ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ফিফার পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেও বিশ্বকাপ জিততে পারল না আর্জেন্টিনা


ফিফার পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেও বিশ্বকাপ জিততে পারল না আর্জেন্টিনা

ফিফার পক্ষপাতিত্ব পাওয়ার গুজব এবং রেফারিংয়ে সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ নিয়ে নানা বিতর্কের সৃষ্টি করে ফাইনালে উঠলেও, শেষ পর্যন্ত ট্রফি হাতে নেওয়ার সুযোগ মেলেনি মেসির আর্জেন্টিনার। ১২০ মিনিট জুড়ে চলা ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে দাঁড়াতে পারেনি ২০২২ এর চ্যাম্পিয়নরা।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ থেকে শুরু করে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত আর্জেন্টিনার প্রায় প্রতিটি ম্যাচে রেফারিং নিয়ে কিছু না কিছু বিতর্কের উত্তেজনা ছিল। এমনকি ফাইনালেও স্পেনের নিকো উইলিয়ামসের গোল বাতিলের সিদ্ধান্তে ফুটবল বিশ্লেষকরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ছিলেন।

আর্জেন্টিনাকে ফিফা সুবিধা দিচ্ছে—এই বিতর্ক টুর্নামেন্ট চলাকালীন এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, মিসর ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ তোলে যে মেসিকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে এবং আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচের রেফারিং এর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানায়। আর কিছুদিন পর একই ধরনের অভিযোগ তুলেছিল আলজেরিয়া।

আরও পড়ুন: আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়ে ম্যাচসহ ১৯ অক্টোবরের খেলার সূচি প্রকাশ

আর্জেন্টিনার গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার আইসা মান্দিকে মেসির করা একটি ট্যাকেলে রেফারির হলুদ বা লাল কার্ড না দেওয়ার কারণে তৈরি হয় আলোচনা। পিছন থেকে ট্যাকেল করে মেসি যখন আলজেরিয়ার আইসা মান্দিকে আঘাত করেন, তখন মেসির বুট মান্দির হাঁটুর পেছনে লাগে। সাধারণত এই ধরনের ট্যাকেলে লাল কার্ড দেওয়ার প্রচলন থাকলেও ওই ঘটনায় মেসির হলুদ কার্ডও হয়নি।

ম্যাচ শেষে আলজেরিয়ার আইসা মান্দি এই ট্যাকেল নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় অভিযোগ করেন যে, মেসি বিশ্বকাপের অন্যতম বড় তারকা হওয়ায় তিনি লাল কার্ড পাননি।

ম্যাচের দুদিন পরে করা আলজেরিয়ার অভিযোগের পর ফিফার রেফারিং কমিশনও বিষয়টিতে গুরুত্ব দেয়।

ফুটবল বিশ্লেষক এবং সাবেক ফুটবলাররা ওই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানান। কেউ কেউ মনে করেন ওই ট্যাকেলের জন্য মেসির লাল কার্ড হওয়া উচিত ছিল, আবার কয়েকজন বলেন ম্যাচের পরিস্থিতি এবং ট্যাকেলের গভীরতা বিবেচনা করেই রেফারি মেসিকে কার্ড দেননি। রেফারির সিদ্ধান্তের পক্ষে তাদের যুক্তি হলো, সে সময় মাঠের পরিস্থিতি দর্শকদের চেয়ে রেফারি বেশ ভালো বুঝেছিলেন।

আরও পড়ুন: নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষা

গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় ম্যাচের ঘটনার পরপর কিছু ফুটবল বিশ্লেষক সমালোচনা করেন, তবে মূলত এই বিষয়টি আর্জেন্টিনা-মিসরের ম্যাচের পরেই আলোচনা শুরু করে। রাউন্ড অব সিক্সটিনে আর্জেন্টিনা-মিসরের ম্যাচে মিসরের একটি গোল বাতিল হওয়ার পেছনে ছিল গোলের বিল্ডআপে আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে ফাউল করা। ওই গোল বাতিল নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা উঠে আসার সময় অস্ট্রিয়া ম্যাচের আর্জেন্টিনার প্রথম গোল নিয়ে বিতর্কও আবার সামনে আসে।

অস্ট্রিয়ার সঙ্গে ম্যাচের আগে গোল করার বিল্ডআপে ম্যাক আলিস্টার ফাউল করেন শালগারকে, সেখান থেকে বল পেয়ে গোল করেন মেসি। অস্ট্রিয়ার খেলোয়াড়রা আপিল করলেও ওই ক্ষেত্রে ভিএআর রিভিউ করা হয়নি।

ম্যাক আলিস্টার-এর ওই ট্যাকেল আলোচনায় উঠে আসে এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বিতর্কের সৃষ্টি করা আর্জেন্টিনা-মিসরের রাউন্ড অব সিক্সটিন ম্যাচের পর। লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে ফাউল করার কারণে মোস্তফা জিকোর গোল বাতিল হওয়া ছাড়াও ওই ম্যাচের শেষদিকে হুলিয়ান আলভারেজের মোহাম্মদ সালাহকে বক্সের মধ্যে করা ট্যাকেলও আলোচনার অধ্যায়।

সালাহকে করা ওই ট্যাকেলের জন্য মিসরের খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফ আপিল করলেও রেফারি তা আমলে নেননি। এরপর মিসরের কোচ ‘বৈষম্যমূলক’ আচরণের অভিযোগ উত্থাপন করেন এবং বলেন যে তাদের কাছ থেকে ম্যাচ ‘ছিনিয়ে’ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: ধর্মীয় উৎসব শিশুদের নৈতিকতা ও আদর্শের শিক্ষা দেয়: ডেপুটি স্পিকার

কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের সাথে আর্জেন্টিনা ১-১ সমতায় থাকার সময় ব্রিল এমবোলোর দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখা নিয়েও আলোচনা সৃষ্টি হয়। এমবোলোকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানো হয় ‘মিসটেইকেন আইডেন্টিটি রুল’ অনুযায়ী।

‘মিসটেইকেন আইডেন্টিটি রুল’ বলছে, কোনো খেলোয়াড় যদি একটি ফাউলের জন্য হলুদ বা লাল কার্ড পান, কিন্তু আসলে ফাউলটি অন্য খেলোয়াড়ের দ্বারা সংঘটিত হতে থাকে, তাহলে রেফারি দায়িত্ব পরিবর্তন করে দায়ী খেলোয়াড়কে একই শাস্তি দিতে হবে।

এই পরিস্থিতিতে রেফারি প্রথমে আর্জেন্টিনার পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখান এমবোলোকে ফাউল করার কারণে। কিন্তু পরে ভিএআর জানায় যে, এমবোলো আসলে ডাইভ দিয়েছেন। ফলে সাথে সাথে পারেদেসের কার্ড বদলিয়ে সেটি এমবোলোকে দেওয়া হয় এবং এমবোলোকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানো হয় এবং তাকে মাঠ ছাড়তে হয়।

সमीক্ষকদের অনেকেই সে সময় মন্তব্য করেন যে রেফারি এমবোলোকে এই ক্ষেত্রে কার্ড না দিতে পারতেন। আবার অনেকের মতে, এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এমবোলোর অবিবেচক আচরণ শাস্তির উপযুক্ত অপরাধ। ওই ম্যাচের শেষ দিকে আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলের সময় লাউতারো মার্টিনেজের গোল উদযাপন ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়, কেন তাকে হলুদ কার্ড দেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুন: তালা ভেঙে বাসায় ঢুকে ৮ লাখ টাকা, ২ ভরি সোনা ও মূল্যবান সামগ্রী চুরি: ডেমরায় চাঞ্চল্য

গোল করে মার্টিনেজ মাঠের সীমানা টপকে দর্শকদের কাছে গিয়ে গোল উদযাপন করেন, যা বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী হলুদ কার্ড দেখানোর মতো অপরাধ। আর ওই ম্যাচে আগে থেকে একটি হলুদ কার্ড নিয়ে থাকা লাউতারো দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পানলে সেমিফাইনাল খেলতে পারতেন না এবং ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে জয়সূচক গোলও করতে পারতেন না। তবে নানা অভিযোগ, সমালোচনা এবং বিতর্ক থাকলেও পুরো বিশ্বকাপ জুড়ে আর্জেন্টিনা যে অন্যতম সেরা দল হিসাবে ফাইনাল খেলেছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

