রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:৩০ পি.এম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নির্দেশনার আলোকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর-এ ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে
বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সেন্টারের সামনে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বেরোবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শওকাত আলী।
কর্মসূচির উদ্বোধনকালে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শওকাত আলী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ প্রত্যেককে সচেতন এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ক্যাম্পাসের কোথাও যাতে পানি জমে মশার প্রজননস্থল তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপাচার্য বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের এলাকা যেন এডিস মশার প্রাদুর্ভাব থেকে মুক্ত থাকে, সেজন্য সুনির্দিষ্ট করণীয় নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী, বিএনসিসি, রোভার স্কাউটসহ সকল অংশীজনকে সম্পৃক্ত করে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সহযোগিতা করার জন্য রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান উপাচার্য। তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং স্বাস্থ্যসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
এই কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. মোঃ ফেরদৌস রহমান, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক মোঃ মাসুদ রানা, বিজয় ২৪ হলের প্রভোস্ট ড. মোঃ হারুন-আল-রশীদ, শহীদ মুখতার ইলাহী হলের প্রভোস্ট ড. এ. টি. এম জিন্নাতুল বাসারসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের মহারাষ্ট্রের পুনের লোহাগড় দুর্গ থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল হত্যার ঘটনায় পুলিশ ৫ হাজার ৫৩ পৃষ্ঠার চার্জশিট জমা দিয়েছে। চার্জশিটটি শনিবার ওড়গাঁও মাভাল আদালতে জমা দেওয়া হয়। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাগদত্তা সিয়া গোয়েল এবং তার প্রেমিক চেতন চৌধুরি সুপরিকল্পিতভাবে কেতন আগরওয়ালকে হত্যা করে। এ হত্যার পরিকল্পনা সম্পর্কে চেতন চৌধুরীর বন্ধু রিতেশ হাঙ্গেও অবগত ছিল। পুলিশ অভিযুক্ত তিনজনকেই গ্রেপ্তার করেছে।
পুনে গ্রামীণ পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আদালতে জমা দেওয়া এই চার্জশিটে ৫ জন প্রত্যক্ষদর্শীসহ ১০০ জনেরও বেশি মানুষের জবানবন্দি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রমাণ হিসেবে মোবাইল ফোনের ডেটা, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, ছবি, কল রেকর্ড এবং প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। চার্জশিটে ১৮ জুন লোহাগড় দুর্গে ২৬ বছর বয়সী কেতনের মৃত্যুর পেছনের ষড়যন্ত্রের বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালের সাথে সিয়া গোয়েলের বাগ্দান হয়। তাদের বিয়ের আয়োজন আগামী নভেম্বরে জয়পুরে হওয়ার কথা ছিল। যদিও পারিবারিক কারণে বাগ্দানে সম্মতি দেওয়া হয়েছিল, বিয়েতে সিয়ার মত ছিল না। এই কারণেই প্রেমিক চেতন চৌধুরীর সঙ্গে মিলে কেতনকে হত্যার পরিকল্পনা করে সিয়া।
চার্জশিট অনুযায়ী, অভিযুক্তরা প্রথমে আগরওয়ালকে মারাত্মকভাবে জখম করার বিষয়ে আলোচনা করেছিল এবং এই হামলা চালানোর জন্য মহারাষ্ট্রের বাইরে থেকে কাউকে ভাড়া করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখেছিল। তবে পুলিশের দাবি, পরবর্তীতে এই পরিকল্পনাটি বাদ দেওয়া হয়। কারণ তাঁদের ভয় ছিল যে, ভাড়াটে ব্যক্তিটি এই চক্রান্ত ফাঁস করে দিতে পারে অথবা তাঁদের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, পরিকল্পনা চলাকালীন যে ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করা হয়েছিল, তিনি বর্তমানে এই মামলার একজন সাক্ষী হয়েছেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, এরপর তাঁরা নিজেদের দ্বারা আগরওয়ালকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং এই উদ্দেশ্যে খুনের ওপর তৈরি বিভিন্ন সিনেমা দেখে ও চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে। নিজেদের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে, পুলিশ থেকে কীভাবে রেহাই পাওয়া যায় সেই বিষয়ে বিভিন্ন পডকাস্টও শুনতো তাঁরা। চার্জশিটে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা মেঘালয়ের রাজা রঘুবংশী হত্যা মামলাটি পর্যালোচনার জন্যও অনলাইনে বেশ কয়েকবার অনুসন্ধান চালিয়েছিল। গত বছরের মে মাসে মেঘালয়ে হানিমুনের সময় ইন্দোরের বাসিন্দা রাজা রঘুবংশী খুন হওয়ার পর তাঁর স্ত্রী সোনমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
