগগিরই বাণিজ্য চুক্তি হবে: ট্রাম্প

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মমতা ব্যানার্জীর দল তৃণমূল কংগ্রেস কি ভাঙনের দিকে এগোচ্ছে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:২৭ এম


মমতা ব্যানার্জীর দল তৃণমূল কংগ্রেস কি ভাঙনের দিকে এগোচ্ছে?

বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির এক মাস হওয়ারও কম সময়ের মধ্যে, পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় প্রায় দেড় দশক ধরে থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের দলে ভাঙনের চিহ্ন ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

ভোটের পরে বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের প্রস্তাবনা পত্রে বিধায়কদের স্বাক্ষরে অসংগতির অভিযোগ তুলে নবনির্বাচিত দুই বিধায়ক ঋতব্রত ব্যানার্জী এবং সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কার করার পর, দলের একটি অংশ ‘বিদ্রোহী’ হয়ে উঠেছে বলে জানা যাচ্ছে। খবর বিবিসি বাংলার।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন যে তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশ ‘বিদ্রোহী’ হয়ে উঠেছে তার একটি নমুনা হতে পারে গত রবিবারের ঘটনা, যখন মমতা ব্যানার্জী নবনির্বাচিত ৮০ জন বিধায়ককে এক বৈঠকে ডেকেছিলেন, কিন্তু সেখানে মাত্র কুড়ি জন হাজির ছিলেন।

এই অবস্থায় দলের অন্দরের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে বলতে শোনা গেছে যে তৃণমূল ‘কার্যত উঠে যাওয়া একটা পার্টি।’ অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও মমতা ব্যানার্জী দাবি করেছেন যে তৃণমূলকে ভাঙা কখনোই সম্ভব নয়।

এরপরেই সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সংবাদ সম্মেলনে জানিয়ে দেন যে বিধায়কদের স্বাক্ষরে অসংগতির অভিযোগটা বিধানসভার স্পিকারের কাছে তৃণমূল কংগ্রেসেরই দুই বিধায়কের—ঋতব্রত ব্যানার্জী ও সন্দীপন সাহা—কাছে জানানো হয়েছিল।

এছাড়া দলটির অনেক নেতা, মুখপাত্র, বিধায়কও ভোটে হারের পর থেকেই দলের শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও মমতা ব্যানার্জীর ভাইপো অভিষেক ব্যানার্জীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে শুরু করেছেন।

ঋতব্রত ব্যানার্জীও সেইসব নেতাদের মধ্যে ছিলেন। এর মধ্যেই দিল্লি সফরে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত এই বিধায়ক ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সামান্য কথাও হয়। তবে এতে জল্পনা চলছিল যে তিনি বিজেপিতে যোগ দিতে যাচ্ছেন কিনা।

বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেন সিপি(আই)এম দল থেকে বহিষ্কৃত এই নেতা। বিজেপিও জানিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস বা অন্যদল থেকে কাউকে নেওয়া হবে না।

তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হয়ে কথিত ‘বিদ্রোহীদের’ নেতৃত্বে থাকা ঋতব্রত ব্যানার্জী ও সন্দীপন সাহার পরিকল্পনায় দলের ফাটল ‘চওড়া’ হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন অনেকেই।

যদি নির্বাচিত বিধায়কদের সিংহভাগের ‘সমর্থন’ তারা পান, তাহলে এদের মধ্য থেকেই কেউ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার পদ দাবি করতে পারেন।

বিজেপির তাপস রায় এই প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে চুরমার। মহারাষ্ট্রের মতো অবস্থা হয়েছে তৃণমূলের। বিধানসভার স্পিকার এর কাছে প্রায় ৫০ জন টিএমসির বিধায়ক নিয়ে পৌঁছে গেছে ঋতব্রত।

মঙ্গলবার বিধানসভায় প্রবেশের আগে ঋতব্রত ব্যানার্জীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমাকে তৃণমূল বহিষ্কার করতে পারে, কিন্তু তাতে মমতা ব্যানার্জীর প্রতি আমার শ্রদ্ধা এতটুকুও কমে যায় না। তিনি আমাদের সকলের নেত্রী।”

তবে তাপস রায়ের মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি আর সন্দীপন যৌথভাবে স্পিকারকে বিষয়টা জানিয়েছেন। আমি আমার আর সন্দীপনের দায় নিতে পারব, তবে কোনো জল্পনাকে ইন্ধন দেওয়ার মতো কোনো উপাদান আমার কাছে নেই।”

সই সংক্রান্ত অসংগতির অভিযোগ সম্পর্কে জানতে হলে দিতে হবে কয়েকদিন পিছনে যেতে।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় কে বিরোধী দলনেতা হবেন, তা ঠিক করতে গত ছয়ই মে মমতা ব্যানার্জীর বাড়িতে বিধায়কদের একটি বৈঠক হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, বিধানসভায় এ সংক্রান্ত প্রস্তাবনা জমা দেওয়ার কথা।

বিধানসভায় তৃণমূল বিধায়কদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের পর নিয়ম মেনে সই করেন সমস্ত বিধায়কেরা। স্পিকারের তরফে বিরোধী দল হিসাবে তৃণমূলের কাছ থেকে বিরোধী দলনেতার নাম নিয়ে প্রস্তাবনা পত্র চাওয়া হয়। পরবর্তীতে ১৯শে মে আবার কালীঘাটে বৈঠক ডাকেন মমতা ব্যানার্জী। কিন্তু ওই দিন অনেকে অনুপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ। উপস্থিত সকলের সই নেওয়া হয় দলের পক্ষ থেকে। সমস্যা শুরু হয়ে ওই প্রস্তাবনাকে ঘিরেই। বিধায়কদের সইতে অসংগতি রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসার পর তৃণমূল পাল্টা অভিযোগ তোলে যে এর নেপথ্যে রয়েছে বিজেপি।

সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দেন যে বিজেপি নয়, তৃণমূলের টিকিটে বিধানসভা ভোটে জিতে আসা ঋতব্রত ব্যানার্জী ও সন্দীপন সাহা বিধানসভার স্পিকারের কাছে ওই বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন।

তারপরেই তৃণমূল কংগ্রেস ওই দুই বিধায়ককে বহিষ্কার করে। তাদের বিরুদ্ধে ‘দল বিরোধী কার্যকলাপের’ অভিযোগ তোলে।

এদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়কদের স্বাক্ষরে অসংগতির অভিযোগ ওঠার পর কলকাতার হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। পরে মুখ্যমন্ত্রী মামলার তদন্তের ভার রাজ্য পুলিশের সিআইডিকে দেন।

সংশ্লিষ্ট নথি দেখিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ তুলেছেন, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা, উপ-দলনেতা এবং মুখ্য সচেতকের নাম প্রস্তাবনা পত্রে বিধায়কদের যে স্বাক্ষর রয়েছে তার মধ্যে বেশ কয়েকটি ইংরেজির ব্লক লেটারে রয়েছে। তিনি জানিয়েছেন তদন্তের সময় বিধায়কদের অনেকে জানিয়েছেন, তারা নাকি ওই প্রস্তাবনায় সই-ই করেননি।

এ বিষয়ে অভিষেক ব্যানার্জীকে তলব করেছিল সিআইডি। সোমবার ‘শারীরিক অসুস্থতার’ কারণ দেখিয়ে হাজিরা দেননি অভিষেক ব্যানার্জী।

সইয়ে অসংগতির অভিযোগ ও তৃণমূলের তরফে বহিষ্কার প্রসঙ্গে ঋতব্রত ব্যানার্জী বলেছেন, “বিধায়ক বা সাংসদ হিসাবে কেউ যখন শপথ গ্রহণ করেন, তখন তিনি সংবিধানের নামে শপথ নেন। ভয় বা পক্ষপাতের উর্দ্ধে উঠে তারা কাজ করেন। যা হয়েছে তা ঠিক হয়নি।”

তিনি বলেন, “দলের বৈঠকে যখন আমরা দ্বিতীয়বার যাই, তখন বলা হয়েছিল ১৯ মে তারিখে মিটিং, কিন্তু আপনারা সই করার সময় তারিখ ছয়ই মে লিখুন। আপনি প্রশ্ন করতে পারেন, এতদিন কেন বলেননি। আসলে অত সাহস ছিল না।”

তিনি আরও বলেন, “আমার আগে অনেকে সই করেছিলেন, আমি দেখলাম এমন অনেকের সই রয়েছে যারা বৈঠকেই আসেননি।”

তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত আরেক বিধায়ক সন্দীপন সাহা বার্তাসংস্থা এএনআইকে বলেছেন, “দলে নৈতিক কথাবার্তা বললেই দলবিরোধী কার্যকলাপের দায়ে অভিযুক্ত করা হয়, কারণ দল নিজেই নৈতিক আচরণ করে না।” তবে দলের পদক্ষেপ নিয়ে তার ‘আক্ষেপ নেই’ বলেই জানিয়েছেন তিনি।

তার কথায়, “যদি নৈতিক কাজের জন্য দল থেকে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তাহলে আমি খুশি। কারণ নৈতিক কাজ করাই আইনপ্রণেতাদের দায়িত্ব এবং আমরা ঠিক সেটাই করেছি।”

এই দুই বিধায়কের পদক্ষেপ নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্য, ঋতব্রত ব্যানার্জী ও সন্দীপন সাহার উচিত ছিল এই বিষয়ে বিধানসভার স্পিকারের বদলে তৃণমূলকে জানানো।

ঋতব্রত ব্যানার্জীর নাম না করেই মমতা ব্যানার্জী ফেসবুক লাইভ থেকে বলেছেন, “সিপিএম করত। আমাদের ভুল হয়েছে তাকে টিকিট দেওয়া। পায়ে এসে পড়েছিল। সেদিন সিপিএম ঠিক করেছিল।” একদা সিপি(আই)এম’র তরফে রাজ্যসভার সাংসদ করা হয়েছিল ঋতব্রত ব্যানার্জীকে। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ২০১৭ সালে একাধিক অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করে সিপি(আই)এম। পরে তৃণমূলে যোগ দেন এবং চলতি বিধানসভা ভোটে তাকে প্রার্থীও করে তৃণমূল।

সেই প্রসঙ্গ টেনে কটাক্ষ করেছেন মমতা ব্যানার্জী।

দলের দুই অধুনা বহিষ্কৃত বিধায়ক সম্পর্কে কুণাল ঘোষ বলেছেন, “জিতে গেলে, সরকার গড়লে সব ভালো। আর আজ দল ক্ষমতায় নেই বলে সব খারাপ হয়ে গেল? তাহলে দলের টিকিটে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন কেন?”

তৃণমূল কংগ্রেস বহিষ্কার করার পর, দলের বিধায়ক সংখ্যা ৮০ থেকে কমে ৭৮তে দাঁড়িয়েছে।

যদি তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কই ধরা যায়, তাহলে দুই-তৃতীয়াংশ বা তার বেশি অর্থাৎ, অন্তত ৫৩ জন বিধায়ক দলত্যাগ করতে রাজি হন, তাহলে বিরোধী দলনেতার পদের দাবি জানাতে পারেন।

ইতোমধ্যে জল্পনা শুরু হয়েছে যে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কদের একটি বড় অংশ নাকি বেরিয়ে যেতে পারেন। তৃণমূল অবশ্য সেই জল্পনা খারিজ করে দিয়েছে।

কলকাতার সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক শিখা মুখার্জী বলেছেন, “কোনো দলের ভাঙনের ক্ষেত্রে পুশ ও পুল এ দুই ফ্যাক্টর কাজ করে। মমতা ঋতব্রত এবং সন্দীপনকে ছাড়া এই মুহূর্তে কাউকে বহিষ্কার করেননি। আর পুল ফ্যাক্টর বলতে বিজেপির শমীক ভট্টাচার্য আগেই জানিয়েছেন, অন্য দল ছেড়ে বেরিয়ে আসা কাউকে তারা নেবেন না। অন্যদিকে কংগ্রেসও তৃণমূলের কাউকে নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখায়নি।”

সম্প্রতি অভিষেক ব্যানার্জীসহ দলের বিভিন্ন নেতাকে ঘিরে যেভাবে বিক্ষোভ দেখা গিয়েছে, তেমনটাও আগে দেখা যায়নি।

বিবিসি বাংলার সিনিয়র সাংবাদিক শুভজ্যোতি বলেন, “এ দলের সে অর্থে কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শ নেই। দলটি পুরোপুরি নেত্রী মমতা ব্যানার্জী কেন্দ্রিক, তাঁর ইচ্ছা-অনিচ্ছাই দলে শেষ কথা– আর এ কারণেই মমতা নিজে যখন কোণঠাসা, তৃণমূল কংগ্রেসও দল হিসেবে দিশেহারা অবস্থায় পড়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “শুধুমাত্র মমতা ব্যানার্জীর সাফল্যের কারণেই দলটি এতদূর আসতে পেরেছিল। কিন্তু তাঁর শক্ত ঘাঁটি ভবানীপুর আসন থেকেও মমতার শোচনীয় পরাজয়ের পর দলের ভাঙন স্পষ্টতই দৃশ্যমান।”

শুভজ্যোতি জানিয়েছেন, “আজকের তারিখেও লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের ৪২ জন সংসদ সদস্য, রাজ্য বিধানসভায় ৮০ জন বিধায়ক এবং পশ্চিমবঙ্গে ৪১ শতাংশ ভোট রয়েছে। তবুও, যে প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, তা এক অর্থে মমতা ব্যানার্জীর জন্য। বলা হচ্ছে তিনি অভিষেক ব্যানার্জীর বিরুদ্ধে যতই অভিযোগ থাক, তা নিয়ে কিছুই করেননি এবং পরিবারের বিষয়ে চোখ বন্ধ রেখেছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

'ইরান সরকারের ভিত্তি নড়ে গেছে, এটি ভেঙে পড়তে বাধ্য : নেতানিয়াহু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:৩২ এম


দখলদার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরান সরকারের মূল ভিত্তিগুলোতে ফাটল ধরেছে।

তিনি বলেছেন, এই শাসনব্যবস্থার পতন এখন অনিবার্য।

নেতানিয়াহু মঙ্গলবার (২ জুন) গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের বিদায়ী প্রধান ডেভিড বার্নিয়ার বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন। ইসরাইন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তাঁর বক্তব্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিদায়ী অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহু উল্লেখ করেন, "ইরানকে ইতোমধ্যে তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য অত্যন্ত ভারী মূল্য দিতে হয়েছে।" তিনি বলেন, "দেশটির বর্তমান সন্ত্রাসী শাসনব্যবস্থার ভিত নড়ে গেছে এবং এটি আর কখনোই আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারবে না।"

তিনি জোর দিয়ে বলেন, "ইরানের এই শাসনব্যবস্থার পতন নিশ্চিত।" একই সাথে ইসরাইলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী যেকোনো শত্রুকে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেছেন, "তাদের সব পরিকল্পনা ব্যর্থ হবে এবং এর জন্য তাদের চড়া মূল্য দিতে হবে।"

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় বৈরুতে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে পরিকল্পিত হামলা থেকে পিছু হটবার পরপরই নেতানিয়াহুর এই হুঁশিয়ারি সামনে এলো।

অনুষ্ঠানে মোসাদের বিদায়ী প্রধান ডেভিড বার্নিয়ার পাঁচ বছরের মেয়াদের ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, "বার্নিয়ারের মেয়াদকাল ছিল ইসরাইলের ইতিহাসের অন্যতম সবচেয়ে ভাগ্যনির্ধারক সময় এবং তার নেতৃত্বে মোসাদ অসংখ্য স্মরণীয় সাফল্য অর্জন করেছে।"

মোসাদে ৩০ বছরের নিবেদিত সেবা এবং বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরার জন্য তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য তিনি বার্নিয়াকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

ডেভিড বার্নিয়ারের বিদায়ের পর মোসাদের নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন নেতানিয়াহুর বিদায়ী সামরিক সচিব মেজর জেনারেল রোমান গফম্যান।

সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঘুমের অভাব নয়, চোখের নিচে কালি জমার রয়েছে অন্যান্য কারণও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:৩৫ এম


ঘুমের অভাব নয়, চোখের নিচে কালি জমার রয়েছে অন্যান্য কারণও

চোখের নিচের কালো দাগ কেবল ঘুমের অভাবের ফল নয়; বরং পানিশূন্যতা, অ্যালার্জি, ভিটামিনের অভাব এবং দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারের ফলেও এটির সৃষ্টি হতে পারে। তবে, আমরা অনেকেই ভাবি— চোখের নিচে কালি? নিশ্চয়ই ভালো ঘুম হয়নি। কিন্তু এটি সঠিক নয়; চোখের নিচে কালি হওয়ার নেপথ্যে আরও বিভিন্ন কারণ রয়েছে, যেসব কারণে ছোপের ধরন পরিবর্তিত হয়। সুতরাং কারণগুলো জানলে সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়া সহজ হয়। তাই আমাদের জানা প্রয়োজন যে, কার চোখের নিচে কেন এবং কী কারণে কালি পড়ে।

এ বিষয়ে চর্মরোগ চিকিৎসক প্রণীতা জৈন কিছু কারণ উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে প্রধান কারণ হল— দাগ-ছোপের কারণে চোখের নিচে কালি পড়া। এই কালি কালো বা বাদামি রঙের হতে পারে। অতিরিক্ত মেলানিন উত্পাদনের জন্য এই কালি চোখের নিচে অবস্থান করতে পারে। এই উপসর্গের কারণ হতে পারে জিনগত, রোদের তাপ, অ্যালার্জি কিংবা প্রদাহ।

