১০:০৭ এম
দেশের ১৩ জেলায় শুরু হচ্ছে আকস্মিক বন্যার কালো ছায়ার উপস্থিতি। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দেওয়া সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, সিলেট, সুনামগঞ্জ, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ এবং টাঙ্গাইলের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।
ইতোমধ্যেই সুরমা-কুশিয়ারার অববাহিকায় নদীর পানি উথাল-পাথাল হয়ে গেছে। কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ ও মারকুলি পয়েন্টে তীরবর্তী লোকালয়কে প্লাবিত করছে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় সিলেট ও সুনামগঞ্জের সুরমা-কুশিয়ারা সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে এই প্লাবনের ক্ষত আরও গভীর হতে পারে অথবা জনজীবন স্থবির হয়ে পড়তে পারে।
উত্তরের তিস্তা, ধরলা আর দুধকুমার নদীগুলোও ফুঁসে উঠছে। ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নদীসংলগ্ন এলাকা প্লাবিত হওয়ার প্রবল আশঙ্কায় সময় পার করছেন। নেত্রকোণার সোমেশ্বরী নদীও পিছিয়ে নেই; আগামী তিন দিনের মধ্যে তার বিপৎসীমা পেরিয়ে নিম্নাঞ্চলকে ভাসিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আরও পড়ুন: ফের অশান্ত ভারতের মণিপুর, মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে নিহতদের লাশ রেখে বিক্ষোভ
অন্যদিকে, ২০ থেকে ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে ব্রহ্মপুত্র-যমুনার বুক চিরে যে প্লাবন আসছে, তা কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের কিছু স্থানে সতর্কসীমা ছুঁয়ে যাবে। এর ফলে নদীমাতৃক এই অঞ্চলের বুক চিরে জেগে ওঠা চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হওয়ার প্রহর গুনছে।
গত সপ্তাহের টানা বর্ষণের পর প্রকৃতিতে যে ক্ষণিক বিরতি মিলেছিল, তা যেন এক ঝড়ের পূর্বাভাস হিসেবে প্রতিভাত হচ্ছে। আবহাওয়াবিদ আব্দুল হামিদ জানাচ্ছেন, সোমবার থেকেই দেশে তিনটি বিভাগে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি আসতে পারে। এটি পরবর্তী কয়েকদিন ধরে দেশের ওপর আধিপত্য বজায় রাখবে।
আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবিরের স্বাক্ষরিত ভারী বর্ষণের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রয়াসে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে আকাশের বুক চিরে আসতে পারে ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বা তারও বেশি বৃষ্টিপাতের ধারা।
প্রকৃতির এই বৃষ্টিধারার তীব্রতা ইতোমধ্যেই টের পেয়েছে উত্তরের সীমান্ত ঘেঁষা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া, যেখানে রবিবার সর্বোচ্চ ১৯৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া নীলফামারীর ডিমলা, নোয়াখালীর হাতিয়া, এবং সাগরের কোল ঘেঁষে থাকা কক্সবাজার ও টেকনাফ এলাকায়ও মেঘের গর্জন ও বৃষ্টির নূপুরধ্বনি প্লাবনের বার্তা নিয়ে এসেছে।
আরও পড়ুন: ফ্রান্সের পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে, মেয়রদের হাতে কারফিউ জারির ক্ষমতা
এদিন নীলফামারীর ডিমলায় ৬৩ মিলিমিটার, নোয়াখালীর হাতিয়ায় ১১০, কক্সবাজারে ৭৫, টেকনাফে ৬২, কুমিল্লায় ৫৫, খুলনায় ও সন্দ্বীপে ৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন