প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে (এলপিএল) একটি দারুণ ম্যাচে ৬ উইকেটের রোমন্থক জয় তুলে নিয়েছে কলম্বো ক্যাপস। ১৮০ রানের লক্ষ্য ২ বল হাতে রেখেই স্পর্শ করে তারা কলম্বোর সিনহালিজ স্পোর্টস ক্লাব (এসএসসি) মাঠে। যদিও ম্যাচসেরা হয়েছেন জানিথ লিয়ানাগে, যিনি অপরাজিত ৫৩ রানের ইনিংস খেলেন, তবে পুরো ম্যাচে ব্যাট-বল-ফিল্ডিং মিলিয়ে সবচেয়ে বড় প্রভাব রেখেছেন বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ।
টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় কলম্বো ক্যাপস। শুরুতে ক্যান্ডি রয়্যালস কিছুটা আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করলেও সেই গতি বেশিদিন ধরে রাখতে দেননি হাসান মাহমুদ। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে প্রথম আঘাত হানেন তিনি। তিনি মাত্র ১ রান করা সেদিকুল্লাহ আতালকে ক্যাচে পরিণত করে ক্যান্ডির দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন।
একই ওভারে আরেকটি বড় ধাক্কা দেন তিনি। ডেল ফিলিপসকে এলবিডব্লিউ করে মাত্র ১ রানেই ফিরিয়ে দেন। ফলে ২৮ রানে বিনা উইকেট থেকে মুহূর্তেই ৩১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপের মধ্যে পড়ে যায় ক্যান্ডি রয়্যালস।
সেই ধাক্কা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন লাহিরু উদারা এবং অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস। উদারা ৩৬ বলে ৫৩ রান করেন, যেখানে ছিল ৮টি চার ও ১টি ছক্কা। অন্যদিকে ম্যাথুস ৪১ বলে ৪৫ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন। তবে শেষদিকে মঈন আলি ১৭ বলে ৪১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে দলকে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে নেন।
ডেথ ওভারেও কার্যকর ছিলেন হাসান মাহমুদ। নিজের শেষ ওভারে তিনি ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গাকে বোল্ড করে ফেরান। এরপর তিনি একই ওভারে দুশান হেমান্থাকে রানআউট করার ক্ষেত্রেও সরাসরি ভূমিকা রাখেন।
চার ওভারে ৩১ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি একটি রানআউটেও অবদান রেখে ক্যান্ডির ইনিংস দ্রুত গুটিয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। কলম্বোর হয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন বিনুরা ফার্নান্দো, আর জেমস নিশাম শিকার করেন ২টি উইকেট। নির্ধারিত ২০ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ১৭৯ রান তোলে ক্যান্ডি রয়্যালস।
১৮০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কলম্বো ক্যাপস ভালো শুরু করতে পারেনি। ৩ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস চোট পেয়ে রিটায়ার্ড হার্ট হন। এরপর সাদিরা সামারাবিক্রমাও দ্রুত ফিরে গেলে মাত্র ৮ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে চাপের মধ্যে পড়ে দলটি।
সেখান থেকে কামিন্দু মেন্ডিস ২৬ এবং বেন ম্যাকডারমট ২২ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও দুইজনই ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার শিকার হন। ১০ ওভারে ৬৭ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই ক্যান্ডির দিকে চলে গিয়েছিল।
ঠিক তখনই হাল ধরেন জানিথ লিয়ানাগে ও জেমস নিশাম। দুজন মিলে অবিচ্ছিন্ন পঞ্চম উইকেট জুটিতে যোগ করেন ১০০ রান। লিয়ানাগে মাত্র ৩২ বলে ৬ চার ও ১ ছক্কায় অপরাজিত ৫৩ রান করেন। অন্যদিকে নিশাম ৩৬ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় অপরাজিত ৪৮ রান করে শেষ পর্যন্ত দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।
ক্যান্ডির বোলারদের মধ্যে ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ২টি এবং অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস ও নুয়ান থুশারা একটি করে উইকেট নেন। তবে অতিরিক্ত ২৭ রান, যার মধ্যে ছিল ১২টি ওয়াইড ও ২টি নো বল, শেষ পর্যন্ত তাদের জন্য বড় মূল্যই চুকাতে হয়েছে। বিশেষ করে গারুকা সংকেথ মাত্র ২.৪ ওভারে ৫১ রান খরচ করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন।
যদিও ম্যাচসেরার পুরস্কার গেছে জানিথ লিয়ানাগের হাতে, তবে পুরো ম্যাচের প্রেক্ষাপটে হাসান মাহমুদের অবদান ছিল অনন্য। নতুন বলে পরপর দুই উইকেট নিয়ে ক্যান্ডির ব্যাটিংয়ের ভিত নড়িয়ে দেওয়া, ডেথ ওভারে আরও একটি উইকেট যোগ করা, রানআউটে সরাসরি ভূমিকা রাখা এবং চার ওভারে মাত্র ৭.৭৫ ইকোনমিতে বোলিং—সব মিলিয়ে কলম্বো ক্যাপসের জয়ের ভিত্তি গড়ে দেন বাংলাদেশের এই ডানহাতি পেসার।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন