ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কিশোর-কিশোরী ক্লাবের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: সমাজকল্যাণমন্ত্রী


বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কিশোর-কিশোরী ক্লাবের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

ঢাকা, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ : বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নারী ও শিশুর অধিকার সুরক্ষায় ইউনিয়ন পর্যায়ে কিশোর-কিশোরী ক্লাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, এমনটি জানিয়েছেন নারী ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

আজ সচিবালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি গিলিয়ান মেলসপের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

এ সময় নারীর ক্ষমতায়ন, নারী অধিকার সুরক্ষা, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, শিশুশ্রম নিরসন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারী ও শিশুর টেকসই উন্নয়ন, বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল চালু, কিশোর-কিশোরী ক্লাবের কার্যক্রম, মনোসামাজিক সহায়তা, ফ্যামিলি কার্ড এবং নারী ও শিশুবিষয়ক বিভিন্ন আইন নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন: প্রতিবন্ধীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী

মন্ত্রী বলেন, ইউনিসেফ বাংলাদেশ একটি নির্ভরযোগ্য ও বন্ধুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে সংস্থাটির উন্নয়ন সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নির্বাচনি ইশতেহারে নারী ও শিশুর কল্যাণ, পুষ্টি, শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, সেগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার।

মন্ত্রী বলেন, মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকারের সহায়তামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে সব শিশুর জন্য নিরাপদ, বাসযোগ্য ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।

ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি নারীর ক্ষমতায়ন, জেন্ডার সমতা অর্জন এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমের প্রশংসা করেন।

আরও পড়ুন: ফেনীতে সাংবাদিককে মারধর ও হত্যার হুমকির অভিযোগে সাবেক কাউন্সিলর আটক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিরপুরে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্টের ফ্লাডলাইটে আগুন, খেলা বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:২৩ পি.এম


মিরপুরে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্টের ফ্লাডলাইটে আগুন, খেলা বন্ধ

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টের প্রথম দিনের শুরুতেই একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) তৃতীয় সেশনের সময় স্টেডিয়ামের তিন নম্বর গেটের পাশে অবস্থিত একটি ফ্লাডলাইটে আগুন লেগে যায়। এ সময় ফ্লাডলাইট থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়।

মেঘলা আকাশের কারণে মাঠে আলোর অভাব দেখা দিলে ফ্লাডলাইটটি জ্বালানো হয়। খেলা চলাকালীন একটি ফ্লাডলাইটে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে ওই ফ্লাডলাইটের বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এই কারণে কিছু সময়ের জন্য খেলা বন্ধ রাখা হয়। তখন ব্যাটিং করছিল বাংলাদেশ।

পরে খেলা আবার শুরু হলেও বেশিক্ষণ চালানো সম্ভব হয়নি। আলোকস্বল্পতার কারণে আম্পায়াররা নির্ধারিত সময়ের আগেই দিনের খেলার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

ফ্লাডলাইটে আগুন লাগার সঠিক কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের কারণে এই ঘটনা ঘটতে পারে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন।

মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে এর আগে একাধিকবার ফ্লাডলাইটে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। বারবার একই ধরনের ঘটনার কারণে স্টেডিয়ামের বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হত্যাকাণ্ডের বিচার না হলে ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি হবে: জামায়াত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:২৪ পি.এম


হত্যাকাণ্ডের বিচার না হলে ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি হবে: জামায়াত

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টনে আওয়ামী লীগের লগি-বৈঠার তাণ্ডব ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করেছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় নগরীর ওয়াসা মোড়ে জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান।

মুহাম্মদ শাহজাহান প্রধান অতিথির বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, ২০০৬ সালের অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ার ফলেই ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটেছিল। তিনি বলেন, সেদিনের নির্মমতার পেছনে অনেক কারণ রয়েছে, তবে তার মতে, ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের হত্যা করে দেশকে ভারতের করদরাজ্যে পরিণত করাই ছিল এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

তিনি আরও বলেন, সেদিন বিকেল ৩টায় চারদলীয় ঐক্যজোট সরকারের পাঁচ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে আওয়ামী লীগ গুলি চালিয়েছিল। ইসলামী আন্দোলনের জনশক্তিরা মানবঢাল তৈরি করায় নেতৃবৃন্দের কোনো ক্ষতি হয়নি। তিনি আশাবাদী যে, ভবিষ্যতে এ ধরনের মানবঢাল থাকলে আর কোনো ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না।

মুহাম্মদ শাহজাহান আরও বলেন, ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সুফল এখনও পাওয়া যায়নি। তিনি সতর্ক করেন যে, যদি এই সরকার আইনের শাসনের প্রতি গুরুত্ব না দেয় এবং বিচারের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা না করে, তাহলে সরকারের পরিণতি হাসিনার চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে তিনি তার ভূমিকা পরিষ্কার করার আহ্বান জানান এবং চাটুকারদের দ্বারা নিজের ক্ষতি না করার পরামর্শ দেন।

জুলাই চেতনার বাস্তবায়নে আমীরে জামায়াতের আপসহীন নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করে মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বীর চট্টগ্রামকে আবারও বীরোচিত ভূমিকা পালন করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টনে লগি-বৈঠার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশপন্থী রাজনীতির অগ্রযাত্রা রোধ করা হয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে বাংলাদেশের অগ্রগতির যে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল, তা নস্যাৎ করতেই ওই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ১/১১-এর সরকারকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের কবলে পড়ে। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটলেও জনগণের প্রত্যাশিত নতুন বাংলাদেশ এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

তিনি বলেন, ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের মামলা পুনরুজ্জীবিত করে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে সব হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গঠনের অঙ্গীকার পূরণ করতে হবে। সরকারকে আধিপত্যবাদী ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সতর্ক থেকে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা ও বাংলাদেশপন্থী রাজনীতিকে শক্তিশালী করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। অন্যথায় সরকার, জনগণ ও দেশ অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ উল্লাহ, ফয়সল মুহাম্মদ ইউনুছ ও মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ও মেয়রপ্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান এবং চট্টগ্রাম-১১ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শফিউল আলম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. ছিদ্দিকুর রহমান, নগর অফিস সম্পাদক হামেদ হাসান ইলাহী, নগর কর্মপরিষদ সদস্য আবু হেনা মোস্তফা কামাল, ফারুকে আজম, ফখরে জাহান সিরাজী, চকবাজার থানা আমীর আহমেদ খালেদুল আনোয়ার, পাঁচলাইশ থানা আমীর ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুল হাছান রুমি, সদরঘাট থানা আমীর এম এ গফুরসহ মহানগর ও থানা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বারহাট্টায় মাদ্রাসার মুহতামিমের বিরুদ্ধে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ উজ্জ্বল মিয়া, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:২৪ পি.এম


বারহাট্টায় মাদ্রাসার মুহতামিমের বিরুদ্ধে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ

নেত্রকোনার বারহাট্টায় একটি মাদ্রাসার শ্রেণিকক্ষে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির মুহতামিম (প্রধান শিক্ষক) মাওলানা কবির আহমেদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার সাহতা ইউনিয়নের বোয়ালজানা গ্রামের আতহারুল উলুম মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরী আটপাড়া উপজেলার একটি মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। সম্প্রতি সে বাড়িতে বেড়াতে আসে। মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে বোরকা পরা অবস্থায় সে বোয়ালজানা গ্রামের ওই মাদ্রাসায় প্রবেশ করে। এ সময় মাদ্রাসার পুকুরপাড়ে থাকা কয়েকজন যুবকের সন্দেহ হলে তাঁরা শ্রেণিকক্ষের দিকে যান।

ওই যুবকদের দাবি, কিছুক্ষণ পর তাঁরা মাদ্রাসার মুহতামিম ও কিশোরীকে আলাদা দুটি দিক দিয়ে দ্রুত বেরিয়ে যেতে দেখেন। পরে স্থানীয় লোকজন শ্রেণিকক্ষে গিয়ে একটি কনডম পড়ে থাকতে দেখেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি পুলিশকেও জানানো হয়।

এদিকে ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সাইদুল ইসলাম ঘটনার বিষয়ে কথা বলেছেন। তবে তাঁর দাবি, ওই কিশোরী নিজ ইচ্ছায় মাদ্রাসায় এসে এ ঘটনায় জড়িয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মাদ্রাসার সভাপতি সাইদুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত মুহতামিমের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নিতে বুধবার জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। বৈঠকে তাঁকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ঘটনার আইনানুগ বিচার হওয়া উচিত বলেও তিনি মত দেন।

সাহতা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মাজু এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ বিষয়ে বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চম্পক দাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং স্থানীয়দের বক্তব্য ও প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেছে। তবে বুধবার দুপুর পর্যন্ত ভুক্তভোগীর সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকেও থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি।

ওসি আরও জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর পরিবারসহ সংশ্লিষ্টদের আইনগত পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে কাউকে দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না। এখন ভুক্তভোগীর সুরক্ষা, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পদ্মা-তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণে নদীগুলো হবে প্রাণবন্ত : রুহুল কবির রিজভী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:২৪ পি.এম


পদ্মা-তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণে নদীগুলো হবে প্রাণবন্ত : রুহুল কবির রিজভী

ঢাকা, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ : বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা ও তিস্তাসহ দেশের বিভিন্ন নদীতে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পেলে নদীগুলো আবার প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে, এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি উল্লেখ করেন, ফারাক্কা থেকে বাংলাদেশের পানির ন্যায্য হিস্যা না পাওয়ার কারণে দেশের অভ্যন্তরীণ পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা জোরদার করা জরুরি। এর জন্য বর্ষার পানি সংরক্ষণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে জোরালো আলোচনা অব্যাহত রাখতে হবে।

আজ রাজধানীর একটি হোটেলে ‘জাতীয় পানি সম্পদ সুরক্ষায় পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজের ভূমিকা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, বর্ষার অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে ব্যবহার করা গেলে পদ্মার শাখা-উপশাখাসহ অন্যান্য নদীতে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে। এতে কৃষি সুরক্ষা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

তিনি যোগ করেন, শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা ও তিস্তাসহ বিভিন্ন নদীতে পানির প্রবাহ কমে যাচ্ছে। বর্ষা মৌসুমেও নদীগুলোর বিভিন্ন অংশে পানির স্বল্পতা দেখা যাচ্ছে। তিস্তা ও যমুনা নদীর উপর সেতু দিয়ে যাতায়াতের সময় নদীর মধ্যে চর দেখা যায়।

রিজভী বলেন, পদ্মার শাখা-উপনদীগুলোতে পর্যাপ্ত পানি প্রবাহিত না হওয়ায় সমুদ্র থেকে আসা লবণাক্ত পানিকে ঠেলে সমুদ্রের দিকে পাঠানোর স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে লবণাক্ততা বাড়ছে এবং জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফারাক্কার প্রভাবে সুন্দরবনের বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা ও প্রাণীর অস্তিত্বও হুমকির মুখে পড়ছে।

তিনি উল্লেখ করেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী অঞ্চলে গত ২০ থেকে ২৫ বছরে বৃষ্টিপাত ৩০ শতাংশ কমেছে। ফারাক্কা ব্যারাজের প্রভাব এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ।

ফারাক্কা চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, ১৯৭৭ সালের চুক্তিতে পানির হিস্যা নিশ্চিত করার জন্য গ্যারান্টি ক্লজ ছিল। কিন্তু ১৯৯৬ সালের চুক্তিতে তা বাদ দেওয়া হয়। বাংলাদেশের পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে আরও জোরালো অবস্থান নিতে হবে। এজন্য প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সমন্বিত আলোচনা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পানির অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ভারতের অভ্যন্তরেও বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে নদীর পানি বণ্টন নিয়ে বিরোধ রয়েছে। কৃষ্ণা ও কাবেরী নদীর পানি বণ্টন নিয়ে বিরোধের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, পানির হিস্যার প্রশ্নে কোনো পক্ষই সহজে ছাড় দিতে চায় না। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে দৃঢ় অবস্থান প্রয়োজন।

নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পরিবেশগত প্রভাব তুলে ধরে রিজভী বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলে আর্সেনিকের সমস্যা এবং পরিবেশের বিভিন্ন পরিবর্তন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে হস্তক্ষেপের ফলে পরিবেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে।

তিনি বলেন, বিশিষ্ট পানিবিজ্ঞানী বি. এম. আব্বাস তার ‘গঙ্গেস ওয়াটার ডিসপিউট’ বইয়ে ফারাক্কার বিরূপ প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছেন। ব্রিটিশ আমলের প্রকৌশলী কপিল ভট্টাচার্য পদ্মার ওপর বাঁধ নির্মাণ এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ পরিবর্তনের সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন।

রিজভী বলেন, পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজের মাধ্যমে জলাধার নির্মাণ করে বর্ষার পানি সংরক্ষণ এবং শাখা-উপনদীগুলোতে পানির প্রবাহ বজায় রাখা গেলে নদীগুলো আবার সচল হবে। এতে কৃষি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নৌযোগাযোগের উন্নয়ন সম্ভব হবে। নদীকেন্দ্রিক বাংলার ঐতিহ্যবাহী সাম্পান ও পানসি নৌকার চলাচলও আবার দেখা যেতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ পানি ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বর্ষার পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে কাজে লাগানো গেলে নদীর প্রবাহ বজায় রাখা এবং কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় সহায়তা পাওয়া যাবে।

গোলটেবিল বৈঠকের বিশেষ অতিথি আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, নীলফামারী, রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার বিস্তীর্ণ অঞ্চল দেশের অন্যতম শস্যভাণ্ডার। একসময় এসব এলাকায় সব ধরনের ফসল উৎপাদিত হতো। কিন্তু বর্তমানে পানির সংকট ও নদীর পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে অঞ্চলটির মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। তিস্তাকে ঘিরে প্রায় ২ কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পদ্মা ব্যারাজ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটি, তিস্তা নদী সুরক্ষা আন্দোলন এবং বাংলাদেশি প্রফেশনালস যৌথভাবে এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মের সভাপতিত্বে বৈঠকে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সুলতানা আহমেদ ও সেলিম রেজা হাবিব।

এছাড়া বক্তব্য রাখেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল হান্নান চৌধুরী, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ. কে. এম শাহাবুদ্দিন, বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের সদস্য মো. আনোয়ার কাদির এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. রুহুল আমিন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মেহেদী হাসান পলাশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%