প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গ্রিনকার্ড বা স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার নিয়মে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) একটি বড় ধরনের কড়াকড়ির ঘোষণা দিয়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে নিজেদের অবস্থান থেকে আংশিকভাবে সরে এসেছে তারা। গত সপ্তাহে প্রকাশিত এক নির্দেশনায় বলা হয়েছিল যে, নানা বিশেষ পরিস্থিতির ব্যতীত স্থায়ী রেসিডেন্সির জন্য আবেদনকারী সমস্ত অভিবাসীকে গ্রিনকার্ড পাওয়ার জন্য নিজ দেশে ফিরে গিয়ে অপেক্ষা করতে হবে।
কিন্তু প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের কারণে তারা এখন স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে, এটি একটি ঢালাও নিয়ম নয় এবং সমস্ত অভিবাসীকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে না। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, পূর্বের নীতিতে মৌলিক কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। এ সম্পর্কে যে কোনো সিদ্ধান্ত, যা গ্রিনকার্ডের জন্য আবেদনকারীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর সংক্রান্ত তা পুরোপুরি ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) কর্মকর্তাদের নিজস্ব বিবেচনার ওপর নির্ভর করবে।
ডিএইচএস-এর একজন মুখপাত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আইনগত এখতিয়ার আগেই ছিল। নতুন নির্দেশনায় কেবল সেই বিষয়টি কর্মকর্তাদের মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে। মূলত, যারা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করছেন বা যেসব দেশের নাগরিকরা বেশি মাত্রায় সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য এই নিয়মটির প্রযোজ্যতা বেশি হবে।
বিশেষজ্ঞরা প্রশাসনের এমন আকস্মিক পিছুটানকে একটি ‘আংশিক ইউ-টার্ন’ হিসেবে দেখছেন। তবে যদিও এই ব্যাখ্যার পর অভিবাসী এবং তাদের আইনজীবীদের মধ্যে বিভ্রান্তি বা আতঙ্ক পুরোপুরি চলে যায়নি, তবুও কার ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হবে তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো গাইডলাইন নেই। এমনকি নীতিটি জনসমক্ষে আসার সময় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ভেতরেও এই নিয়মের পরিধি নিয়ে এক ধরণের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টিকে নীতিগত পরিবর্তন নয়, বরং একটি প্রশাসনিক অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ইমিগ্রেশন আইনজীবীরা জানাচ্ছেন, চলতি সপ্তাহেই কিছু গ্রিনকার্ড ইন্টারভিউতে আবেদনকারীদের প্রশ্ন করা হয়েছে কেন তারা নিজ দেশে ফিরে গিয়ে আবেদন করছেন না এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পিছনে বিশেষ কোনো কারণ আছে কি না। থার্ড ওয়ে নামের একটি সামাজিক নীতি নির্ধারণী সংস্থার প্রধান ও ইউএসসিআইএস-এর সাবেক কর্মকর্তা সারাহ পিয়ার্স বলেন, জনসাধারণের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে প্রশাসন এখন তাদের তৈরি করা জটলা সামাল দিতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে।
আবেদনকারীদের জন্য উচ্চ-দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত বিঘ্নিত হতে পারে বলে মার্কিন চেম্বার অব কমার্সের মতো বড় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোও নীতির সমালোচনা করেছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৪ লাখ গ্রিনকার্ড দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে প্রায় ৮ লাখ ২০ হাজার আবেদনই মঞ্জুর করা হয়েছে ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, যা আবেদনকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেই গ্রিনকার্ড পাওয়ার সুযোগ দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কড়াকড়ির সবচেয়ে বড় প্রভাব পারিবারিক স্পনসরশিপের আওতাধীন অভিবাসীদের ওপর এবং সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি খাতে কর্মরত এইচ-১বি ভিসা ধারী দক্ষ বিদেশি কর্মীদের ওপর পড়তে পারত। তবে শেষ মুহূর্তে প্রশাসনের এই আংশিক পিছুটান এবং কর্মকর্তাদের বিবেচনার ওপর সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্দেশ আসা অভিবাসী মহলে কিছুটা স্বস্তি নিশ্চিত করেছে, তবে আইনি অনিশ্চয়তা এবং আতঙ্ক এখনো পুরোপুরি কাটেনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন