জাহিদ হাসান নাটোর রাজশাহী প্রতিনিধি
০৯:৪৮ পি.এম
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার-২০২৬ অর্জনের জন্য জনাব আদনান আজাদ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিভাগে জাতীয় পরিবেশ পদক-২০২৫ অর্জন করায় অধ্যাপক মো. হাসমত আলীকে সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশন (বিবিসিএফ)। শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে, বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশন (বিবিসিএফ) এবং সেভ ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড নেচার (সোয়ান) যৌথভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
আয়োজকেরা বলেন, এই অনুষ্ঠান দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বন্যপ্রাণী, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ সংরক্ষণে কাজ করা বিবিসিএফের ৩১৪টির বেশি সংগঠন ও তাদের স্বেচ্ছাসেবীদের উদ্যোগে হয়েছে। আয়োজকদের ভাষায়, এটি শুধুমাত্র একটি সংবর্ধনা নয়, বরং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা সংরক্ষণকর্মীদের আনন্দ ভাগাভাগির একটি বিশেষ উপলক্ষ্য।
উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিবিসিএফের সভাপতি ড. নাছির উদ্দিন। বিবিসিএফের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আরাফাত রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিবিসিএফের প্রধান উপদেষ্ঠা ড. মোল্যা রেজাউল করিম, ড. এস এম ইকবাল, আইইউসিএন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার সারোয়ার আলম দিপু, বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি বাপ্পি খান, অধ্যাপক টিপু সুলতান, কৃষিবিদ শহিদুল ইসলাম, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. আতিকুর রহমান মিঠু। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি আদনান আজাদ এবং জাতীয় পরিবেশ পদক প্রাপ্ত সংগঠক অধ্যাপক মো. হাসমত আলী।
জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকর্মী আদনান আজাদ বলেন, "এই স্বীকৃতি আমার একার অর্জন নয়। দীর্ঘদিন ধরে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে মাঠপর্যায়ে কাজ করা অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবী, সহকর্মী ও সংগঠনের অবদানের ফল এই পুরস্কার।" তিনি আরও বলেন, বন্যপ্রাণী উদ্ধার করার পাশাপাশি মানুষের মধ্যে বন্যপ্রাণী সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করা জরুরি। সাপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, "শুধু প্রাণী উদ্ধার করলেই সংরক্ষণ হয় না; প্রাণী ও মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে মানুষের আচরণ ও দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন আনতে হবে।" আদনান আজাদ বিবিসিএফের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের স্থানীয় সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার সুযোগ তাঁকে মাঠের বাস্তবতা বুঝতে সহায়তা করেছে। তিনি এই আয়োজনের জন্য বিবিসিএফের ৩১৪টির বেশি সদস্য সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীদের ধন্যবাদ জানান।
পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে জাতীয় পরিবেশ পদক পাওয়া অধ্যাপক মো. হাসমত আলী বলেন, "ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রকৃতি সংরক্ষণে কাজ করতে গিয়ে আমি বুঝেছি, একটি গাছ, একটি প্রজাপতি, একটি পাখি কিংবা একটি ছোট জলাভূমিও একটি বড় বাস্তুতন্ত্রের অংশ।" তিনি নিজের উদ্যোগে গড়ে তোলা উদ্ভিদ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, "শিক্ষার্থী ও তরুণদের প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরি হবে।" হাসমত আলী বলেন, "জাতীয় পরিবেশ পদক আমাকে আরও বেশি দায়িত্বশীল করেছে।" ভবিষ্যতে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও পরিবেশ শিক্ষা নিয়ে আরও কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁকে সম্মানিত করার জন্য বিবিসিএফ ও দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সংরক্ষণকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
ড. মোল্যা রেজাউল করিম বলেন, "আদনান আজাদ শুধু একজন বন্যপ্রাণী উদ্ধার কর্মী নন, তিনি বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আন্দোলনের দীর্ঘদিনের একজন কর্মী।" তিনি বলেন, বিবিসিএফ গড়ে ওঠার শুরুর দিকের সদস্যদের একজন হিসেবে আদনানের অবদান অপরিসীম। তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা সংরক্ষণ কর্মীদের এক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে বিবিসিএফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত দুই সংরক্ষণকর্মীকে নিয়ে এমন আয়োজন করায় বিবিসিএফকে ধন্যবাদ জানান।
বন অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ড. মোল্যা রেজাউল করিম বলেন, "সংরক্ষণে শুধু নীতি থাকলেই হবে না, মাঠপর্যায়ে তার বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।" সাতছড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় অবকাঠামো ও মানুষের প্রয়োজনের সঙ্গে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
ড. এস এম ইকবাল বলেন, "কোনো প্রাণীকে সংরক্ষণ করতে চাইলে প্রথমে মানুষকে বোঝাতে হবে সেই প্রাণীটি প্রকৃতি ও মানুষের কী কী উপকার করে।" মানুষের কাছে বন্যপ্রাণীর গুরুত্ব স্পষ্ট না হলে শুধু আইন করে দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ নিশ্চিত করা কঠিন। আদনান আজাদ ও হাসমত আলীর কাজকে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগের শক্তিশালী উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত এই দুই ব্যক্তিকে সম্মান জানানোর মাধ্যমে বিবিসিএফ মাঠপর্যায়ের সব সংরক্ষণকর্মীকেই সম্মান জানিয়েছে।
আইইউসিএন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার সারোয়ার আলম দিপু বলেন, "আদনান আজাদ কুমিরসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী নিয়ে দেশে ও বিদেশে কাজ করেছেন।" বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার তাঁর দীর্ঘদিনের কাজের স্বীকৃতি। তিনি বলেন, "পুরস্কার পাওয়া মানে কাজ শেষ হয়ে যাওয়া নয়; বরং দায়িত্ব আরও বেড়ে যাওয়া।" আদনান আজাদ ও হাসমত আলীর মতো সংরক্ষণকর্মীদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের সংরক্ষণ কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি।
সারোয়ার আলম দিপু বিবিসিএফের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, "দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সংরক্ষণকর্মীদের একই জায়গায় এনে তাঁদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত হওয়া দরকার।"
কৃষিবিদ শহিদুর রহমান বলেন, "বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ শুধু বন বা অভয়ারণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের বসতি ও কৃষিজমির সঙ্গে বন্যপ্রাণীর সম্পর্ক রয়েছে।" ফলে তিনি বলেন, মানুষ-বন্যপ্রাণী সংঘাত কমাতে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। তিনি দেশীয় ও অপ্রচলিত গ্রামীণ ফলের গাছ লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন এবং পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে মানুষের পাশাপাশি পাখি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল তৈরির কথা বলেন। আদনান আজাদ ও হাসমত আলীর কাজের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগ কীভাবে বৃহত্তর সংরক্ষণ আন্দোলনে ভূমিকা রাখতে পারে, তাঁদের কাজ তার উদাহরণ। এমন আয়োজনের জন্য বিবিসিএফকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. আতিকুর রহমান মিঠু বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্য হ্রাসের চিত্র তুলে ধরে বলেন, "গত ২০০ বছরে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৩০০ প্রজাতি হারিয়ে গেছে।" এই পরিস্থিতি ভবিষ্যৎ সংরক্ষণ কার্যক্রমের জন্য বড় সতর্কবার্তা। তিনি বলেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি সংগঠন, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষক এবং স্বেচ্ছাসেবীদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। আদনান