চার্জশিটে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা লোহাগড় দুর্গটি চূড়ান্ত করার আগে লোনাভলার আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে রেকি করেছিল। চার্জশিট অনুযায়ী, সিয়া গোয়েল এবং চেতন চৌধুরি একটি নির্জন জায়গার খোঁজে টাইগার পয়েন্ট এবং অন্যান্য স্থানগুলো পরিদর্শন করেছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, গত বছরের মার্চ মাসে লোহাগড় দুর্গে দুর্ঘটনায় এক নারী মারা গিয়েছিলেন। কেতনের হত্যাকেও দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দিতেই লোহাগড়কে বেছে নেয়া হয়। চার্জশিটে বলা হয়েছে, ১৮ জুন কেতনকে হত্যা করতে পারলেও এর আগে ১৪ জুনও সিয়া কেতনকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। সেদিন সিয়া কেতনকে পাহাড়ের চূড়া থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তবে কেতন কোনোমতে একটি গাছ আঁকড়ে ধরে বেঁচে যান। সিয়া তখন ‘সাপ, সাপ’ বলে চিৎকার করে কেতনকে জানায়, সাপ থেকে বাঁচাতেই সে তাকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিল।
চার্জশিট অনুসারে, সিয়া ৪ জুনও দুর্গে যাওয়ার জন্য জোরাজুরি করেছিল। কারণ অভিযুক্তরা বালিতে একটি পরিকল্পিত ভ্রমণের আগেই এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটাতে চেয়েছিল। ৬ জুন তাদের প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটের জন্য বালি যাওয়ার কথা ছিল। বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে সিয়া একটি ক্যাফের ওয়াশরুমে কেতনের পাসপোর্টটি ছিঁড়ে ফেলে দেন, যার ফলে তাঁদের বালির সেই ভ্রমণটি বাতিল হয়ে যায়।
চার্জশিটে বলা হয়েছে, কেতনকে লোহাগড় দুর্গ নিতে সিয়া পরিচিত এক নারীর ছবি ব্যবহার করে 'মাহি' নামে একটি ভুয়া ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বানিয়েছিল। ওই অ্যাকাউন্ট থেকে কেতন আগরওয়ালকে বার্তা পাঠিয়ে সিয়া গোয়েলের জন্মদিনে সারপ্রাইজ বার্থডে প্ল্যানের অংশ হিসেবে ১৮ জুন লোহাগড় দুর্গে আসার জন্য উৎসাহিত করা হয়। চার্জশিট অনুযায়ী, কেতনকে দুর্গে ডেকে আনার জন্য রিতেশ হাঙ্গের তৈরি করা একটি চক্রান্তের অংশ ছিল এই ভুয়া অ্যাকাউন্টটি। ঘটনার পরপরই অ্যাকাউন্টটি মুছে ফেলা হয়।
১৮ জুন চেতন চৌধুরি বের হওয়ার পথ দিয়ে লোহাগড় দুর্গে পৌঁছায় এবং পরবর্তীতে সিয়ারের কাছ থেকে সিগন্যাল পাওয়ার পর তাঁর সাথে যোগ দেয়। যখন কেতনের মনোযোগ অন্যদিকে ঘোরানো ছিল, তখন সিয়া পেছন থেকে তাঁকে ধাক্কা দেয়। এরপর চেতন চৌধুরি কেতনকে লাথি মারে, যার ফলে তিনি দুর্গ থেকে নিচে পড়ে যান।
পুলিশ জানিয়েছে, সিয়া ও চেতন প্রাথমিকভাবে কেতনের হাত-পা ভেঙে মারাত্মকভাবে জখম করা এবং পরবর্তীতে তাঁকে হত্যা করার পরিকল্পনা সম্পর্কে চেতনের বন্ধু রিতেশ জানতেন। ১৮ জুন লোহাগড় দুর্গে হত্যাকাণ্ডটি ঘটানোর পর চেতন রিতেশের সাথে যোগাযোগ করেন এবং তাঁকে বিষয়টি জানান।
পরিকল্পনা অনুযায়ী সিয়া প্রাথমিকভাবে এটিকে সেলফি তুলতে গিয়ে অসাবধানতায় পড়ে যাওয়া হিসেবে অভিহিত করেন। প্রাথমিকভাবে পুলিশ এটিকে একটি দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করে একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছিল। তবে, কেতনের শেষকৃত্যের পরও তাঁর বোন এই দুর্ঘটনার গল্পটি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করতে থাকেন এবং তা খতিয়ে দেখতে চান। ঘটনার চার দিন পর সিয়া গোয়েল আগরওয়াল পরিবারের বাড়িতে সমবেদনা জানাতে যায়। তখন কেতনের বোন লোহাগড়ে ঠিক কী ঘটেছিল সে সম্পর্কে সিয়াকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সিয়া গোয়েলের উত্তরের অসংগতি এবং কিছু বিষয় এড়ানোর প্রবণতা কেতনের বোনের সন্দেহকে আরও গভীর করে তোলে।
