ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
ইথিওপিয়ায় সাধারণ নির্বাচন

আবির নির্বাচনী যাত্রা শুরু, ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই সবার


আবির নির্বাচনী যাত্রা শুরু, ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই সবার

 

দেশের বিভিন্ন অংশে যখন সংঘাত চলছে তখন আগামীকাল সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করেছে ইথিওপিয়া। সেখানে অংশ নেবেন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদও। তবে চলমান সংঘাতের কারণে অনেক মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, দেশটির উত্তরের টাইগ্রে অঞ্চল পুরোপুরি এই নির্বাচনের বাইরে থাকবে। ২০২২ সালে শেষ হওয়া ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ থেকে এখনো পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে

দেশটিতে আসন্ন নির্বাচনটি ১৯৯১ সালে সামরিক শাসনের পতনের পর সপ্তম নির্বাচন। ওই পরিবর্তনের ফলে দুই বছর পর ইরিত্রিয়া ইথিওপিয়া থেকে আলাদা হয়ে যায়। বর্তমানে আবারও ইথিওপিয়া ও তার উত্তরের প্রতিবেশী ইরিত্রিয়ার সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় পৌঁছেছে।

নির্বাচনে কে জিততে পারে? প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ সরাসরি নির্বাচিত হন না। ভোটাররা ৫৪৭ সদস্যের পার্লামেন্টে প্রতিনিধি নির্বাচন করেন। যে দল কমপক্ষে ২৭৪ আসন পায়, তারাই সরকার গঠন করে আগামী পাঁচ বছরের জন্য দেশ পরিচালনা করে।

৪৯ বছর বয়সী আবি ২০১৮ সালে ক্ষমতায় আসেন। তখন তিনি ইথিওপিয়ান পিপলস রেভল্যুশনারি ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-এর বিরুদ্ধে ব্যাপক সরকারবিরোধী আন্দোলনের পর ক্ষমতায় আসেন। এই জোটটি ১৯৯১ সাল থেকে ক্ষমতায় ছিল এবং মূলত টাইগ্রে অঞ্চলের রাজনীতিকদের দ্বারা প্রভাবিত ছিল।

পরবর্তীতে তিনি ইথিওপিয়ান পিপলস রেভল্যুশনারি বিলুপ্ত করে নিজের ‘প্রোসপারিটি পার্টি’ গঠন করেন, যা আগের তুলনায় বেশি কেন্দ্রিক এবং কম ফেডারেল শাসন কাঠামোর দিকে ঝোঁকে।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

কেন আবি আহমেদের সমালোচনা বাড়ছে? বিরোধীরা অভিযোগ করেন, তার সরকার মতপ্রকাশ দমন করছে। বিরোধীদের নির্বাসনে যেতে বাধ্য করছে এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের গ্রেফতার করছে। তার শাসনামলে ২০২০ সালে টাইগ্রে অঞ্চলে দুই বছরের যুদ্ধ শুরু হয়। যেখানে আফ্রিকান ইউনিয়নের মধ্যস্থতাকারীর মতে প্রায় ৬ লাখ মানুষ মারা যায় এবং অঞ্চলটি দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায়।

রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স-এর ২০২৫ সালের সূচকে ইথিওপিয়া ১৮০ দেশের মধ্যে ১৪৮তম স্থানে রয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে বলেছে, সরকার সাংবাদিকদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করছে এবং স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের ওপর হয়রানি চালাচ্ছে।

রয়টার্সের তিন সাংবাদিকের অনুমোদন বাতিল করার পর কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস বলেছে, এটি আন্তর্জাতিক ও স্বাধীন সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দমনমূলক প্রবণতার একটি উদ্বেগজনক ধারা।

সমর্থকদের দৃষ্টিভঙ্গি কী? সমর্থকরা বলছেন, আবি দেশকে উন্নত করেছেন। রাজধানী আদ্দিস আবাবা দ্রুত আধুনিকায়নের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এটি ‘করিডর ডেভেলপমেন্ট’ ও ‘রিভারসাইড’ প্রকল্পের অংশ। তবে এসব উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য অনেক মানুষকে উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে সমালোচনাও রয়েছে।

আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন

ইথিওপিয়ার অর্থনীতি বাড়ছে, কিন্তু মুদ্রাস্ফীতির কারণে জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক তার অর্থনৈতিক সংস্কারকে সমর্থন দিয়েছে, তবে শর্ত দিয়েছে—দেশকে বৈদেশিক মুদ্রা বাজার উন্মুক্ত করতে হবে এবং ঋণ নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। ২০২৪ সালে দেশের মোট ঋণ ছিল ৩৬.৫ বিলিয়ন ডলার।

ইথিওপিয়ার জনসংখ্যা ১৩৫.৯ মিলিয়ন—আফ্রিকায় দ্বিতীয় বৃহত্তম। এটি দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশগুলির একটি। তবে নিরাপত্তাহীনতা, মূল্যস্ফীতি এবং যুদ্ধ-পরবর্তী প্রভাব দেশটিকে চাপে রেখেছে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি টাইগ্রের পাশাপাশি আমহারা ও ওরোমিয়া অঞ্চলে সশস্ত্র সংঘাত চলছে। আমহারা অঞ্চলের ফানো মিলিশিয়া এবং ওরোমো লিবারেশন আর্মি সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। এতে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে এবং লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। দুই গোষ্ঠীই বেশি স্বায়ত্তশাসন চায়। আমহারা মিলিশিয়া মনে করে সরকার তাদের দুর্বল করতে চায়। ওরোমো গোষ্ঠী মনে করে তারা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। ২০২৪ সালে এসব সংঘাতে প্রায় ৯,৪০০ জন নিহত হয়েছে।

সরকার বলছে, আমহারা ও ওরোমিয়ার ৯৭% এলাকা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। তবে বিরোধীরা তা মানছে না।

আরও পড়ুন: বোম্বে হাইকোর্ট ইমরান খানের ভারত ছাড়ার নোটিশ স্থগিত করেছে

টাইগ্রেতে কী হচ্ছে? টাইগ্রে অঞ্চলে প্রায় ৬ মিলিয়ন মানুষ বাস করে। ২০২২ সালের শান্তিচুক্তির পর সেখানে অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠিত হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি রাজনৈতিক উত্তেজনা আবার বেড়েছে। টাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে দ্বন্দ্ব তীব্র হয়েছে।

ভোটারদের প্রত্যাশা ৫ কোটি ৫ লাখের বেশি মানুষ ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করেছে। অনেক তরুণ ভোটার আশা করছে, নির্বাচন স্থিতিশীলতা আনবে। একজন তরুণ ভোটার বিবিসিকে বলেছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা হলে তার শিক্ষা ও জীবনযাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ২০২১ সালের নির্বাচনে আবির দল বিপুল বিজয় পেয়েছিল। সরকার বলছে, এবার তারা সব আসন জিততে চায় না, বরং বিরোধীদেরও সুযোগ দিতে চায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরাকের উত্তরাঞ্চলে হামলা চালিয়েছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৪৬ এম


ইরাকের উত্তরাঞ্চলে হামলা চালিয়েছে ইরান

ইরাকের উত্তরাঞ্চলে সক্রিয় সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর বিভিন্ন ঘাঁটিতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হামলা শুরু করেছে। ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনীর এই হামলা বিমান ও স্থল হামলার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।

রোববার (৩১ মে) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে। যদিও, এখনও এই অভিযানে কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, তা স্পষ্টভাবে জানা যায়নি।

আইআরজিসির স্থল বাহিনী এই বিশেষ সামরিক অভিযানটি পরিচালনা করছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে এবং অভিযানের কৌশলগত কারণে কোন কোন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, সেটি সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য বা নির্দিষ্ট স্থানের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

ইরাকের কুর্দিস্তান সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে বেশ কিছু ইরান-বিরোধী সশস্ত্র এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান নিয়ে তৎপরতা চালাচ্ছিল। যা তেহরানের জন্য জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৮০ বিধায়কের বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন, স্থগিত মমতার জরুরি সভা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:০০ এম


৮০ বিধায়কের বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন, স্থগিত মমতার জরুরি সভা

পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের ডাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধায়ক বৈঠক শেষ পর্যন্ত স্থগিত করতে হয়েছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের আহ্বান জানানো সত্ত্বেও ৮০ জন বিধায়কের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও বৈঠকে মাত্র ২০ জন উপস্থিত হয়েছেন। ফলে নির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল করে পরে নতুন তারিখে বৈঠক আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রোববার বিকালে কলকাতায় এই বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা, দলের শীর্ষ নেতাদের ওপর হামলার অভিযোগ এবং বিভিন্ন এলাকায় চলমান কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে বৈঠকটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছিল।

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার অভিযোগের পর রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এর মধ্যে দলীয় সংসদ সদস্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপরও হামলার অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা করতেই বিধায়কদের নিয়ে এই বৈঠক ডাকা হয়েছিল বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়।

বৈঠক স্থগিত হওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন দলের নেতা কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, গতকালের ঘটনার পর বহু এলাকায় বিধায়করা সরাসরি আন্দোলন ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়ে পড়েছেন। অনেক জায়গায় দলীয় কর্মীদের আটক করারও অভিযোগ রয়েছে বলে তিনি জানান।

কুণাল ঘোষের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই একের পর এক বিধায়ক দলের নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করে বৈঠক পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