আজাদ ও হাসমত আলীর জাতীয় স্বীকৃতিকে তিনি সংরক্ষণ আন্দোলনের জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবে উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি বাপ্পি খান বলেন, "বন্যপ্রাণী ও প্রাণীকল্যাণ নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করা মানুষের স্বীকৃতি পাওয়া জরুরি।" আদনান আজাদ দীর্ঘদিন ধরে বন্যপ্রাণী উদ্ধারের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করেছেন। তাঁর এই অর্জন তরুণদের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে উৎসাহিত করবে। তিনি হাসমত আলীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিবেশ সংরক্ষণেরও প্রশংসা করেন এবং দুই পুরস্কারপ্রাপ্তকে অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি তাঁদের সম্মান জানাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীদের একত্র করার জন্য বিবিসিএফকে ধন্যবাদ জানান।
অধ্যাপক টিপু সুলতানও দুই পুরস্কারপ্রাপ্তের কাজের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, "সংরক্ষণ আন্দোলনে ব্যক্তি উদ্যোগ ও সামাজিক সংগঠনের ভূমিকা আরও বাড়াতে হবে।" তরুণদের এই আন্দোলনে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
অনুষ্ঠানের সভাপতি বিবিসিএফের সভাপতি ড. নাছির উদ্দিন বলেন, "আজকের আয়োজনকে আমি শুধু সংবর্ধনা হিসেবে দেখি না। আমরা আনন্দ ভাগাভাগি করতে একত্রित হয়েছি। আদনান আজাদ ও হাসমত আলীর অর্জন আমাদের সবার অর্জন।"
তিনি বলেন, বিবিসিএফের ৩১৪টির বেশি সংগঠন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বন্যপ্রাণী, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করছে। জাতীয় পর্যায়ে দুই সংরক্ষণকর্মীর স্বীকৃতি সেই বিশাল স্বেচ্ছাসেবী পরিবারের জন্যও আনন্দের বিষয়। আদনান আজাদের দীর্ঘদিনের কাজের কথা উল্লেখ করে ড. নাছির উদ্দিন বলেন, তিনি শহর থেকে মাঠপর্যায়ের সাধারণ মানুষ ও সংরক্ষণকর্মীদের সঙ্গে ভালোভাবে যুক্ত। এই অভিজ্ঞতা নীতিনির্ধারণে কাজে লাগানো যেতে পারে।
তিনি বলেন, "বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একজন প্রাণবান্ধব প্রধানমন্ত্রী। প্রাণ-প্রকৃতি নিয়ে সরকারের যে ভাবনা রয়েছে, তা বাস্তবায়নে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে মাঠের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মানুষদের যুক্ত করা দরকার।"
আদনান আজাদকে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সম্পৃক্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান ড. নাছির উদ্দিন। তাঁর মতে, আদনানের মতো মাঠপর্যায়ের মানুষের অভিজ্ঞতা জাতীয় নীতিতে প্রতিফলিত হলে বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যক্রম আরও বাস্তবভিত্তিক ও কার্যকর হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ও অনুভূতি ব্যক্ত করেন কোষাধ্যক্ষ মোঃ জাহিদুল ইসলাম, সোহাগ রায় সাগর, শুভ সাহা, শেইখ গালিব, ইমরান রাশেদ, হাবিবুল্লাহ মন্ডল, সোহাগ, রাকিব, কারিম, আবু সাইদ, মামুনসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ সংরক্ষণকর্মীরা।
বক্তারা বলেন, বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ সংরক্ষণে বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী, গবেষক ও তরুণদের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা ভবিষ্যতে বিবিসিএফের ৩১৪টির বেশি সংগঠন ও দেশব্যাপী স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করে স্থানীয় পর্যায়ের সংরক্ষণ উদ্যোগগুলোকে জাতীয় সংরক্ষণ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনের সংসদ সদস্য আয়নুল হকের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় জামায়াত, এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের দায়ী করা হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে।