দ্বিতীয়ত, চোখের গর্তের কারণে কালি পড়ে। যদি চোখের নিচের অংশ গর্ত হয়ে যায় অথবা বসে যাওয়ার মতো দেখায়, তখন সেই ছায়ার কারণেও কালো দাগ চোখে পড়তে পারে। বয়স বাড়ার সাথে বা ওজন কমলে চোখের নিচে চর্বির স্তর সঙ্কুচিত হয়ে যাওয়ার ফলে সেখানে সুনির্দিষ্ট একটি গর্ত তৈরি হয়। ছায়ার কারণে এটি কালো দেখায়। যদি চোখের ওপরের দিকে তাকানোর পর এই কালো ছোপ বিশ্রাম পায়, তবে বুঝতে হবে যে এটি দাগ নয়, বরং ছায়া।

তৃতীয়ত, ত্বকের রঙের বৈচিত্র্যের কারণে চোখের নিচে কালি পড়তে পারে। ত্বকে কিছুকাল রেখা তৈরি হয়ে যায়, যার ফলে মুখের একেক জায়গায় আলাদা রঙ তৈরি হয়। চোখের নিচের অংশ এবং গালের মাঝে স্পষ্ট রেখা তৈরি হতে পারে। অনেকেই এটিকে চোখের নিচের কালি ভেবে ভুল করেন। এটি কোন রোগ নয়; বরং ত্বকের গঠনের কারণেই এমনটি ঘটে। অতিরিক্ত রোদ, হরমোনের পরিবর্তন বা কিছু প্রসাধনীর ব্যবহার এই দাগকে আরও স্পষ্ট করতে পারে।

চতুর্থত, সূক্ষ্ম রেখার জন্য ছায়া তৈরি হয়। বয়স বাড়ার কারণে চোখের নিচের ত্বক কুঁচকে বা ঝুলে যায় এবং ভাঁজ তৈরি হয়। ত্বকে কোলাজেনের অভাবের কারণে চোখের নিচে এই ছাপ পড়তে পারে। ভাঁজগুলোর কারণে সৃষ্টি হওয়া ছায়া অনেকেই ভুলবশত ডার্ক সার্কল মনে করেন।

পঞ্চমত, রক্তনালির কারণে চোখের নিচে কালি সৃষ্টি হয়। এর ফলে চোখের তলায় হালকা বেগুনি ও গোলাপি রঙের ছাপ দেখা যায়। এটি ক্লান্তির সময় বেশি নজরে আসে। ত্বকের রঙ যদি হালকা হয়, তবে এটি আরো বেশি বোঝা যায়। চোখের তলার ত্বক অত্যন্ত পাতলা হওয়ায় রক্তনালিগুলো দৃশ্যমান হয়। ফলে রক্তনালির ফুটে ওঠা রঙ চোখের তলায় দেখা যায়। ক্লান্তির সময় যখন রক্ত সঞ্চালনের গতি কমে, জলশূন্যতা দেখা দেয়, এবং ঘুমের অভাব থাকে; তখন এই রঙ আরো স্পষ্ট হয়ে উঠে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেবাচিম হাসপাতালের ওষুধের স্টোররুমে অগ্নিকাণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:৪৭ এম


শেবাচিম হাসপাতালের ওষুধের স্টোররুমে অগ্নিকাণ্ড

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের ওষুধের স্টোররুমে অগ্নিকাণ্ডের একটি ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (২ জুন) দিবাগত রাত ১১টার দিকে, হাসপাতালের নিচতলায় এই অগ্নিকাণ্ডের শুরু হতে দেখা যায়।

তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটের আধা ঘণ্টার কঠোর চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

হাসপাতাল ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাতে হাসপাতালের নিচতলার ওষুধের স্টোররুমে হঠাৎ করে আগুন এবং ধোঁয়া দেখতে পান উপস্থিত রোগীর স্বজনরা। তাদের ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন এবং এর ফলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে বরিশাল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে।

এ বিষয়ে বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. সেলিম বলেন, খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাই। সেখানে তখন চারদিকে শুধু ধোঁয়া উড়ছিল। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের চেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।

শেবাচিম হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (অর্থ ও ভান্ডার) ডা. আব্দুল মুনায়েম সাদ জানান, অগ্নিকাণ্ডের কারণে স্টোররুমে থাকা কিছু ওষুধ এবং বৈদ্যুতিক তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ এবং আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%