এরপর তিনি তাঁর এই সন্দেহের কথা পরিবারের সাথে শেয়ার করেন। এর পর তাঁরা পুলিশের দ্বারস্থ হন এবং নতুন করে তদন্তের দাবি জানান। প্রাথমিক তদন্ত শেষে গত ২৩ জুন পুলিশ সিয়া ও চেতনকে গ্রেপ্তার করে। সিয়া এবং চেতন বিগত তিন বছর ধরে প্রেমের সম্পর্কে জড়িত ছিলেন। গত জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যেই তাঁদের মধ্যে ২ হাজার বারেরও বেশি কথা হয়েছে, যার মোট সময়কাল ছিল ২৩৮ ঘণ্টা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকার ধামরাইয়ে যুবলীগের এক কর্মীকে ধরার উদ্দেশ্যে বাসায় অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। অভিযানে না পেয়ে তার বাবাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে এই অভিযানটি অনুষ্ঠিত হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া মোহাম্মদ কলিম উদ্দিন (৬০) ধামরাই উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের ভাবনহাটি গ্রামের বাসিন্দা। জানা গেছে, তার ছেলে ইঞ্জিনিয়ার রিফাত আহমেদ যুবলীগের কর্মী।
কলিম উদ্দিনের স্ত্রী হাসিনা বেগম (৫০) জানান, শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ১০-১২ জন পুলিশ এসে বাড়ির দরজায় কড়া নাড়ে। পুলিশ নিজেদের পরিচয় দেওয়ার পর তার স্বামী দরজা খুলে দেন। ওই সময় তিনি, তার স্বামী, মেয়ে ও ছেলের বউ বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, পুলিশ প্রথমে তার ছেলে রিফাত সম্পর্কে জানতে চায়। তিনি জানান, ছেলে বাড়িতে নেই এবং রাজনীতির কারণে তার সঙ্গে যোগাযোগ নেই। এরপর পুলিশ তার স্বামীকে বাড়ির বাইরে নিয়ে যায়। পরে থানায় নিয়ে যাওয়ার পর রবিবার তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
হাসিনা বেগম বলেন, আমার স্বামী কৃষক এবং তিনি কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন। তার নামে কোনো মামলা নেই। ছেলে রাজনীতি করে বলে আমার স্বামীকে অন্যায়ভাবে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে এবং হয়রানির মধ্যে ফেলে দিয়েছে।
কলিম উদ্দিনের মেয়ে হ্যাপী আক্তার জানান, আমার ভাই রাজনীতি করে, এটি সত্য। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তিনি বাড়িতে আসেন না। তার সঙ্গে আমাদের যোগাযোগও নেই। আমার বাবা কখনো রাজনীতি করেননি। ভাইকে না পেয়ে পুলিশ বাবাকে নিয়ে গেছে। তাকে রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো অন্যায় হয়েছে।
জানতে চাইলে ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খান বলেন, কলিম উদ্দিনের ছেলে রিফাত আহমেদ যুবলীগের নেতা। তার নেতৃত্বে কিছুদিন আগে একটি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। কাউলিপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের নেতৃত্বে একটি পুলিশ দল রিফাতের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে। তার পুরো পরিবার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থক। এই কারণে কলিম উদ্দিনকে পেন্ডিং একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কলিম উদ্দিনের নামে কোনো মামলা আছে কি না, বা তিনি আওয়ামী লীগের কোনো পদধারী নেতা কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, তার নামে কোনো মামলা ছিল না। তিনি আওয়ামী লীগের সমর্থক, এই তথ্যের ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে চারজন শিক্ষকের। এর মধ্যে তিনজন শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি আবাসিক হলের প্রভোস্ট হিসেবে এবং একজনকে ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান কর্তৃক সই করা পৃথক অফিস আদেশের মাধ্যমে তাদের এই দায়িত্ব প্রদান করা হয়।
অফিস আদেশ অনুযায়ী, নতুন দায়িত্ব গত ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ থেকে কার্যকর হয়েছে।
আদেশ অনুসারে, রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. হারুন-আল-রশীদকে বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করবেন।
দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এ টি এম জিন্নাতুল বাশারকে শহীদ মুখতার ইলাহী হলের প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনিও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করবেন।
এছাড়া, ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মহসিনা আহসানকে শহিদ ফেলানী হলের প্রভোস্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনিও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করবেন।