এদিকে, এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে বিএনপির নেতাকর্মীরা সন্ধ্যায় উপজেলার চান্দাইকোনা ও ধানগড়া বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সম্প্রতি সরকারি উদ্যোগে টিটিসির ভবন নির্মাণের জন্য একটি সরকারি চিঠি বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করা হয়। এ চিঠিতে চান্দাইকোনা এলাকায় টেকনিক্যাল টেনিং সেন্টার (টিটিসি) স্থাপনের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। সরকারি এই সিদ্ধান্তের পর উপজেলার একটি অংশ ধানগড়া ও অন্য একটি অংশ চান্দাইকোনায় টিটিসি ভবন স্থাপনের দাবিতে মিছিল, সমাবেশ ও মানববন্ধন করা হয়। এ অবস্থায় ধানগড়া এলাকায় টিটিসি ভবন নির্মাণের দাবি জানানো অংশের সঙ্গে এমপি আয়নুল হক বৈঠকে বসেছিলেন। বৈঠকের এক পর্যায়ে পক্ষে-বিপক্ষের লোকজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হট্টগোল শুরু হয়। সেই সময় এমপি আয়নুল হক নিজ গাড়িতে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় পেছন থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এই হামলায় এমপির গাড়ির পেছনের গ্লাস এবং একটি ক্যামেরা ভেঙে যায়।
এ ঘটনার পর এমপি আয়নুল হক তাৎক্ষণিক একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন। ওই ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেন, টিটিসির ভবন স্থাপনের আলোচনা চলাকালীন জামায়াত, এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হট্টগোল সৃষ্টি করেন। এরপর তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় হট্টগোলকারীরা গাড়িতে হামলা চালিয়েছে। এমপি এ বিষয়ে প্রশাসনকে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেন।
তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত স্থানে টিটিসি ভবন স্থাপন করা হবে। এই বিষয়ে রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, এমপির গাড়িতে হামলার ঘটনার পর ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে এ ঘটনায় বর্তমানে কেউ মামলা করেনি এবং কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর ‘রগকাটা’ জামায়াত-শিবির স্বরূপে ফিরে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন।
তিনি শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে এই মন্তব্য করেন।
ফেসবুক পোস্টে নুরুল হক নুর অভিযোগ করেন যে কুষ্টিয়ায় জামায়াত-শিবিরের ‘সন্ত্রাসীরা’ রামদা, হকিস্টিক, ছুরি, চাপাতি নিয়ে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেছে।
‘রগকাটা জামায়াত-শিবির তার স্বরূপে ফিরেছে!’ শিরোনাম দিয়ে তিনি লিখেন, কুষ্টিয়া (কুষ্টিয়ায়) গণঅধিকার পরিষদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশে নেতাকর্মীদের ওপর জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীরা রামদা, হকিস্টিক, ছুরি, চাপাতি নিয়ে উপর্যুপরি হামলা করেছে। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন কুষ্টিয়া জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক, ছাত্র অধিকার পরিষদ কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের সভাপতি সোহান আহমেদসহ অর্ধশত নেতাকর্মী।
প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর আরও লিখেন, জামাত-শিবিরের এই সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একইসঙ্গে জামাত-শিবিরকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, গত দেড় দশক যেভাবে গুপ্ত ছিলেন, বাড়াবাড়ি করলে আজীবন গুপ্ত থাকার ব্যবস্থা করা হবে।
পোস্টে তিনি তার দলের এক নেতার এবং একজনের পায়ের রক্তাক্ত ছবিও অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল নেতা ইব্রাহিম আল মাসুম হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামী সাফাদি মির্জা বিজয় সহ মোট ৫ জনকে কক্সবাজার থেকে গ্রেফতার করেছে পলাশ থানা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের মধ্যে রয়েছে হত্যার প্রধান আসামী সাফাদি মির্জা বিজয় (২৫), শাহ আলম ফকির (৩০), রিফাত ওরফে বাবু ফکির (২২), তুষার (২৫) ও মেহেদী (২০)। সকল আসামির বাড়ি পলাশের ডাঙ্গা ইউনিয়নের হাসানহাটা (ফকিরবাড়ী) গ্রামে।
