বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০১:০৭ পি.এম
পটুয়াখালী, ৬ আগস্ট, ২০২৬ : জেলার দশমিনা উপজেলায় ১২০ গ্রাম গাঁজাসহ একাধিক মাদক মামলার আসামি মো. হানিফ ফকিরকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে মাদক বিক্রির নগদ ৩ হাজার ৫০ টাকা জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তার হানিফ ফকির উপজেলার মর্দনা গ্রামের মৃত মোতাহার ফকিরের ছেলে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার বিকেল ৫টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দশমিনা থানার এসআই মো. আজাদ হোসেন ও এসআই মো. শাহাবুদ্দিন হাওলাদারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বড় গোপালদী বাজারের পাগলা মোড়ে হানিফ ফকিরের চায়ের দোকানের সামনে অভিযান চালায়। অভিযানকালে তাকে ১২০ গ্রাম গাঁজা ও মাদক বিক্রির নগদ ৩ হাজার ৫০ টাকাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বাসস’কে জানান, হানিফ ফকিরের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক মামলা রয়েছে। প্রায় দুই মাস আগে একই বাজার এলাকা থেকে ৫০ গ্রাম গাঁজা ও মাদক বিক্রির নগদ ২১ হাজার ২০ টাকাসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে চারটি এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা রয়েছে। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় হানিফ ফকিরের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কারিগরি ত্রুটি মেরামতের পর প্রায় দুই সপ্তাহের বিরতির পর কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) একটি বয়লার গতকাল রাত থেকে চালু হয়েছে। এর মাধ্যমে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে আবারও গ্যাস সরবরাহ চালু করা হয়েছে।
বুধবার রাতে এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. সালাহউদ্দিন।
তিনি জানিয়েছেন, তাদের এফএসআরইউতে একটি দুর্ঘটনা ঘটে। দেশি এবং বিদেশি প্রকৌশলীরা সেটি মেরামতে অক্লান্তভাবে কাজ করেছেন। ফলে রাত থেকেই পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে।
কেজিডিসিএল’র ব্যবস্থাপনা পরিচালকের তথ্য অনুযায়ী, টার্মিনালে দুটি বয়লারের মধ্যে একটি বয়লার রাত থেকে চলতে শুরু করেছে। এর ফলে বন্ধ থাকা ৪৫০ এমএমসিএফটি (মিলিয়ন ঘনফুট) গ্যাসের সরবরাহ একলাফে না বাড়লেও বর্তমানে ২০০ থেকে ২৫০ এমএমসিএফটি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।
তিনি এও বলেন, তারা পাইপলাইনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রেখেছেন। আনোয়ারা থেকে গ্যাস গ্রহণ করে বর্তমানে প্রায় ২০০ এমএমসিএফটি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। স্বাভাবিক অবস্থায় এই সরবরাহ ২৬০ থেকে ২৭০ এমএমসিএফটিতে থাকার কথা ছিল।
গত ২১ জুলাই কক্সবাজারের মহেশখালীতে এফএসআরইউতে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর থেকে চট্টগ্রাম অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটেছিল। পরে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ায় সংকট চরম রূপ ধারণ করেছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের মধ্যে ক্যাম্প ডেভিডের বৈঠকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি সম্পর্কে এক প্রবল বাগবিতণ্ডা সৃষ্টি হওয়ার খবরকে মার্কিন প্রশাসন পুরোপুরি ‘ভিত্তিহীন ও ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
ওয়াশিংটন পোস্টের একটি বিস্ফোরক প্রতিবেদনের পর এই বিষয়টি নিয়ে রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পের সরকারি বাসভবন হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লিভিট এক বিবৃতিতে জানিয়ে দেন যে, এই কথা সত্য নয়। তিনি যুক্তি তুলে ধরে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের পেন্টাগন প্রধানের ওপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং তাঁরা একসঙ্গে অত্যন্ত সফলতার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন।
মার্কিন একটি প্রভাবশালী সংবাদপত্র ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ক্যাম্প ডেভিডে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সামনে আসেন। সেখানে তিনি প্রশ্ন তোলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর দূরপাল্লার গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও কেন তাকে ভুল তথ্য দেয়া হয়েছে। হেগসেথের কাছে তিনি জবাবদিহি চান এই বিষয়ে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি ও হ্রাস পাওয়া মজুতের কারণেই ইরানে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক হামলা না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
তবে এই দাবি সম্পূর্ণ ‘অসত্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রেস সচিব ক্যারোলিন লিভিট। ট্রাম্প ও হেগসেথের মধ্যকার বৈঠকের সময় তিনি নিজে উপস্থিত ছিলেন উল্লেখ করে লিভিট জানান, সংবাদমাধ্যমে যে খবর প্রচারিত হয়েছে তা আসলে কখনো ঘটেনি। তিনি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন পোস্টকে আগে থেকেই বারবার এই সত্য জানানো সত্ত্বেও তারা মনগড়া খবর প্রকাশ করেছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
লিভিট একই সঙ্গে জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে অত্যন্ত পছন্দ করেন এবং মনে করেন হেগসেথ তার দায়িত্ব অসাধারণভাবে পালন করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সাথে তৎকালীন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের ফোনালাপ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সামনে উপস্থাপন করেছে প্রসিকিউশন।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় প্রসিকিউশন এই কল রেকর্ডটি দাখিল করে। প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৩ জুলাই ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনানকে সরাসরি ফোন করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার জন্য নির্দেশ দেন তত্কালীন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এই পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কল রেকর্ডটি উপস্থাপন করা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত কল রেকর্ড অনুযায়ী, ১৩ জুলাই ওবায়দুল কাদের ফোনে তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেনের কাছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চান। সাদ্দাম জানান, প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন এবং রাত সাড়ে ৮টায় সংবাদ সম্মেলন করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
এই সময় ওবায়দুল কাদের বলেন, 'মারো না কেন? মারো না কেন ওদের?' জবাবে সাদ্দাম পুলিশি অবস্থানের কথা উল্লেখ করলে কাদের আবার বলেন, 'তা মারতেছ না কেন? নিজ থেকে হালকা হয়ে যাবে তো।'
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়া আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান আসামি।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, মামলার সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক অবস্থায় রয়েছে। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন চলছে। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। পরে গত ২ আগস্ট মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়। মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৮ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি তেল, গ্যাস সংকট, বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল এবং সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির বিরুদ্ধে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বেলা ১১টায় রাজধানী ঢাকার মুক্তাঙ্গনে কর্মসূচিটি শুরু হয়। রাজধানীর বিভিন্ন ওয়ার্ড এবং এলাকা থেকে আগত ১১ দলের নেতাকর্মীরা এতে যোগদান করেন।
এ সময় বক্তারা উল্লেখ করেন, নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে সরকার জনগণের সম্পদ লুটপাট করছে। তারা আরও দাবি করেন যে, সিন্ডিকেট করে দাম বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে জালানি তেল ও গ্যাসের সংকট তৈরি করেছে। বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে লাগাম ছাড়া পর্যায়ে রয়েছে। প্রয়োজনীয় জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের কারণে মানুষের জীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে। রান্নার কাজ সম্পন্ন হচ্ছে না, চালকরা গাড়ি নিয়ে বের হতে পারছেন না, শিল্প কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ যদি সংকট সমাধান করতে অক্ষম হয় তবে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা সরকারের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায়, তারা জানান যে আরও বৃহৎ আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