মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:৩৩ পি.এম
আফগানিস্তানের তালেবান সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিগত দুই দশকের যুদ্ধের তিক্ততা ভুলে একটি নতুন কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করছে অর্থনৈতিক সহায়তার মাধ্যমে। তারা ওয়াশিংটনকে অবকাঠামো, কৃষি, বাণিজ্য এবং বিশেষ করে খনিজ খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে দেশের অবহেলিত বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো যায়। কাবুলের এই কূটনৈতিক উদ্যোগের লক্ষ্য হলো কট্টরপন্থার বাইরে এসে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছ থেকে স্বীকৃতি অর্জন করা এবং অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করা।
তালেবানের অন্তর্বর্তীকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আফগানিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সম্পর্ককে গত ২০ বছরের সামরিক সংঘাতের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা উচিত নয়। তিনি দুই দেশের সম্পর্ককে ভবিষ্যতের সহযোগিতার নতুন ভিত্তিতে মূল্যায়নের অনুরোধ জানান এবং বলেন, কাবুলের অর্থনৈতিক নীতি সবার জন্য উন্মুক্ত এবং মার্কিন বিনিয়োগকে সেখানে সানন্দে স্বাগত জানানো হবে।
কাবুলে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এলাকাটির পুনর্গঠন করে ওয়াশিংটনকে সঙ্গে নিয়ে কূটনৈতিক উষ্ণতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে তালেবান। সেখানে নিরাপত্তা জোরদার, রাস্তা সংস্কার এবং নতুন গাছপালা রোপণ করে পরিবেশ প্রাণবন্ত করা হয়েছে, যা মার্কিন দূতাবাস পুনরায় চালু করার ইঙ্গিত দেয়। তবে আফগানিস্তানে ফেলে যাওয়া মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম এবং বাগরাম বিমানঘাঁটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌম অধিকার মেনে নিতে তালেবান অস্বীকার করে এবং এগুলোকে আফগানিস্তানের নিজস্ব জাতীয় সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেন।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানের মাটির নিচে আনুমানিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের বিপুল প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদ অলস অবস্থায় রয়েছে। এসবের মধ্যে সোনা, রুপা, প্লাটিনাম, লৌহ আকরিক, ইউরেনিয়াম, জিংক, ট্যান্টালাম, বক্সাইট এবং কয়লার মতো মূল্যবান পদার্থ রয়েছে, পাশাপাশি বিরল তামার বিশাল মজুতও রয়েছে। বিশ্বজুড়ে নতুন তামার খনির সংকট তীব্র হচ্ছে, ফলে আফগান তামার মজুত বৈশ্বিক বাজারে একটি বিশাল প্রভাব তৈরি করতে পারে। যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে এই বিপুল সম্পদে আগ্রহ দেখিয়েছিলেন, সামরিক উত্তেজনার কারণে তা বাস্তবে রূপ নেয়নি।
ক্ষমতা গ্রহণের পাঁচ বছর পার হতে চললেও, নারীদের শিক্ষা ও চলাফেরার স্বাধীনতা হরণের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে তালেবান সরকার এখনও আন্তর্জাতিকভাবে কার্যত একঘরে রয়েছে। এ পর্যন্ত কেবল রাশিয়াই তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিনিময়ে চীন, পাকিস্তান, ভারত ও ইরান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বজায় রেখেছে।
তালেবানের দাবি, চীন ও ইরানসহ বিভিন্ন দেশ ইতিমধ্যে সোনা, মূল্যবান পাথর ও ক্রোমাইট খাতে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের খনি চুক্তি করেছে। কিন্তু একটি টেকসই ও বৃহত্তর অর্থনীতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তির অংশগ্রহণ আফগানিস্তানের জন্য এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। তবে এই অর্থনৈতিক আহ্বানে ওয়াশিংটন সাড়া দেবে কি না, তা তালেবানদের মানবাধিকার নীতির পরিবর্তন ও মার্কিন সরকারের কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এবং বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশ যখনই হোঁচট খেয়েছে, বিএনপি সেই সংকট থেকে দেশকে বারবার উদ্ধার করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার এবং পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কারণে দেশ গভীর সংকটে ছিল। তবে কিছুটা সময় লাগলেও বিএনপিই এই সংকট থেকে দেশকে বের করে আনতে সক্ষম হবে।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য কাজ চলছে। তিনি সতর্ক করে দেন যে, যারা আগামীর উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করবে, জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না। তিনি আরও বলেন, অনেক ত্যাগের মাধ্যমে দেশে একটি নির্বাচিত সরকার ও সংসদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং জনগণের প্রত্যাশা ও আকাক্সক্ষা পূরণ করাই সরকারের প্রধান দায়িত্ব। সকলকে ধৈর্য ধারণ করে সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আজ মঙ্গলবার নগরীর পুরাতন রেলওয়ে স্টেশন চত্বরে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির র্যালি পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আমির খসরু চৌধুরী উল্লেখ করেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আমাদের রাজনৈতিক শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতির মাধ্যমে দেশ গড়ার পথ দেখিয়েছেন। শহীদ জিয়া যে ভিত্তির ওপর বাংলাদেশকে দাঁড় করিয়েছিলেন, তার ওপরেই দেশ এখনো এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, বেগম খালেদা জিয়া আমাদের যে শিক্ষা দিয়েছেন, তা অনুকরণীয়। তাঁর সঙ্গে দেশের জন্য হাজারো নেতাকর্মী প্রাণ দিয়েছেন, অনেকে কারাবরণ করেছেন এবং পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। এই ত্যাগ থেকে আমাদের দেশ গড়ার শিক্ষা নিতে হবে।
সমাবেশ শেষে পুরাতন রেলওয়ে স্টেশন চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে লালদিঘী মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের এমন সময়ে বড় বাজেট দেওয়ার সাহস কোনো দলের নেই। কিন্তু তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সেই সাহসী ভূমিকা পালন করেছে। সেই বাজেট আমরা পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করবো ইনশাআল্লাহ।
মাদক, চাঁদাবাজি ও দখলদারির বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় মানুষ জানেন, এলাকায় কারা মাদকের ব্যবসা করে এবং কারা চাঁদাবাজি ও দখলদারিতে জড়িত। এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দিতে হবে। যারা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের নামে দেশের শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সরকারি কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করবে, তাদের প্রতি তীক্ষè নজর রাখতে হবে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ এমপি এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বকর, বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য শামসুল আলম, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এম. এ আজিজ, এড. আব্দুস সাত্তার, সৈয়দ আজম উদ্দিন, এস. এম সাইফুল আলম, কাজী বেলাল উদ্দীন, সফিকুর রহমান স্বপন, হারুন জামান, নিয়াজ মোহাম্মদ খান, শাহ আলম, আর. ইউ চৌধুরী শাহিন, শওকত আলম খাজা, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আহম্মেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, শিহাব উদ্দীন মুবিন ও মনজুরুল আলম মঞ্জু প্রমুখ।
র্যালিতে মহানগর, থানা ও ওয়ার্ড বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের হাজার-হাজার নেতাকর্মী ব্যানার, ফেস্টুন ও বাদ্যযন্ত্র নিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। এ সময় নেতাকর্মীদের স্লোগানে স্লোগানে র্যালির পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেছেন, "আমাদের মূল লক্ষ্য এ দেশের সাধারণ মানুষের সত্যিকারের উন্নয়ন করা।" তিনি যোগ করেছেন, "জনগণের যে প্রত্যাশা রয়েছে, তা পূরণ করেই আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জয়লাভ করতে চাই।"
মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর মিরপুর-১২ নম্বর বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা-১৬ আসন বিএনপির আয়োজিত একটি বর্ণাঢ্য র্যালির আগে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
নেতাকর্মীদের সতর্ক করে আমিনুল হক বলেন, "কোনো দুষ্কৃতকারী বা অন্যায়কারীকে বিএনপি প্রশ্রয় দেবে না।" তিনি নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেন, "কেউ যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সেই বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, "জনগণের পাশে থাকবেন, প্রতিটি কাজ জনগণের মতামত নিয়ে করবেন।" তিনি উল্লেখ করেন, "জনগণকে সঙ্গে নিয়েই আমাদের প্রতিটি কার্যক্রম পরিচালনা করব।"
নিজ এলাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে আমিনুল হক জানান, "যেসব এলাকায় পানির পাম্প প্রয়োজন, সেখানে দ্রুত পানির পাম্প স্থাপনের কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।" তিনি বলেন, "রাস্তা-ঘাট, স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নকাজও শুরু হয়েছে।"
মিরপুরে হাসপাতাল নির্মাণের প্রসঙ্গে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, "বৃহত্তর মিরপুরে একটি হাসপাতাল নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানানো হয়েছে।" তিনি আরও বলেন, "প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় খুব শিগগিরই পল্লবীসহ বৃহত্তর মিরপুরে একটি হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।"
কর্মসংস্থানের বিষয়েও প্রতিশ্রুতি দেন আমিনুল হক। তিনি বলেন, "আপনাদের এখানে কর্মসংস্থান হবে, আপনাদের কাজের প্রয়োজন—সেটিও পূরণ হবে, ইনশা-আল্লাহ। সেটাই আমি করে দেব।"
বিএনপির সরকার গঠনের ছয় মাসের কার্যক্রম তুলে ধরে আমিনুল হক বলেন, "নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।" তিনি জানান, "কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খেলাধুলা, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ ও খাদ্যসহায়তার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।" আগামী পাঁচ বছরে এসব কার্যক্রমের সুফল সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
বক্তব্যের শুরুতে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ করেন আমিনুল হক। তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি জানান, "দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলনে তার নেতৃত্বে বিএনপির নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ ছিলেন।"
সমাবেশ শেষে মিরপুর-১২ নম্বর বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ড থেকে বর্ণাঢ্য র্যালিটি শুরু হয়। র্যালিটি মিরপুর-১১ নম্বর বাসস্ট্যান্ড, মিরপুরের মূল ১০ নম্বর হয়ে মিরপুর-৬ নম্বর বাজারের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
র্যালিতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী রেজাউল হোসেন রিয়াজ ও মাহবুব আলম মন্টু, পল্লবী থানা বিএনপির আনিসুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ আলী গাজী, যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলুল হক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাবা-মেয়ের সম্পর্কের আবেগ সবসময়ই বিশেষ। নিজের জন্মদিনে বিমানে উঠার পর, এক বাবা বিমানের সেবিকার পোশাকে তার মেয়েকে দেখে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। এই মুহূর্তটি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানে যাত্রীরা একে একে প্রবেশ করছেন। বিমানের দরজার কাছে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে যাত্রীদের অভ্যর্থনা জানাচ্ছিলেন বিমানসেবিকারা। এর মধ্যেই বিমানে প্রবেশ করেন এক ব্যক্তি। তিনি সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ করে তার চোখ পড়ে এক বিমানসেবিকার দিকে।
কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর, তিনি যেন থমকে যান। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা বিমানসেবিকাকে চিনতে তার কিছুটা সময় লাগে। পরে তিনি বুঝতে পারেন, ওই বিমানসেবিকা আর কেউ নন, তার নিজের মেয়ে শ্বেতা পাণ্ডে।
জানা গেছে, ওই দিনটি ছিল শ্বেতার বাবার জন্মদিন। শ্বেতা আগে থেকেই জানতেন যে তার বাবা ওই ফ্লাইটের যাত্রী হবেন। তবে বাবার পরিকল্পনার কথা তিনি একেবারেই জানতেন না। জন্মদিনে বাবাকে চমকে দিতে, তিনি একই ফ্লাইটে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
A post shared by Shweta Pandey (@shwetaaa.pandey)
বাবাকে দেখে শ্বেতা তার প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রণাম করেন। এরপর দুজন একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন। মেয়েকে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় দেখে বাবা আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। তার চোখেমুখে তখন আনন্দের অশ্রু ও মেয়েকে নিয়ে গর্বের ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এই বিশেষ মুহূর্তের ভিডিওটি শ্বেতা তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেছেন। প্রকাশের পরপরই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বাবা-মেয়ের এমন নির্মল ভালোবাসার দৃশ্য দেখে নেটিজেনরাও আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
বাবা-মেয়ের এই আবেগঘন পুনর্মিলন যেন আরও একবার মনে করিয়ে দেয়, জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তগুলো অনেক সময় অপ্রত্যাশিতভাবেই সামনে আসে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকার ১১ বছর পর জাতীয় বেতন স্কেল বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি চাকুরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদিও প্রশাসনিক আমলারা মূল সুবিধাভোগী, তবে ক্রীড়াঙ্গনের অনেক কোচ, সাবেক ও বর্তমান ক্রীড়াবিদরাও এই বেতন বৃদ্ধির আওতায় আসছেন।
ক্রীড়াঙ্গনের প্রধান অভিভাবক সংস্থা হচ্ছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। এই মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, বিকেএসপি, ক্রীড়া পরিদপ্তর এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, বিকেএসপি ও ক্রীড়া পরিদপ্তরে সাবেক ক্রীড়াবিদরা বিভিন্ন পদে যেমন কোচ ও অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন। তারা সবাই পে-স্কেলের আওতায় থাকার কারণে বেতন বৃদ্ধির সুবিধা পাবেন।
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের প্রথম পা রাখা জায়গা হলো বিকেএসপি। সেখানে খেলোয়াড় তৈরির কারিগর কোচদের বেতন ছিল তুলনামূলকভাবে কম। যেখানে বিসিবি কিংবা বাফুফের কোচরা উচ্চ বেতনে কাজ করতেন, সেখানে সরকারি নিয়মে বিকেএসপির কোচদের মাসের শেষ পর্যন্ত চলতে কষ্ট হতো।
১১ বছর পর পে-স্কেল বৃদ্ধি পাওয়ায় বিকেএসপির উপ পরিচালক ও বিশিষ্ট ক্রিকেট কোচ মন্টু দত্ত কিছুটা তৃপ্তি প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, "এটা অনেক দিনের দাবি ছিল পেশাজীবী সমাজের। অবশেষে সেটা বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে।" বিকেএসপির কোচ ও অন্যান্যরা এই সুবিধা পাবেন, বিশেষ করে কোচদের জন্য কিছুটা চাপ কমবে।
সাবেক শুটার আল আমিন সবুজ বর্তমানে ক্রীড়া পরিদপ্তরের অধীনে জেলা ক্রীড়া অফিসার হিসেবে কাজ করছেন। তিনি জানান, "একটি জেলার সামগ্রিক দিক দেখার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে ক্রীড়া অফিসারদের কাজ।" তিনি মনে করেন, পে স্কেলের এই সিদ্ধান্ত ক্রীড়াবিদদের পরবর্তী জীবনে ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে থাকার সুযোগ তৈরি করবে।
তিনি আরও বলেন, "যখন একজন ক্রীড়াবিদ খেলাধূলা শেষে দেখবে ক্রীড়া অফিসার কিংবা কোচ হলে ভালো বেতন পাওয়া যায়, তখন অবশ্যই তারা এই পেশায় আসবে।" এতে ক্রীড়াঙ্গনের মান অনেক বৃদ্ধি পাবে।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অধীনে দেশের সকল ফেডারেশন ও ক্রীড়া স্থাপনা রয়েছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অধীনে বিভিন্ন খেলায় দশের অধিক কোচ কর্মরত আছেন।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক প্রশাসন টিটন ক্ষীসা জানিয়েছেন, "জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অধীনে কোচরাও পে স্কেলের অধীনে বেতন ভাতাদি সুবিধা পাবেন।" তিনি বলেন, "এটা আমাদের কোচদের জন্য খানিকটা স্বস্তির খবর। কোচরা ভালো থাকলে আরো ভালো মানের ক্রীড়াবিদ উঠে আসবে।"
ফুটবল, ক্রিকেটের বাইরে অন্যান্য খেলাধুলার অধিকাংশ খেলোয়াড়রা পুলিশ, আনসার, নৌবাহিনী, সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন সার্ভিস সংস্থায় যুক্ত রয়েছেন। সার্ভিসেস সংস্থায় কর্মরত স্থায়ী ক্রীড়াবিদরাও এই সুবিধার আওতায় থাকবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