মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:২৪ পি.এম
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু মন্তব্য করেছেন, ‘যতবার গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে, ততবারই বিএনপি গণতন্ত্রকে তুলে ধরেছে এবং প্রতিষ্ঠিত করেছে। আমরা বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি, বিএনপি কখনো গণতন্ত্রের বিপক্ষে যায়নি।’
তিনি মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ ৯ বছর আন্দোলন করেছেন, গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন। তার আন্দোলনের মধ্য দিয়েই আজকের সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৭৫-এর বিপ্লব থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের আন্দোলন—প্রতিটি গণতন্ত্রকামী আন্দোলনে বিএনপি নেতৃত্ব দিয়েছে।
বিএনপির নেতৃত্বেই দেশে গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘বিএনপিকে কেউ রাজাকার বলতে পারে না। কারণ স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া দল হচ্ছে বিএনপি। বিএনপিকে কেউ ফ্যাসিবাদী বা স্বৈরাচারও বলতে পারে না।
কারণ বিএনপির নেতৃত্বেই ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে, স্বৈরাচারের পতন হয়েছে এবং বিএনপির হাত ধরেই গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে।’
সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু বলেন, ‘সরকারের বয়স মাত্র ছয় মাস। এই ছয় মাসের মধ্যেই নির্বাচনী যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার প্রতিটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন-ভাতা, খাল খনন কর্মসূচি, বৃক্ষরোপণ এবং স্কুলের শিক্ষার্থীদের ব্যাগ ও পোশাক দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, অনেকে অনেক রকম কথা বলছেন।
কিন্তু বিএনপি কখনোই জনগণের বিপক্ষে যায়নি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দেশের মানুষের জন্য কাজ করছেন। এই মুহূর্তে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতৃত্ব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু বলেন, দেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। কিভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ধ্বংস করা যায় এবং গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা যায়, সে ষড়যন্ত্র চলছে। এসব ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। কোনোভাবেই বাংলাদেশে গণতন্ত্রবিরোধী শক্তি যাতে আর ক্ষমতায় আসতে না পারে, সে ব্যবস্থা আমাদের করতে হবে।
জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীনের সভাপতিত্বে এবং জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানুর সঞ্চালনায় জনসভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আলী ইমাম তপন, যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক কাজী শফিকুর রহমান লিটন, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদসহ জেলা, উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
"কালের নতুন সংবাদ"-এর ১১ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে কিশোরগঞ্জে নানা আয়োজনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকাল ১১টায় কিশোরগঞ্জ প্রেসক্লাবের কনফারেন্স রুমে এক আলোচনা সভা, কেক কাটা ও সেরা সাংবাদিকদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন দৈনিক দিনকাল কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি আবু জাফর সালেহ মো. বাবুল। কালের নতুন সংবাদ এর সম্পাদক খায়রুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ ভিপি সোহেল।
এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিএনপি নেতা রুহুল হোসাইন, কিশোরগঞ্জ জেলা খেলাফত মজলিসের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল্লাহ, জেলা কৃষক দলের যুগ্ম সম্পাদক সালাহউদ্দিন খান ছোটন, করিমগঞ্জ সরকারি কলেজের প্রভাষক রাজ্জাকুন্নেছা সুমী, কিশোরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল মালেক চৌধুরী, সহ-সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান খান সোহেল, কোষাধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম ফকির মতি, সাপ্তাহিক শুরূক পত্রিকার সম্পাদক মুহা. ফজলুর রহমান, সাপ্তাহিক নবধারা বার্তার সম্পাদক শহিদুল ইসলাম পলাশ, নান্দাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এনামুল হক বাবুল, তাড়াইল বিএমইউজের সভাপতি ছাদেকুর রহমান রতন ও দৈনিক দিনকাল জেলা প্রতিনিধি আবু সালেহ বাবুল।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, হাওর টাইমস্ এর সম্পাদক মো. খায়রুল ইসলাম ভূঁইয়া, দৈনিক কিশোরগঞ্জ এর স্টাফ রিপোর্টার পলাশ, সাংবাদিক মাহবুব আলম নজরুল, মিজানুর রহমান শাহিনসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিবৃন্দ।
অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, দৈনিক আজকের দর্পণ এর জেলা প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান খান লিপন, বিটিএন বাংলার সম্পাদক ও কালের নতুন সংবাদ এর নির্বাহী সম্পাদক এডভোকেট আসাউজ্জামান জুয়েল, দৈনিক আমার সংবাদ এর পাকুন্দিয়া প্রতিনিধি এম এ হান্নান, কালের নতুন সংবাদ এর হোসেনপুর স্টাফ রিপোর্টার এস কে শাহিন নবাব, মামুন, উপজেলা প্রতিনিধি সোহেল মিয়া, হাওর অঞ্চল প্রতিনিধি আমিনুল ইসলাম রিপন, দৈনিক নওরোজের তাড়াইল প্রতিনিধি মজিবুল হক চুন্নু, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা তাড়াইলের সভাপতি হাজী শহিদুল ইসলাম, কবি ও ছড়াকার সাদেক আহমেদ, দৈনিক সরেজমিন বার্তার জেলা প্রতিনিধি মো. আজিজুল হক ফাহিম, আমার সংবাদ এর জেলা প্রতিনিধি ইমরান হাসান, দৈনিক নিরপেক্ষ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি মিজানুর রহমান মিজান।
কালের নতুন সংবাদ পরিবারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন পত্রিকার বার্তা সম্পাদক সোহেল রানা, সহ-বার্তা সম্পাদক রিতু আক্তার, সহকারী সম্পাদক মাসুদ মিয়া, সহ-সম্পাদক রাকিব ভূঁইয়া, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শাহিন, নান্দাইল প্রতিনিধি আতাউর রহমান বাচ্চু, আতাউল হাসান দিনার ও মো. এমদাদ।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কালের নতুন সংবাদ এর পক্ষ থেকে বছরসেরা ও বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সেরা সাংবাদিকদের মাঝে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কার প্রাপ্তরা হলেন- অ্যাডভোকেট আসাউজ্জামান জুয়েল, গাজীপুর প্রতিনিধি এমদাদুল হক, নেত্রকোণা প্রতিনিধি আলম খান, আতাউর রহমান বাচ্চু, আমিনুল ইসলাম রিপন এবং এস কে শাহিন নবাব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও কঠোর হতে চলেছে। ৩৫ বছর বন্ধ থাকার পর, নাগরিকত্ব প্রত্যাশীদের চরিত্র এবং অন্যান্য তথ্য যাচাইয়ের জন্য প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করার নিয়ম পুনরায় চালু করেছে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস, সংক্ষেপে ইউএসসিআইএস। সম্প্রতি প্রকাশিত এক নীতিমালায় এই বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
১৯৯১ সালের পর থেকে এই পদ্ধতিটি সম্পূর্ণরূপে স্থগিত ছিল। সে সময় ইউএসসিআইএস, যা পূর্বে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাচারালাইজেশন সার্ভিস নামে পরিচিত ছিল, সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে আবেদনকারীর নৈতিক চরিত্র যাচাইয়ের জন্য মূলত এফবিআই এর অপরাধমূলক ইতিহাস এবং অন্যান্য সংস্থার রেকর্ডের ওপর নির্ভর করা হবে। তবে দীর্ঘ সময় পর, সংস্থাটি আবার পুরোনো পদ্ধতিতে ফিরে এসেছে।
নতুন নীতি গত ২৫ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে। এরপর ২৯ আগস্ট সামাজিক মাধ্যম এক্সে ইউএসসিআইএস জানায়, প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আবেদনকারীর বসবাস, উত্তম নৈতিক চরিত্র, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রতি আনুগত্য এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা ও মঙ্গলের প্রতি মনোভাব গভীরভাবে যাচাই করা হবে। সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে, "যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়া একটি বিরল সুযোগ, যা কেবল তাদেরই পাওয়া উচিত যারা জাতির জন্য ইতিবাচক অবদান রাখবেন।"
এই তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা আবেদনকারীর পরিচিত ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার নেবেন। সাক্ষাৎকারে প্রতিবেশী, বাড়ির মালিক, চাকরিদাতা, সহকর্মী এবং আশপাশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারেন। মূলত ব্যাকগ্রাউন্ড চেকে যেসব তথ্য সাধারণত উঠে আসে না, সেসব বিষয়ে ধারণা পেতেই এই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
তবে, সকল আবেদনকারীর জন্য এই তদন্ত বাধ্যতামূলক নয়। কেউ চাইলে এই প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। এজন্য আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের কাছ থেকে প্রশংসাপত্র বা চরিত্র সনদ জমা দিতে হবে, যেখানে তার যোগ্যতা, চরিত্র, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য এবং সংবিধানের নীতিগুলোর প্রতি শ্রদ্ধার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। এই ধরনের চিঠিপত্র জমা দিলে ইউএসসিআইএস চাইলে প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়টি মওকুফ করতে পারে, যদিও তা সব ক্ষেত্রে নিশ্চিত নয়।
এই নীতির পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন ইউএসসিআইএস পরিচালক জোসেফ বি এডলো। ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিষয়ক কমিটির এক শুনানিতে তিনি বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখা, আমেরিকান মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির সঙ্গে যথাযথভাবে মিশে যাওয়া নিশ্চিত করা এবং নাগরিকত্বের মর্যাদা ও বিশেষ সুবিধা সুরক্ষার জন্য প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা অত্যন্ত জরুরি।"