মিসর বা ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পিছিয়ে পরেও ম্যাচে ফেরা কিংবা কেপ ভার্ডে এবং সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত লড়াই প্রদর্শনের মাধ্যমে তারা তাদের খেলার মান প্রমাণ করেছে। আর আর্জেন্টিনার মাঠের খেলার গুণগত মানের সবচেয়ে বড় প্রশংসা সম্ভবত করেছেন বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের কোপ লুই দে লা ফুয়েন্তে।

ফাইনালের আগে একটি প্রেস কনফারেন্সে তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল আর্জেন্টিনা ‘ডার্টি ফুটবল’ খেলছে কি না। জবাবে স্প্যানিশ কোচ বলেছিলেন, ‘না, প্লিজ এমন মনে করবেন না। এই দলটি একটি কোপা আমেরিকা জিতে তারপর আবার বিশ্বকাপ জিতেছে।’

সেখানে আবার কোপা আমেরিকা জিতেছে এবং এখন আবার বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলতে যাচ্ছে। পাঁচ বছর ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবলে তারা ধারাবাহিক পারফর্ম করছে। ফুটবল ইতিহাসের খুব কম দলই এই ধরনের অর্জন করে দেখিয়েছে। তাই তাদের প্রতি আমার মধ্যে শুধু শ্রদ্ধাবোধই কাজ করে।

আরও পড়ুন: ভিনিসিয়াস ছাড়া সেভিয়াকে ৪-১ গোলে হারালো রিয়াল মাদ্রিদ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ময়লার ডাস্টবিনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ পরিচ্ছন্নকর্মী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৫৮ এম


ময়লার ডাস্টবিনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ পরিচ্ছন্নকর্মী

রাজধানীতে ময়লার ডাস্টবিন ব্যবহারের কারণে বিরোধের ফলস্বরূপ এক পরিচ্ছন্নকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

রোববার (১৯ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার সময় নতুনবাজার ও বারিধারা সড়কের ময়লার ডাস্টবিনের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

গুলিবিদ্ধ ব্যক্তির নাম মো. তৌহিদ (২৮), যিনি নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার কাকুরিয়া মাছিমা গ্রামের আবুল হাশেমের ছেলে। বর্তমানে তিনি রাজধানীতে ভাটারা থানার কোকাকোলা টেকবাড়ি-বারিধারা এলাকায় বাস করছেন।

তৌহীদের সহকর্মী কামরুল জানান, নতুন বাজার-বারিধারা এলাকায় ময়লার ডাস্টবিন ব্যবহারের নিয়ে স্থানীয় ‘হেলাল গ্রুপ’-এর সঙ্গে কয়েক দিন ধরে বিরোধ চলছিল। রোববার রাতে ডাস্টবিনের সামনের স্থানে হঠাৎ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন গুলি চালালে তৌহিদের পায়ে গুলি লাগে।

এরপর, সহকর্মীরা তৌহিদকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ঢামেকের জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে, চিকিৎসকরা তৌহিদকে পঙ্গু अस्पतालে রেফার করেন। এই ঘটনার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবগত করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাসানের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে কলম্বোর দাপুটে জয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:০৪ এম


হাসানের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে কলম্বোর দাপুটে জয়

লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে (এলপিএল) একটি দারুণ ম্যাচে ৬ উইকেটের রোমন্থক জয় তুলে নিয়েছে কলম্বো ক্যাপস। ১৮০ রানের লক্ষ্য ২ বল হাতে রেখেই স্পর্শ করে তারা কলম্বোর সিনহালিজ স্পোর্টস ক্লাব (এসএসসি) মাঠে। যদিও ম্যাচসেরা হয়েছেন জানিথ লিয়ানাগে, যিনি অপরাজিত ৫৩ রানের ইনিংস খেলেন, তবে পুরো ম্যাচে ব্যাট-বল-ফিল্ডিং মিলিয়ে সবচেয়ে বড় প্রভাব রেখেছেন বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ।

টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় কলম্বো ক্যাপস। শুরুতে ক্যান্ডি রয়্যালস কিছুটা আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করলেও সেই গতি বেশিদিন ধরে রাখতে দেননি হাসান মাহমুদ। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে প্রথম আঘাত হানেন তিনি। তিনি মাত্র ১ রান করা সেদিকুল্লাহ আতালকে ক্যাচে পরিণত করে ক্যান্ডির দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন।

একই ওভারে আরেকটি বড় ধাক্কা দেন তিনি। ডেল ফিলিপসকে এলবিডব্লিউ করে মাত্র ১ রানেই ফিরিয়ে দেন। ফলে ২৮ রানে বিনা উইকেট থেকে মুহূর্তেই ৩১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপের মধ্যে পড়ে যায় ক্যান্ডি রয়্যালস।

সেই ধাক্কা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন লাহিরু উদারা এবং অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস। উদারা ৩৬ বলে ৫৩ রান করেন, যেখানে ছিল ৮টি চার ও ১টি ছক্কা। অন্যদিকে ম্যাথুস ৪১ বলে ৪৫ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন। তবে শেষদিকে মঈন আলি ১৭ বলে ৪১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে দলকে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে নেন।

ডেথ ওভারেও কার্যকর ছিলেন হাসান মাহমুদ। নিজের শেষ ওভারে তিনি ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গাকে বোল্ড করে ফেরান। এরপর তিনি একই ওভারে দুশান হেমান্থাকে রানআউট করার ক্ষেত্রেও সরাসরি ভূমিকা রাখেন।

চার ওভারে ৩১ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি একটি রানআউটেও অবদান রেখে ক্যান্ডির ইনিংস দ্রুত গুটিয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। কলম্বোর হয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন বিনুরা ফার্নান্দো, আর জেমস নিশাম শিকার করেন ২টি উইকেট। নির্ধারিত ২০ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ১৭৯ রান তোলে ক্যান্ডি রয়্যালস।

১৮০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কলম্বো ক্যাপস ভালো শুরু করতে পারেনি। ৩ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস চোট পেয়ে রিটায়ার্ড হার্ট হন। এরপর সাদিরা সামারাবিক্রমাও দ্রুত ফিরে গেলে মাত্র ৮ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে চাপের মধ্যে পড়ে দলটি।

সেখান থেকে কামিন্দু মেন্ডিস ২৬ এবং বেন ম্যাকডারমট ২২ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও দুইজনই ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার শিকার হন। ১০ ওভারে ৬৭ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই ক্যান্ডির দিকে চলে গিয়েছিল।

ঠিক তখনই হাল ধরেন জানিথ লিয়ানাগে ও জেমস নিশাম। দুজন মিলে অবিচ্ছিন্ন পঞ্চম উইকেট জুটিতে যোগ করেন ১০০ রান। লিয়ানাগে মাত্র ৩২ বলে ৬ চার ও ১ ছক্কায় অপরাজিত ৫৩ রান করেন। অন্যদিকে নিশাম ৩৬ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় অপরাজিত ৪৮ রান করে শেষ পর্যন্ত দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।

ক্যান্ডির বোলারদের মধ্যে ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ২টি এবং অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস ও নুয়ান থুশারা একটি করে উইকেট নেন। তবে অতিরিক্ত ২৭ রান, যার মধ্যে ছিল ১২টি ওয়াইড ও ২টি নো বল, শেষ পর্যন্ত তাদের জন্য বড় মূল্যই চুকাতে হয়েছে। বিশেষ করে গারুকা সংকেথ মাত্র ২.৪ ওভারে ৫১ রান খরচ করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন।

যদিও ম্যাচসেরার পুরস্কার গেছে জানিথ লিয়ানাগের হাতে, তবে পুরো ম্যাচের প্রেক্ষাপটে হাসান মাহমুদের অবদান ছিল অনন্য। নতুন বলে পরপর দুই উইকেট নিয়ে ক্যান্ডির ব্যাটিংয়ের ভিত নড়িয়ে দেওয়া, ডেথ ওভারে আরও একটি উইকেট যোগ করা, রানআউটে সরাসরি ভূমিকা রাখা এবং চার ওভারে মাত্র ৭.৭৫ ইকোনমিতে বোলিং—সব মিলিয়ে কলম্বো ক্যাপসের জয়ের ভিত্তি গড়ে দেন বাংলাদেশের এই ডানহাতি পেসার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশের ১৩ জেলায় আকস্মিক বন্যার পূর্বাভাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:০৭ এম


দেশের ১৩ জেলায় আকস্মিক বন্যার পূর্বাভাস

দেশের ১৩ জেলায় শুরু হচ্ছে আকস্মিক বন্যার কালো ছায়ার উপস্থিতি। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দেওয়া সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, সিলেট, সুনামগঞ্জ, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ এবং টাঙ্গাইলের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।

ইতোমধ্যেই সুরমা-কুশিয়ারার অববাহিকায় নদীর পানি উথাল-পাথাল হয়ে গেছে। কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ ও মারকুলি পয়েন্টে তীরবর্তী লোকালয়কে প্লাবিত করছে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় সিলেট ও সুনামগঞ্জের সুরমা-কুশিয়ারা সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে এই প্লাবনের ক্ষত আরও গভীর হতে পারে অথবা জনজীবন স্থবির হয়ে পড়তে পারে।

উত্তরের তিস্তা, ধরলা আর দুধকুমার নদীগুলোও ফুঁসে উঠছে। ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নদীসংলগ্ন এলাকা প্লাবিত হওয়ার প্রবল আশঙ্কায় সময় পার করছেন। নেত্রকোণার সোমেশ্বরী নদীও পিছিয়ে নেই; আগামী তিন দিনের মধ্যে তার বিপৎসীমা পেরিয়ে নিম্নাঞ্চলকে ভাসিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

অন্যদিকে, ২০ থেকে ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে ব্রহ্মপুত্র-যমুনার বুক চিরে যে প্লাবন আসছে, তা কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের কিছু স্থানে সতর্কসীমা ছুঁয়ে যাবে। এর ফলে নদীমাতৃক এই অঞ্চলের বুক চিরে জেগে ওঠা চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হওয়ার প্রহর গুনছে।

গত সপ্তাহের টানা বর্ষণের পর প্রকৃতিতে যে ক্ষণিক বিরতি মিলেছিল, তা যেন এক ঝড়ের পূর্বাভাস হিসেবে প্রতিভাত হচ্ছে। আবহাওয়াবিদ আব্দুল হামিদ জানাচ্ছেন, সোমবার থেকেই দেশে তিনটি বিভাগে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি আসতে পারে। এটি পরবর্তী কয়েকদিন ধরে দেশের ওপর আধিপত্য বজায় রাখবে।

আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবিরের স্বাক্ষরিত ভারী বর্ষণের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রয়াসে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে আকাশের বুক চিরে আসতে পারে ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বা তারও বেশি বৃষ্টিপাতের ধারা।

প্রকৃতির এই বৃষ্টিধারার তীব্রতা ইতোমধ্যেই টের পেয়েছে উত্তরের সীমান্ত ঘেঁষা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া, যেখানে রবিবার সর্বোচ্চ ১৯৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া নীলফামারীর ডিমলা, নোয়াখালীর হাতিয়া, এবং সাগরের কোল ঘেঁষে থাকা কক্সবাজার ও টেকনাফ এলাকায়ও মেঘের গর্জন ও বৃষ্টির নূপুরধ্বনি প্লাবনের বার্তা নিয়ে এসেছে।

এদিন নীলফামারীর ডিমলায় ৬৩ মিলিমিটার, নোয়াখালীর হাতিয়ায় ১১০, কক্সবাজারে ৭৫, টেকনাফে ৬২, কুমিল্লায় ৫৫, খুলনায় ও সন্দ্বীপে ৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:১৫ এম


ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৪৮ পিস ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

শ্রীনগর থানার পুলিশ শনিবার (১৯ জুলাই) বিকেল সময়ে একটি টিম সংগঠিত করে উপজেলার কোলাপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ পাইকসা এলাকায় অভিযান চালানোর পরে তাকে গ্রেপ্তার করেন।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. আছাদ উল্লাহ, যিনি আছাদ নামে পরিচিত (২৪)। তিনি লৌহজং উপজেলার কাজীর পাগলা এলাকার মৃত হাসমত উল্লাহর ছেলে।

শ্রীনগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিল্টন দত্ত বলেন, গ্রেপ্তার করা আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%