শনিবার পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল-মামুন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম সহ পুলিশের একটি টিম শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাত ৩ টায় কক্সবাজার জেলার মহেশখালীর ঠাকুরপাড়া এলাকার হোটেল গ্রীন প্যালেস নামে একটি আবাসিক হোটেল থেকে এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার প্রধান আসামী সাফাদি মির্জা বিজয় ও মোট ৫ জনকে সিপিএসসি নরসিংদী, র্যাব-১১ এর সহায়তায় গ্রেফতার করার কাজ সম্পন্ন করে।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার বাকি আসামীদেরও গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
উল্লেখ্য, গত (২ আগস্ট) রাতে পলাশের ডাঙ্গা ইউনিয়নে হাসানহাটা (ফকিরবাড়ী) এলাকায় স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আসামী সাফাদি মির্জা বিজয় সহ তার সহযোগীরা আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ডাঙ্গা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ইব্রাহিম আল মাসুম ও তার সঙ্গী জয়নাল মাস্টার, মামুন আহম্মেদ, আমজাদ, কাউছার, মামুন, আকাশ, রুবেল এবং ইমরানের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে গুলি বর্ষণ করে।
এ ঘটনায় ইব্রাহিম আল মাসুম (৩৩) গুলিবিদ্ধ হন এবং অন্যান্যরা গুরুতর আহত হন। পরে আহত ইব্রাহিম আল মাসুমকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে (পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) ভর্তি করা হলে ৯ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর (১০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০ টায় মাসুম মারা যান।
এ ঘটনার পর পলাশ থানায় নিহত মাসুমের শ্যালক হাসান মো. মহসিন বাদী হয়ে (গত ৪ আগস্ট) ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটিতে টেকনিক্যাল শাখায় ‘সৈনিক’ পদে জনবল নিয়োগ দেওয়ার জন্য আবেদন করা যাবে। আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ১৫ আগস্ট, যা চলবে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। আবেদন করার জন্য অনলাইনে আবেদন ফি পরিশোধ করতে হবে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২০২৬ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির উপর একটি দ্রুত নজর:
শিক্ষাগত যোগ্যতা: এসএসসি/সমমানের (মাদরাসা/কারিগরি/উন্মুক্ত) পরীক্ষায় প্রার্থীকে কমপক্ষে জিপিএ- ৩.০০ থাকতে হবে। সেইসঙ্গে কারিগরি শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান হতে উল্লেখিত বিষয়ে ৩ মাস মেয়াদি সংশ্লিষ্ট ট্রেড কোর্স থাকতে হবে।
আবেদন করার নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের মধ্যে রয়েছে:
আবেদন শুরু হয়েছে ১৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে এবং আবেদন সম্পন্ন হবে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত। আবেদন পদ্ধতি অনলাইনে করা হবে। চাকরির ধরন হবে স্থায়ী, এবং প্রার্থীর ধরন পুরুষ হতে হবে। কর্মস্থল হবে যে কোনো স্থানে।
আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন মেসেজের মাধ্যমে (এসএমএস) অথবা অনলাইনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের সঙ্গে ৩০০-৩০০ সাইজের ছবি ও ৩০০-৮০ সাইজের স্বাক্ষর স্ক্যান করে যুক্ত করতে হবে। অনলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রে প্রার্থীকে প্রবেশপত্র প্রিন্ট করতে হবে। উল্লেখ করা হয়েছে, আবেদন সম্পন্ন করার ৭ দিনের মধ্যে প্রবেশপত্র প্রিন্ট করতে ব্যর্থ হলে পরবর্তী সময়ে তা প্রিন্ট করা যাবে না। নির্ধারিত সময়ের পরে এবং অসম্পূর্ণ আবেদনপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না।
আবেদন ফি: পরীক্ষার ফি বাবদ ২০০ টাকা এবং রেজিস্ট্রার ফি বাবদ ১০০ টাকা, মোট ৩০০ টাকা জমা দিতে হবে।
প্রার্থী নির্বাচন পদ্ধতি: প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়া একাধিক ধাপে পরিচালিত হবে, যার মধ্যে থাকবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, শারীরিক পরীক্ষা, লিখিত পরীক্ষা (বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তা) এবং সাক্ষাৎকার।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সম্পূর্ণ বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