তারা জানান, নিজেদের এলাকায় কর্মীদের পাশে থাকাসহ আটক কর্মীদের মুক্ত করার চেষ্টা এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কারণে এই মুহূর্তে কলকাতায় আসা তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ছে।

তিনি আরও বলেন, বিধায়করা নেতৃত্বকে আশ্বস্ত করেছেন যে তারা দলের সঙ্গে রয়েছেন এবং দলের যে কোনো নির্দেশ পালন করতে প্রস্তুত। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কয়েকদিন সময় প্রয়োজন বলে তারা মত দিয়েছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেল তিনটার কিছু আগে পরিস্থিতি বিবেচনা করে বৈঠক সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যেসব বিধায়ক ইতোমধ্যে উপস্থিত হয়েছিলেন, তাদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করা হলেও আনুষ্ঠানিক বৈঠক আর অনুষ্ঠিত হয়নি।

রাজনৈতিক মহলে অবশ্য এই ঘটনাকে ঘিরে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধীরা বৈঠকে কম উপস্থিতির বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুললেও তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এটি সাংগঠনিক দুর্বলতার কোনো ইঙ্গিত নয়। বরং রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় চলমান রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণেই অধিকাংশ বিধায়ক উপস্থিত থাকতে পারেননি।

তৃণমূল কংগ্রেস জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে শিগগিরই নতুন তারিখ ঘোষণা করে আবারও বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক আয়োজন করা হবে। সেই বৈঠকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দলীয় কর্মসূচি এবং আগামী দিনের সাংগঠনিক রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গ্রিনকার্ড নীতিতে ইউ-টার্ন, কঠোর অবস্থান থেকে সরে এল যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:১৪ এম


গ্রিনকার্ড নীতিতে ইউ-টার্ন, কঠোর অবস্থান থেকে সরে এল যুক্তরাষ্ট্র

গ্রিনকার্ড বা স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার নিয়মে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) একটি বড় ধরনের কড়াকড়ির ঘোষণা দিয়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে নিজেদের অবস্থান থেকে আংশিকভাবে সরে এসেছে তারা। গত সপ্তাহে প্রকাশিত এক নির্দেশনায় বলা হয়েছিল যে, নানা বিশেষ পরিস্থিতির ব্যতীত স্থায়ী রেসিডেন্সির জন্য আবেদনকারী সমস্ত অভিবাসীকে গ্রিনকার্ড পাওয়ার জন্য নিজ দেশে ফিরে গিয়ে অপেক্ষা করতে হবে।

কিন্তু প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের কারণে তারা এখন স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে, এটি একটি ঢালাও নিয়ম নয় এবং সমস্ত অভিবাসীকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে না। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, পূর্বের নীতিতে মৌলিক কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। এ সম্পর্কে যে কোনো সিদ্ধান্ত, যা গ্রিনকার্ডের জন্য আবেদনকারীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর সংক্রান্ত তা পুরোপুরি ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) কর্মকর্তাদের নিজস্ব বিবেচনার ওপর নির্ভর করবে।

ডিএইচএস-এর একজন মুখপাত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আইনগত এখতিয়ার আগেই ছিল। নতুন নির্দেশনায় কেবল সেই বিষয়টি কর্মকর্তাদের মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে। মূলত, যারা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করছেন বা যেসব দেশের নাগরিকরা বেশি মাত্রায় সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য এই নিয়মটির প্রযোজ্যতা বেশি হবে।

বিশেষজ্ঞরা প্রশাসনের এমন আকস্মিক পিছুটানকে একটি ‘আংশিক ইউ-টার্ন’ হিসেবে দেখছেন। তবে যদিও এই ব্যাখ্যার পর অভিবাসী এবং তাদের আইনজীবীদের মধ্যে বিভ্রান্তি বা আতঙ্ক পুরোপুরি চলে যায়নি, তবুও কার ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হবে তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো গাইডলাইন নেই। এমনকি নীতিটি জনসমক্ষে আসার সময় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ভেতরেও এই নিয়মের পরিধি নিয়ে এক ধরণের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টিকে নীতিগত পরিবর্তন নয়, বরং একটি প্রশাসনিক অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ইমিগ্রেশন আইনজীবীরা জানাচ্ছেন, চলতি সপ্তাহেই কিছু গ্রিনকার্ড ইন্টারভিউতে আবেদনকারীদের প্রশ্ন করা হয়েছে কেন তারা নিজ দেশে ফিরে গিয়ে আবেদন করছেন না এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পিছনে বিশেষ কোনো কারণ আছে কি না। থার্ড ওয়ে নামের একটি সামাজিক নীতি নির্ধারণী সংস্থার প্রধান ও ইউএসসিআইএস-এর সাবেক কর্মকর্তা সারাহ পিয়ার্স বলেন, জনসাধারণের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে প্রশাসন এখন তাদের তৈরি করা জটলা সামাল দিতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে।

আবেদনকারীদের জন্য উচ্চ-দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত বিঘ্নিত হতে পারে বলে মার্কিন চেম্বার অব কমার্সের মতো বড় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোও নীতির সমালোচনা করেছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৪ লাখ গ্রিনকার্ড দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে প্রায় ৮ লাখ ২০ হাজার আবেদনই মঞ্জুর করা হয়েছে ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, যা আবেদনকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেই গ্রিনকার্ড পাওয়ার সুযোগ দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কড়াকড়ির সবচেয়ে বড় প্রভাব পারিবারিক স্পনসরশিপের আওতাধীন অভিবাসীদের ওপর এবং সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি খাতে কর্মরত এইচ-১বি ভিসা ধারী দক্ষ বিদেশি কর্মীদের ওপর পড়তে পারত। তবে শেষ মুহূর্তে প্রশাসনের এই আংশিক পিছুটান এবং কর্মকর্তাদের বিবেচনার ওপর সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্দেশ আসা অভিবাসী মহলে কিছুটা স্বস্তি নিশ্চিত করেছে, তবে আইনি অনিশ্চয়তা এবং আতঙ্ক এখনো পুরোপুরি কাটেনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পেটের অস্বস্তি ফাঁপাভাব কমাতে ফল ও সবজি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:২৪ এম


পেটের অস্বস্তি ফাঁপাভাব কমাতে ফল ও সবজি

 

ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই খুশি। আর ঈদুল আজহা মানেই খাবারে হঠাৎ পরিবর্তন। কয়েক দিন ধরে গরু বা খাসির মাংস, ভাজাপোড়া, মসলাযুক্ত খাবার ও অনিয়মিত খাওয়ার কারণে পেটে অস্বস্তি, ফাঁপাভাব, গ্যাস কিংবা হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এই সমস্যার সমাধানে হতে পারে বেশ কিছু ফল ও সবজি খাওয়ার মাধ্যমে। নিচে সে সম্পর্কে আলোকপাত করা হলো-

তরমুজ

ভারী খাবারের মাঝে তরমুজ শরীরকে স্বস্তি দিতে পারে। এতে পানির পরিমাণ বেশি এবং আঁশ তুলনামূলক কম। ফলে এটি সহজে হজম হয় এবং শরীরকে আর্দ্র রাখতেও সাহায্য করে। গরমের দিনে তরমুজ শরীর ঠান্ডা রাখতে ভালো কাজ করে।

কলা

পেট খারাপ বা অস্বস্তির সময় কলা পরিচিত খাবার। কারণ পাকা কলার নরম গঠন পেটের ওপর কম চাপ ফেলে। এতে থাকা পটাসিয়াম শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতেও সাহায্য করে।

বাঙ্গি

গরমের সময়ে বাঙ্গি পেটের জন্য আরামদায়ক ফল। এতে পানির পরিমাণ বেশি এবং আঁশ কম থাকায় সহজে হজম হয়। বাঙ্গিতে ভিটামিন সি ও পটাসিয়াম পাওয়া যায়, যা শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে।

খোসা ছাড়ানো আলু

ঈদের পর একটানা মাংস খাওয়ার পরিবর্তে হালকা খাবার হজমবান্ধব। এক্ষেত্রে খোসা ছাড়ানো আলু, ভালো বিকল্প হতে পারে। খোসা ছাড়া আলু তুলনামূলক সহজে হজম হয়। সেদ্ধ অথবা ভর্তা করা আলু আরামদায়ক হতে পারে।

পালংশাক

কাঁচা শাকসবজি অনেক সময় পেটের অস্বস্তি বাড়াতে পারে। তবে রান্না করা পালংশাক তুলনামূলক নরম হয়। আর সহজে হজম হতে পারে। রান্না করলে পালংশাকের গঠন আরও নরম হয়। তাই অল্প তেলে ভাজি, মাছের সাথে বা হালকা রান্না করে খাওয়া যেতে পারে। এতে শরীর আয়রন পায়, যা ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে।

হলুদ ক্যাপসিকাম

ঈদে খুব ভারী বা অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার খাওয়ার পরিবর্তে স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসে ফিরলে শরীর ভালো থাকে। হলুদ ক্যাপসিকামে আঁশ খাওয়া যেতে পারে, এতে ভিটামিন সি রয়েছে। তবে এখন প্রচন্ড গরম যে কারণে পর্যাপ্ত পানি পান, হালকা ফল, নরম সবজি ও সহজপাচ্য খাবার খেলে স্বস্তি দেবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%