অন্যদিকে, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মাসুদ রানাকে ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর আগে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সম্প্রতি তিনি নিজেই ওই পদ থেকে পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা নিজ নিজ পদে দায়িত্ব পালন করবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের আদমখাঁ পাড়া এলাকায় রাস্তার সংস্কারকাজ বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সংস্কারকাজ অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকায় রাস্তার ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে পাথর, কণা, বালি, রড, সিমেন্টসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী। এতে সড়কটির স্বাভাবিক চলাচল ব্যবস্থা ব্যাহত হয়ে পড়েছে। অনেক জায়গায় রাস্তার ওপর নির্মাণসামগ্রী থাকায় কোনো যানবাহনই স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছে না।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাস্তার সংস্কারকাজ শুরু হওয়ায় তারা আশাবাদী ছিলেন যে, দ্রুত সড়কটি চলাচলের উপযোগী হয়ে উঠবে। কিন্তু কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। রাস্তার ওপর পড়ে থাকা পাথর, বালি ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রীর কারণে পথচারীদের পাশাপাশি মোটরসাইকেল, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচলে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তার ওপর নির্মাণসামগ্রী পড়ে থাকায় নিয়মিত ছোট-বড় দুর্ঘটনাও ঘটছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালক ও পথচারীদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে বলে জানান তারা।
কেন বন্ধ রয়েছে সংস্কারকাজ?
রাস্তার সংস্কারকাজ বন্ধ থাকার বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আল আমিন জানান, তাদের বিল সংক্রান্ত সমস্যার কারণে বর্তমানে রাস্তার কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে সমস্যাটি দ্রুত সমাধান করে অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে পুনরায় কাজ শুরু করা হবে বলে জানান তিনি।
নিম্নমানের কাজের অভিযোগ, ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানাল এলজিইডি
অন্যদিকে, রাস্তার কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা এলজিইডির (LGED) প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, কাজের মানের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং মন্ত্রণালয় থেকে তাদের শাস্তির আওতায় এনে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামের বক্তব্যে কাজের মান নিয়ে কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। ফলে রাস্তার সংস্কারকাজ পুনরায় শুরু হলে কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নির্মাণসামগ্রীতে বন্ধ স্বাভাবিক যান চলাচল
এলাকাবাসী জানান, রাস্তার ওপর পাথর, কণা, বালি, রড ও সিমেন্টসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী পড়ে থাকায় সড়কের অনেক অংশ ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধের উপক্রম হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে রোগী নিয়ে যাওয়া কিংবা প্রয়োজনীয় যানবাহন চলাচলেও সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, সংস্কারকাজ যত দ্রুত সম্ভব শেষ করার পাশাপাশি কাজ চলাকালীন রাস্তার ওপর নির্মাণসামগ্রী এমনভাবে রাখা হোক, যাতে সাধারণ মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি না হয়।
দ্রুত সমাধান চান এলাকাবাসী
রহমতপুর আদমখাঁ পাড়ার বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সড়কের এমন অবস্থার কারণে তারা ভোগান্তিতে রয়েছেন। একদিকে রাস্তার ওপর নির্মাণসামগ্রী, অন্যদিকে অসম্পূর্ণ সংস্কারকাজ—সব মিলিয়ে প্রতিদিনই তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, বিল সংক্রান্ত জটিলতা কিংবা কাজের মানসংক্রান্ত যে সমস্যাই থাকুক, তা দ্রুত সমাধান করে রাস্তার সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে রাস্তার ওপর পড়ে থাকা নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে নিরাপদ ও স্বাভাবিক যান চলাচলের ব্যবস্থা করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দ্রুত সমন্বয়ের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে অসম্পূর্ণ কাজটি শেষ করবে। এতে সন্দ্বীপের রহমতপুর আদমখাঁ পাড়া এলাকার দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হবে এবং সড়কটি আবারও স্বাভাবিক যান চলাচলের উপযোগী হয়ে উঠবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