শুধু প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ নয়, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব প্রত্যাশীদের জন্য আরও কিছু নিয়মে পরিবর্তন এনেছে ইউএসসিআইএস। ২০২৫ সালের অক্টোবরে নাগরিকত্বের জন্য নির্ধারিত সিভিকস বা পৌরনীতি পরীক্ষাকে আরও দীর্ঘ ও কঠিন করা হয়েছে। আগে যেখানে ১০০টি প্রশ্নের একটি ব্যাংক থেকে প্রশ্ন করা হতো, তা বাড়িয়ে ১২৮টি করা হয়েছে। পাশাপাশি কর্মকর্তারা এখন ১০টির বদলে সর্বোচ্চ ২০টি প্রশ্ন করতে পারবেন।
পরীক্ষায় পাসের জন্য আগে ৬টি সঠিক উত্তরের প্রয়োজন হলেও এখন তা বাড়িয়ে ১২টি করা হয়েছে। তবে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সি এবং যারা ২০ বছরের বেশি সময় ধরে গ্রিন কার্ডধারী, তাদের জন্য এই নিয়মে শিথিলতা রয়েছে। তবে পাসের জন্য সব আবেদনকারীকেই আগের মতো কমপক্ষে ৬০ শতাংশ প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে হবে।
সূত্র: ইউএসসিআইএস পলিসি অ্যালার্ট
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আফগানিস্তানের তালেবান সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিগত দুই দশকের যুদ্ধের তিক্ততা ভুলে একটি নতুন কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করছে অর্থনৈতিক সহায়তার মাধ্যমে। তারা ওয়াশিংটনকে অবকাঠামো, কৃষি, বাণিজ্য এবং বিশেষ করে খনিজ খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে দেশের অবহেলিত বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো যায়। কাবুলের এই কূটনৈতিক উদ্যোগের লক্ষ্য হলো কট্টরপন্থার বাইরে এসে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছ থেকে স্বীকৃতি অর্জন করা এবং অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করা।
তালেবানের অন্তর্বর্তীকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আফগানিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সম্পর্ককে গত ২০ বছরের সামরিক সংঘাতের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা উচিত নয়। তিনি দুই দেশের সম্পর্ককে ভবিষ্যতের সহযোগিতার নতুন ভিত্তিতে মূল্যায়নের অনুরোধ জানান এবং বলেন, কাবুলের অর্থনৈতিক নীতি সবার জন্য উন্মুক্ত এবং মার্কিন বিনিয়োগকে সেখানে সানন্দে স্বাগত জানানো হবে।
কাবুলে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এলাকাটির পুনর্গঠন করে ওয়াশিংটনকে সঙ্গে নিয়ে কূটনৈতিক উষ্ণতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে তালেবান। সেখানে নিরাপত্তা জোরদার, রাস্তা সংস্কার এবং নতুন গাছপালা রোপণ করে পরিবেশ প্রাণবন্ত করা হয়েছে, যা মার্কিন দূতাবাস পুনরায় চালু করার ইঙ্গিত দেয়। তবে আফগানিস্তানে ফেলে যাওয়া মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম এবং বাগরাম বিমানঘাঁটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌম অধিকার মেনে নিতে তালেবান অস্বীকার করে এবং এগুলোকে আফগানিস্তানের নিজস্ব জাতীয় সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেন।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানের মাটির নিচে আনুমানিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের বিপুল প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদ অলস অবস্থায় রয়েছে। এসবের মধ্যে সোনা, রুপা, প্লাটিনাম, লৌহ আকরিক, ইউরেনিয়াম, জিংক, ট্যান্টালাম, বক্সাইট এবং কয়লার মতো মূল্যবান পদার্থ রয়েছে, পাশাপাশি বিরল তামার বিশাল মজুতও রয়েছে। বিশ্বজুড়ে নতুন তামার খনির সংকট তীব্র হচ্ছে, ফলে আফগান তামার মজুত বৈশ্বিক বাজারে একটি বিশাল প্রভাব তৈরি করতে পারে। যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে এই বিপুল সম্পদে আগ্রহ দেখিয়েছিলেন, সামরিক উত্তেজনার কারণে তা বাস্তবে রূপ নেয়নি।
ক্ষমতা গ্রহণের পাঁচ বছর পার হতে চললেও, নারীদের শিক্ষা ও চলাফেরার স্বাধীনতা হরণের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে তালেবান সরকার এখনও আন্তর্জাতিকভাবে কার্যত একঘরে রয়েছে। এ পর্যন্ত কেবল রাশিয়াই তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিনিময়ে চীন, পাকিস্তান, ভারত ও ইরান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বজায় রেখেছে।
তালেবানের দাবি, চীন ও ইরানসহ বিভিন্ন দেশ ইতিমধ্যে সোনা, মূল্যবান পাথর ও ক্রোমাইট খাতে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের খনি চুক্তি করেছে। কিন্তু একটি টেকসই ও বৃহত্তর অর্থনীতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তির অংশগ্রহণ আফগানিস্তানের জন্য এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। তবে এই অর্থনৈতিক আহ্বানে ওয়াশিংটন সাড়া দেবে কি না, তা তালেবানদের মানবাধিকার নীতির পরিবর্তন ও মার্কিন সরকারের কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