০৯:৪২ পি.এম
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টায় ভূমধ্যসাগরে অন্তত এক হাজার ৬৬৮ জন অভিবাসী নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেশি।
সমুদ্রপাড়ি দেওয়ার ক্ষেত্রে শীর্ষে অবস্থান করছে বাংলাদেশ, ইরিত্রিয়া, সুদান, পাকিস্তান এবং মিসরের অভিবাসীরা।
ঝুঁকিপূর্ণ নৌযাত্রা এবং সমুদ্রে উদ্ধার তৎপরতায় বাধা এই বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে যে, এই সংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চলতি বছরের শুরুটা বিশেষভাবে প্রাণঘাতী ছিল।
আরও পড়ুন: পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে তালেবানের হামলায় ১ নিহত, ৫ আহত
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করা অভিবাসীদের মধ্যে ভূমধ্যসাগরে এক হাজার ৬৬৮ জন নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। ২০২৫ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল এক হাজার ৩৫ জন।
নিহত বা নিখোঁজদের মধ্যে ৮৭২ জন সেন্ট্রাল ভূমধ্যসাগরীয় রুটে বিভিন্ন পথে যাত্রা করার সময় প্রাণ হারিয়েছেন। এসব রুটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত পথটি হল উত্তর আফ্রিকার দেশগুলো, বিশেষ করে লিবিয়া থেকে লাম্পেদুসা দ্বীপ হয়ে ইতালির সঙ্গে যুক্ত।
ইউরোপে যাওয়ার জন্য অভিবাসীদের জন্য প্রধান ট্রানজিট ও যাত্রার দেশ হিসেবে এখনও প্রথম অবস্থানে রয়েছে লিবিয়া।
৯ আগস্ট প্রকাশিত এনজিও অ্যালার্ম ফোনের অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
আরও পড়ুন: রিজভী: বিদ্যুৎখাতে লুটপাটের জন্য ইনডেমনিটি দিয়েছিল আওয়ামী সরকার
এনজিও এসওএস মেদিতারানের ২০২৫ সালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেন্ট্রাল ভূমধ্যসাগরীয় রুটে যাত্রা করা অভিবাসীদের মধ্যে শীর্ষে আছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশ থেকে আসা অভিবাসীরা। এটি মোট অভিবাসীর ২৬ শতাংশ। এর পর রয়েছে ইরিত্রিয়ার ১৬ শতাংশ, সুদানের ১৩ শতাংশ, পাকিস্তানের ১২ শতাংশ এবং মিসরের ৯ শতাংশ নাগরিক।
২০১৬ সাল থেকে নাইজেরিয়া, আইভরি কোস্ট, গিনি এবং মালি থেকেও এই পথে আসা অভিবাসীদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে লিবিয়া ও টিউনিশিয়া থেকে যাত্রা করে ২৬ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ ইউরোপে পৌঁছেছেন। আগের বছরগুলোর তুলনায় এই সংখ্যা কমেছে। তবে এর সঙ্গে নিহত বা নিখোঁজের সংখ্যা বেড়ে গেছে।
এপ্রিলের শুরুতে সমুদ্রপথে অভিবাসন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ আরনো বানস ইনফোমাইগ্রেন্টসকে বলেছিলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বহির্সীমান্তে অভিবাসীদের যাত্রা ঠেকানো হচ্ছে ক্রমবর্ধমানভাবে।একই সময়ে আমরা দেখছি, সমুদ্রপথে যাত্রা আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। ইউরোপের উপকূলে পৌঁছাতে পারছে কম মানুষ। কিন্তু মারা যাচ্ছে বেশি। ইনফোমাইগ্রেন্টস।
আরও পড়ুন: দুর্লভ ডাইনোসর ‘জোডি’ ৪৭.৩ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি, বিজ্ঞানীদের অসন্তোষ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন